বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত বেশি বেশি দরূদ পাঠ
জুম্মার দিন সকালে ৩ বার
আসতাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়াতুবু ইলাইহি
যে ব্যক্তি জুম’আর দিন সকালে দু’আটি ৩ বার পড়ে, আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন যদিও তার গুনাহ সমূদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।
আছর সালাতের পর
আছরের পর বেশি বেশি দু’আ, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা খুবই জরুরি। যেন তা কবুল হয়ে যায়।
জুম’আর দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় নফল সালাতে অতিবাহিত করা উত্তম। বেশি বেশি দরূদ পড়া। বেশি বেশি ইসতেগফার করা। আর তাতেই সালাতে অতিবাহিত করার ছওয়াব মিলবে।
জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহফ পাঠ করা।
সূরাটি নাযিলের সময় ৭০ হাজার ফেরেশতা আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিল। জুম’আর দিনে সূরাটি পড়লে আসমান থেকে লক্ষ লক্ষ ফেরেশতা নেমে আসে এবং তেলোয়াতকারীর জন্য দু’আ করতে থাকে।
[প্রথম ১০ আয়াত]
[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম]
১। আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আনজালা আলা-আবদিহিল কিতাবা ওয়ালাম ইয়াজ আল্লাহূ ই-ওয়াজা।
২। কাইয়্যিমাল লিয়ুনজিরা বাছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মুমিনীনাল্লা-যীনা ইয়া’মালূনাছ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরান হাছান।
৩। মা-কিছীনা ফীহি আবাদা।
৪। ওয়া-ইউনজিরা-ল্লাজিনা কলুত্তাখাজাল্লা-হু ওয়ালাদা।
৫। মা লাহুম বিহী- মিন ইলমিও ওয়ালা লি আবা--ইহিম; কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া হিহিম; ইয়্যা কুলূনা ইল্লা-কাজিবা।
৬। ফালা আল্লা-কা বা-খিউন্নাফছাকা আলা-- আ-ছারিহিম ইল্লাম ইউমিনূ বিহা-জাল হাদীছি আছাফা।
৭। ইন্না জা’আলনা মা আলাল আরদি জীনাতাল্লাহা লিনাবলু ওয়াহুম আইয়্যুহুম আহ্সানু আমালা।
৮। ওয়া ইন্না লাজা-ইলূনা মা আলাইহা ছা’ইদান জুরুজা।
৯। আম হাসিবতা আন্না আছহা-বাল কাহফি ওয়ার রাকীম। কানূ মিন আয়া-তিনা আজাবা।
১০। ইজ আওয়াল ফিত ইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালু রাব্বানা-- আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়্যি লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
১১. ফাদারাবনা-‘আলাআ-জা-নিহিম ফিল কাহফি ছিনিনা ‘আদাদা-।
১২. ছুম্মা বা‘আছনা-হুম লিনা‘লামা আইয়্যুল হিজবাইনি আহসা-লিমা-লাবিছুউ আমাদা-
১৩. নাহনু নাকুছ-ছু আলাইকা নাবা-আহুম বিলহাক্কি ইন্নাহুম ফিত-ইয়াতুন আ-মানু বিরাব্বিহিম ওয়া জিদনা-হুম হুদা-।
১৪. ওয়া রাবাতনা-‘আলা-কুলুবিহিম ইজ কা-মু ফাকা-লু রাব্বুনা-রাব্বুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিলান নাদ‘উওয়া মিন দুনিহিইলা-হাল লাকাদ কুলনাইজান শাতাতা-।
১৫. হাউলাই কাওমুনাত্তাখাজুমিন দু নিহিআ-লিহাতাল লাওলা-ইয়া’তুনা ‘আলাইহিম বিছুলতা-নিম বাইয়িনিন ফামান আজলামুমিম্মানিফতারা-‘আলাল্লা-হি কাজিবা-।
১৬. ওয়া ইজি‘তাঝালতুমুহুম ওয়ামা-ইয়া‘বুদুনা ইল্লাল্লা-হা ফা’উইলাল কাহফি ইয়ানশুরুলাকুম রাব্বুকুম মির রাহমাতিহি ওয়া ইউহাইয়ি’ লাকুম মিন আমরিকুম মিরফাকা-।
১৭. ওয়া তারাশশামছা ইজা-তালা‘আততাঝা-ওয়ারু ‘আন কাহফিহিম যা-তাল ইয়ামিনি ওয়া ইজা-গারাবাত তাকরিদুহুম যা-তাশশিমা-লি ওয়া হুম ফি ফাজওয়াতিম মিনহু জালিকা মিন আ-য়া-তিল্লা-হি মাইঁ ইয়াহদিল্লা-হু ফাহুওয়াল মুহতাদি ওয়া মাই ইউদলিল ফালান তাজিদা লাহু ত্তয়ালিইয়্যাম মুরশিদা-।
১৮. ওয়া তাহছাবুহুম আইকা-যাওঁ ওয়া হুম রুকুদুওঁ ওয়া নুকালিলবুহুম যা-তাল ইয়ামিনি ওয়া যা-তাশশিমা-লি ওয়াকালবুহুম বা-ছিতু ন জিরা-‘আইহি বিল ওয়াসিদি লাবিততালা‘তা ‘আলাইহিম লাওয়াল্লাইতা মিনহুম ফিরা-রাওঁ ওয়ালামুলি’তা মিনহুম রু‘বা-।
১৯. ওয়া কাযা-লিকা বা‘আছনা-হুম লিইয়াতাছাআলুবাইনাহুম কা-লা কাইলুম মিনহুম কাম লাবিছতুম কা-লুলাবিছনা-ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কালুরাব্বুকুম আ‘লামুবিমা-লাবিছতুম ফাব‘আছূআহাদাকুম বিওয়ারিকিকুম হাযিহিইলাল মাদীনাতি ফালইয়ানজু র আইয়ুহাআঝকা-তা‘আ-মান ফালইয়া’তিকুম বিরিঝকিম মিনহু ওয়াল ইয়াতালাততাফ ওয়ালা-ইউশ‘ইরান্না বিকুম আহাদা-।
২০. ইন্নাহুম ইয়ঁ ইয়াজহারু‘আলাইকুম ইয়ারজুমুকুম আও ইউ‘ঈদুকুম ফি মিল্লাতিহিম ওয়ালান তুফলিহুইযান আবাদা-।
২১. ওয়া কাযা-লিকা আ‘ছারনা-‘আলাইহিম লিইয়া‘লামুআন্না-ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়া আন্নাছছা-‘আতা লা-রাইবা ফিহা- ইয ইয়াতানা -ঝা‘ঊনা বাইনাহুম আমরাহুম ফাকালুবনু‘আলাইহিম বুনইয়া-নার রাব্বুহুম আ‘লামুবিহিম কা-লাল্লাযীনা গালাবূ ‘আলাআমরিহিম লানাত্তাখিজান্না ‘আলাইহিম মাছজিদা-।
২২. ছাইয়াকুলুনা ছালা-ছাতুর রা-বি‘উহুম কালবুহুম ওয়া ইয়াকুলুনা খামছাতুন ছা-দিছুহুম কালবুহুম রাজমাম বিলগাইবি ওয়া ইয়াকুলুনা ছাব‘আতুওঁ ওয়া ছা-মিনুহুম কালবুহুম কোর রাববীআ‘লামুবি‘ইদ্দাতিহিম মা-ইয়া‘লামুহুম ইল্লা-কালিলুন ফালা-তুমারি ফিহিম ইল্লা-মিরাআন যা-হিরাওঁ ওয়ালা-তাছতাফতি ফিহিম মিনহুম আহাদা-।
২৩. ওয়ালা-তাকুলান্না লিশাইয়িন ইন্নি ফা-‘ইলুন জা-লিকা গাদা-।
২৪. ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু ওয়াজকোর রাব্বাকা ইজা-নাসিতা ওয়াকুল ‘আছাআইঁ ইয়াহদিয়ানি রাববী লিআকরাবা মিন হা-জা-রাশাদা-।
২৫. ওয়া লাবিছুফি কাহফিহিম ছালা-ছা মিআতিন ছিনিনা ওয়াঝদা-দুতিছ‘আ-।
২৬. কুল্লিলা-হু আ‘লামুবিমা-লাবিছূ লাহুগাইবুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আবসির বিহি ওয়া আছমি‘ মা-লাহুম মিন দু নিহি মিওঁ ওয়ালিইয়িওঁ ওয়ালা-ইউশরিকুফি হুকমিহিআহাদা-।
২৭. ওয়াতলুমাঊহিয়া ইলাইকা মিন কিতা-বি রাব্বিকা লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহি ওয়া লান তাজিদা মিন দু নিহি মুলতাহাদা-।
২৮. ওয়াসবির নাফছাকা মা‘আল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা রাব্বাহুম বিলগাদা-তি ওয়াল ‘আশিইয়ি ইউরিদু না ওয়াজহাহুওয়ালা-তা‘দুআইনা-কা ‘আনহুম তুরিদুঝীনাতাল হায়াতিদদুনইয়া- ওয়ালা তুতি‘ মান আগফালনা-কালবাহু‘আন যিকরিনা-ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ওয়া কা-না আমরুহুফুরুতা-।
২৯. ওয়া কুল্লি হাক্কুমির রাব্বিকুম ফামান শাআ ফালইউ’মিওঁ ওয়ামান শাআ ফালইয়াকফুর ইন্নাআ‘তাদনা-লিজ্জা-লিমীনা না-রান আহা-তা বিহিম ছুরাদিকুহা- ওয়াইয়ঁইয়াছতাগীছূইউগা-ছূবিমাইন কালমুহলি ইয়াশবিল উজূহা বি’ছাশ শারা-বু ওয়া ছাআত মুরতাফাকা-।
৩০. ইন্নাল্লাজিনা আ-মানুওয়া‘আমিলুসসা-লিহা-তি ইন্না-লা-নুদী‘উ আজরা মান আহছানা ‘আমালা-।
৩১. উলাইকা লাহুমজান্না-তু‘আদনিন তাজরি মিন তাহতিহিমুল আনহা-রু ইউহাল্লাওনা ফিহামিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়া ইয়ালবাছূনা ছিয়াবান খুদরাম মিন ছুনদুছিওঁ ওয়া ইছতাবরাকিম মুত্তাকিঈনা ফিহা-‘আলাল আরাইকি নি‘মাছছাওয়া-বু ওয়া হাছুনাত মুরতাফাকা-।
৩২. ওয়াদরিব লাহুম মাছালার রাজুলাইনি যা‘আলনা-লিআহাদিহিমা-জান্নাতাইনি মিন আ‘নাবিওঁ ওয়া হাফাফনা-হুমা বিনাখলিওঁ ওয়াযা‘আলনা-বাইনাহুমা-ঝার‘আ-।
৩৩. কিলতাল জান্নাতাইনি আ-তাত উকুলাহা-ওয়ালাম তাজলিম মিনহু শাইআওঁ ওয়া ফাজ্জারনাখিলা-লাহুমা-নাহারা-।
৩৪. ওয়া কা-না লাহুছামারুন , ফাকা-লা লিসা-হিবিহি ওয়াহুওয়া ইউহা-বিরুহুআনা আকছারু মিনকা মা-লাওঁ ওয়া আ‘আঝঝুনাফারা-।
৩৫. ওয়া দাখালা জান্নাতাহুওয়াহুওয়া যা-লিমুল লিনাফছিহি কা-লা মাআজুন্নুআন তাবীদা হা-যিহিআবাদা-।
৩৬. ওয়ামাআজুন্নুছছা-‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুদিততুইলা-রাববী লাআজিদান্না খাইরাম মিনহা-মুনকালাবা-।
৩৭. কা-লা লাহুসা-হিবুহুওয়া হুওয়া ইউহা-বিরুহআকাফারতা বিল্লাজি খালাকাকা মিন তুরা-বিন ছু ম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা ছাওওয়া-কা রাজুলা-।
৩৯. ওয়ালাওলাইযদাখালতা জান্নাতাকা কুলতা মা-শাআল্লা-হু লা-কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহি ইন তারানি আনা আকাল্লা মিনকা মা-লাওঁ ওয়া ওয়ালাদা-।
৪০. ফা‘আছা-রাববীআই ইউ’তিয়ানি খাইরাম মিন জান্নাতিকা ওয়া ইউরছিলা ‘আলাইহা-হুছবানাম মিনাছছামাই ফাতুসবিহা সা‘ঈদান ঝালাকা-।
৪১. আও ইউসবিহা মাউহা-গাওরান ফালান তাছতাতী‘আ লাহুতালাবা-।
৪২. ওয়া উহিতাবিছামারিহি ফাআছবাহা ইউকালিলবুকাফফাইহি ‘আলা-মাআনফাকা ফিহা-ওয়াহিয়া খা-বিয়াতুন ‘আলা-‘উরুশিহা-ওয়া ইয়াকু লুইয়া-লাইতানী লাম উশরিক বিরাববীআহাদা-।
৪৩. ওয়ালাম তাকুল লাহুফিয়াতুইঁ ইয়ানসুরুনাহুমিন দুনিল্লা-হি ওয়ামা-কা-না মুনতাসিরা-।
৪৪. হুনা-লিকাল ওয়ালা-ইয়াতুলিল্লা-হিল হাক্কি হুওয়া খাইরুন ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন ‘উকবা-।
৪৫. ওয়াদরিব লাহুম মাছালাল হায়া-তিদদুনইয়া-কামাইন আনঝালনা-হু মিনাছ ছামাই ফাখতালাতা বিহি নাবা-তুল আরদিফাআসবাহা হাশীমান তাযরুহুর রিয়া-হু ওয়া কানাল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িম মুকতাদিরা-।
৪৬. আলমা-লুওয়াল বানুনা ঝিনাতুল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াল বা-কিয়া-তুসসা-লিহাতুখাইরুন ‘ইনদা রাব্বিকা ছাওয়া-বাওঁ ওয়া খাইরুন আমালা-।
৪৭. ওয়া ইয়াওমা নুছাইয়িরুল জিবা-লা ওয়া তারাল আরদা বা-রিঝাতাওঁ ওয়া হাশারনা-হুম ফালাম নুগা-দির মিনহুম আহাদা-।
৪৮. ওয়া ‘উরিদু ‘আলা-রাব্বিকা সাফফাল লাকাদ জি’তুমুনা-কামা-খালাকনা-কুম আওওয়ালা মাররাতিম বাল ঝা‘আমতুম আল্লান নাজ‘আলা লাকুম মাও‘ইদা-।
৪৯. ওয়া উদি‘আল কিতা-বুফাতারাল মুজরিমিনা মুশফিমিনা মিম্মা-ফিহি ওয়া ইকুলুনা ইয়াওয়াইলাতানা-মা-লি হা-যাল কিতা-বি লা-ইউগা-দিরু সাগিরাতাওঁ ওয়ালা-কাবিরাতান ইল্লাআহসা-হা- ওয়া ওয়াযাদুমা-‘আমিলুহা-দিরা- ওয়ালা-ইয়াজলিমু রাব্বুকা আহাদা-।
৫০. ওয়া ইজকুলনা-লিল মালাইকাতিছ জু দুলিআ-দামা ফাছাজাদু ইল্লাইবলিছা কানা মিনাল জিন্নি ফাফাছাকা ‘আন আমরি রাব্বিহি আফাতাত্তাখিযূনাহুওয়া যুররিইইয়াতাহুআওলিয়াআ মিন দু নি ওয়া হুম লাকুম ‘আদুওউম বি’ছা লিজ্জালিমিনা বাদালা-।
৫১. মাআশহাততুহুম খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-খালকা আনফুছিহিম ওয়ামা-কুনতুমুত্তাখিযাল মুদিল্লিনা ‘আদুদা-।
৫২. ওয়া ইয়াওমা ইয়াকু লুনা-দুশুরাকাইয়াল্লাজিনা ঝা‘আমতুম ফাদা‘আওহুম ফালাম ইয়াছতাজিবুলাহুম ওয়া যা‘আলনা-বাইনাহুম মাওবিকা-।
৫৩. ওয়া রাআল মুজরিমুনান্না-রা ফাযাননুআন্নাহুম মুওয়া-কি‘ঊহা-ওয়ালাম ইয়াজিদু‘আনহা- মাসরিফা-।
৫৪. ওয়া লাকাদ সাররাফনা-ফি হা-যাল কোরআ-নি লিন্না-ছি মিন কুল্লি মাছালিওঁ ওয়া কানাল ইনছা-নুআকছারা শাইয়িন যাদালা-।
৫৫. ওয়ামা-মানা‘আন্না-ছা আইঁ ইউ’মিনু ইয যাআহুমুল হুদা ওয়াইয়াছতাগফিরুরাব্বাহুম ইল্লাআন তা’তিয়াহুম ছুন্নাতুল আওওয়ালিনা আও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বুকুবুলা-।
[শেষ ১০ আয়াত]
[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম]
১০১। আল্লাজীনা কা-নাত আই উনুহুম ফী গিতায়িন আন জিকরি ওয়াকা-নূ লা- ইয়াছতাতী ঊনা ছাম’আ।
১০২। আফা হাছিবাল্লাজীনা কাফারূ আই ইয়াত্তাখিযূ ইবাদী মিন দূনী আওলিয়া-আ; ইন্না আতাদনা-জাহান্নামা লিল কাফিরীনা নুজুলা।
১০৩। কুল হাল নুনাব্বিউকুম বিল আখছারীনা আমা-লা।
১০৪। আল্লাযীনা দু’আল্লা ছাই উহুম ফীল হা-ইয়াতিদ্ দুনিয়া ওয়া হুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহ-ছিনূনা ছুন’আ।
১০৫। উলা-ই কাল্লাজীনা কাফারু বি-আয়াতি রাব্বিহিম ওয়ালিকাইহী ফাহাবিতাত আমা-লূহুম ফালা-নুকী মুলাহুম ইয়াওমাল কিয়ামাতি ওয়াজনা।
১০৬। যা-লিকা জাজা-উহুম জাহান্নামু বিমা-কাফারূ ওয়াত্তাখাযূ আয়াতী ওয়া রুসুলী হুযু ওয়া।
১০৭। ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া আমিলুছ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত লাহুম জান্নাতুল ফিরদাউছি নুজুলা।
১০৮। খা-লিদীনা ফীহা লা-ইয়াবগূনা আনহা-হিওয়ালা।
১০৯। কুল লাও কা-নাল বাহরু মিদা-দাল্লি কালিমাতি রাব্বী লানাফিদাল বাহরু কাবলা আন তানফাদা কালিমা-তু রাব্বী ওয়ালাও জিনা বিমিছলিহী মাদাদা।
১১০। কুল ইন্নামা আনা-বাশারুম মিছলুকুম ইউহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম ইলাহুঊ ওয়াহিদুন ফামান কা-না ইয়ারজুলিকা রাব্বিহী ফাল ইয়া মাল আমালান ছোয়া-লিহাও ওয়ালা ইউশরিকু বি ইবাদাতি রাব্বিহী আহাদা।
জুম’আর দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহসমূহ
১] ফজরের সালাতে সুরা আস-সাজদাহ ও সুরা ইনসান পড়া। [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৯১]
২] মিসওয়াক করা। [ইবনু মাজাহ ১০৯৮]
৩] গোসল করা এবং যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করা। [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৮৩,৮৭৭]
৪] উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি লাগানো। [আবূ দাউদ ৩৪৩]
৫] জুম'আর সালাতের জন্য আগে আগে রওয়ানা হওয়া। [বুখারী তাওহীদ/প্র ৮৮১]
৬] বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। [আবূ দাউদ ১০৪৭]
৭] সুরা আল-কাহাফ পাঠ করা। [দারেমী, হা/৩৪০৭, সহীহুল জামে হা/৬৪৭১]
৮] নীরব থেকে খুতবা শোনা ও জুম'আর সালাত আদায় করা। [বুখারী তাওহীদ/প্র ৯৩৪]
৯] জুম'আর সালাত এর পর হাল্কা নিদ্রায় যাওয়া। [বুখারী তাওহীদ/প্র ৯৪০]
১০] বেশি করে দু’আ করা, বিশেষ করে আসরের শেষের দিকে। [আবূ দাউদ ১০৪৮]
জুম’আর আদব
1. জুম’আর দিন গোসল করা। যাদের উপর জুম’আ ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল [সাঃ] ওয়াজিব করেছেন। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাটা একটি ভাল কাজ। [বুখারীঃ ৮৭৭, ৮৭৮, ৮৮০, ৮৯৭, ৮৯৮]
2. জুম’আর সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। [বুখারীঃ ৮৮০]
3. মিস্ওয়াক করা। [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮, বুখারীঃ ৮৮৭, ইঃফাঃ ৮৪৩]
4. গায়ে তেল ব্যবহার করা। [সহিহ বুখারীঃ ৮৮৩]
5. উত্তম পোশাক পরিধান করে জুম’আ আদায় করা। [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৭]
6. মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। [তিরমিযীঃ ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৬]
7. মনোযোগ সহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। [সহিহ বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ ৮৫৭, আবু দাউদঃ ১১১৩, আহমাদঃ ১/২৩০]
8. আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া। [সহিহ বুখারীঃ ৮৮১, মুসলিমঃ ৮৫০]
9. পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন। [আবু দাউদঃ ৩৪৫]
10. জুম’আর দিন ফজরের নামাজে ১ম রাক’আতে সূরা সাজদা [সূরা নং-৩২] আর ২য় রাকা’আতে সূরা ইনসান [দাহর] [সূরা নং-৭৬] পড়া। [বুখারীঃ ৮৯১, মুসলিমঃ ৮৭৯]
11. সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুম’আর সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুম’আ আদায় করা। [মুসলিমঃ ৮৭৭, ৮৭৮]
12. জুম’আর দিন ও জুম’আর রাতে বেশী বেশী দুরুদ পাঠ। [আবু দাউদঃ ১০৪৭]
13. এ দিন বেশী বেশী দোয়া করা। [সহিহ বুখারীঃ ৯৩৫]
14. মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। [সহিহ বুখারীঃ ৯১০, ৮৮৩]
15. মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। [আবু দাউদঃ ৩৪৩, ৩৪৭]
16. কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। [সহিহ বুখারীঃ ৯১১, মুসলিমঃ২১৭৭, ২১৭৮]
17. খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দু’রাকা’আত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। [সহিহ বুখারীঃ ৯৩০]
18. জুম’আর দিন জুম’আর পূর্বে মসজিদে জিকর বা কোন শিক্ষামুলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। [আবু দাউদঃ ১০৮৯]
19. কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। [নাসায়ীঃ ৭১৪, সহিহ বুখারীঃ ৯৩৪]
20. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা। [সহিহ বুখারীঃ ৮৫৩]
21. ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। [আবু দাউদঃ ১১১৯]
22. ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। [আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪]
23. খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [আবু দাউদঃ ১১০৮]
24. জুম’আর দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। [হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯]
25. জুম’আর আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা। [সহিহ বুখারীঃ ৯১২]
26. জুম’আর ফরজ সালাত আদায়ের পর মসজিদে ৪ রাকা’আত সুন্নাত সালাত আদায় করা। [সহিহ বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০]
27. উযর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুম’আ চালু না করা। আর উযর হল এলাকাটি খুব বড় হওয়া, বা প্রচুর জনবসতি থাকা, বা মসজিদ দূরে হওয়া, বা মসজিদে জায়গা না পাওয়া, বা কোন ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকা। [মুগনি লিবনি কুদামাঃ ৩/২১২, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহঃ ২৪/২০৮]
28. ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা। [আবু দাউদঃ ১১১৪]
29. একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। [হাকেমঃ ১/১২৮]
30. সালাতের জন্য কোন একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা। [আবু দাউদঃ৮৬২]
অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।
31. কোন নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা অর্থাৎ মুসুল্লী ও সুতরার মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে না হাঁটা। [বুখারীঃ ৫১০]
32. এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোন কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। [আবু দাউদঃ ১৩৩২]
33. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।
34. হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা।
35. খুৎবার সময় খতীবের কোন কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ। [সহিহ বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭]
36. যেখানে জুম’আর ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হল ঐ একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোন কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। [মুসলিমঃ ৭১০, সহিহ বুখারীঃ ৮৪৮]
37. ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন