রাসূলুল্লাহ (সা) এর হিজরতের ঘটনা

 কুরাইশরা যখন সিদ্ধান্ত নিল যে তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-কে হত্যা করবে, তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল (আ) এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা) কে হিজরতের অনুমতি দেন। সেই রাতে তিনি নিজের বিছানায় হযরত আলী (রা)-কে শুইয়ে রেখে আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে মক্কা ত্যাগ করেন। তাঁরা মক্কার দক্ষিণ দিকে সাওর পর্বতের গুহায় গিয়ে আশ্রয় নেন।


কুরাইশরা যখন দেখল রাসূলুল্লাহ (সা) ঘরে নেই, তখন তারা চারদিকে লোক পাঠিয়ে দিল এবং ঘোষণা করল যে, যে ব্যক্তি তাঁকে জীবিত বা মৃত ধরে আনতে পারবে, তাকে ১০০ উট পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের লোভে আরবের শ্রেষ্ঠ অনুসন্ধানীরা সাওর পর্বতের গুহার মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।


হযরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে ফিসফিস করে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তারা যদি তাদের পায়ের দিকে তাকায়, তবেই আমাদের দেখে ফেলবে।" রাসূলুল্লাহ (সা) অত্যন্ত শান্তভাবে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন:

"হে আবু বকর! তুমি সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে কী ধারণা করো, যাদের তৃতীয়জন হলেন স্বয়ং আল্লাহ?"** (সহীহ বুখারী)


আল্লাহর কুদরতে গুহার মুখে মাকড়সা জাল বুনে দিল এবং কবুতর বাসা বাঁধল, যা দেখে কাফেররা মনে করল এখানে দীর্ঘকাল কেউ প্রবেশ করেনি। ফলে তারা সেখান থেকে ফিরে গেল।


তিন দিন পর তাঁরা গুহা থেকে বের হয়ে মদীনার পথে যাত্রা শুরু করলেন। পথে সুরাকা ইবনে মালিক নামের এক ব্যক্তি পুরস্কারের লোভে তাঁদের পিছু নিল। সে যখনই তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল, তখনই তার ঘোড়ার পা বালিতে গেঁথে যাচ্ছিল। সুরাকা বুঝতে পারলেন যে এই ব্যক্তিকে কোনো অলৌকিক শক্তি রক্ষা করছে। তিনি তখন নবীজী (সা)-এর কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং ফিরে গিয়ে অন্য অনুসন্ধানীদের বিভ্রান্ত করতে থাকলেন।


অবশেষে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনার উপকণ্ঠ কুবা নামক স্থানে পৌঁছান। মদীনাবাসী আনসাররা প্রতিদিন সকাল থেকে কড়া রোদে রাস্তার ধারে অপেক্ষা করতেন তাঁদের প্রিয় নবীর জন্য। যেদিন তিনি পৌঁছালেন, খুশিতে পুরো মদীনা মুখরিত হয়ে উঠল। ছোট ছোট শিশুরা দফ বাজিয়ে গান গাইতে লাগল:

> "তালা’আল বাদরু আলাইনা, মিন সানিয়্যাতিল ওয়াদা..."

> (ওয়াদা উপত্যকার আড়াল থেকে আমাদের মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের উদয় হয়েছে...)

এই হিজরতের মাধ্যমেই পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয় এবং ইসলামের বিজয় কেতন সুদূরপ্রসারী হয়।


উৎস:আর-রাহীকুল মাখতূম (মহিমান্বিত ফোয়ারা) — শাইখ সফিউর রহমান মোবারকপুরী।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন