১। [১ বার]
আল্লাহু আকবার
২। [৩ বার]
আসতাগফিরুল্লাহ্ [বুখারী ৮৪২, মুসলিম ৫৯৭, ই.ফা. ১১৯২, মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮]
৩। [১ বার]
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ
আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনিই শান্তিময়, আপনার থেকেই শান্তি আসে এবং আপনার থেকেই শান্তি লাভ করা যায়। হে মহিমাময় ও দয়াময়, আপনি কল্যাণময়। [মুসলিম ৫৯১, ই.ফা. ১২১১, তিরমিজি ৩০০, আবূ দাউদ ১৫১২, ইবনু মাজাহ ৭৫২, ৯২৮, আহমাদ ২১৯০২, দারেমী ১৩৪৮, নাসাঈ ১৩৩৭, মিশকাত ৯৬০]
৪। [১ বার] আয়াতুল কুরসী [সূরা বাকারা-২৫৫]:
ٱللَّهُ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَیُّ ٱلۡقَیُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةࣱ وَلَا نَوۡمࣱۚ لَّهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِی یَشۡفَعُ عِندَهُۥۤ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ أَیۡدِیهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا یُحِیطُونَ بِشَیۡءࣲ مِّنۡ عِلۡمِهِۦۤ إِلَّا بِمَا شَاۤءَۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا یَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِیُّ ٱلۡعَظِیمُ
আল্লাহু লা--ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তাখুজুহু সিনাতুউ ওয়ালা নাউম। লাহুমা ফিস সা-মা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফা’উ ইন্দাহু-- ইল্লা বি’ইযনিহী-, ইয়া’লামু-মা বায়না আই-দিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী- ইল্লা- বিমা শা--আ, ওয়াছিয়া কুরসিয়্যুহুস সা-মা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া’উ দুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজীম।
অর্থঃ আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে রয়েছে এবং যা তাদের পেছনে রয়েছে। তাঁর জ্ঞান থেকে তারা কোনো কিছুকেই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর ‘কুরসি’ (ক্ষমতা বা জ্ঞান) আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। [নাসাঈ, ৮৮৫, সহীহ ইবনে হিব্বান ২০২০]
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সলাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে, মৃত্যু ছাড়া কোনও জিনিস তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে পারবে না। [সিলসিলাতুল আহাদীসিস-সহীহা ৯৭২]
যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, আল্লহর পক্ষ হতে তার জন্য একজন রক্ষক [ফেরেশতা] নিযুক্ত হবেন। তাই কিছুতেই সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না। [বুখারী ই.ফা. অনুচ্ছেদ ১৪৩৮, হা/২৩১১]
৫।
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্
৩৪ বার আল্লাহু আকবার
[বুখারী ৮৪৩, মুসলিম ৫৯৫, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৭২০২, দারেমী ১৩৫৩, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৬]
অথবা
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্
৩৩ বার আল্লাহু আকবার
[১ বার] লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর।
[মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ৮৪৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৭]
৬। [১০ বার]
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুলি শাইয়্যীন কদীর।
অর্থঃ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।
ফজিলতঃ
১০ বার পাঠকারী যেন ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন। [মুসলিম ৬৭৩৭, ই.ফা. ৬৬০০, ই.সে. ৬৬৫২]
৭। [৩ বার]
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
আসতাগফিরুল্লা-হ আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসছি। [তিরমিজি, আবু দাউদ: ৩৫৭৭]
ফযিলতঃ
তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি সে রণক্ষেত্র থেকেও পলায়ন করে থাকে। [তিরমিজি]
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো বান্দা গোনাহ করে বলল, হে রব, আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জেনেছে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। [বুখারি ও মুসলিম]
৮। [৩ বার]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল জান্নাতা ওয়া আউজুবিকা মিনান্নার।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
ফযিলতঃ “যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রার্থনা করে, জান্নাত বলে হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, জাহান্নাম বলে হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।” (তিরমিযী)
৯। [১ বার]
اَللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিক্র [স্মরণ], শুক্র [কৃতজ্ঞতা] এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর।
গুরুত্বঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি প্রতি ফরয সালাত শেষে পড়ার অসিয়ত করেছেন [আবূ দাউদ ১৫২২, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ২১৬২১, নাসাঈ ১৩০৩, মিশকাত ৯৪৯]
১০। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস।
ফযিলতঃ
প্রতিটি [ক্ষতিকর] জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। [তিরমিজি ৩৫৭৫, আবূ দাউদ ৫০৮২, নাসাঈ ৫৪২৮, ৫৪২৯, রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৪]
১১। [১ বার]
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আস্তাগিসু, আসলিহ লী শানী কুল্লাহু ওয়ালা তাকিলনী ইলা- নাফসী তারফাতা আইন।
অর্থঃ হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের উসিলায় সাহায্য চাই। আপনি আমার সার্বিক অবস্থার সংশোধন করে দিন এবং আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও [এক চোখের পলকের জন্যও] আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। [তিরমিজি ৩৫২৪, আল-কালিমুত্ তাইয়্যিব [হাঃ ১১৮/৭৬], সহীহাহ্ [হাঃ ১৫৩৬]
১২। দুশ্চিন্তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল যুবনি, ওয়া গালাবাতির রিযাল।
অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি দুশ্চিন্তা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, এবং লোকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [বুখারি: ২৮৯৩, সুনানে আন-নাসাঈ: ৫৪৪৯]
১৩। [১ বার]
আউজুবিল্লাহিল আজিম, ওয়াবি ওয়াজহিহীল কারীম, ওয়া সুলতানিহীল কাদীম, মিনাশ শায়তানির রাজীম।
ফযিলতঃ
পাঠকারীর সংগে থাকা শয়তান বলে, "এ লোকটি আমার [অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা] থেকে সারা দিনের জন্য বেঁচে গেল।" [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মুসনাদে আহমাদ, বুখারি ও মসলিম]
১৪। [১ বার] সূরা ফাতিহা
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ١اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٢الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۙ٣مٰلِکِ یَوۡمِ الدِّیۡنِ ؕ٤اِیَّاکَ نَعۡبُدُ وَاِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ ؕ٥اِہۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ٦ صِرَاطَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِمۡ ۙ۬ غَیۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَیۡہِمۡ وَلَا الضَّآلِّیۡنَ ٧
১। আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল আ-লামীন।
২। আর রহমা-নির রহীম।
৩। মা-লিকি ইয়াও মিদ্দীন।
৪। ইয়্যা-কা না-বুদু ওয়া ইয়্যা-কানাছ তা-ঈন।
৫। ইহদিনাস সিরা-তাল মুছতাকীম।
৬। সিরা-তাল্লাযীনা আন-আমতা আলাইহিম।
৭। গাইরিল মাগদূবি-আলাইহীম ওয়ালাদ্দা--ল্লীন। (আমিন)
➡️অর্থ:
১। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
২। যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
৩। বিচার দিনের মালিক।
৪। আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য চাই।
৫। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।
৬। সেইসব লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নিয়ামত দান করেছ;
৭। তাদের পথ নয়, যাদের উপর তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
১৫। [১ বার] সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত [২৮৫-২৮৬]
اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَيۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ وَقَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيۡكَ الۡمَصِيۡرُ
لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا ؕ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا اكۡتَسَبَتۡؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِيۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَاۤ اِصۡرًا كَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖۚ وَاعۡفُ عَنَّا وَاغۡفِرۡ لَنَا وَارۡحَمۡنَا اَنۡتَ مَوْلَىٰنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَى الۡقَوۡمِ الۡكٰفِرِيۡنَ
[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম]
২.২৮৫। আ-মানার রাসূলু বিমা-- উনঝিলা ইলাইহি মির রব্বিহী-ওয়াল মুমিনূন;
কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হী ওয়া মালা--ইকাতিহী- ওয়া কুতুবিহী-
ওয়া রুসুলিহী-;
লা নুফাররিকু বায়না আহাদিম
মির রুসুলিহী-;
ওয়া কলূ সামি’না ওয়া আতা’না গুফরানাকা রব্বানা
ওয়া ইলাইকাল মাছীর।
২.২৮৬। লা-ইউকাল্লি ফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা-উছ আহা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত।
রব্বানা লা তু’আখিযনা ইন্নাসীনা-আও আখতানা।
রব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা-- ইছরান কামা হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কবলিনা।
রব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মালাতা কতালানা বিহী- ওয়া’ফু আন্না- ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা আলাল কওমিল কা-ফিরীন।
অর্থঃ ২.২৮৫। রাসুল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ইমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ইমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমুহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসুলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
২.২৮৬। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
ফযিলতঃ
সূরা ফাতেহার পর সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পাঠ করে দু’আ করলে আল্লাহ তা’লা সে দু’আ কবুল করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সে দু’টি যথেষ্ট হবে।” [সহীহুল বুখারী ৪০০৮, ৫০১০, ৫০৪০, ৫০৫১, ৮০৭, তিরমিজি ২৮৮১, আবূ দাঊদ ১৩৯৭, ইবনু মাজাহ ১৩৬৮, ১৩৬৯, আহমাদ ১৬৬২০, ১৬৬৪২, ১৬৬৫১, দারেমী ১৪৮৭. ৩৩৮৮, রিয়াদুস সলেহিন ১০২৪]
১৬। [১ বার] সূরা ইখলাস
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
১। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ
২। আল্লাহুস-সামাদ
৩। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ
৪। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
➡️অর্থ:
১। বলো, তিনি আল্লাহ, এক।
২। আল্লাহ পরম নির্ভরযোগ্য, সবকিছু তাঁর উপর নির্ভর করে।
৩। তিনি জন্ম দেননি, এবং জন্মগ্রহণও করেননি।
৪। এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
ফযিলতঃ
এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পাঠের ছওয়াব পাবে। [তিরমিজি ২৮৯৬]
পাঠকারীর জন্য জান্নাত ওয়াজিব [অবধারিত] হয়ে যায়। [তিরমিজি ২৮৯৭]
১৭। [১ বার] সূরা কাফিরুন
قُلۡ یٰۤاَیُّہَا الۡکٰفِرُوۡنَ ۙ ١ لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٢ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ۚ ٣ وَلَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡ ۙ ٤ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ؕ ٥ لَکُمۡ دِیۡنُکُمۡ وَلِیَ دِیۡنِ ٦
১। কুল ইয়া আয়্যুহাল-কাফিরুন
২। লা আ’বুদু মা তা’বুদুন
৩। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ
৪। ওয়ালা আনা আবিদুম মা আবাদতুম
৫। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আ’বুদ
৬। লাকুম দিনুকুম ওয়া লি’য়া দ্বীন
➡️অর্থ:
১। বলো, হে অবিশ্বাসীরা!
২। আমি সেই জিনিস উপাসনা করি না যা তোমরা উপাসনা করো।
৩। এবং তোমরাও উপাসনা করবে না যা আমি উপাসনা করি।
৪। এবং আমি উপাসনা করব না যা তোমরা উপাসনা করেছ।
৫। এবং তোমরাও উপাসনা করবে না যা আমি উপাসনা করি।
৬। তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম, এবং আমার জন্য আমার ধর্ম।
ফযিলতঃ
- এক-চতুর্থাংশ কুরআন পাঠের ছওয়াব পাবে। [তিরমিজি ২৮৯৪]
- এটি শিরক হতে মুক্তির ঘোষণা। [জামে' আত-তিরমিজি : ৩৪০৩, তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২০৯)]
১৮। [১ বার] সূরা মূলক [সূরা নং ৬৭]
[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম]
৬৭.১। তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মূলকু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়্যীন কদীর।
৬৭.২। আল্লাজী খলাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা লি’ইয়াবলু ওয়াকুম আই’উকুম আহছানু আমালান।
ওয়া হুওয়াল আজিজুল গাফুর।
৬৭.৩। আল্লাজি খলাকা ছাব‘আ ছামা’ওয়াতিন তিবাকান।
মাতারা’ফি খালকির রাহমানি মিন তাফাউত।
ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা’মিন ফুতুর।
৬৭.৪। ছুম্মার জি’ইল বাসারা কাররা’তায়নি ইয়ান কালিব ইলাইকাল বাসারু খাছিআও ওয়া হুওয়া হাছীর।
৬৭.৫। ওয়া লাকাদ জায়’ইয়ান্নাছ ছামা--আদ্দুনিয়া বিমাছা বিহা ওয়াজা আলনা’হা রুজুমাল লিশ’শায়াতিনি
ওয়া আতাদনা লাহুম
আযা বাছ ছায়ীর।
৬৭.৬। ওয়া লিল্লাযীনা কাফারু বিরাব্বিহিম আযাবু জাহান্নাম। ওয়াবি’ছাল মাছীর।
৬৭.৭। ইজা-- উলকু ফিহা ছামি’উ লাহা শাহিকাও ওয়া হিয়া তাফুর।
৬৭.৮। তাকাদু তামাইয়্যাজু মিনাল গাইজি কুল্লামা-- উলকিয়া ফিহা ফাওজুন ছা’আলাহুম খাজানাতুহা-- আলাম ইয়াতিকুম নাজীর।
৬৭.৯। কলু বালা কাদ জা—আনা নাজিরুন ফাকাজ জাবনা ওয়া কুলনা মানাজ জালাল্লাহু মিন শাইয়্যীন আনতুম ইল্লা ফি দা’লালিন কাবীর।
৬৭.১০। ওয়া কলুউ লাও কুন্না নাছমা’উ আওনা কিলুমা কুন্না-ফি--
আসহা’বিছ ছায়ীর।
৬৭.১১। ফা তারাফু বিজাম বিহিম ফাছুহক কাল্লি আসহা’বিছ ছায়ীর।
৬৭.১২। ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিল গাইবি লাহুম মাগফিরাতুও ওয়া আজরুন কাবীর।
৬৭.১৩। ওয়া আছিররুউ কাওলাকুম আউয়্যীজ হারুবিহি
ইন্নাহু আলিমুম বিজাতিস ছুদুর।
৬৭.১৪। আলা ইয়া লামু মান খলাক
ওয়া হুওয়াল লাতিফুল খাবীর।
৬৭.১৫। হুওয়াল্লাযী জা’আলা লাকুমুল আরদা জালুলান ফামশু ফি
মানা কিবিহা ওয়া কুলুমির রিজকিহি
ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
৬৭.১৬। আ-আমিনতুম মান ফিছ ছামা-য়ী আই ইয়াখ সিফা বিকুমুল আরদা ফা-ইযা হিয়া তামুর।
৬৭.১৭। আম আমিনতুম মান ফিছ ছামা--য়ী আই ইউরছিলা আলাইকুম হাছিবান ফাছাতা লামুনা কাইফা নাজির।
৬৭.১৮। ওয়া লাকাদ কাজ্জাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কানা নাকীর।
৬৭.১৯। আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত্তাইরি ফাওকাহুম সাফ--ফাতিউ
ওয়া ইয়াকবিদুন।
মা ইউমছি কুহুন্না ইল্লার রাহমানু ইন্নাহু বিকুল্লি শাইয়্যীম বাছীর।
৬৭.২০। আম্মান হাজাল্লাযী হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ান সুরুকুম
মিন দুনির রাহমান।
ইনিল কাফিরুনা ইল্লা ফি গুরুর।
৬৭.২১। আম্মান হাজাল্লাযী ইয়ার জুকুকুম ইন আমছাকা রিজকাহু বাল্লাজজুফি উতুউ ইউ ওয়া নুফুর।
৬৭.২২। আফামাই ইয়ামশি মুকিব্বান আলা ওয়াজহিহী—
আহদা-- আম্মাই ইয়ামশি ছাউ-ইয়ান
আলা সিরাতিম মুছতাকীম।
৬৭.২৩। কুল হুওয়াল্লাযী-- আনশা আকুম ওয়া জা’আলা লাকুমুছ ছাম’আ ওয়াল আবছারা ওয়াল আফ ইদাতা কালিলাম মা তাশকুরুন।
৬৭.২৪। কুল হুওয়াল্লাযী যারা আকুম ফিল আরদি ওয়া ইলাইহি তুহশারুন।
৬৭.২৫। ওয়া ইয়া কুলুনা মাতা- হা-যাল ওয়া দু’ইন কুনতুম স-দিকীন।
৬৭.২৬। কুল ইন্না-মাল ইলমু ইনদাল্লাহি ওয়া ইন্নামা-- আনা নাজিরুম মুবীন।
৬৭.২৭। ফালাম্মা-রা আওহু জুলফাতান ছী—আত উজুউ হুল্লাজীনা কাফারু ওয়া কিলা হাযাল্লাজী কুনতুম বিহি তাদ্দাউন।
৬৭.২৮। কুল আরা আইতুম ইন আহলাকা নিয়াল্লাহু ওয়া মাম্মা’ইয়্যা আও রাহিমানা ফামাই উজিরুল কাফিরীনা মিন আযাবিন আলীম।
৬৭.২৯। কুল হুওয়ার রাহমানু আমান্না বিহি ওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালনা ফাছাতা’লামুনা মান হুওয়া ফি
দলালিম মুবীন।
৬৭.৩০। কুল আরা আইতুম ইন আসবাহা মা--উকুম গাওরান ফামাই ইয়াতীকুম বিমা--ইম মা’য়ীন।
অর্থঃ “পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি”
[১] বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
[২] যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।
[৩] যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?
[৪] অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
[৫] আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপঞ্জু দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আজাব।
[৬] আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
[৭] যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে।
[৮] ক্রোধে তা ছিন্ন ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোনো সতর্ককারী আসেনি’?
[৯] তারা বলবে, ‘হ্যা, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা [তাদেরকে] মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ।
[১০] আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না।
[১১] অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব, ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।
[১২] নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।
[১৩] আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
[১৪] যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষদর্শী, পূর্ণ অবহিত।
[১৫] তিনিই তো তোমাদের জন্য জামিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।
[১৬] যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ জমিন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে।
[১৭] যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
[১৮] আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান [এর শাস্তি]?
[১৯] তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
[২০] পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোনো সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত।
[২১] অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিজিক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।
[২২] যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের ওপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হেদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
[২৩] বলো, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর।
[২৪] বলো, ‘তিনিই তোমাদেরকে জমিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’।
[২৫] আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
[২৬] বলো, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
[২৭] অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হলো তা, যা তোমরা দাবী করছিলে।
[২৮] বলো, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সঙ্গে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে কে রক্ষা করবে?’
[২৯] বলো, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে?
[৩০] বলো, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে?
ফজিলতঃ
পাঠকারীকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে।
সূরাটি কারও জন্য সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। [তিরমিজি-২৮৯১]
রাসূল [সাঃ] রাতে সুরাটি পাঠ না করে ঘুমাতেন না।
[তিরমিজি-২৮৯২, ৩৪০৪, মিশকাত [হাঃ ২১৫৫], সহীহ হাদীস সিরিজ [হাঃ ৫৮৫], রাওযুন নাযীর [হাঃ ২২৭]
রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেন, “কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মুলক’ [সূরা মুলক]।” [আবূ দাঊদ ১৪০০, ২৮৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৮৬, রিয়াদুস সলেহিন ১০২৩]
আল-মুসাব্বিহাত
কুরআনের যে সূরাগুলো আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা (তাসবিহ) ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়েছে, সেগুলোকে একত্রে 'মুসাব্বিহাত' (Al-Musabbihat) বলা হয়। এই সূরাগুলো 'সুবহানা' (Subhana), 'সাব্বাহা' (Sabbaha), 'ইউসাব্বিহু' (Yusabbihu) বা 'সাব্বিহ' (Sabbih) শব্দ দিয়ে শুরু হয়।
মুসাব্বিহাত সূরাগুলো হলো:
1. সূরা আল-ইসরা (বনি ইসরাঈল): ১৭ নম্বর সূরা।
2. সূরা আল-হাদিদ: ৫৭ নম্বর সূরা।
3. সূরা আল-হাশর: ৫৯ নম্বর সূরা।
4. সূরা আস-সাফ: ৬১ নম্বর সূরা।
5. সূরা আল-জুমুআ: ৬২ নম্বর সূরা।
6. সূরা আত-তাগাবুন: ৬৪ নম্বর সূরা।
7. সূরা আল-আ'লা: ৮৭ নম্বর সূরা।
ফজিলত ও আমল:
* রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমল: হাদিস অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ করতেন।
* বিশেষ আয়াত: নবীজি (সা.) বলেছেন, এই সূরাগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা এক হাজার আয়াতের চেয়েও উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। কোনো কোনো আলেমের মতে এটি সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত, আবার কারো মতে এটি সূরা হাদিদের প্রথম আয়াত অথবা প্রথম ৪ আয়াতের মধ্যে আছে।
সুরা হাদিদের প্রথম ৪ আয়াতঃ
سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ١
لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٢
ہُوَ الۡاَوَّلُ وَالۡاٰخِرُ وَالظَّاہِرُ وَالۡبَاطِنُ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٣
ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ مَعَکُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ٤
১। ছাব্বাহা লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল আজীজুল হাকীম।
২। লাহূ মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইউহঈ ওয়া ইউমীতু ওয়া হুওয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন কাদীর।
৩। হুয়াল আউয়ালু ওয়াল আ-খিরু ওয়াজ্জা-হিরু ওয়াল বা-তিনু ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়্যিন আলীম।
৪। হুওয়াল্লাযী খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ফী ছিত্তাতি আইয়া-মিন ছুম্মাছতা ওয়া আলাল আরশি ইয়া-লামুমা-ইয়ালিজূ ফিল আরদ, ওয়ামা-ইয়াখরুজূ মিনহা-ওয়া মাইয়ান ঝিলু মিনাছ ছামাই ওয়ামা-ওয়া রুজূ ফীহা- ওয়া হুওয়া মা-আকুম আইনা মা-কুনতুম ওয়াল্লা-হু বিমা-তা-মালূনা বাসীর।
১। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
২। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তারই। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।
৩। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত এবং তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত। তিনি সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জানেন।
৪। তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন। যমীনে যা প্রবেশ করে এবং তা থেকে যা বের হয় এবং আকাশ থেকে যা নাযিল হয় ও তাতে যা ওপরে ওঠে, তিনি সবকিছু জানেন। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন। তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ তা ভালোভাবে দেখেন।
সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াতঃ
ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ ۚ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ ٢٢
ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ اَلۡمَلِکُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُہَیۡمِنُ الۡعَزِیۡزُ الۡجَبَّارُ الۡمُتَکَبِّرُ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٢٣
ہُوَ اللّٰہُ الۡخَالِقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ٢٤
৫৯.২২। হুয়াল্লা-হুল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লাহু আলিমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি হুওয়ার রাহমানুর রাহীম।
৫৯.২৩। হুয়াল্লা-হুল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লাহু আল-মালিকুল কুদ্দুস আস সালামুল মুমিনুল মুহাইমিনুল আযীযুল জাব্বার, আল মুতাকাব্বির, সুবহানাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুন।
৫৯.২৪। হুয়াল্লা-হুল খালিকুল বারিউল মুছাওয়্যির লাহুল আসমাউল হুসনা, ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়া হুয়াল আযীযুল হাকীম।
২২। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা। তিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু।
২৩। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি বাদশাহ, পবিত্রতার অধিকারী, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, সকলের রক্ষক, মহা ক্ষমতাবান, সকল দোষ-ত্রুটির সংশোধনকারী, গৌরবান্বিত, তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।
২৪। তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা, অস্তিত্বদাতা, রূপদাতা, সর্বাপেক্ষা সুন্দর নামসমূহ তাঁরই, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তিনিই ক্ষমতাময়, হেকমতের মালিক।
[জামে' আত-তিরমিজি: ৩৪০৬]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন