২_যোহর সলাতের পরের আমল

১।    [১ বার] আল্লাহু আকবার

 

২।    [৩ বার] আসতাগফিরুল্লাহ্       [বুখারী ৮৪২, মুসলিম ৫৯৭, ই.ফা. ১১৯২, মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮]

 

৩।    [১ বার] 

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ

আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনিই শান্তিময়, আপনার থেকেই শান্তি আসে এবং আপনার থেকেই শান্তি লাভ করা যায়। হে মহিমাময় ও দয়াময়, আপনি কল্যাণময়।  [মুসলিম ৫৯১, ই.ফা. ১২১১, তিরমিজি ৩০০, আবূ দাউদ ১৫১২, ইবনু মাজাহ ৭৫২, ৯২৮, আহমাদ ২১৯০২, দারেমী ১৩৪৮, নাসাঈ ১৩৩৭, মিশকাত ৯৬০]

 

৪।    [১ বার] আয়াতুল কুরসী [সূরা বাকারা-২৫৫]:

আল্লাহু লা--ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তাখুজুহু সিনাতুউ ওয়ালা নাউম। লাহুমা ফিস সা-মা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফা’উ ইন্দাহু-- ইল্লা বি’ইযনিহী-, ইয়া’লামু-মা বায়না আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী- ইল্লা- বিমা শা--আ, ওয়াছিয়া কুরসিয়্যুহুস সা-মা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া’উ দুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজীম।

অর্থঃ আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে রয়েছে এবং যা তাদের পেছনে রয়েছে। তাঁর জ্ঞান থেকে তারা কোনো কিছুকেই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর ‘কুরসি’ (ক্ষমতা বা জ্ঞান) আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান।     [নাসাঈ, ৮৮৫, সহীহ ইবনে হিব্বান ২০২০]

      যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সলাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে, মৃত্যু ছাড়া কোনও জিনিস তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে পারবে না। [সিলসিলাতুল আহাদীসিস-সহীহা ৯৭২]

      যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, আল্লহর পক্ষ হতে তার জন্য একজন রক্ষক [ফেরেশতা] নিযুক্ত হবেন। তাই কিছুতেই সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না। [বুখারী ই.ফা. অনুচ্ছেদ ১৪৩৮, হা/২৩১১]

 

৫।    ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ

৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্

৩৪ বার আল্লাহু আকবার

[বুখারী ৮৪৩, মুসলিম ৫৯৫, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৭২০২, দারেমী ১৩৫৩, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৬]

অথবা 

৩৩ বার সুবহানাল্লাহ

৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্

৩৩ বার আল্লাহু আকবার

[১ বার] লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর।   

[মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ৮৪৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৭]

 

৬।    [১০ বার]           لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুলি শাইয়্যীন কদীর।

অর্থঃ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।

ফজিলতঃ

      ১০ বার পাঠকারী যেন ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন।  [মুসলিম ৬৭৩৭, ই.ফা. ৬৬০০, ই.সে. ৬৬৫২]

 

৭।    [৩ বার] 

  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আসতাগফিরুল্লা-হ আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসছি।         [তিরমিজি, আবু দাউদ: ৩৫৭৭]

ফযিলতঃ

      তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি সে রণক্ষেত্র থেকেও পলায়ন করে থাকে।     [তিরমিজি]

      আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো বান্দা গোনাহ করে বলল, হে রব, আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জেনেছে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।      [বুখারি ও মুসলিম]

 

৮।     [৩ বার] 

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ  

আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল জান্নাতা ওয়া আউজুবিকা মিনান্নার।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

ফযিলতঃ “যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রার্থনা করে, জান্নাত বলে হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, জাহান্নাম বলে হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।”      [তিরমিযী]

 

৯।  لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّٰهِ

লা হাওলা ওয়ালা কুউয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ

অর্থঃ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই।

ফযিলতঃ

      এটি জান্নাতের গুপ্তধন   [ইবনু মাজাহ [হাঃ ৩৮২৪], বুখারী ও মুসলিম, তিরমিজি: ৩৩৭৪]

      কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা ও সাহায্য চাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম

      এটি ৯৯টি রোগের নিরাময় বা দুশ্চিন্তা দূর করে

      রাসূল (সাঃ) দু’আটি বেশি বেশি যিকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

১০।   [১ বার] 

اَللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিক্‌র [স্মরণ], শুক্‌র [কৃতজ্ঞতা] এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর।

গুরুত্বঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি প্রতি ফরয সালাত শেষে পড়ার অসিয়ত করেছেন [আবূ দাউদ ১৫২২, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ২১৬২১, নাসাঈ ১৩০৩, মিশকাত ৯৪৯]

 

১১।   সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস।

ফযিলতঃ

      প্রতিটি [ক্ষতিকর] জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে।    [তিরমিজি ৩৫৭৫, আবূ দাউদ ৫০৮২, নাসাঈ ৫৪২৮, ৫৪২৯, রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৪]

 

১২।   [১ বার] يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ

ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আস্তাগিসু, আসলিহ লী শানী কুল্লাহু ওয়ালা তাকিলনী ইলা- নাফসী তারফাতা আইন।

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের উসিলায় সাহায্য চাই। আপনি আমার সার্বিক অবস্থার সংশোধন করে দিন এবং আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও [এক চোখের পলকের জন্যও] আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। [তিরমিজি ৩৫২৪, আল-কালিমুত্ তাইয়্যিব [হাঃ ১১৮/৭৬], সহীহাহ্ [হাঃ ১৫৩৬]


Post a Comment