ফাতেহা (সুরা ০১)
১) بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
|
بِسْمِ |
বিসমি |
নামে |
|
اللَّهِ |
আল্লাহি |
আল্লাহর |
|
الرَّحْمَٰنِ |
আর-রাহমানি |
পরম করুণাময় |
|
الرَّحِيمِ |
আর-রাহিম |
অতিশয় দয়ালু |
➡️ অর্থ: পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে।
২) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
|
الْحَمْدُ |
আল-হামদু |
সকল প্রশংসা |
|
لِلَّهِ |
লিল্লাহি |
আল্লাহর জন্য |
|
رَبِّ |
রব্বি |
প্রতিপালক |
|
الْعَالَمِينَ |
আল-আলামীন |
সকল সৃষ্টির |
➡️ অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির প্রতিপালক।
৩) الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
|
الرَّحْمَٰنِ |
আর-রাহমান |
পরম করুণাময় |
|
الرَّحِيمِ |
আর-রাহিম |
অতিশয় দয়ালু |
➡️ অর্থ: পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু।
৪) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
|
مَالِكِ |
মালিকি |
অধিপতি |
|
يَوْمِ |
ইয়াওমি |
দিনের |
|
الدِّينِ |
আদ-দীন |
প্রতিফল/বিচারের |
➡️ অর্থ: প্রতিফল দিবসের অধিপতি।
৫) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
|
إِيَّاكَ |
ইয়্যাকা |
কেবল আপনাকেই |
|
نَعْبُدُ |
না’বুদু |
আমরা ইবাদত করি |
|
وَ |
ওয়া |
এবং |
|
إِيَّاك |
ইয়্যাকা |
কেবল আপনারই |
|
نَسْتَعِينُ |
নাস্তা’ঈন |
আমরা সাহায্য চাই |
➡️ অর্থ: কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই।
৬) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
|
اهْدِنَا |
ইহদিনা |
আমাদের হিদায়াত দিন |
|
الصِّرَاطَ |
আস-সিরাত |
পথ |
|
الْمُسْتَقِيمَ |
আল-মুস্তাকীম |
সরল/সোজা |
➡️ অর্থ: আমাদেরকে সরল পথ দেখান।
৭) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
|
صِرَاطَ |
সিরাত |
সেই পথ |
|
الَّذِينَ |
আল্লাযীনা |
যারা |
|
أَنْعَمْتَ |
আন’আমতা |
অনুগ্রহ করেছেন |
|
عَلَيْهِمْ |
আলাইহিম |
তাদের উপর |
➡️ অর্থ: তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন।
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ
|
غَيْرِ الْ |
গাইরিল |
নয়/ব্যতীত |
|
مَغْضُوبِ |
মাগদূবি |
ক্রোধপ্রাপ্ত |
|
عَلَيْهِمْ |
আলাইহিম |
তাদের উপর |
➡️ অর্থ: যারা ক্রোধপ্রাপ্ত নয়,
وَلَا الضَّالِّينَ
|
وَلَا |
ওয়ালা |
এবং নয় |
|
الضَّالِّينَ |
আদ্-দাল্লীন |
পথভ্রষ্টরা |
➡️ অর্থ: এবং পথভ্রষ্টদেরও নয়।
বাকারা (সূরা ২), আয়াত ১-৫
আয়াত ১
الم
আলিফ-লাম-মীম = এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহই ভালো জানেন)
আয়াত ২
|
ذَٰلِكَ |
যালিকা |
এ (মহিমান্বিত/সে) |
|
الْكِتَابُ |
কিতাব |
কিতাব/গ্রন্থ |
|
لَا |
লা |
নেই |
|
رَيْبَ |
রাইবা |
কোনো সন্দেহ |
|
فِيهِ |
ফিহ |
এতে |
|
هُدًى |
হুদা |
হিদায়াত/পথনির্দেশ |
|
لِّلْمُتَّقِينَ |
মুত্তাকীন |
মুত্তাকীদের জন্য |
➡️ অর্থ: এ গ্রন্থে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।
আয়াত ৩
الَّذِينَ = যারা
يُؤْمِنُونَ = ঈমান আনে
بِالْغَيْبِ = অদৃশ্যে
وَيُقِيمُونَ = এবং কায়েম করে
الصَّلَاةَ = সালাত
وَمِمَّا = এবং যা থেকে
رَزَقْنَاهُمْ = আমরা তাদেরকে রিযিক দিয়েছি
يُنفِقُونَ = তারা ব্যয় করে
➡️ অর্থ: যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।
আয়াত ৪
وَالَّذِينَ = এবং যারা
يُؤْمِنُونَ = ঈমান আনে
بِمَا = যা কিছুতে
أُنزِلَ = অবতীর্ণ হয়েছে
إِلَيْكَ = তোমার প্রতি
وَمَا = এবং যা
أُنزِلَ = অবতীর্ণ হয়েছে
مِن قَبْلِكَ = তোমার আগে
وَبِالْآخِرَةِ = এবং আখিরাতে
هُمْ = তারা
يُوقِنُونَ = দৃঢ় বিশ্বাস রাখে
➡️ অর্থ: এবং যারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার আগে যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান আনে এবং আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
আয়াত ৫
أُولَٰئِكَ = তারাই
عَلَىٰ = উপর
هُدًى = হিদায়াতের
مِّن رَّبِّهِمْ = তাদের রবের পক্ষ থেকে
وَأُولَٰئِكَ = এবং তারাই
هُمُ = তারাই (নিশ্চয়ই তারা)
الْمُفْلِحُونَ = সফলকাম
➡️ অর্থ: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।
বাকারা (সূরা ২), আয়াত ২৫৫ (আয়াতুল কুরসী)
اللَّهُ = আল্লাহ
لَا = নেই
إِلَٰهَ = কোনো ইলাহ/উপাস্য
إِلَّا = ছাড়া
هُوَ = তিনি
الْحَيُّ = চিরঞ্জীব
الْقَيُّومُ = সর্বাধার/সবকিছুর ধারক ও সংরক্ষক
لَا = না
تَأْخُذُهُ = তাঁকে আচ্ছন্ন করে
سِنَةٌ = তন্দ্রা
وَلَا = এবং না
نَوْمٌ = নিদ্রা
لَّهُ = তাঁরই
مَا = যা কিছু
فِي = আছে
السَّمَاوَاتِ = আসমানসমূহে
وَمَا = এবং যা কিছু
فِي = আছে
الْأَرْضِ = জমিনে
مَن = কে
ذَا = সে (এমন ব্যক্তি)
الَّذِي = যে
يَشْفَعُ = সুপারিশ করতে পারে
عِندَهُ = তাঁর কাছে
إِلَّا = ছাড়া
بِإِذْنِهِ = তাঁর অনুমতি ছাড়া
يَعْلَمُ = তিনি জানেন
مَا = যা কিছু
بَيْنَ = সামনে/সম্মুখে
أَيْدِيهِمْ = তাদের হাতসমূহের (অর্থাৎ তাদের সামনে)
وَمَا = এবং যা কিছু
خَلْفَهُمْ = তাদের পেছনে
وَلَا = এবং না
يُحِيطُونَ = তারা পরিবেষ্টন/আয়ত্ত করতে পারে
بِشَيْءٍ = কোনো কিছুকে
مِّنْ = তাঁর
عِلْمِهِ = জ্ঞানের
إِلَّا = তবে/ছাড়া
بِمَا = যা দ্বারা
شَاءَ = তিনি চান
وَسِعَ = পরিব্যাপ্ত করেছে
كُرْسِيُّهُ = তাঁর কুরসি
السَّمَاوَاتِ = আসমানসমূহ
وَالْأَرْضَ = এবং জমিন
وَلَا = এবং না
يَئُودُهُ = তাঁকে ক্লান্ত করে
حِفْظُهُمَا = এ দু’টির সংরক্ষণ
وَهُوَ = এবং তিনি
الْعَلِيُّ = সর্বোচ্চ
الْعَظِيمُ = মহান
➡️ অর্থ: আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বাধার। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমান-জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি সব জানেন—সামনে ও পেছনের সবকিছু। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কেউ তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে; এগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।
বাকারা (সূরা ২), শেষ ২ আয়াত (২৮৫-২৮৬)
আয়াত ২৮৫
آمَنَ = ঈমান এনেছেন
الرَّسُولُ = রাসূল
بِمَا = যা কিছুতে
أُنزِلَ = নাযিল করা হয়েছে
إِلَيْهِ = তাঁর প্রতি
مِن رَّبِّهِ = তাঁর রবের পক্ষ থেকে
وَالْمُؤْمِنُونَ = এবং মুমিনগণ
كُلٌّ = প্রত্যেকেই
آمَنَ = ঈমান এনেছে
بِاللَّهِ = আল্লাহর প্রতি
وَمَلَائِكَتِهِ = এবং তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি
وَكُتُبِهِ = এবং তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি
وَرُسُلِهِ = এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি
لَا = না
نُفَرِّقُ = আমরা পার্থক্য করি
بَيْنَ = মধ্যে
أَحَدٍ = কারও
مِّن رُّسُلِهِ = তাঁর রাসূলদের
وَقَالُوا = এবং তারা বলল
سَمِعْنَا = আমরা শুনেছি
وَأَطَعْنَا = এবং আমরা আনুগত্য করেছি
غُفْرَانَكَ = আপনার ক্ষমা (প্রার্থনা করছি)
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
وَإِلَيْكَ = এবং আপনারই দিকে
الْمَصِيرُ = প্রত্যাবর্তন
➡️ অর্থ: রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে, এবং মুমিনরাও। সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। তারা বলে: আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা চাই; আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন।
আয়াত ২৮৬
لَا = না
يُكَلِّفُ = দায়িত্ব দেন
اللَّهُ = আল্লাহ
نَفْسًا = কোনো ব্যক্তিকে
إِلَّا = ছাড়া
وُسْعَهَا = তার সাধ্য অনুযায়ী
لَهَا = তার জন্য
مَا = যা
كَسَبَتْ = সে উপার্জন করেছে
وَعَلَيْهَا = এবং তার উপর
مَا = যা
اكْتَسَبَتْ = সে অর্জন করেছে
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
لَا تُؤَاخِذْنَا = আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না
إِن = যদি
نَّسِينَا = আমরা ভুলে যাই
أَوْ = অথবা
أَخْطَأْنَا = আমরা ভুল করি
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا = এবং আমাদের উপর চাপাবেন না
إِصْرًا = ভারী বোঝা
كَمَا = যেমন
حَمَلْتَهُ = আপনি চাপিয়েছিলেন তা
عَلَى الَّذِينَ = তাদের উপর যারা
مِن قَبْلِنَا = আমাদের পূর্বে
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
وَلَا تُحَمِّلْنَا = এবং আমাদের উপর চাপাবেন না
مَا = যা
لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ = যার শক্তি আমাদের নেই
وَاعْفُ عَنَّا = এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন
وَاغْفِرْ لَنَا = এবং আমাদেরকে মার্জনা করুন
وَارْحَمْنَا = এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন
أَنتَ = আপনি
مَوْلَانَا = আমাদের অভিভাবক/সহায়
فَانصُرْنَا = অতএব আমাদেরকে সাহায্য করুন
عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ = কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে
➡️ অর্থ: আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা উপার্জন করে তা তারই জন্য, আর যা অর্জন করে তার দায়ও তারই উপর। হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ে দেবেন না যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন বোঝা চাপাবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক; সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
ইমরান (সূরা ৩) (আয়াতঃ ২৬-২৭)
আয়াত ২৬
قُلِ = বলুন
اللَّهُمَّ = হে আল্লাহ
مَالِكَ = অধিপতি
الْمُلْكِ = রাজত্বের/সার্বভৌমত্বের
تُؤْتِي = আপনি প্রদান করেন
الْمُلْكَ = রাজত্ব
مَن = যাকে
تَشَاءُ = আপনি চান
وَتَنزِعُ = এবং আপনি কেড়ে নেন
الْمُلْكَ = রাজত্ব
مِمَّن = যার কাছ থেকে
تَشَاءُ = আপনি চান
وَتُعِزُّ = এবং আপনি সম্মানিত করেন
مَن = যাকে
تَشَاءُ = আপনি চান
وَتُذِلُّ = এবং আপনি অপমানিত/হেয় করেন
مَن = যাকে
تَشَاءُ = আপনি চান
بِيَدِكَ = আপনার হাতেই
الْخَيْرُ = কল্যাণ
إِنَّكَ = নিশ্চয়ই আপনি
عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ = সব কিছুর উপর
قَدِيرٌ = সর্বক্ষমতাবান
➡️ অর্থ: বলুন, “হে আল্লাহ! তুমি রাজত্বের মালিক। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করো এবং যাকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করো এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
আয়াত ২৭
تُولِجُ = আপনি প্রবেশ করান
اللَّيْلَ = রাতকে
فِي النَّهَارِ = দিনের মধ্যে
وَتُولِجُ = এবং আপনি প্রবেশ করান
النَّهَارَ = দিনকে
فِي اللَّيْلِ = রাতের মধ্যে
وَتُخْرِجُ = এবং আপনি বের করেন
الْحَيَّ = জীবিতকে
مِنَ الْمَيِّتِ = মৃত থেকে
وَتُخْرِجُ = এবং আপনি বের করেন
الْمَيِّتَ = মৃতকে
مِنَ الْحَيِّ = জীবিত থেকে
وَتَرْزُقُ = এবং আপনি রিযিক দেন
مَن = যাকে
تَشَاءُ = আপনি চান
بِغَيْرِ حِسَابٍ = হিসাব ছাড়া/অগণিতভাবে
➡️ অর্থ: তুমি রাতকে দিনে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করাও। তুমি মৃত থেকে জীবিতকে বের করো এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করো। তুমি যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করো।
ইমরান (সূরা ৩) (আয়াতঃ ১৯০-১৯৪)
আয়াত ১৯০
إِنَّ = নিশ্চয়ই
فِي = মধ্যে
خَلْقِ = সৃষ্টিতে
السَّمَاوَاتِ = আসমানসমূহের
وَالْأَرْضِ = এবং জমিনের
وَاخْتِلَافِ = এবং পরিবর্তনে/আবর্তনে
اللَّيْلِ = রাতের
وَالنَّهَارِ = এবং দিনের
لَآيَاتٍ = অবশ্যই নিদর্শনসমূহ রয়েছে
لِّأُولِي = বুদ্ধিমত্তাসম্পন্নদের জন্য
الْأَلْبَابِ = জ্ঞানবানদের
➡️ অর্থ: নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।
আয়াত ১৯১
الَّذِينَ = যারা
يَذْكُرُونَ = স্মরণ করে
اللَّهَ = আল্লাহকে
قِيَامًا = দাঁড়িয়ে
وَقُعُودًا = বসে
وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ = এবং তাদের পার্শ্বে (শুয়ে)
وَيَتَفَكَّرُونَ = এবং তারা চিন্তা করে
فِي = মধ্যে
خَلْقِ = সৃষ্টিতে
السَّمَاوَاتِ = আসমানসমূহের
وَالْأَرْضِ = এবং জমিনের
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
مَا خَلَقْتَ = আপনি সৃষ্টি করেননি
هَٰذَا = এটি
بَاطِلًا = অনর্থক/অকারণে
سُبْحَانَكَ = আপনি পবিত্র
فَقِنَا = অতএব আমাদের রক্ষা করুন
عَذَابَ = শাস্তি থেকে
النَّارِ = আগুনের
➡️ অর্থ: যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শয়ন অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে চিন্তা করে— তারা বলে, “হে আমাদের রব! আপনি এসব অযথা সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র! আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”
আয়াত ১৯২
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
إِنَّكَ = নিশ্চয়ই আপনি
مَن = যাকে
تُدْخِلِ = প্রবেশ করান
النَّارَ = আগুনে
فَقَدْ = তবে অবশ্যই
أَخْزَيْتَهُ = আপনি তাকে লাঞ্ছিত করেছেন
وَمَا = এবং নেই
لِلظَّالِمِينَ = জালিমদের জন্য
مِنْ أَنصَارٍ = কোনো সাহায্যকারী
➡️ অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করান, নিশ্চয়ই আপনি তাকে লাঞ্ছিত করেন। আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।
আয়াত ১৯৩
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
إِنَّنَا = নিশ্চয়ই আমরা
سَمِعْنَا = শুনেছি
مُنَادِيًا = একজন আহ্বানকারীকে
يُنَادِي = সে আহ্বান করছে
لِلْإِيمَانِ = ঈমানের দিকে
أَنْ آمِنُوا = যে, তোমরা ঈমান আনো
بِرَبِّكُمْ = তোমাদের রবের প্রতি
فَآمَنَّا = অতঃপর আমরা ঈমান এনেছি
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
فَاغْفِرْ لَنَا = অতএব আমাদের ক্ষমা করুন
ذُنُوبَنَا = আমাদের গুনাহসমূহ
وَكَفِّرْ عَنَّا = এবং আমাদের থেকে মুছে দিন
سَيِّئَاتِنَا = আমাদের মন্দ কাজসমূহ
وَتَوَفَّنَا = এবং আমাদের মৃত্যু দিন
مَعَ الْأَبْرَارِ = সৎকর্মশীলদের সাথে
➡️ অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা একজন আহ্বানকারীকে শুনেছি, যে ঈমানের দিকে আহ্বান করে— “তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনো।” অতঃপর আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, আমাদের পাপ মোচন করুন এবং আমাদের সৎকর্মশীলদের সঙ্গে মৃত্যু দিন।
আয়াত ১৯৪
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
وَآتِنَا = এবং আমাদের প্রদান করুন
مَا = যা
وَعَدتَّنَا = আপনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
عَلَىٰ رُسُلِكَ = আপনার রাসূলদের মাধ্যমে
وَلَا تُخْزِنَا = এবং আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না
يَوْمَ الْقِيَامَةِ = কিয়ামতের দিন
إِنَّكَ = নিশ্চয়ই আপনি
لَا تُخْلِفُ = ভঙ্গ করেন না
الْمِيعَادَ = অঙ্গীকার/প্রতিশ্রুতি
➡️ অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে সেই প্রতিশ্রুতি দিন, যা আপনি আপনার রাসূলদের মাধ্যমে দিয়েছেন। এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
রাদ (সূরা ১৩) (আয়াত-২৮)
الَّذِينَ = যারা
آمَنُوا = ঈমান এনেছে
وَتَطْمَئِنُّ = এবং প্রশান্ত/শান্ত হয়
قُلُوبُهُم = তাদের অন্তরসমূহ
بِذِكْرِ = স্মরণ দ্বারা
اللَّهِ = আল্লাহর
أَلَا = জেনে রাখো/সাবধান!
بِذِكْرِ = স্মরণ দ্বারা
اللَّهِ = আল্লাহর
تَطْمَئِنُّ = শান্ত হয়
الْقُلُوبُ = অন্তরসমূহ
➡️ অর্থ: যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে শান্ত হয়। জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে।
কাহফ (সূরা ১৮) (আয়াত-১০)
إِذْ = যখন
أَوَى = আশ্রয় নিয়েছিল
الْفِتْيَةُ = যুবকেরা
إِلَى الْكَهْفِ = গুহার দিকে/গুহায়
فَقَالُوا = তখন তারা বলল
رَبَّنَا = হে আমাদের রব
آتِنَا = আমাদের দান করুন
مِن لَّدُنكَ = আপনার নিকট থেকে
رَحْمَةً = রহমত/দয়া
وَهَيِّئْ = এবং প্রস্তুত করে দিন/সুব্যবস্থা করে দিন
لَنَا = আমাদের জন্য
مِنْ أَمْرِنَا = আমাদের ব্যাপারে/আমাদের কাজের মধ্যে থেকে
رَشَدًا = সঠিক পথনির্দেশ/সাফল্য/হিদায়াত
➡️ অর্থ: যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিয়ে বলেছিল: হে আমাদের রব! আপনার নিকট থেকে আমাদের জন্য রহমত দান করুন এবং আমাদের কাজের মধ্যে সঠিক পথের ব্যবস্থা করে দিন।
মরিয়ম (সূরা ১৯) (আয়াতঃ ২৯-৩৩)
আয়াত ২৯:
- قَالُوا (তারা বলল)
- كَيْفَ (কীভাবে)
- نُكَلِّمُ (আমরা কথা বলব)
- مَن (যে)
- كَانَ (ছিল)
- فِي الْمَهْدِ (শিশুশয্যায়)
- صَبِيًّا (শিশু)।
➡️ অর্থ: তখন মরিয়ম তার দিকে ইশারা করলেন। তারা বলল, “আমরা কীভাবে তার সাথে কথা বলব, যে শিশুশয্যায় একটি শিশু?”
আয়াত ৩০:
- قَالَ (সে বলল)
- إِنِّي (নিশ্চয়ই আমি)
- عَبْدُ اللَّهِ (আল্লাহর বান্দা)
- آتَانِيَ (তিনি আমাকে দিয়েছেন)
- الْكِتَابَ (কিতাব)
- وَجَعَلَنِي (এবং আমাকে করেছেন)
- نَبِيًّا (নবী)।
➡️ অর্থ: সে বলল, “আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন।”
আয়াত ৩১:
- وَجَعَلَنِي (এবং আমাকে করেছেন)
- مُبَارَكًا (বরকতময়)
- أَيْنَ مَا كُنتُ (যেখানেই আমি থাকি)
- وَأَوْصَانِي (এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন)
- بِالصَّلَاةِ (সালাতের ব্যাপারে)
- وَالزَّكَاةِ (ও যাকাতের ব্যাপারে)
- مَا دُمْتُ حَيًّا (যতদিন আমি জীবিত থাকি)।
➡️ অর্থ: “তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন যেখানেই আমি থাকি এবং আমাকে সালাত ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি।”
আয়াত ৩২:
- وَبَرًّا (এবং করেছেন অনুগত)
- بِوَالِدَتِي (আমার মায়ের প্রতি)
- وَلَمْ يَجْعَلْنِي (এবং আমাকে করেননি)
- جَبَّارًا (অহংকারী)
- شَقِيًّا (দুর্ভাগা)।
➡️ অর্থ: “তিনি আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং আমাকে অহংকারী ও দুর্ভাগা করেননি।”
আয়াত ৩৩:
- وَالسَّلَامُ (এবং শান্তি)
- عَلَيَّ (আমার উপর)
- يَوْمَ وُلِدتُّ (যেদিন আমি জন্মেছি)
- وَيَوْمَ أَمُوتُ (এবং যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব)
- وَيَوْمَ أُبْعَثُ (এবং যেদিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে)
- حَيًّا (জীবিত অবস্থায়)।
➡️ অর্থ: “আর শান্তি আমার উপর যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।”
মুমিনুন (সূরা ২৩) (আয়াতঃ ৮৪-৮৭)
আয়াত ৮৪:
- قُلْ (বলুন)
- لِّمَنِ (কার জন্য/কার মালিকানায়)
- الْأَرْضُ (পৃথিবী)
- وَمَنْ (এবং যা কিছু)
- فِيهَا (এর মধ্যে আছে)
- إِن (যদি)
- كُنتُمْ (তোমরা হও)
- تَعْلَمُونَ (জানো)।
➡️ অর্থ: বলুন, “যদি তোমরা জান, তবে পৃথিবী ও এর মধ্যে যা কিছু আছে তা কার?”
আয়াত ৮৫:
- سَيَقُولُونَ (তারা বলবে)
- لِلَّهِ (আল্লাহর)
- قُلْ (বলুন)
- أَفَلَا (তাহলে কি না)
- تَذَكَّرُونَ (তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে)।
➡️ অর্থ: তারা বলবে, “আল্লাহর।” বলুন, “তাহলে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?”
আয়াত ৮৬:
- قُلْ (বলুন)
- مَن (কে)
- رَّبُّ (প্রভু)
- السَّمَاوَاتِ (আসমানসমূহের)
- السَّبْعِ (সাতটি)
- وَرَبُّ (এবং প্রভু)
- الْعَرْشِ (আরশের)
- الْعَظِيمِ (মহান)।
➡️ অর্থ: বলুন, “সাত আসমানের প্রভু এবং মহান আরশের প্রভু কে?”
আয়াত ৮৭:
- سَيَقُولُونَ (তারা বলবে)
- لِلَّهِ (আল্লাহর)
- قُلْ (বলুন)
- أَفَلَا (তাহলে কি না)
- تَتَّقُونَ (তোমরা ভয় করবে)।
➡️ অর্থ: তারা বলবে, “আল্লাহর।” বলুন, “তাহলে কি তোমরা ভয় করবে না?”
ফুরকান (সূরা ২৫) (আয়াতঃ ৬৯-৭৭)
আয়াত ৬৯:
- يُضَاعَفْ (দ্বিগুণ করা হবে)
- لَهُ (তার জন্য)
- الْعَذَابُ (শাস্তি)
- يَوْمَ الْقِيَامَةِ (কিয়ামতের দিনে)
- وَيَخْلُدْ (এবং সে থাকবে চিরকাল)
- فِيهِ (তাতে)
- مُهَانًا (অপমানিত অবস্থায়)।
➡️ অর্থ: কিয়ামতের দিনে তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সে তাতে চিরকাল অপমানিত অবস্থায় থাকবে।
আয়াত ৭০:
- إِلَّا (কিন্তু)
- مَن (যে)
- تَابَ (তাওবা করেছে)
- وَآمَنَ (এবং ঈমান এনেছে)
- وَعَمِلَ (এবং করেছে)
- عَمَلًا (কর্ম)
- صَالِحًا (সৎ)
- فَأُوْلَٰئِكَ (তাহলে তারাই)
- يُبَدِّلُ (পরিবর্তন করবেন)
- اللَّهُ (আল্লাহ)
- سَيِّئَاتِهِمْ (তাদের মন্দ কাজগুলো)
- حَسَنَاتٍ (সৎকর্মে)
- وَكَانَ (এবং তিনি ছিলেন)
- اللَّهُ (আল্লাহ)
- غَفُورًا (ক্ষমাশীল)
- رَّحِيمًا (দয়ালু)।
➡️ অর্থ: তবে যে তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে—আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে সৎকর্মে পরিবর্তন করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আয়াত ৭১:
- وَمَن (এবং যে)
- تَابَ (তাওবা করেছে)
- وَعَمِلَ (এবং করেছে)
- صَالِحًا (সৎকর্ম)
- فَإِنَّهُ (তাহলে নিশ্চয়ই সে)
- يَتُوبُ (তাওবা করেছে)
- إِلَى اللَّهِ (আল্লাহর দিকে)
- مَتَابًا (সত্যিকার তাওবা)।
➡️ অর্থ: আর যে তওবা করে এবং সৎকর্ম করে, সে তো আল্লাহর দিকে পূর্ণভাবে প্রত্যাবর্তন করে।
আয়াত ৭২:
- وَالَّذِينَ (এবং তারা যারা)
- لَا يَشْهَدُونَ (সাক্ষ্য দেয় না)
- الزُّورَ (মিথ্যা/অসত্যে)
- وَإِذَا (এবং যখন)
- مَرُّوا (তারা অতিক্রম করে)
- بِاللَّغْوِ (অর্থহীন কথার পাশে)
- مَرُّوا (তারা অতিক্রম করে)
- كِرَامًا (সম্মানজনকভাবে)।
➡️ অর্থ: আর তারা (আল্লাহর বান্দারা) হচ্ছেন তারা, যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথাবার্তার পাশ দিয়ে যায়, তখন সম্মানজনকভাবে পাশ কাটিয়ে যায়।
আয়াত ৭৩:
- وَالَّذِينَ (এবং তারা যারা)
- إِذَا (যখন)
- ذُكِّرُوا (স্মরণ করানো হয়)
- بِآيَاتِ (আয়াতসমূহ দ্বারা)
- رَبِّهِمْ (তাদের রবের)
- لَمْ (তারা না)
- يَخِرُّوا (লুটিয়ে পড়ে)
- عَلَيْهَا (তার উপর)
- صُمًّا (বধির হয়ে)
- وَعُمْيَانًا (এবং অন্ধ হয়ে)।
➡️ অর্থ: আর তারা (আল্লাহর বান্দারা) হচ্ছেন তারা, যাদেরকে তাদের রবের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিলে তারা তাতে বধির ও অন্ধের মতো আচরণ করে না।
আয়াত ৭৪:
- وَالَّذِينَ (এবং তারা যারা)
- يَقُولُونَ (বলে)
- رَبَّنَا (হে আমাদের রব)
- هَبْ لَنَا (আমাদের দান করুন)
- مِنْ أَزْوَاجِنَا (আমাদের স্ত্রীদের থেকে)
- وَذُرِّيَّاتِنَا (এবং আমাদের সন্তানদের থেকে)
- قُرَّةَ أَعْيُنٍ (চোখের শীতলতা)
- وَاجْعَلْنَا (এবং আমাদের করুন)
- لِلْمُتَّقِينَ (পরহেজগারদের জন্য)
- إِمَامًا (নেতা)।
➡️ অর্থ: আর তারা (আল্লাহর বান্দারা) বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।’
আয়াত ৭৫:
- أُوْلَٰئِكَ (তারাই)
- يُجْزَوْنَ (পুরস্কৃত হবে)
- الْغُرْفَةَ (উচ্চ কক্ষ দ্বারা)
- بِمَا (কারণে)
- صَبَرُوا (তারা ধৈর্য ধরেছিল)
- وَيُلَقَّوْنَ (এবং তারা সম্মুখীন হবে)
- فِيهَا (তাতে)
- تَحِيَّةً (অভিবাদন)
- وَسَلَامًا (এবং শান্তি)।
➡️ অর্থ: তাদেরকে ধৈর্য ধারণের বিনিময়ে (জান্নাতের) উচ্চ কক্ষ প্রদান করা হবে, এবং সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে সালাম ও শুভেচ্ছা দিয়ে।
আয়াত ৭৬:
- خَالِدِينَ (চিরকাল থাকবে)
- فِيهَا (তাতে)
- حَسُنَتْ (সুন্দর হয়েছে)
- مُسْتَقَرًّا (আবাসস্থল হিসেবে)
- وَمُقَامًا (এবং অবস্থান হিসেবে)।
➡️ অর্থ: তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। কতই না উত্তম সেই আবাসস্থল ও অবস্থান।
আয়াত ৭৭:
- قُلْ (বলুন)
- مَا (কোনো গুরুত্ব নেই)
- يَعْبَأُ (পরোয়া করেন)
- بِكُمْ (তোমাদের ব্যাপারে)
- رَبِّي (আমার রব)
- لَوْلَا (যদি না থাকত)
- دُعَاؤُكُمْ (তোমাদের দোয়া/ইবাদত)
- فَقَدْ (অতএব)
- كَذَّبْتُمْ (তোমরা মিথ্যা বলেছ)
- فَسَوْفَ (তাহলে শীঘ্রই)
- يَكُونُ (হবে)
- لِزَامًا (অবধারিত শাস্তি)।
➡️ অর্থ: বলুন, ‘তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো, তবে আমার রব তোমাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না। কিন্তু তোমরা তো অস্বীকার করেছ, সুতরাং শিগগিরই তা (শাস্তি) অবধারিত হয়ে যাবে।’
আহযাব (সূরা ৩৩) (আয়াত ৩৫)
- إِنَّ (নিশ্চয়ই)
- الْمُسْلِمِينَ (মুসলিম পুরুষগণ)
- وَالْمُسْلِمَاتِ (এবং মুসলিম নারীগণ)
- وَالْمُؤْمِنِينَ (এবং মুমিন পুরুষগণ)
- وَالْمُؤْمِنَاتِ (এবং মুমিনা নারীগণ)
- وَالْقَانِتِينَ (এবং অনুগত পুরুষগণ)
- وَالْقَانِتَاتِ (এবং অনুগত নারীগণ)
- وَالصَّادِقِينَ (এবং সত্যবাদী পুরুষগণ)
- وَالصَّادِقَاتِ (এবং সত্যবাদী নারীগণ)
- وَالصَّابِرِينَ (এবং ধৈর্যশীল পুরুষগণ)
- وَالصَّابِرَاتِ (এবং ধৈর্যশীল নারীগণ)
- وَالْخَاشِعِينَ (এবং বিনয়াবনত পুরুষগণ)
- وَالْخَاشِعَاتِ (এবং বিনয়াবনত নারীগণ)
- وَالْمُتَصَدِّقِينَ (এবং দানশীল পুরুষগণ)
- وَالْمُتَصَدِّقَاتِ (এবং দানশীল নারীগণ)
- وَالصَّائِمِينَ (এবং সিয়াম পালনকারী পুরুষগণ)
- وَالصَّائِمَاتِ (এবং সিয়াম পালনকারী নারীগণ)
- وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ (এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে — পুরুষগণ)
- وَالْحَافِظَاتِ (এবং নারীগণ)
- وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا (এবং যারা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে — পুরুষগণ)
- وَالذَّاكِرَاتِ (এবং নারীগণ)
- أَعَدَّ اللَّهُ (আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন)
- لَهُم (তাদের জন্য)
- مَّغْفِرَةً (ক্ষমা)
- وَأَجْرًا عَظِيمًا (এবং মহান প্রতিদান)।
➡️ অর্থ: নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।
ইয়াসীন (সূরা ৩৬) (আয়াতঃ ১-১২)
আয়াত ১: يٰسٓ
- ইয়াসীন – আল্লাহই জানেন সঠিক অর্থ।
নোট: সাধারণত নবীর নাম বা পরিচিতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আয়াত ২: وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
- وَ = এবং
- الْقُرْآنِ = কুরআন (সুবোধ ও নির্দেশমূলক গ্রন্থ)
- الْحَكِيمِ = হিকমতপূর্ণ (সুপরিকল্পিত, জ্ঞানপ্রদ)
➡️ অর্থ: প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ।
আয়াত ৩: إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
- إِنَّكَ = নিশ্চয়ই তুমি
- لَمِنَ = –এর মধ্যে একজন
- الْمُرْسَلِينَ = প্রেরিতদের মধ্যে
➡️ অর্থ: নিশ্চয় আপনি প্রেরিত রসূলগণের একজন।
আয়াত ৪: عَلَىٰ صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
- عَلَىٰ = উপর, অভিমুখে
- صِرَاطٍ = পথ
- مُسْتَقِيمٍ = সঠিক/নির্ভুল
➡️ অর্থ: আপনি সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
আয়াত ৫: تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ
- تَنْزِيلَ = অবতরণ/প্রেরণ
- الْعَزِيزِ = পরম শক্তিশালী
- الرَّحِيمِ = পরম দয়ালু
➡️ অর্থ: এটি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
আয়াত ৬: لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ
- لِتُنذِرَ = যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো
- قَوْمًا = একটি জাতি
- مَّا أُنذِرَ آبَاؤُهُمْ = যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি
- فَهُمْ غَافِلُونَ = অতএব তারা উদাসীন
➡️ অর্থ: যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্বপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা গাফেল।
আয়াত ৭: لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَىٰ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
- لَقَدْ = নিশ্চয়ই
- حَقَّ = সত্য প্রমাণিত হয়েছে
- الْقَوْلُ = কথা/বক্তব্য
- عَلَىٰ أَكْثَرِهِمْ = তাদের অধিকাংশের উপর
- فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ = তাই তারা বিশ্বাস করে না
➡️ অর্থ: তাদের অধিকাংশের জন্য শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে, তাই তারা ঈমান আনবে না।
আয়াত ৮: إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ
- إِنَّا = নিশ্চয়ই আমরা
- جَعَلْنَا = বানিয়েছি
- فِي أَعْنَاقِهِمْ = তাদের গলায়
- أَغْلَالًا = শৃঙ্খল
- فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ = চোয়ালের দিকে
- فَهُمْ مُقْمَحُونَ = তারা মাথা উঁচু করে চলে
➡️ অর্থ: আমি তাদের গলায় বেড়ি পরিয়েছি, যা চিবুক পর্যন্ত পৌঁছেছে—ফলে তাদের মাথা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।
আয়াত ৯: وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِن خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
- وَجَعَلْنَا = এবং আমরা বানিয়েছি
- مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا = তাদের সামনে বাধা
- وَمِن خَلْفِهِمْ سَدًّا = এবং তাদের পেছনে বাধা
- فَأَغْشَيْنَاهُمْ = অতঃপর আমরা তাদের ঢেকে দিয়েছি
- فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ = তাই তারা দেখতে পারে না
➡️ অর্থ: আমি তাদের সামনে ও পিছনে প্রাচীর স্থাপন করেছি এবং তাদেরকে আচ্ছাদিত করেছি, ফলে তারা দেখে না।
আয়াত ১০: وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَم تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
- وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ = তাদের জন্য সমান
- أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَم تُنذِرْهُمْ = তুমি সতর্ক করো বা না করো
- لَا يُؤْمِنُونَ = তারা বিশ্বাস করবে না
➡️ অর্থ: আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের পক্ষে তা সমান—তারা ঈমান আনবে না।
আয়াত ১১: إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
- إِنَّمَا = শুধু
- تُنذِرُ = তুমি সতর্ক করো
- مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ = যে স্মরণ অনুসরণ করে
- وَخَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ = এবং অদৃশ্যে পরম দয়ালুর ভয় পায়
- فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ = তাকে সুসংবাদ দাও ক্ষমা এবং মহা পুরস্কারের
➡️ অর্থ: আপনি তো কেবল তাকে সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ অনুসরণ করে এবং অদৃশ্যের প্রতি ভয় করে। অতএব তাকে ক্ষমাশীলতা ও মহাপুরস্কারের সুসংবাদ দিন।
আয়াত ১২: إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ
- إِنَّا نَحْنُ = নিশ্চয়ই আমরা
- نُحْيِي الْمَوْتَىٰ = মৃতদের জীবিত করি
- وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ = এবং লিখি যা তারা করেছে ও তাদের চিহ্নসমূহ
- وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ = এবং আমরা সবকিছু গণনা করেছি
- فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ = স্পষ্ট রেকর্ডে/পুঙ্খানুপুঙ্খ লিপিতে
➡️ অর্থ: নিশ্চয় আমিই মৃতদের পুনর্জীবিত করি এবং যা তারা আগেই করেছে ও যা তারা রেখে গেছে, সবই আমি লিখে রাখি। আমি সবকিছু সংরক্ষণ করেছি সুস্পষ্ট কিতাবে।
আস সাফফাত (সূরা ৩৭) (আয়াতঃ ১৮০-১৮২)
আয়াত ১৮০: سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
- سُبْحَانَ – পবিত্র, পরিপূর্ণ; এখানে হোক বা প্রশংসা সূচক।
- رَبِّكَ – তোমার রব
- رَبِّ = রব
- كَ = তোমার
- رَبِّ الْعِزَّةِ – গৌরবের রব
- الْعِزَّةِ = গৌরব
- عَمَّا – যা থেকে উঁচু / যা সম্পর্কে
- يَصِفُونَ – তারা বর্ণনা করে
অর্থ: পবিত্র তোমার রব, পরম গৌরবের অধিপতি, যা তারা বর্ণনা করে তার চেয়ে উঁচু।
আয়াত ১৮১: وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ
- وَ = এবং
- سَلَامٌ = শান্তি
- عَلَى = উপর
- الْمُرْسَلِينَ = প্রেরিতরা
অর্থ: এবং শান্তি প্রেরিতদের উপর হোক।
আয়াত ১৮২: وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
- وَ = এবং
- الْحَمْدُ = সমস্ত প্রশংসা
- لِلَّهِ = আল্লাহর জন্য
- رَبِّ الْعَالَمِينَ = জগতসমূহের রব;
- رَبِّ = রব
- الْعَالَمِينَ = জগতসমূহ
অর্থ: এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব।
আশ-শুরা (সূরা ৪২) (আয়াতঃ ৫২–৫৩)
আয়াত ৫২: وَكَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا...
শব্দে শব্দে
وَكَذَٰلِكَ – এবং এভাবেই / এভাবে
- وَ = এবং
- كَذَٰلِكَ = এভাবেই, অবস্থা নির্দেশক
أَوْحَيْنَا – আমরা প্রেরণ করেছি / অনুপ্রেরণা দিয়েছি
- আমরা
إِلَيْكَ – তোমার প্রতি
- إِلَى = কোথায়
- كَ = তোমার
رُوحًا – রুহ / আত্মা / অনুপ্রেরণা
مِّنْ أَمْرِنَا – আমাদের আদেশ থেকে
- مِنْ = থেকে
- أَمْرِنَا = আমাদের আদেশ
مَا كُنتَ تَدْرِي – তুমি জানো না
- مَا = না/যে না
- كُنتَ = তুমি ছিলে
- تَدْرِي = জানো
مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ – কিতাব ও ঈমান কী না
- مَا = কি না
- الْكِتَابُ = কিতাব
- وَلَا = এবং না
- الْإِيمَانُ = ঈমান
وَلَٰكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا – তবে আমরা এটি করেছি নূর
- وَلَٰكِن = কিন্তু / তবে
- جَعَلْنَاهُ = আমরা বানিয়েছি এটি
- نُورًا = আলো / নূর
نَّهْدِي بِهِ – যার মাধ্যমে আমরা পথ প্রদর্শন করি
- نَّهْدِي = আমরা নির্দেশ করি
- بِهِ = তার মাধ্যমে
مَن نَّشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا – আমাদের বান্দাদের মধ্যে যাকে আমরা চাই
- مَن = যে কেউ
- نَّشَاءُ = আমরা চাই
- مِنْ عِبَادِنَا = আমাদের বান্দাদের মধ্যে
وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ – এবং তুমি সত্যিই সঠিক পথে পরিচালিত করো
- وَ = এবং
- إِنَّكَ = নিশ্চয়ই তুমি
- لَتَهْدِي = পরিচালিত করো
- إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ = সঠিক পথে
অর্থঃ এভাবেই আমি তোমার প্রতি আমার আদেশক্রমে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি। তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি এটিকে করেছি এক আলো, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। আর তুমি তো অবশ্যই সরল পথে পথপ্রদর্শন কর।
আয়াত ৫৩: وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ...
শব্দে শব্দে
وَكَذَٰلِكَ – এভাবেই / এভাবে
أَنزَلْنَاهُ – আমরা অবতরণ করলাম এটি
- فعل ماضٍ, فاعل আমরা
آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ – স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ
- آيَاتٍ = নিদর্শনসমূহ
- بَيِّنَاتٍ = স্পষ্ট, বিশেষণ
وَاللَّهُ يَهْدِي مَن يَشَاءُ – এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাকে পরিচালনা করেন
- يَهْدِي = পরিচালনা করেন
- مَن = যাকে
- يَشَاءُ = তিনি ইচ্ছা করেন
إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ – সঠিক পথে
- صِرَاطٍ = পথ
- مُّسْتَقِيمٍ = সঠিক, বিশেষণ
অর্থঃ আল্লাহর সেই পথ, যার জন্য আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। শুনে রাখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
হাশর (সূরা ৫৯) । শেষ তিন আয়াত (আয়াত ২২–২৪)
আয়াত ২২: هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۚ هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, ‘আলিমুল গাইবি ওয়াশ-শাহাদাহ, হুয়ার রাহমানুর রাহীম।
শব্দে শব্দে অর্থ ও নাহু-সরফ বিশ্লেষণ:
- هُوَ (হুয়া) — তিনি
- اللَّهُ (আল্লাহু) — আল্লাহ
- الَّذِي (আল্লাযী) — যিনি
- لَا إِلَٰهَ (লা ইলাহা) — কোনো উপাস্য নেই
- إِلَّا هُوَ (ইল্লা হুয়া) — তিনি ছাড়া
- عَالِمُ (আলিমু) — জ্ঞানী
- الْغَيْبِ (আল-গাইবি) — অদৃশ্য
- وَالشَّهَادَةِ (ওয়াশ-শাহাদাহ) — দৃশ্যমান
- الرَّحْمَٰنُ (আর-রাহমানু) — পরম করুণাময়
- الرَّحِيمُ (আর-রাহীমু) — অতি দয়ালু
অর্থঃ তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। তিনি পরম করুণাময়, পরম দয়ালু।
আয়াত ২৩: هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْ...ِكُونَ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আল-মালিকুল কুদ্দূসুস সালামুল মু’মিনুল মূহাইমিনুল ‘আযীজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির, সুবহানাল্লাহি ‘আম্মা ইউশরিকূন।
শব্দে শব্দে অর্থ ও নাহু-সরফ বিশ্লেষণ:
- الْمَلِكُ (আল-মালিকু) — রাজাধিপতি
- الْقُدُّوسُ (আল-কুদ্দূসু) — পবিত্রতম
- السَّلَامُ (আস-সালামু) — শান্তিদাতা
- الْمُؤْمِنُ (আল-মু’মিনু) — নিরাপত্তাদাতা
- الْمُهَيْمِنُ (আল-মুহাইমিনু) — নিয়ন্ত্রণকারী
- الْعَزِيزُ (আল-‘আযীজু) — পরাক্রমশালী
- الْجَبَّارُ (আল-জাব্বারু) — জবরদস্তকারী
- الْمُتَكَبِّرُ (আল-মুতাকাব্বিরু) — মহিমান্বিত
- سُبْحَانَ (সুবহানা) — মহিমা
- اللَّهِ (আল্লাহি) — আল্লাহর
- عَمَّا (আম্মা) — যা থেকে
- يُشْرِكُونَ (ইউশরিকূন) — তারা শরিক করে
অর্থঃ তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি রাজাধিরাজ, মহাপবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তা বিধায়ক, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অহংকারের অধিকারী। তারা যাকে শরিক করে, তিনি তার ঊর্ধ্বে ও পবিত্র।
আয়াত ২৪: هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল খালিকুল বারি’উল মুসাওয়ির, লাহুল আসমা-উল হুসনা, ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস-সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়াহুয়াল ‘আযীযুল হাকীম।
শব্দে শব্দে অর্থ ও নাহু-সরফ বিশ্লেষণ:
- الْخَالِقُ (আল-খালিকু) — সৃষ্টিকর্তা
- الْبَارِئُ (আল-বারি’উ) — সৃষ্টির সূচনাকারী
- الْمُصَوِّرُ (আল-মুসাওয়িরু) — আকৃতি দানকারী
- لَهُ (লাহু) — তাঁর জন্য
- الْأَسْمَاءُ (আল-আসমা-উ) — নামসমূহ
- الْحُسْنَىٰ (আল-হুসনা) — সুন্দরতম
- يُسَبِّحُ (ইউসাব্বিহু) — পবিত্রতা ঘোষণা করে
- مَا (মা) — যা কিছু
- فِي السَّمَاوَاتِ (ফিস-সামা-ওয়াতি) — আসমানসমূহে
- وَالْأَرْضِ (ওয়াল আরদ) — এবং পৃথিবীতে
- الْعَزِيزُ (আল-‘আযীযু) — পরাক্রমশালী
- الْحَكِيمُ (আল-হাকীমু) — প্রজ্ঞাময়
অর্থঃ তিনি আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকারী, রূপদাতা। তাঁরই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আন-নাবা (সূরা ৭৮) (আয়াতঃ ৩৭–৩৮)
আয়াত ৩৭: رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الرَّحْمَٰنِ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا
উচ্চারণ: রাব্বিস-সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়ামা বাইনা হুমা, আর-রাহমানি, লা ইয়ামলিকূনা মিনহু খিতাবা।
শব্দে শব্দে অর্থ ও নাহু-সরফ বিশ্লেষণ:
- رَبِّ (রাব্বি) — পালনকর্তা
- السَّمَاوَاتِ (আস-সামা-ওয়াতি) — আসমানসমূহ
- وَالْأَرْضِ (ওয়াল আরদি) — এবং পৃথিবী
- وَمَا بَيْنَهُمَا (ওয়ামা বাইনা হুমা) — এবং যা কিছু তাদের মধ্যে আছে
- الرَّحْمَٰنِ (আর-রাহমানি) — পরম করুণাময়
- لَا يَمْلِكُونَ (লা ইয়ামলিকূনা) — তারা অধিকার রাখে না
- مِنْهُ (মিনহু) — তাঁর কাছ থেকে
- خِطَابًا (খিতাবা) — কথা/বক্তব্য
অর্থঃ তিনি আকাশসমূহ, পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা—পরম দয়ালু। তাঁর সামনে কেউ কথা বলার ক্ষমতা রাখে না।
আয়াত ৩৮: يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا ۖ لَا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًا
উচ্চারণ: ইয়াওমা ইয়াকূমুর রূহু ওয়াল মালা-ইকাতু সাফফা, লা ইয়াতাকাল্লামূনা ইল্লা মান আযিনা লাহুর রাহমানু ওয়াকালা সাওয়াবা।
শব্দে শব্দে অর্থ ও নাহু-সরফ বিশ্লেষণ:
- يَوْمَ (ইয়াওমা) — যেদিন
- يَقُومُ (ইয়াকূমু) — দাঁড়াবে
- الرُّوحُ (আর-রূহু) — রূহ (জিবরাইল আঃ)
- وَالْمَلَائِكَةُ (ওয়াল মালা-ইকাতু) — এবং ফেরেশতাগণ
- صَفًّا (সাফফা) — সারিবদ্ধভাবে
- لَا يَتَكَلَّمُونَ (লা ইয়াতাকাল্লামূনা) — তারা কথা বলবে না
- إِلَّا (ইল্লা) — তবে
- مَنْ (মান) — যে
- أَذِنَ (আযিনা) — অনুমতি দিয়েছে
- لَهُ (লাহু) — তার জন্য
- الرَّحْمَٰنُ (আর-রাহমানু) — পরম করুণাময়
- وَقَالَ (ওয়াকালা) — এবং বলেছে
- صَوَابًا (সাওয়াবা) — যথার্থ কথা
অর্থঃ যেদিন রূহ (জিবরাঈল) এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, কেউ কথা বলবে না—শুধু সে-ই, যার জন্য পরম দয়ালু অনুমতি দেবেন এবং সে সত্য কথা বলবে।
আদ দোহা (সূরা ৯৩) (প্রথম ৫ আয়াত)
আয়াত ১: আরবি: وَالضُّحَىٰ
উচ্চারণ: ওয়াদ্-দোহা
অর্থ: শপথ সকালবেলার আলো।
বিশ্লেষণ:
- وَ (ওয়া) — শপথ/এবং
- الضُّحَىٰ (আদ্-দোহা) — সকালবেলা
আয়াত ২: আরবি: وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ
উচ্চারণ: ওয়াল-লাইলি ইযা সাজা
অর্থ: আর রাতের শপথ, যখন তা স্থির হয়ে যায়।
বিশ্লেষণ:
- وَاللَّيْلِ (ওয়াল-লাইলি) — রাতের
- إِذَا (ইযা) — যখন
- سَجَىٰ (সাজা) — স্থির হলো/ঢেকে দিল
আয়াত ৩: আরবি: مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ
উচ্চারণ: মা ওয়াদ্দা‘াকা রাব্বুকা ওয়ামা কালা
অর্থ: আপনার রব আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং বিরক্তও হননি।
বিশ্লেষণ:
- مَا (মা) — না
- وَدَّعَكَ (ওয়াদ্দা‘াকা) — ত্যাগ করেছেন আপনাকে
- رَبُّكَ (রাব্বুকা) — আপনার রব
- وَمَا (ওয়ামা) — এবং না
- قَلَىٰ (কালা) — বিরক্ত হয়েছেন
আয়াত ৪: আরবি: وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ
উচ্চারণ: ওয়ালাল-আখিরাতু খাইরুল্লাকা মিনাল-উলা
অর্থ: আর পরকাল আপনার জন্য উত্তম, এ জীবনের তুলনায়।
বিশ্লেষণ:
- وَلَلْآخِرَةُ (ওয়ালাল-আখিরাতু) — আর নিশ্চয়ই পরকাল
- خَيْرٌ (খাইরুন) — উত্তম
- لَّكَ (লাকা) — আপনার জন্য
- مِنَ (মিনা) — তুলনায়
- الْأُولَىٰ (আল-উলা) — প্রথম জীবন/দুনিয়া
আয়াত ৫: আরবি: وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ
উচ্চারণ: ওয়ালাসাওফা ইউ‘তীক রাব্বুকা ফাতারদা
অর্থ: আর শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এত দান করবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।
বিশ্লেষণ:
- وَلَسَوْفَ (ওয়ালাসাওফা) — আর অবশ্যই শীঘ্রই
- يُعْطِيكَ (ইউ‘তীক) — তিনি দান করবেন আপনাকে
- رَبُّكَ (রাব্বুকা) — আপনার রব
- فَتَرْضَىٰ (ফাতারদা) — ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন
আল-কদর (সূরা ৯৭)
আয়াত ১: إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
- বাংলা উচ্চারণ: ইননা আনজালনাহু ফি লাইলাতিল কদর
- শব্দে শব্দে:
- إِنَّا – নিশ্চয়ই আমরা
- أَنزَلْنَاهُ – আমরা অবতীর্ণ করেছি তাকে
- فِي – মধ্যে / এ রাতে
- لَيْلَةِ – রাতের
- الْقَدْرِ – কদর (মহিমা / বিশেষ রাত)
- অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা এটিকে অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে।
আয়াত ২: وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মা আদরাকা মা লাইলাতুল কদর
- শব্দে শব্দে:
- وَمَا – আর কি, না কি?
- أَدْرَاكَ – তুমি জানো?
- مَا – কি / তা কি
- لَيْلَةُ الْقَدْرِ – কদরের রাত
- অর্থ: আর তুমি কী জানো কদরের রাতটি কী?
আয়াত ৩: لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
- বাংলা উচ্চারণ: লাইলাতুল কদর খাইরুম মিন আলফি শহর
- শব্দে শব্দে:
- لَيْلَةُ الْقَدْرِ – কদরের রাত
- خَيْرٌ – উত্তম, শ্রেষ্ঠ
- مِّنْ – তুলনায়
- أَلْفِ شَهْرٍ – হাজার মাস
- অর্থ: কদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
আয়াত ৪: تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
- বাংলা উচ্চারণ: তানাজ্জালুল-মালাইকাতু ওয়ার-রুহু ফিহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর
- শব্দে শব্দে:
- تَنَزَّلُ – অবতীর্ণ হয়
- الْمَلَائِكَةُ – ফেরেশতা
- وَالْرُّوحُ – এবং রুহুল কুদুস
- فِيهَا – এতে, ওই রাতে
- بِإِذْنِ رَبِّهِم – তাদের রবের অনুমতি দ্বারা
- مِّن كُلِّ أَمْرٍ – প্রতিটি ব্যাপারে / আদেশে
- অর্থ: ফেরেশতারা এবং রুহুল কুদুস ওই রাতে অবতীর্ণ হয় তাদের রবের অনুমতি নিয়ে প্রতিটি কাজের জন্য।
আয়াত ৫: سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
- বাংলা উচ্চারণ: সালাম হিয়া হত্তা মাতলিল-ফজর
- শব্দে শব্দে:
- سَلَامٌ هِيَ – শান্তি রয়েছে এটি
- حَتَّى – পর্যন্ত
- مَطْلَعِ الْفَجْرِ – ভোরের উদয় পর্যন্ত
- অর্থ: এটি শান্তির রাত, ভোরের উদয় পর্যন্ত।
কারিয়াহ (সূরা ১০১)
আয়াত ১: ٱلْقَارِعَةُ
- উচ্চারণ: আল-কারিয়াহ
- অর্থ: মহা বিপর্যয় (কিয়ামতের ধ্বনি)।
আয়াত ২: مَا ٱلْقَارِعَةُ
- উচ্চারণ: মা আল-কারিয়াহ
- অর্থ: কী সেই মহা বিপর্যয়!
- বিশ্লেষণ: مَا — (কী), الْقَارِعَةُ — খবর
আয়াত ৩: وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْقَارِعَةُ
- উচ্চারণ: ওয়ামা আদ্রাকা মা আল-কারিয়াহ
- অর্থ: আর কী তোমাকে জানালো, কী সেই মহা বিপর্যয়!
- বিশ্লেষণ:
- أَدْرَىٰكَ (আদ্রাকা) — জানালো তোমাকে
- مَا (মা) — কী
- الْقَارِعَةُ (আল-কারিয়াহ) — মহা বিপর্যয়
আয়াত ৪: يَوْمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلْفَرَاشِ ٱلْمَبْثُوثِ
- উচ্চারণ: ইয়াওমা ইয়াকূনুন্-নাসু কাল-ফারাশিল মাব্সূথ
- অর্থ: সেদিন মানুষ হবে ছড়িয়ে পড়া পতঙ্গের মতো।
- বিশ্লেষণ:
- يَوْمَ (ইয়াওমা) — যেদিন
- يَكُونُ (ইয়াকূনু) — হবে
- ٱلنَّاسُ (আন্-নাসু) — মানুষ
- كَٱلْفَرَاشِ (কাল-ফারাশি) — পতঙ্গের মতো
- ٱلْمَبْثُوثِ (আল-মাব্সূথি) — ছড়িয়ে পড়া
আয়াত ৫: وَتَكُونُ ٱلْجِبَالُ كَٱلْعِهْنِ ٱلْمَنفُوشِ
- উচ্চারণ: ওয়াতাকূনুল-জিবালু কাল-‘িহনিল মানফূশ
- অর্থ: আর পাহাড়সমূহ হবে ছিন্নভিন্ন রঙিন পশমের মতো।
- বিশ্লেষণ:
- تَكُونُ (তাকূনু) — হবে
- ٱلْجِبَالُ (আল-জিবালু) — পাহাড়সমূহ
- كَٱلْعِهْنِ (কাল-‘িহনি) — পশমের মতো
- ٱلْمَنفُوشِ (আল-মানফূশি) — ছিন্নভিন্ন
আয়াত ৬: فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ
- উচ্চারণ: ফা-আম্মা মান্ সাকুলাত্ মাওয়াজীনুহু
- অর্থ: অতএব যার পাল্লা ভারী হবে।
- বিশ্লেষণ:
- فَأَمَّا (ফা-আম্মা) — অতএব
- مَن (মান) — যে
- ثَقُلَتْ (সাকুলাত্) — ভারী হয়েছে
- مَوَازِينُهُ (মাওয়াজীনুহু) — তার পাল্লা
আয়াত ৭: فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
- উচ্চারণ: ফাহুয়া ফি ‘ীশাতির রাদিয়া
- অর্থ: সে থাকবে সুখী জীবনে।
- বিশ্লেষণ:
- فَهُوَ (ফাহুয়া) — অতএব সে
- فِي (ফি) — মধ্যে
- عِيشَةٍ (ঈশাতিন) — জীবন
- رَّاضِيَةٍ (রাদিয়াতিন) — সন্তুষ্ট
আয়াত ৮: وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ
- উচ্চারণ: ওয়াম্মা মান্ খাফ্ফাত্ মাওয়াজীনুহু
- অর্থ: আর যার পাল্লা হালকা হবে।
- বিশ্লেষণ:
- خَفَّتْ (খাফ্ফাত্) — হালকা হয়েছে
- مَوَازِينُهُ (মাওয়াজীনুহু) — তার পাল্লা
আয়াত ৯: فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ
- উচ্চারণ: ফা-উম্মুহু হাওইয়াহ
- অর্থ: তার আশ্রয় হবে গভীর গহ্বর।
- বিশ্লেষণ:
- أُمُّهُ (উম্মুহু) — তার মা/আশ্রয়
- هَاوِيَةٌ (হাওইয়াতুন) — গহ্বর
আয়াত ১০: وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا هِيَهْ
- উচ্চারণ: ওয়ামা আদ্রাকা মা হিয়াহ
- অর্থ: আর কী তোমাকে জানালো, কী তা?
- বিশ্লেষণ:
- أَدْرَىٰكَ (আদ্রাকা) — জানালো তোমাকে
- مَا (মা) — কী
- هِيَهْ (হিয়াহ) — তা
আয়াত ১১: نَارٌ حَامِيَةٌ
- উচ্চারণ: নারুন হামিয়াহ
- অর্থ: অগ্নি, অতি উত্তপ্ত।
- বিশ্লেষণ:
- نَارٌ (নারুন) — আগুন
- حَامِيَةٌ (হামিয়াতুন) — উত্তপ্ত
তাকাসুর (সূরা ১০২)
আয়াত ১: أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
উচ্চারণ: আলহাকুমুত-তাকাসুর
অর্থ: প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে।
বিশ্লেষণ:
· أَلْهَىٰ (আলহা) = বিভ্রান্ত করেছে,
· كُمُ (কুমু) = তোমাদেরকে,
· التَّكَاثُرُ (আত-তাকাসুর) = প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা
আয়াত ২: حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
উচ্চারণ: হাত্তা জুরতুমুল-মাকাবির
অর্থ: এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও।
বিশ্লেষণ:
· أَ حَتَّىٰ (হাত্তা) = যতক্ষণ না/এমনকি,
· زُرْتُمُ (জুরতুমু) = তোমরা পৌঁছালে,
· الْمَقَابِرَ (আল-মাকাবির) = কবরসমূহ
আয়াত ৩: كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
উচ্চারণ: কাল্লা সাওফা তা‘লামূন
অর্থ: না, কখনও নয়! তোমরা সত্ত্বরই জানতে পারবে।
বিশ্লেষণ:
· كَلَّا (কাল্লা) = কখনো নয়,
· سَوْفَ (সাওফা) = শীঘ্রই,
· تَعْلَمُونَ (তা‘লামূন) = তোমরা জানতে পারবে
আয়াত ৪: ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ
উচ্চারণ: সুম্মা কাল্লা সাওফা তা’লামূন
অর্থ: আবারও বলছি, না! তোমরা সত্ত্বরই জানতে পারবে।
বিশ্লেষণ:
· ثُمَّ (সুম্মা) = তারপর,
· كَلَّا (কাল্লা) = কখনো নয়,
· سَوْفَ (সাওফা) = শীঘ্রই,
· تَعْلَمُونَ (তা‘লামূন) = তোমরা জানতে পারবে
আয়াত ৫: كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ
উচ্চারণ: কাল্লা লাও তা’লামূনা ইলমাল-ইয়াকীন
অর্থ: না, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করতে!
বিশ্লেষণ:
· كَلَّا (কাল্লা) = কখনো নয়,
· لَوْ (লাও) = যদি,
· تَعْلَمُونَ (তা‘লামূন) = তোমরা জানো,
· عِلْمَ (ইলমা) = জ্ঞান,
· الْيَقِينِ (আল-ইয়াকীন) = নিশ্চিততা
আয়াত ৬: لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ
উচ্চারণ: লাতারাওন্নাল-জাহীম
অর্থ: তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে।
বিশ্লেষণ:
· لَ (লা) = অবশ্যই,
· تَرَوُنَّ (তারাওন্না) = তোমরা দেখবে,
· الْجَحِيمَ (আল-জাহীম) = জাহান্নাম
আয়াত ৭: ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
উচ্চারণ: সুম্মা লাতারাওন্নাহা আইনা-ল-ইয়াকীন
অর্থ: অতঃপর তোমরা তা দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে।
বিশ্লেষণ:
· ثُمَّ (সুম্মা) = তারপর,
· لَتَرَوُنَّهَا (লাতারাওন্নাহা) = তোমরা অবশ্যই তা দেখবে,
· عَيْنَ (আইনা) = চোখ/প্রত্যক্ষ,
· الْيَقِينِ (আল-ইয়াকীন) = নিশ্চিততা
আয়াত ৮: ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
উচ্চারণ: সুম্মা লাতুস আলুন্না ইয়াওমা ইযিন আনিন-না’ইম
অর্থ: সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
- বিশ্লেষণ:
· ثُمَّ (সুম্মা) = তারপর,
· لَتُسْأَلُنَّ (লাতুসআলুন্না) = অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে,
· يَوْمَئِذٍ (ইয়াওমাইযিন) = সেদিন,
· عَنِ (আনি) = সম্পর্কে,
· النَّعِيمِ (আন-না‘ইম) = নিয়ামত
ফীল (সূরা ১০৫)
আয়াত ১: أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
- বাংলা উচ্চারণ: আলম তরা কাইফা ফআলা রাব্বুকা বি আসহাবিল-ফীল
- শব্দে শব্দে:
- أَلَمْ – তুমি কি দেখনি?
- تَرَ – তুমি দেখো
- كَيْفَ – কিভাবে
- فَعَلَ – কার্য সম্পন্ন করল
- رَبُّكَ – তোমার রব
- بِأَصْحَابِ الْفِيلِ – হাতির সঙ্গীদের সাথে
- অর্থ: তুমি কি দেখনি কীভাবে তোমার রব হাতির দলকে মোকাবেলা করল?
বিশ্লেষণ: সূরা শুরুতেই ইতিহাসের উদাহরণ দিয়ে আল্লাহর শক্তি প্রদর্শন।
আয়াত ২: أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
- বাংলা উচ্চারণ: আলম ইয়াজআল কায়দাহুম ফি তদলিল
- শব্দে শব্দে:
- أَلَمْ – তুমি কি দেখনি?
- يَجْعَلْ – সে স্থাপন করেন / করে দেন
- كَيْدَهُمْ – তাদের কৌশল / পরিকল্পনা
- فِي تَضْلِيلٍ – পথভ্রষ্ট অবস্থায় / ধ্বংসের মধ্যে
- অর্থ: সে তাদের কৌশলকে পথভ্রষ্ট করেছে।
বিশ্লেষণ: শত্রুর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে আল্লাহর দ্বারা।
আয়াত ৩: وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়ারসালা আলাইহিম তাইরান আবাবীল
- শব্দে শব্দে:
- وَأَرْسَلَ – এবং পাঠাল
- عَلَيْهِمْ – তাদের ওপর
- طَيْرًا – পাখি
- أَبَابِيلَ – দলবদ্ধ / ফোর্সে
- অর্থ: এবং তিনি তাদের ওপর দলবদ্ধ পাখি পাঠাল।
বিশ্লেষণ: আল্লাহ শত্রুর উপরে বিশেষ যন্ত্র বা পাখির সাহায্য প্রেরণ করেন।
আয়াত ৪: تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ
- বাংলা উচ্চারণ: তরমিহিম হিজারাতিম মিন সিজজিল
- শব্দে শব্দে:
- تَرْمِيهِمْ – তাদের উপর নিক্ষেপ করে
- بِحِجَارَةٍ – পাথর দিয়ে
- مِّن سِجِّيلٍ – পিষা মাটির পাথর / নির্দিষ্ট ধরনের পাথর থেকে
- অর্থ: পাথর নিক্ষেপ করে যা পিষা মাটির।
বিশ্লেষণ: আল্লাহ শত্রুর ওপর শাস্তি প্রেরণ করলেন।
আয়াত ৫: فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ
- বাংলা উচ্চারণ: ফা জআলাহুম কা’অসফিম মা’কুল
- শব্দে শব্দে:
- فَجَعَلَهُمْ – অতএব তিনি তাদের করলেন
- كَعَصْفٍ – খোসার মতো / শুকনো পাতার মতো
- مَّأْكُولٍ – খাওয়া হয়েছে
- অর্থ: অতএব তিনি তাদেরকে শুকনো পাতা যা খাওয়া হয়েছে, এমন অবস্থায় পরিণত করলেন।
বিশ্লেষণ: শত্রু সম্পূর্ণ ধ্বংস হলো, কোনো অস্তিত্ব রক্ষা পেল না।
কুরাইশ (সূরা ১০৬)
আয়াত ১: لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ
- বাংলা উচ্চারণ: লি’ইলাফি কুরাইশ
- শব্দে শব্দে:
- لِ – জন্য
- إِيلَافِ – অভ্যস্ততা, স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা
- قُرَيْشٍ – কুরাইশ গোত্র
- অর্থ: কুরাইশ গোত্রের অভ্যস্ততা / স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য।
বিশ্লেষণ: আল্লাহ তাদেরকে নিরাপত্তা ও স্থায়ী জীবনের অভ্যস্ততা প্রদান করেছেন।
আয়াত ২: إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ
- বাংলা উচ্চারণ: ইলাফিহিম রহলাতা শ-শিতাই ওয়াস-সাইফ
- শব্দে শব্দে:
- إِيلَافِهِمْ – তাদের অভ্যস্ততা / নিরাপত্তা
- رِحْلَةَ – যাত্রা
- الشِّتَاءِ – শীতের (মাস/কাল)
- وَالصَّيْفِ – এবং গরমের (মাস/কাল)
- অর্থ: তাদের যাত্রার নিরাপত্তা শীত ও গরমের সময়।
বিশ্লেষণ: কুরাইশরা বাণিজ্যের জন্য ঋতু অনুযায়ী যাত্রা করতো, আল্লাহ তাদের সেই নিরাপত্তা দিয়েছেন।
আয়াত ৩: فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ
- বাংলা উচ্চারণ: ফাল্যাবুদু রাব্বা হাযাল-বা’য়ীদ
- শব্দে শব্দে:
- فَلْ – অতএব / সুতরাং
- يَعْبُدُوا – তারা ইবাদত করুক
- رَبَّ – রব
- هَذَا الْبَيْتِ – এই ঘর / কা‘বা
- অর্থ: অতএব তারা ইবাদত করুক এই ঘরের রবকে।
বিশ্লেষণ: কুরাইশরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইবাদত করতে উৎসাহিত।
আয়াত ৪: الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাযী আত‘আমাহুম মিন জুউ‘ইন ওয়া আমানাহুম মিন খোফ
- শব্দে শব্দে:
- الَّذِي – যে / যিনি
- أَطْعَمَهُم – তাদের খাওয়িয়েছেন
- مِن جُوعٍ – ক্ষুধা থেকে
- وَآمَنَهُم – এবং তাদের নিরাপদ রাখিয়েছেন
- مِنْ خَوْفٍ – ভয় থেকে
- অর্থ: যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে খাওয়িয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপদ রাখিয়েছেন।
কাওসার (সূরা ১০৮)
আয়াত ১: إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
- বাংলা উচ্চারণ: ইননা আ‘তাইনাকাল-কাওসার
- শব্দে শব্দে:
- إِنَّا – নিশ্চয়ই আমরা
- أَعْطَيْنَا – আমরা দিয়েছি
- كَ – তোমাকে
- الْكَوْثَرَ – প্রচুর সুনাম/অনুগ্রহ/নদী স্বর্গীয়
- অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে কাওসার দিয়েছি।
আয়াত ২: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
- বাংলা উচ্চারণ: ফাসল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার
- শব্দে শব্দে:
- فَصَلِّ – অতএব নামাজ পড়ো / প্রার্থনা করো
- لِرَبِّكَ – তোমার রবের জন্য
- وَانْحَرْ – এবং পশু কোরবানি করো
- অর্থ: অতএব তোমার রবের জন্য নামাজ পড়ো এবং কোরবানি দাও।
বিশ্লেষণ: কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশনা—ইবাদত ও কোরবানির মাধ্যমে।
আয়াত ৩: إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
- বাংলা উচ্চারণ: ইননা শানিআকু হুয়াল-অবতার
- শব্দে শব্দে:
- إِنَّ – নিশ্চয়ই
- شَانِئَكَ – তোমার শত্রু / বিদ্বেষী
- هُوَ – তিনি / সে
- الْأَبْتَرُ – কাটা, বংশহীন, খারাপ পরিণতি
- অর্থ: নিশ্চয়ই তোমার শত্রুই ব্যর্থ ও বংশহীন।
কাফিরুন (সূরা ১০৯)
আয়াত ১: قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
- বাংলা উচ্চারণ: কুল্যা আয়্যুহাল-কারিফুন
- শব্দে শব্দে:
- قُلْ – বলো
- يَا – হে
- أَيُّهَا – হে, নির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য করা
- الْكَافِرُونَ – অবিশ্বাসীরা
- অর্থ: বলো, হে অবিশ্বাসীরা!
আয়াত ২: لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
- বাংলা উচ্চারণ: লা আ‘বুদু মা তা‘বুদুন
- শব্দে শব্দে:
- لَا – না
- أَعْبُدُ – আমি উপাসনা করি
- مَا – যা
- تَعْبُدُونَ – তোমরা উপাসনা করো
- অর্থ: আমি সেই জিনিস উপাসনা করি না যা তোমরা উপাসনা করো।
আয়াত ৩: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া লা আনতুম ‘আবিদুন মা আ‘বুদু
- শব্দে শব্দে:
- وَلَا – এবং না
- أَنتُمْ – তোমরা
- عَابِدُونَ – উপাসনা করবে
- مَا – যা
- أَعْبُدُ – আমি উপাসনা করি
- অর্থ: এবং তোমরাও উপাসনা করবে না যা আমি উপাসনা করি।
আয়াত ৪: وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
- বাংলা উচ্চারণ: ও লা আনা ‘আবিদুম মা ‘আবাদতুম
- শব্দে শব্দে:
- وَلَا – এবং না
- أَنَا – আমি
- عَابِدٌ – উপাসক
- مَا – যা
- عَبَدتُّمْ – তোমরা উপাসনা করেছ
- অর্থ: এবং আমি উপাসনা করব না যা তোমরা উপাসনা করেছ।
আয়াত ৫: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
- বাংলা উচ্চারণ: ও লা আনতুম ‘আবিদুন মা আ‘বুদু
- শব্দে শব্দে:
- وَلَا – এবং না
- أَنتُمْ – তোমরা
- عَابِدُونَ – উপাসনা করবে
- مَا – যা
- أَعْبُدُ – আমি উপাসনা করি
- অর্থ: এবং তোমরাও উপাসনা করবে না যা আমি উপাসনা করি।
আয়াত ৬: لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
- বাংলা উচ্চারণ: লাখুম দিনুম ওয়া লি’য়া দিনি
- শব্দে শব্দে:
- لَكُمْ – তোমাদের জন্য
- دِينُكُمْ – তোমাদের ধর্ম / উপাসনা পদ্ধতি
- وَلِيَ – এবং আমার
- دِينِ – ধর্ম / উপাসনা পদ্ধতি
- অর্থ: তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম, এবং আমার জন্য আমার ধর্ম।
নাসর (সূরা ১১০)
আয়াত ১: إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ
- বাংলা উচ্চারণ: ইযা জা’আ নসরুল্লাহি ওয়াল ফতহ
- শব্দে শব্দে:
- إِذَا – যখন
- جَاءَ – এসেছে
- نَصْرُ اللَّهِ – আল্লাহর সাহায্য / বিজয়
- وَالْفَتْحُ – এবং বিজয় / জয়
- অর্থ: যখন আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় আসে।
আয়াত ২: وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া রাইতান-নাসা ইয়াদখুলূনা ফি দীনিল্লাহি আফওয়াজা
- শব্দে শব্দে:
- وَرَأَيْتَ – এবং তুমি দেখো
- النَّاسَ – মানুষদের
- يَدْخُلُونَ – প্রবেশ করছে
- فِي دِينِ اللَّهِ – আল্লাহর ধর্মে
- أَفْوَاجًا – সমূহে, দলবদ্ধভাবে
- অর্থ: এবং তুমি দেখবে মানুষদের আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করছে দলবদ্ধভাবে।
আয়াত ৩: فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
- বাংলা উচ্চারণ: ফাসাব্বিহ্ বিহাম্দি রাব্বিকা ওয়াস্তাগফিরহু ইনাহু কানা তাওয়াবা
- শব্দে শব্দে:
- فَسَبِّحْ – অতএব তসমীয় পড়ো / প্রশংসা করো
- بِحَمْدِ رَبِّكَ – তোমার রবের প্রশংসায়
- وَاسْتَغْفِرْهُ – এবং ক্ষমা প্রার্থনা করো তাকে
- إِنَّهُ – নিশ্চয়ই তিনি
- كَانَ – ছিলেন
- تَوَّابًا – ক্ষমাশীল, বারংবার ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণকারী
- অর্থ: অতএব তোমার রবের প্রশংসা করো এবং তাঁকে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি বারংবার ক্ষমা করেন।
লাহাব (সূরা ১১১)
আয়াত ১: تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
- বাংলা উচ্চারণ: তাব্বাত যাদা আবী লাহাবিন ওয়াতাব্বা
- শব্দে শব্দে:
- تَبَّتْ – ধ্বংস হোক / ধ্বংসিত হোক
- يَدَا – দুই হাত
- أَبِي لَهَبٍ – আবু লাহাবের
- وَتَبَّ – এবং ধ্বংস হোক আবারও
- অর্থ: ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাতের, এবং ধ্বংস হোক সে।
বিশ্লেষণ: সূরা শুরুতেই শত্রুর পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়াত ২: مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ
- বাংলা উচ্চারণ: মা আগনা আন্হু মালুহু ওয়া মা কাসাবা
- শব্দে শব্দে:
- مَا – কোন কিছুই
- أَغْنَى – উপকারে আসে / কাজে আসে না
- عَنْهُ – তার থেকে
- مَالُهُ – তার ধন
- وَمَا كَسَبَ – এবং যা সে অর্জন করেছে
- অর্থ: তার ধন বা অর্জন তাকে কিছুই উপকারে আসবে না।
বিশ্লেষণ: অবিশ্বাসী ও বিদ্বেষী শত্রুর ধন-সম্পদ কোনোভাবে রক্ষা করবে না।
আয়াত ৩: سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
- বাংলা উচ্চারণ: সায়াসলা নারান ধাত লাহাব
- শব্দে শব্দে:
- سَيَصْلَى – সে দাহিত হবে / দগ্ধ হবে
- نَارًا – আগুনে
- ذَاتَ لَهَبٍ – লহাবযুক্ত / জ্বলন্ত
- অর্থ: সে জ্বলন্ত আগুনে দগ্ধ হবে।
বিশ্লেষণ: শাস্তি চিরস্থায়ী ও জ্বলন্ত।
আয়াত ৪: وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়ামরাতুহু হাম্মালাতাল হাতাব
- শব্দে শব্দে:
- وَامْرَأَتُهُ – এবং তার স্ত্রী
- حَمَّالَةَ – বহনকারী
- الْحَطَبِ – কাঠ / আগুন জ্বালানোর জিনিস
- অর্থ: এবং তার স্ত্রী আগুনের কাঠ বহনকারী।
বিশ্লেষণ: স্ত্রীও শাস্তিতে অংশগ্রহণ করবে, যিনি শত্রুতা ছড়াত।
আয়াত ৫: فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
- বাংলা উচ্চারণ: ফি জিদিহা হবলুন মিন মাসাদ
- শব্দে শব্দে:
- فِي جِيدِهَا – তার ঘাড়ে
- حَبْلٌ – দড়ি / রশি (اسم)
- مِّن – এর
- مَّسَدٍ – খোলসযুক্ত ফাইবার বা লোট, দগ্ধ দড়ি
- অর্থ: তার ঘাড়ে একটি দড়ি রয়েছে যা জ্বলন্ত।
বিশ্লেষণ: স্ত্রীও শাস্তির অংশীদার, শাস্তি চিরস্থায়ী।
ইখলাস (সূরা ১১২)
আয়াত ১: قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ
- উচ্চারণ: কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ
- অর্থ: বলো, তিনি আল্লাহ, এক।
- বিশ্লেষণ:
o قُلْ (কুল) = বলুন,
o هُوَ (হুয়া) = তিনি,
o ٱللَّهُ (আল্লাহু) = আল্লাহ,
o أَحَدٌ (আহাদ) = এক/অদ্বিতীয়
আয়াত ২: ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ
- উচ্চারণ: আল্লাহুস-সামাদ
- অর্থ: আল্লাহ পরম নির্ভরযোগ্য, সবকিছু তাঁর উপর নির্ভর করে।
- বিশ্লেষণ:
o ٱللَّهُ (আল্লাহু) = আল্লাহ,
o ٱلصَّمَدُ (আস-সামাদ) = অমুখাপেক্ষী/সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী
আয়াত ৩: لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ
- উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ
- অর্থ: তিনি জন্ম দেননি, এবং জন্মগ্রহণও করেননি।
- বিশ্লেষণ:
o لَمْ (লাম) = তিনি না,
o يَلِدْ (ইয়ালিদ) = জন্ম দেন,
o وَلَمْ (ওয়ালাম) = এবং না,
o يُوْلَدْ (ইউলাদ) = জন্ম দেওয়া হয়
আয়াত ৪: وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا أَحَدٌ
- উচ্চারণ: ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
- অর্থ: এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
- বিশ্লেষণ:
o وَلَمْ (ওয়ালাম) = এবং না,
o يَكُنْ (ইয়াকুন) = হয়,
o لَّهٗ (লাহু) = তাঁর জন্য,
o كُفُوًا (কুফুওয়ান) = সমকক্ষ/সমান,
o أَحَدٌ (আহাদ) = কেউই
ফালাক (সূরা ১১৩)
আয়াত ১: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
- বাংলা উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিল-ফালাক
- শব্দে শব্দে:
- قُلْ – বলো
- أَعُوذُ – আশ্রয় গ্রহণ করি
- بِرَبِّ – রবের কাছে
- الْفَلَقِ – প্রভাত / সূর্যের উদয় / সৃষ্টি, আল্লাহর শক্তি দ্বারা শুরু
- অর্থ: বলো, আমি আশ্রয় নিই প্রভাতের (সৃষ্টির) রবের কাছে।
আয়াত ২: مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
- বাংলা উচ্চারণ: মিন শাররি মা খালাকা
- শব্দে শব্দে:
- مِن – থেকে
- شَرِّ – ক্ষতি / বিপদ
- مَا – যা কিছু
- خَلَقَ – সৃষ্টি করেছে
- অর্থ: যে সব কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন তার ক্ষতি থেকে।
আয়াত ৩: وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি গাসিকই ইযা ওয়াকাব
- শব্দে শব্দে:
- وَمِن – এবং থেকে
- شَرِّ – ক্ষতি / বিপদ
- غَاسِقٍ – অন্ধকার রাতে
- إِذَا وَقَبَ – যখন ঢুকে পড়ে / প্রবেশ করে
- অর্থ: এবং যখন রাতের অন্ধকার প্রবেশ করে, তখন তার ক্ষতি থেকে।
আয়াত ৪: وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি নাফফাথাতি ফিল-উকাদ
- শব্দে শব্দে:
- وَمِن – এবং থেকে
- شَرِّ – ক্ষতি / বিপদ
- النَّفَّاثَاتِ – দম দেওয়া / জাদুকরের ফুঁ
- فِي الْعُقَدِ – গিঁটের মধ্যে / যাদুতে
- অর্থ: এবং যাদের গিঁটে (যাদু বা জাদুকরের ফুঁতে) ক্ষতি করতে পারে, তাদের থেকে।
আয়াত ৫: وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
- বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি হাসিদই ইযা হাসাদ
- শব্দে শব্দে:
- وَمِن – এবং থেকে
- شَرِّ – ক্ষতি / বিপদ
- حَاسِدٍ – ঈর্ষুক, হিংসুক
- إِذَا حَسَدَ – যখন ঈর্ষা করে
- অর্থ: এবং ঈর্ষুকের ক্ষতি থেকে যখন সে ঈর্ষা করে।
নাস (সূরা ১১৪)
আয়াত ১: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিন্নাস
- শব্দে শব্দে:
- قُلْ – বলো
- أَعُوذُ – আমি আশ্রয় নিই
- بِرَبِّ – রবের কাছে
- النَّاسِ – মানুষের, আল্লাহর মানুষদের রক্ষা প্রার্থনা
- অর্থ: বলো, আমি আশ্রয় নিই মানুষের রবের কাছে।
আয়াত ২: مَلِكِ النَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: মালিকিন্নাস
- শব্দে শব্দে:
- مَلِكِ – অধিপতি / রাজা
- النَّاسِ – মানুষের
- অর্থ: মানুষের অধিপতি।
আয়াত ৩: إِلَٰهِ النَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: ইলাহিন্নাস
- শব্দে শব্দে:
- إِلَٰهِ – উপাস্য, যাকে পূজা করা হয়
- النَّاسِ – মানুষের
- অর্থ: মানুষের একমাত্র উপাস্য।
আয়াত ৪: مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: মিন শাররিল-ওয়াসওয়াসিল-খান্নাস
- শব্দে শব্দে:
- مِن – থেকে
- شَرِّ – ক্ষতি / বিপদ
- الْوَسْوَاسِ – ফিসফিস / নফসী উদ্দীপনা
- الْخَنَّاسِ – লুকিয়ে থাকা / বিদ্রুপকারী (শয়তান)
- অর্থ: বিপদ থেকে, যিনি ফিসফিস করে এবং লুকিয়ে থাকে।
আয়াত ৫: الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাযী ইউওসওিসু ফি সুদুরিন্নাস
- শব্দে শব্দে:
- الَّذِي – যে / যিনি
- يُوَسْوِسُ – ফিসফিস করে
- فِي – মধ্যে
- صُدُورِ – অন্তর / হৃদয়
- النَّاسِ – মানুষের
- অর্থ: যিনি মানুষের অন্তরে ফিসফিস করে।
আয়াত ৬: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
- বাংলা উচ্চারণ: মিনাল-জিন্নি ওন্নাস
- শব্দে শব্দে:
- مِنَ – থেকে
- الْجِنَّةِ – জিনদের
- وَالنَّاسِ – এবং মানুষের
- অর্থ: জিন এবং মানুষের ক্ষতি থেকে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন