৭_তাহাজ্জুদ থেকে ফজরে মসজিদে যাওয়া পর্যন্ত আমল

১। তাহাজ্জুদ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠার জন্য –

আল্লাহুম্মা আইকিজনী ফি আহাব-বিচ্ছা আতী ইলাইকা ওয়াস তামিলনী বি আহাব্বিল আমালি লাদাইকাল্লাতি তুকাররি বুনি ইলাইকা জুলফা ওয়াতুব ইদুনি মিন সাখাতিকা বুদান আস আলুকা ফাতুতিনি ওয়া আস্তাগফিরুকা ফাতাগফিরুলি ওয়া আদুউকা ফাতাস্তা জিবুলি আল্লাহুম্মা লা তুয়াম্মিন্নী মাক্রাকা ওয়ালা তাওয়াল্লিন্নী গাাইরাকা ওয়ালা তারফা আন্নী ছিত্রাকা ওয়ালা তুনসিনী জিক্রাকা ওয়ালা তাজআলনি মিনাল গাফিলিন।

ফজিলতঃ

      পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা ৩ জন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন যারা তাকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দেয়। যদি সে সালাত আদায় করে এবং দুআ করে তাহলে তারা আমীন বলতে থাকে। আর যদি সে ঘুম থেকে না জাগে তাহলে ফেরেশতারা শূণ্যের মাঝে ইবাদত করে আর উহার ছাওয়াব পাঠকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। [কুতুল কুলুব]

 

২। রাতে ঘুম ভেংগে গেলে –

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা-শারীকালাহূ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর। সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। রাব্বিগফিরলি।

অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই; আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া [পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার] কোনো উপায় এবং [সৎকাজ করার] কোনো শক্তি কারো নেই। হে রব্! আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।

ফজিলতঃ

      রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেন, “যদি কারো রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে যায় অতঃপর সে উপরের তাসবীহ পাঠ করে এবং এরপর যদি সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

      যদি কোনো দুআ করে বা কিছু চায় তবে তার দুআ কবুল করা হবে।

      আর যদি সে এরপর উঠে ওযু করে [তাহাজ্জুদের] সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে। [তিরমিজি ৩৪১৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৭৮, বুখারী: ফাতহুল বারী, ৩/৩৯, নং ১১৫৪ হাদীসের ভাষ্য ইবন মাজাহ এর অনুরূপ। সহীহ ইবন মাজাহ্‌: ২/৩৩৫]

 

আল্লাহুম্মা রাহমাতিকা আরজু আসলি লীহ শানি কুল্লাহ ওয়ালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইন।

 

সুবহানাল্লাহী ওয়াল হামদুলিল্লাহী ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আস্তাগফিরুল্লাহা আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা ফালিন্নাহুমা বিয়াদিকা ওয়ালা ইয়ামলিকুহুমা আহাদ ছিওয়াকা।

ফজিলতঃ

      কোনও ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে উপরের তাসবীহ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রয়োজন পূরণের দায়িত্বে নিয়োজিত হযরত জিব্রাঈল [আঃ]-কে বলেন, “হে জীব্রাঈল! তুমি আমার বান্দার প্রয়োজন পূরণ করো।“         [নুযহাতুল মাজলিশ]

 

লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা রাব্বী জালামতু নাফসী ফাগফিরলী।

ফজিলতঃ

      ঘুম থেকে জেগে উঠে উপরের তাসবীহ পাঠ করলে সে তার গুনাহগুলো থেকে ওইভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে সাপ তার খোলস থেকে বেরিয়ে যায়।       [মুসান্নাফু ইবনে আবী শায়বা]

 

৩। ঘুম থেকে উঠার পর-

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাজি আহ-ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থঃ সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করেছেন এবং তার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান। [বুখারীঃ ৬৩১৪, [ই-ফা] ৫৮৭৫]

 

ঘুম থেকে জাগার পর রাসূল [সাঃ] যে দু’আ করতেন

রাসূল [সাঃ] রাতে ঘুম থেকে উঠে

১০ বার তাকবীর [আল্লাহু আকবার],

১০ বার তাহমীদ [আলহামদুলিল্লাহ],

১০ বার তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ],

১০ বার তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ] এবং

১০ বার ইস্তিগফার [আস্তাগফিরুল্লাহ] পড়তেন আর বলতেন

আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়াহদীনী, ওয়ারুযুকনী, ওয়া আফিনী, আউজুবিল্লাহী মিন দিকিল মাকাম ইয়াওমাল কিয়ামাতি।  [নাসাঈ-১৬১৭]

 

৪। রাতে [তাহাজ্জুদ] নামায আদায় করতে উঠে যে দু’আ বলবেঃ

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া লাকাল হামদু আন্তা কইয়্যামুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া লাকাল হামদু আন্তা রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া মান ফিই হিন্না আন্তাল হাক্কু, ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু, ওয়ালি কওউকা হাক্কু, ওয়াল জান্নাতু হাক্কু, ওয়ান্নারু হাক্কু, ওয়াস সা’আতু হাক্কু, আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আমান্তু,  ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু ওয়া ইলাইকা হাকামতু, ফাগফিরলি মা কদ্দামতু, ওয়ামা আখখারতু, ওয়ামা আসরারতু, ওয়ামা আগলান্তু আন্তা ইলাহি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

অর্থঃ হে প্রভু! সকল প্রশংসা তোমার জন্য, তুমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো এবং সকল প্রশংসার অধিকারী তুমিই। তুমিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছ। সকল প্রশংসা তোমার। তুমি আকাশমণ্ডলী, দুনিয়া এবং উভয়ের মাঝখানের সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, তুমি সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য, [আখিরাতে] তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং ক্বিয়ামাত [সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গটি] সত্য। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াককুল [নির্ভর] করেছি, তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি, তোমার জন্যই যুদ্ধ করি এবং তোমাকে বিচারক মানি। সুতরাং আমার পূর্বের-পরের এবং লুকায়িত ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমাদের মা'বূদ, তুমি ছাড়া আর কোন মা'বূদ নেই।

      রাসূলুল্লাহ [সাঃ] যখন মাঝরাতে বা গভীর রাতে [তাহাজ্জুদের] নামাযে দাঁড়াতেন সে সময় এই দুআটি পড়তেন। [তিরমিজি ৩৪১৮, ইবনু মাজাহ [হাঃ ১৩৫৫], বুখারী ও মুসলিম]

 

 

৫। রাতে [তাহাজ্জুদ] নামায আরম্ভ করার দু’আঃ

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَعَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

আল্লাহুম্মা রাব্বা জিবরীলা ওয়া মিকাইলা ওয়া ইসরাফিলা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া আলীমাল গায়বী ওয়াশ শাহাদাতি, আন্তা তাহকুমু বায়না ইবাদিকা ফিমা কানু ফিহী ইয়াখতালিফুনাহ দ্বীনই লিমাখ তুলিফা ফিহী মিনাল হাক্কি, বি ইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুসতাকিম। 

অর্থঃ হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাকো।

      নবী [সাঃ] রাতে যখন [তাহাজ্জুদ] নামায আদায় করতে দন্ডায়মান হতেন তখন এই দুআর মাধ্যমে নামায শুরু করতেন [তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে এটি পাঠ করতেন] [তিরমিজি ৩৪২০, ইবনু মাজাহ [হাঃ ১৩৫৭], মুসলিম]

 

৬। শেষ রাতে ঘর থেকে মসজিদে চলার পথে পড়ার দু’আঃ

আল্লা-হুম্মাজআল ফী ক্বালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়া ফী সাময়্যি নূরান, ওয়া ফী বাসারী নূরান, ওয়া মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহ্‌তী নূরান, ওয়া আন ইয়ামীনী নূরান, ওয়া আন শিমালী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়া মিন খলফী নূরান, ওয়াজআল ফী নাফ্‌সী নূরান। ওয়া আযিম লি নুরান, ওয়া আয্‌যিম লী নূরান, ওয়াজআল্ লী নূরান, ওয়াজআলনী নূরান; আল্লা-হুম্মা আতিনী নূরান, ওয়াজআল ফী আসাবী নূরান, ওয়া ফী লাহ্‌মী নূরান, ওয়া ফী দামী নূরান, ওয়া ফী শারী নূরান, ওয়া ফী বাশারী নূরান। [আল্লা-হুম্মাজআল লী নূরান ফী কাবরী, ওয়া নূরান ফী ইজামি] [ওয়া যিদ্‌নী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নুরান] [ওয়া হাবলি নুরান ‘আলা নুর]

 

৭। মসজিদে প্রবেশের সময় দোয়াঃ

আউজুবিল্লাহিল আজিম - ওয়া বিওয়াজহিহীল কারীম - ওয়া সুলতানিহীল কাদীম - মিনাশ শায়তানির রাজীম।

ফজিলতঃ

      পাঠকারীর সংগে থাকা শয়তান বলে, "এ ব্যক্তি আমার থেকে নিরাপদ হয়ে গেল।" [বুসতানুল ওয়ায়েজিন]

এরপর পড়তে হবে –

আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

অথবা,

বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা ইয়া রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফিরলি জুনুবি ওয়াফতালিআবওয়াবা রাহমাতিকা।

 

৮। মসজিদ থেকে বের হবার সময় পড়ার দু’আঃ

[ক] আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ইবলিসা ওয়া জুনুদিহি।

[খ] বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা ইয়া রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুমা ইন্নি-- আস'আলুকা মিন ফাদলিক। আল্লাহুম্মাছ ছিবনী মিনাশ-শায়তানির রাজীম।


Post a Comment