১। [১ বার]
আল্লাহু আকবার
[বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৫৯]
২। [৩ বার]
আসতাগফিরুল্লাহ্
[বুখারী ৮৪২, মুসলিম ৫৯৭, ই.ফা. ১১৯২, মুসনাদে আহমদ- ২২৪০৮]
৩। [১ বার]
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ
আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনিই শান্তিময়, আপনার থেকেই শান্তি আসে এবং আপনার থেকেই শান্তি লাভ করা যায়। হে মহিমাময় ও দয়াময়, আপনি কল্যাণময়।
[মুসলিম ৫৯১, ই.ফা. ১২১১, তিরমিজি ৩০০, আবূ দাউদ ১৫১২, ইবনু মাজাহ ৭৫২, ৯২৮, আহমাদ ২১৯০২, দারেমী ১৩৪৮, নাসাঈ ১৩৩৭, মিশকাত ৯৬০]
" "
৪। [১ বার] আয়াতুল কুরসী [সূরা বাকারা-২৫৫]
ٱللَّهُ لَاۤ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَیُّ ٱلۡقَیُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةࣱ وَلَا نَوۡمࣱۚ لَّهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِی یَشۡفَعُ عِندَهُۥۤ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ أَیۡدِیهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا یُحِیطُونَ بِشَیۡءࣲ مِّنۡ عِلۡمِهِۦۤ إِلَّا بِمَا شَاۤءَۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ ٱلسَّمَـٰوَ ٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا یَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِیُّ ٱلۡعَظِیمُ
আল্লাহু লা--ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তাখুজুহু সিনাতুউ ওয়ালা নাউম। লাহুমা ফিস সা-মা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফা’উ ইন্দাহু-- ইল্লা বি’ইযনিহী-, ইয়া’লামু-মা বায়না আই-দিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী- ইল্লা- বিমা শা--আ, ওয়াছিয়া কুরসিয়্যুহুস সা-মা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া’উ দুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজীম।
অর্থঃ আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে রয়েছে এবং যা তাদের পেছনে রয়েছে। তাঁর জ্ঞান থেকে তারা কোনো কিছুকেই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর ‘কুরসি’ (ক্ষমতা বা জ্ঞান) আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান।
[নাসাঈ, ৮৮৫, সহীহ ইবনে হিব্বান ২০২০]
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সলাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে, মৃত্যু ছাড়া কোনও জিনিস তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে পারবে না
[সিলসিলাতুল আহাদীসিস-সহীহা ৯৭২]
যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে, আল্লহর পক্ষ হতে তার জন্য একজন রক্ষক [ফেরেশতা] নিযুক্ত হবেন। তাই কিছুতেই সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।
[বুখারী ই.ফা. অনুচ্ছেদ ১৪৩৮, হা/২৩১১]
" "
৫।
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্
৩৪ বার আল্লাহু আকবার
[বুখারী ৮৪৩, মুসলিম ৫৯৫, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৭২০২, দারেমী ১৩৫৩, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৬]
অথবা
৩৩ বার সুবহানাল্লাহ
৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্
৩৩ বার আল্লাহু আকবার
[১ বার] লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর।
[মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ৮৪৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৭]
" "
৬। [১ বার] সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার [ফজর ও মাগরীবের পর]
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ، ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ، ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ، ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ، ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ، ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ، ﺇِﻧَّﻪُ ﻻَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক-তানী, ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু। আউজুবিকা মিন শাররী মা ছানাতু। আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার উপর তোমার যে নিয়ামত আছে তা স্বীকার করছি এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার আর কেউ নেই।
ফযিলতঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দু’আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে।"
[বুখারী ১৭৪৭, ৬৩০৬ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪), তিরমিজি ৩৩৯৩, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো’আ সমূহ’অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’অনুচ্ছেদ-৪]
" "
৭। [১০ বার] ফজর ও মাগরিবের পর:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ، وَهُوَ حَيٌّ لاِ يَمُوتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ, ইউহী ওয়া ইয়্যুমীত [বিয়াদিহিল খাইরু] ওয়া হুয়া আলা-কুল্লি শাইয়্যীন কাদীর। [মুসলিম ৫৯৪]
৮। [সকালে ৪ বার]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসবাহতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা ওয়া মালায়িকাতিকা ওয়া জামিয়া খালকিকা, আন্নাকা আন্তাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, ওয়াহদাকা লা-শারিকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান [সাঃ] আব্দুকা ওয়া রাসুলুক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি সকাল শুরু করছি, আপনাকে সাক্ষী রাখছি এবং আপনার আরশের ধারকদের, আপনার ফেরেশতাদের এবং সকল সৃষ্টির সামনে সাক্ষী রাখছি যে, আপনিই সেই মহান আল্লাহ, যার কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আপনার বান্দা ও রাসুল।
ফযিলতঃ রাসুলুল্লাহ (স.) এই দোয়া সাহাবিদের পড়তে উৎসাহিত করেছেন, যা প্রমাণিত হয়েছে বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে। যেখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সকালে এই দোয়া চারবার পড়বে, সে সারাদিন আল্লাহর অনুগ্রহ এবং নিরাপত্তা লাভ করবে। আর সন্ধ্যায় চার বার পড়লে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।
[আবু দাউদ, আদাবুল মুফরাদ, নাসায়ি, ইবনুস সুন্নি, বিন বাজ, পৃষ্ঠা: ২৩; হিসনুল মুসলিম: ৮০]
৯। [৩ বার]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল জান্নাতা ওয়া আউজুবিকা মিনান্নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
ফযিলতঃ “যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রার্থনা করে, জান্নাত বলে হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায়, জাহান্নাম বলে হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।” [তিরমিজি]
" "
১০। [৩ বার]
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّٰهِ
লা হাওলা ওয়ালা কুউয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থঃ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই।
ফযিলতঃ
এটি জান্নাতের গুপ্তধন।
[ইবনু মাজাহ [হাঃ ৩৮২৪], বুখারী ও মুসলিম, তিরমিজি: ৩৩৭৪]
কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা ও সাহায্য চাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম
এটি ৯৯টি রোগের নিরাময় বা দুশ্চিন্তা দূর করে
রাসূল (সাঃ) দু’আটি বেশি বেশি যিকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
১১। [৩ বার]
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ যোয়ালিমিন। [সুরা আম্বিয়া: ৮৭]
ফযিলতঃ
মহান আল্লাহ বলেন, আমি নবি ইউনুসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তাকে দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়েছি। অনুরূপভাবে যে মুমিনরা এ দোয়া পড়বে আমি তাদেরও বিভিন্ন দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদ থেকে মুক্তি দিব।
[সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৮]
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখনই এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করে থাকেন
[তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫]
১২। [৩ বার]
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
আসতাগফিরুল্লা-হ আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসছি। [তিরমিজি, আবু দাউদ: ৩৫৭৭]
ফযিলতঃ
তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি সে রণক্ষেত্র থেকেও পলায়ন করে থাকে। [তিরমিজি]
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো বান্দা গোনাহ করে বলল, হে রব, আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জেনেছে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। [বুখারী ও মুসলিম]
" "
১৩। ফজর ও মাগরিবের পর ৩ বার করে
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস।
ফযিলতঃ
প্রতিটি [ক্ষতিকর] জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে।
[তিরমিজি ৩৫৭৫, আবূ দাউদ ৫০৮২, নাসাঈ ৫৪২৮, ৫৪২৯, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৬৪]
১৪। [৩ বার]
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়া দুর-রু মা-আসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস-সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহ তা’আলার নামে যাঁর নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
ফযিলতঃ প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দু’আটি তিনবার পাঠ করবে কোন কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
[তিরমিজি ৩৩৮৮, ইবনু মাজাহ ৩৮৬৯, আহমাদ ৪৪৮, ৫২৯, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৬৫]
১৫। [৩ বার]
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولا وَبِالإسْلامِ دِينًا
রাযিতু বিল্লাহী রাব্বান ওয়াবি
মুহাম্মাদিন [সাঃ] রাসুলান ওয়া বিল ইসলামি দীনান।
অর্থঃ আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মদ [সাঃ] কে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে
দ্বীন/ধর্ম হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। [আবু দাউদ ১৫২৯, জামে' আত-তিরমিজি : ৩৩৮৯ (যঈফ, নাকদুল কিত্তানী (৩৩/৩৪) আল-কালিমুত-তায়্যিব (২৪), যঈফা (৫০২০), আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরক্ত সূত্রে গারীব)]
إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
ইযা আসবাহা আহাদুকুম ফাল-ইয়া কুলিল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহ-ইয়া ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলাইকাল মাছীর।
হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার নির্দেশেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নির্দেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
[জামে' আত-তিরমিজি : ৩৩৯১, ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৬৮)]
১৬। [৩ বার]
سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহ; আদাদা খালকিহি; ওয়া রিযা নাফসিহি; ওয়া যিনাতা আরশিহি; ওয়া মিদাদা কালিমাতিহী।
অর্থঃ আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি; তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাঁর নিজ মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজন বরাবর ও তাঁর বাণীসমূহের সমান সংখ্যক প্রশংসা।
গুরুত্বঃ জোয়ায়রিয়াহ (রা.) বলেন যে রাসুল (সা.) সাতসকালে আমার কাছ থেকে ঘরের বাইরে গেলেন এবং আমি জায়নামাজে বসে অজিফা পড়ছিলাম, তারপর চাশতের পর দিনের এক-চতুর্থাংশ চলে গেল। তখন রাসুল (সা.) ফের ঘরে এলেন। তখনো আমি একই অবস্থায় জায়নামাজে অজিফা পড়ায় মগ্ন ছিলাম। তা রাসুল (সা.) দেখে আমাকে বলেন যে আমি যাওয়ার সময় তোমাকে যে অবস্থায় দেখেছি, এখনো কি তুমি সেই আগের অবস্থায় রয়ে গেছ? আমি বলেছি হ্যাঁ, রাসুল (সা.) বলেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর যে চারটি কলেমা পাঠ করেছি, তা যদি তোমার সকাল থেকে এই পর্যন্তের সব অজিফার বিপরীতে ওজন করা হয়, তাহলে এই চারটি কলেমার ওজন বেশি ভারী হবে।
[মুসলিম ২৭২৬, ৬৮০৬, (ই.ফা. ৬৬৬৫, ই.সে. ৬৭১৮), তিরমিজি ৩৫৫৫, নাসাঈ ১৩৫২, ইবনু মাজাহ ৩৮০৮, আহমাদ ২৬২১৮, ২৬৮৭৫, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৪১]
" "
১৭। [১ বার]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً
আল্লাহুম্মা ইন্নী আস’আলুকা ইলমান না-ফি’আ, ওয়া রিজকান তাইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।
গুরুত্বঃ রাসুল (সা.) সালাম ফেরানোর পর এই দোয়া পড়তেন।
[ইবনে মাজাহ ৯২৫]
১৮। [১ বার]
اَللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিক্র [স্মরণ], শুক্র [কৃতজ্ঞতা] এবং সুন্দর ইবাদত করতে সাহায্য দান কর।
গুরুত্বঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি প্রতি ফরয সালাত শেষে পড়ার অসিয়ত করেছেন।
[আবূ দাউদ ১৫২২, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ২১৬২১, নাসাঈ ১৩০৩, মিশকাত ৯৪৯]
১৯। [১ বার]
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
আউজুবি কালিমা তিল্লাহিত-তাম্মাতি, মিন কুল্লি শায়তানিও-ওয়া হাম্মাতি, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
গুরুত্বঃ সকাল-সন্ধ্যায় অথবা যেকোনো সময় নিজের, শিশু-সন্তান বা পরিবারের নিরাপত্তায় এই দুয়াটি পড়া যায়। বিশেষ করে শিশুদের ওপর কুদৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে তাদের ওপর হাত রেখে এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নত। [বুখারী ৩৩৭১]
২০। [১ বার]
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ: لَمْ تَضُرَّك
আউজুবি কালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
অর্থঃ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ফজিলত ও আমল:
নতুন স্থানে আশ্রয়: কোথাও যাত্রাবিরতি বা নতুন স্থানে প্রবেশের সময় এই দুআ পড়লে, সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারবে না।
সন্ধ্যায় আমল: সন্ধ্যায় তিনবার পড়লে সারারাত বিষাক্ত প্রাণী বা অন্য কোনো অকল্যাণ থেকে নিরাপদে থাকা যায়।
বদনজর থেকে রক্ষা: রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য এই দুআ পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
[সূত্র: এটি সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৩৫৪৭ এবং সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় পাওয়া যায়]
[মুসলিম ২৭০৯, আহমাদ ৮৬৬৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৭৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৬০]
" "
২১। [১ বার]
رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَةً وَّ هَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا
রব্বানা আতিনা মিল্লাদু্নকা রাহমাতাও হাইয়্যীলানা মিন আমরিনা রশাদা। [সূরা কাহফ ১৮.১০]
অর্থঃ হে আমাদের রব! আপনি নিজ হতে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।
এই দুআটি আল্লাহর রহমত, হেদায়েত এবং কাজের সঠিক নির্দেশনার জন্য করা হয়, বিশেষ করে সংকটময় মুহূর্তে।
২২। [১ বার] সূরা আল ইমরানের ২৬-২৭ আয়াতঃ
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ ۖ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ۖ وَتَرْزُقُ مَن تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
৩.২৬: কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকী তু’তিল মুলকা মান তাশাউ,
ওয়া তানযি’উল মুলকা মিম্মান তাশাউ,
ওয়া তু’ইজ্জু মান তাশাউ,
ওয়া তুজিল্লু মান তাশাউ,
বিয়্যাদিকাল খাইরু, ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়্যীন কদীর।
৩.২৭: তূলিজুল্লায়লা ফিন্নাহারি,
ওয়া তূলিজুন্নাহারা ফিল্লায়লী,
ওয়া তুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতী,
ওয়া তুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যী,
ওয়া তারযুকু মান তাশাউ বিগাইরি হিসাব।
অর্থঃ ২৬ নং আয়াত: বলুন, হে আল্লাহ, তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপদস্থ কর। তোমারই হাতে সব রকম কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান ।
২৭ নং আয়াত: তুমিই রাতকে দিনের ভিতর আর দিনকে রাতের ভিতর ঢুকিয়ে দাও, তুমিই জীবিতকে মৃত হতে বের কর এবং মৃতকে জীবিত হতে বের কর আর যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান কর।
ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, সূরা আল ইমরানের ২৬ নং আয়াতে আল্লাহর ইসমে আযম রয়েছে, এ আয়াত দিয়ে দু’আ করলে আল্লাহ তা সরাসরি কবুল করে নেন।
[মুযাম আল-কাবীর লিততাবরানীঃ ১২৭৯২]
ঋণমুক্তি ও অভাব দূরীকরণ: নিয়মিত এই আয়াতগুলো পাঠ করলে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং অভাব দূর হয়।
রিজিক বৃদ্ধি: আল্লাহ তাআলা অপরিমিত রিজিক দান করেন এই আয়াতের বরকতে।
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার: আয়াতগুলো পাঠের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর অসীম ক্ষমতার স্বীকৃতি দেয়, যা ঈমান দৃঢ় করে।
সম্মান ও ক্ষমতা লাভ: আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং ক্ষমতা দান করেন—এই বিশ্বাস স্থাপন করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়।
দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি: এই আয়াতগুলো একটি শক্তিশালী দোয়া, যা পড়লে মনের দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর হয়।
শত্রু থেকে নিরাপত্তা: এই আয়াতগুলো পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ শক্রর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
" "
২৩। [১ বার]
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اَللهم لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ ওয়া হুয়া আলা-কুল্লি শাইয়্যীন কদীর। আল্লাহুম্মা লা-মানিয়া লিমা আতাইতা ওয়ালা মুতিয়া লিমা মানাতা ওয়া ইয়ান ফা'উ জাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থঃ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না।
[বুখারী ৮৪৪, ১৪৭৭, ২৪০৮, ৫৯৭৫, ৬৩৩০ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৮), ৬৪৭৩, ৬৬১৫, ৭২৯২, মুসলিম ৫৯৩, নাসাঈ ১৩৪১-১৩৪৩, আবূ দাউদ ১৫০৫, ৩০৭৯, আহমাদ ১৭৬৭৩, ১৭৬৮১, ১৭৬৯৩, ১৭৭১৪, ১৭৭১৮, ১৭৭৬৬, দারেমী ১৩৪৯, ২৭৫১, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৪]
২৪। [১ বার]
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الحَسَنُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الكَافِرُونَ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ ওয়া হুয়া আলা-কুল্লি শাইয়্যীন কদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। লা না'বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু, লাহুন নি'মাতু, ওয়া লাহুল ফাদলু, ওয়া লাহুস সানাউল হাসান, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কাফিরুন।
অর্থঃ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোন শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার [নড়া-চড়ার] শক্তি নেই। আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। তাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদত করিনা, তাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাঁরই যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাঁরই যাবতীয় সুপ্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁরই উপাসনা করি, যদিও কাফের দল তা অপছন্দ করে।
[মুসলিম ৫৯৪, নাসাঈ ১৩৩৯, ১৩৪০, আবূ দাউদ ১৫০৬, আহমাদ ১৫৬৭৩, ১৫৬৯০, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৫]
২৫। গুনাহ এবং ঋণ হতে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা
اللَّهُمَّ فَإِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ فَإِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
আল্লা-হুম্মা ফাইন্নী আউযুবিকা মিন্ ফিতনাতিন নার, ওয়া আযা-বিন্ নার, ওয়া ফিতনাতিল কাবরি, ওয়া আযা-বিল কাবরি, ওয়ামিন শার্রি ফিতনাতিল গিনা, ওয়ামিন শার্রি ফিতনাতিল ফাকরি, ওয়া আউযুবিকা মিন শার্রি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল, আল্লা-হুম্মাগ্সিল খতা-ইয়া ইয়া বিমা-য়িস্ সাল্জি ওয়াল বারাদ, ওয়ানাক্কি কলবী মিনাল খতা-ইয়া কামা- নাক্কাইতাস্ সাওবাল্ আব্ইয়াদা মিনাদ্ দানাস, ওয়া বা-ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খতা-ইয়া ইয়া কামা বা-আদ্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরীব, আল্লা-হুম্মা ফা-ইন্নী আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারাম, ওয়াল মা-সামি ওয়াল মাগরাম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই, কবরের ফিতনাহ্, কবর শাস্তি ও ধন-সম্পদের ফিতনাহ্ এবং অসচ্ছলতার ফিতনার খারাবী হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার বিভ্রান্তির অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ্সমূহ বরফ ও কুয়াশার স্নিগ্ধ-শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিন। আমার অন্তর পবিত্র করে দিন যেভাবে আপনি সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করে দেন। আমি ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে দুরত্ব করে দিন যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অলসতা, বার্ধক্য, গুনাহ ও ধার-কর্জ হতে আশ্রয় চাই।
[সহিহ বুখারী: ৬৩৬৮, ৮০/৩৯. অধ্যায়, ৯৩২; মুসলিম ৫/২৫, হাঃ ৫৮৯, ৬৭৬৪ (ই.ফা. ৬৬২৪, ই.সে. ৬৬৭৯), জামে' আত-তিরমিজি: ৩৪৯৫, ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৩৮) আহমাদ ২৪৬৩২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৫)
" "
২৬। [সকাল - সন্ধ্যায় ১ বার] আয়েশা [রাঃ] এর দোয়াঃ
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّه ٖ، عَاجِلِه ٖ وَآجِلِه ٖ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ، وَمَا لَمْ أَعْلَمْ. وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهٖ، عَاجِلِهٖ وَآجِلِه ٖ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ، وَمَا لَمْ أَعْلَمْ. وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ. وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ. وَأَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَأَسْتَعِيْذُكَ مِمَّا اسْتَعَاذَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَأَسْأَلُكَ مَا قَضَيْتَ لِيْ مِنْ أَمْرٍ أَنْ تَجْعَلَ عَاقِبَتَهٗ رَشَدًا.
আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহী আজিলিহী ওয়া আজিলিহী মা আলিমতু মিনহু ওয়া মালাম আ’লাম; ওয়া আউজুবিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহী আজিলিহী ওয়া আজিলিহী মা আলিমতু মিনহু ওয়া মালাম আ’লাম; ওয়া আস’আলুকাল জান্নাতা ওয়ামা কর-রাবা ইলাইহা মিন কওলিন আও আমালিন ওয়া আউজুবিকা মিনান্নার; ওয়ামা কর-রাবা ইলাইহা মিন কওলিন আও আমালিন; ওয়া আস-আলুকা মিনাল খাইরি মাছা’আলাকা আব্দুকা ওয়া রাসুলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম, ওয়া আস্তায়িজুকা মিম্মাস তা’আযাকা মিনহু আব্দুকা ওয়া রাসুলুকা মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম, ওয়া আস-আলুকা মা কদায়তা লীই মিন আমরিন আন তাজ’আলা আকিবাতাহু রশাদান।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই সমস্ত কল্যাণ- বর্তমানের এবং ভবিষ্যতের; যা আমি জানি এবং যা আমি জানি না। আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত অকল্যাণ থেকে- বর্তমানের এবং ভবিষ্যতের; যা আমি জানি এবং যা আমি জানি না। আমি আপনার কাছে চাই জান্নাত এবং এমন কথা ও কাজ, যা আমাকে তার নিকটবর্তী করে দেয়। আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি জাহান্নাম থেকে এবং এমন কথা ও কাজ থেকে, যা আমাকে তার নিকটবর্তী করে দেয়। আমি আপনার কাছে সেসব কল্যাণ চাই, যেসব কল্যাণ আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছে চেয়েছেন। আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি সেসব বিষয় থেকে, যেগুলো থেকে আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। আপনার কাছে প্রার্থনা করছি- আপনি আমার জন্য যে ফায়সালাই করবেন, তার পরিণাম যেন ভালো হয়।
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫১৩৭-২৫১৩৮]
২৭। [১ বার]
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আস্তাগিসু, আসলিহ লী শানী কুল্লাহু ওয়ালা তাকিলনী ইলা- নাফসী তারফাতা আইন।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের উসিলায় সাহায্য চাই। আপনি আমার সার্বিক অবস্থার সংশোধন করে দিন এবং আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও [এক চোখের পলকের জন্যও] আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
[তিরমিজি ৩৫২৪, আল-কালিমুত্ তাইয়্যিব [হাঃ ১১৮/৭৬], সহীহাহ্ [হাঃ ১৫৩৬]
২৮। [১ বার]
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কাবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং কানা দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
গুরুত্বঃ এ দু’আটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবিদেরকে এমন ভাবে শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের কোন সূরা তাদেরকে শিক্ষা দিতেন।
[বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৫৮৮, তিরমিজি ৩৪৯৪, ৩৬০৪, নাসাঈ ১৩১০, ৫৫০৫, ৫৫০৬, ৫৫০৯, ৫৫১১, ৫৫১৩-৫৫১৮, ৫৫২০, আবূ দাউদ ৯৮৩, ইবনু মাজাহ ৯০৯, ৩৮৪০, আহমাদ ৭১৯৬, ৭৮১০, ৭৯০৪, ৯০৯৩, ৯১৮৩, ৯৫৪৬, ৯৮২৪, ১০৩৮৯, ২৭৮৯০, ২৭৬৭৪, ২৭২৮০, দারেমী ১৩৪৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩১]
২৯। [১ বার] অক্ষমতা, অলসতা ইত্যাদি থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল আজজী ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনী ওয়াল হারামি ওয়াল বুখলি ওয়া আউযুবিকা মিন আযা-বিল কাবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া- ওয়াল মামা-ত।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য, বখিলতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার নিকট আরও আশ্রয় চাচ্ছি কবরের শাস্তি, জীবন ও মরণের ফিতনার খারাবী থেকে।
[মুসলিম ৬৭৬৬, ই.ফা. ৬৬২৬, ই.সে. ৬৬৮১]
" "
৩০। রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বেশী বেশী যে দু’আ পাঠ করতেনঃ
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবী আলা দ্বীনিক।
অর্থ: হে মনের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর স্থির রাখো।
[যিলালুল জান্নাহ [হা: ২২৩], জামে' আত-তিরমিজি: ৩৫২২]
৩১। [১ বার] কৃপণতা, কাপুরুষতা, অপমানকর বার্ধক্য, ফিতনা থেকে আশ্রয় পাবার দোয়া:
اَللهم إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ العُمُرِ، وَأعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ القَبْرِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন আন আরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া, ওয়া আউজুবিকা মিন আযাবিল কাবরি।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, স্থবিরতার বয়সে কবলিত হওয়া থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।
[বুখারী ৬৩৬৫, ৬৩৭০, ৬৩৭৪, ৬৩৯০, তিরমিজি ৩৫৬৭, নাসাঈ ৫৪৪৫, ৫৪৪৭, ৫৪৭৮, ৫৪৭৯, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ১৫৮৯, ১৬২৪, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২৯]
৩২। দুশ্চিন্তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল যুবনি, ওয়া গালাবাতির রিযাল।
অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি দুশ্চিন্তা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, এবং লোকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [বুখারী: ২৮৯৩, সুনানে আন-নাসাঈ: ৫৪৪৯]
৩৩। অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল কিল্লাতি ওয়া জিল্লাতি, ওয়া আউজুবিকা আন আজলিমা আও উজলামা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি দারিদ্র্য হতে, আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি অপ্রতুলতা এবং অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে, আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমি যেন কারো উপর অত্যাচার না করি অথবা আমি যেন অত্যাচারিত না হই। [সুনানে আন-নাসাঈ: ৫৪৬০]
৩৪। [১ বার]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি, ওয়া আযাবিল কাবরি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার আশ্রয় চাই কুফর [অবিশ্বাস] ও দারিদ্র্য থেকে এবং তোমার আশ্রয় চাই কবরের আজাব থেকে। [সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৪৬৫]
" "
৩৫। [১ বার]
لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
লা ইলাহা ইল্লা আনতা, ইন্নী ক্বাদ যলামতু নাফসী, ফাগফিরলী যুনু-বী, ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনু-বা ইল্লা আনতা। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত ১৬]
অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি, আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই।
তাৎপর্য: এটি গুনাহের জন্য অনুতাপ ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়াগুলোর একটি।
৩৬।
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيراً، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيراً، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ. اللَّهُمَّ اغْفِرِ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ দাহু লা শারীকা লাহ, আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি রব্বিল আলামীন, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আযীযিল হাকীম। আল্লা-হুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী।
অর্থ: এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আল্লাহ সর্বাধিক মহান, আল্লাহর অতীব প্রশংসা, বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া নাড়-চড়া করার [পাপ ও অশুভ জিনিস থেকে বেঁচে থাকা এবং পুণ্যার্জন ও মঙ্গল সাধন করার] ক্ষমতা নেই।” হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। আমার প্রতি দয়া কর। আমাকে সৎপথ প্রদর্শন কর ও আমাকে জীবিকা দাও।
কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথমে সালাত শিক্ষা দিতেন। অতঃপর এসব কথা দিয়ে দু’আ করার আদেশ দিতেন।
[মুসলিম ৬৭৪১ (ই.ফা. ৬৬০৩, ই.সে. ৬৬৫৬), আহমাদ ১৫৬৪, ১৬১৪]
৩৭। [সকাল-সন্ধ্যায় এবং রাতের ঘুমাতে যাবার আগে]
اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قَالَ قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ
আল্লাহুম্মা আলীমুল গায়বী ওয়াশ শাহাদাতি ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, রাব্বা কুল্লি শাইয়্যিন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা, আউযুবিকা মিন শাররি নাফসী ওয়া শাররিশ শায়তানি ওয়া শিরকিহ।
অর্থ: হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শিরক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
রাসূলুল্লাহ [সাঃ] আবু বকর [রাঃ] কে এই দু’আ সকালে, বিকেলে ও শয্যা গ্রহণকালে পাঠ করতে বলেছেন।
[তিরমিজি ৩৩৯২, আহমাদ ৭৯০১, দারেমী ২৬৮৯, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৬২]
৩৮। [সকাল-সন্ধায়]
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
আল্লাহুমা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দিনী ওয়াদ্দুনিয়া ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুমাস্তুর আউরাতি ওয়া আমিন রাউআতি ওয়াহ ফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়ামিন খালকি ওয়া আন ইয়ামিনী ওয়া আন সিমালি ওয়া মিন ফাউকি ওয়া আউজুবিকা আন আগতালা মিন তাহতী।
অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার ও আমার সম্পদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্! আমার লজ্জাস্থানকে গোপন রাখো, আমার ভয়কে শান্তিতে পরিণত করো এবং আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে ও আমার উপরের দিক থেকে আমাকে হেফাজত করো। আমি তোমার নিকট আমার নিচের দিক দিয়ে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।
[সুনান ইবনে মাজা ৩৮৭১, নাসাঈ ৫৫২৯, ৫৫৩০, আবূ দাউদ ৫০৭৪]
৩৯। সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ خَطِيْئَتِيْ وَجَهْلِيْ وَإِسْرَافِيْ فِيْ أَمْرِيْ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِه مِنِّيْ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ جَدِّيْ وَهَزْلِيْ وَخَطَئِْ وَعَمْدِيْ وَكُلُّ ذٰلِكَ عِنْدِيْ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ بِه أَعْلَمُ بِه مِنِّيْ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী খত্বীআতী ওয়া জাহলী ওয়া ইস্রা-ফী ফী আম্রী ওয়ামা- আন্তা আ’লামু বিহী মিন্নী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী জিদ্দী ওয়া হাযলী ওয়া খত্বায়ি ওয়া ’আম্দী ওয়া কুল্লু যা-লিকা ’ইনদী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী মা- কদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা- আসরারতু ওয়ামা- আ’লানতু ওয়ামা- আনতা বিহী আ’লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু ওয়া আনতা ’আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর।
হে আল্লাহ! আপনি মাফ করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চাইতে বেশী জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল–ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ, আর এ রকম গুনাহ, যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমার পূর্বের ও পরের এবং গোপনীয় ও প্রকাশ্য গুনাহসমূহ মাফ করে দিন। আপনিই আগে বাড়ান এবং আপনিই পশ্চাতে ফেলেন এবং আপনিই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৯৮]
সর্বপ্রকার সাহায্যের জন্য দু’আ
رَبِّ أَعِنِّيْ وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِيْ وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِيْ وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِيْ وَيَسِّرِ الْهُدَى لِيْ وَانْصُرْنِيْ عَلٰى مَنْ بَغٰى عَلَيَّ ربِّ اجْعَلْنِيْ لَكَ شَاكِرًا لَكَ ذَاكِرًا لَكَ رَاهِبًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيْبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِيْ وَاغْسِلْ حَوْبَتِيْ وَأَجِبْ دَعْوَتِيْ وَثَبِّتْ حُجَّتِيْ وَسَدِّدْ لِسَانِيْ وَاهْدِ قَلْبِيْ وَاسْلُلْ سَخِيْمَةَ صَدْرِيْ
রব্বি আ’ইন্নী ওয়ালা- তু’ইন্ ’আলাইয়্যা ওয়ানসুরনী ওয়ালা- তানসুর ’আলাইয়্যা ওয়াম্কুরলী ওয়ালা- তাম্কুর ’আলাইয়্যা ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াস্সিরিল হুদা- লী ওয়ানসুরনী ’আলা- মান্ বাগা- ’আলাইয়্যা রব্বিজ্’আলনী লাকা শা-কিরান লাকা যা-কিরান লাকা র-হিবান লাকা মিত্বওয়া-’আন লাকা মুখবিতান ইলায়কা আও্ওয়া-হান মুনীবান রব্বি তাকব্বাল তাওবাতী ওয়াগসিল হাওবাতী ওয়াআজিব্ দা’ওয়াতী ওয়া সাব্বিত্ হুজ্জাতী ওয়া সাদ্দিদ্ লিসা-নী ওয়াহদি কলবী ওয়াসলুল সাখীমাতা সদরী।
হে আমার রব! তুমি আমাকে সহযোগিতা কর, আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না, আমাকে সাহায্য কর, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না, আমার পক্ষে কৌশল অবলম্বন কর, আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো না, আমাকে হিদায়াত দান কর, আমার জন্য হিদায়াত সহজ করে দাও। যারা আমার উপর যুলুম করে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর। হে পরওয়ারদিগার! আমাকে বানাও তোমার প্রতি শুকুরগুযার, তোমার যিক্রকারি, তোমার প্রতি ভয় পোষণকারী, তোমার প্রতি আনুগত্যশীল, তোমার প্রতি বিনয়াবনত, তোমার প্রতি মিনতিপূর্ণ ও পত্যাবর্তনশীল। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল কর, ধুয়ে দাও আমার সব গুনাহ, জবাব দাও আমার দু‘আর, প্রতিষ্ঠিত কর আমার দলীলাদি, সঠিক রাখ আমার যবান, হিদায়াত কর আমার অন্তরকে, আর বের করে দাও আমার অন্তর থেকে সব হিংসা ও বিদ্বেষ।
[সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৫১]
৪০। চার বস্তু হতে আশ্রয় প্রার্থনা
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَدُعَاءٍ لاَ يُسْمَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَؤُلاَءِ الأَرْبَعِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন কালবী লা ইয়াখশা-উ ওয়া দু’আ-য়ীন, লা ইউছমা-উ ওয়া মিন নাফসিন, লা তাশবা-উ ওয়া মিন ইলমিন, লা ইয়ানফা-উ আউযুবিকা মিন হাওলা-য়ী আরবা-য়ীন।
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এমন অন্তর থেকে যা আপনাকে ভয় করে না, এমন দোয়া থেকে যা কবুল হয় না, এমন আত্মা থেকে যা কখনো পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন জ্ঞান থেকে যা কোনো উপকারে আসে না। আমি এই চারটি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
[জামে' আত-তিরমিজি : ৩৪৮২, তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/৭৫-৭৬), সহীহ আবূ দাঊদ (হাঃ ১৩৮৪-১৩৮৫)]
৪১। দাউদ (আঃ) এর দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِي يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَىَّ مِنْ نَفْسِي وَأَهْلِي وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আস-আলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মান ইউহিব্বুকা, ওয়াল আমালাল্লাজী ইউবাল্লিগুনি হুব্বাকাল্লাহুম্মাজ আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসি ওয়া আহলি ওয়া মিনাল মা-য়ীল বারিদি।
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার ভালোবাসা এবং যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা প্রার্থনা করি এবং এমন আমল করার সামর্থ্য চাই যা তোমার ভালোবাসা লাভ করা পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার নিজের জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও ঠান্ডা পানির চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।
[জামে' আত-তিরমিজি: ৩৪৯০, সহীহা (৭০৭), মিশকাত, তাহকীক ছানী (২৪৯৬)]
৪২। আশ্রয় প্রার্থনার দু’আ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি সাম-য়ী ওয়া মিন শাররি বাসারি ওয়া মিন শাররি লিসানি ওয়া মিন শাররি কালবি ওয়া মিন শাররি মান-য়ী।
হে আল্লাহ্! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার কানের অনিষ্ট, আমার চোখের (দৃষ্টির) অনিষ্ট, আমার জিহবার (কথার) অনিষ্ট, আমার মনের অনিষ্ট এবং আমার বীর্য অর্থাৎ লজ্জাস্থানের অনিষ্ট হতে।
[জামে' আত-তিরমিজি: ৩৪৯২, মিশকাত (হাঃ ২৪৭২), সহীহ আবূ দাউদ (হাঃ ১৩৮৭)]
৪৩। আল্লাহ্ তা’আলার অখুশি হতে তাঁর খুশির আশ্রয় প্রার্থনা
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
আউযুবিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়াবি মু-আফাতিকা মিন উকুবাতিকা লা আহসী ছানা-আন আলাইকা আন্তা কামা আশনায়না আলা নাফসিকা।
আমি তোমার ক্রোধ থেকে তোমার সন্তুষ্টিতে, এবং তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমাতে আশ্রয় চাই। তোমার প্রশংসা আমি গণনা করতে পারি না; তুমি ঠিক তেমনই, যেমন তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।
[জামে' আত-তিরমিজি: ৩৪৯৩, ইবনু মাজাহ (হাঃ ৩৮৪১), মুসলিম]
৪৪। রাসূল (সাঃ) যে দু’আ বেশি বেশি করতেন
ربَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا
রাব্বানা লা-তুযিগ কুলুবানা বা’দা-ইদ হাদায়তানা।
হে প্রভু, আপনি আমাদের পথ দেখানোর পর আমাদের অন্তরকে বিপথে যেতে দেবেন না।
[জামে' আত-তিরমিজি : ৩৫২২, যিলালুল জান্নাহ (হা: ২২৩)]
৪৫। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি দুআ
رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَىَّ وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَىَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي
হে প্রভু, আমাকে সাহায্য করুন এবং আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন না, আমাকে বিজয় দান করুন এবং আমার বিরুদ্ধে বিজয় দান করবেন না, আমার পক্ষে পরিকল্পনা করুন এবং আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করবেন না, আমাকে পথ দেখান এবং আমার জন্য পথ দেখানো সহজ করে দিন, এবং যে আমার বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন করে, তার উপর আমাকে বিজয় দান করুন। হে প্রভু, আমাকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, আপনাকে স্মরণকারী, আপনাকে ভয়কারী, আপনার অনুগত, আপনার সামনে বিনয়ী, সর্বদা অনুতপ্ত এবং আপনার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী করুন। হে প্রভু, আমার তওবা কবুল করুন, আমাকে আমার পাপ থেকে পবিত্র করুন, আমার প্রার্থনা কবুল করুন, আমার যুক্তিকে শক্তিশালী করুন, আমার জিহ্বাকে সত্য বলার ক্ষমতা দিন এবং আমাকে পথ দেখান। আমার হৃদয়, এবং আমার বক্ষ থেকে তিক্ততা দূর করুন।
[জামে' আত-তিরমিজি : ৩৫৫১, ইবনু মাজাহ (৩৮৩০)]
৪৬। (সকালে)
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ المُلْكُ للهِ، وَالحَمْدُ للهِ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدير، رَبِّ أَسْألُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الكَسَلِ، وَسُوءِ الكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ، وَعَذَابٍ فِي القَبْرِ
আসবাহনা ও আসবাহাল মুলকু লিল্লা-হ, ওয়াল হামদুলিল্লা-হ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ দাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুলি শাইয়িন কদীর। রাব্বি আস-আলুকা খাইরা মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া খাইরা মা বা-দাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শার্রি মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া শার্রি মা বা-দাহা, রাব্বি আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূইল কিবার, রাব্বি আউযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কাবরি।
অর্থ: আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, (বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে বললেন,) তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্তুতি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। [মুসলিম ২৭২৩, তিরমিজি ৩৩৯০, আবূ দাউদ ৫০৭১, আহমাদ ৪১৮১]
৪৭। [সকালে-সন্ধ্যায়]
اَللهم إِنِّي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتُّقَى، وَالعَفَافَ، وَالغِنَى
আল্লাহুমা ইন্নী আস আলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হেদায়েত, তাকওয়া, চরিত্রের নির্মলতা ও আত্মনির্ভরশীলতা প্রার্থনা করি।
[সুনানে ইবনে মাজাহ-৩৮৩২, মুসলিম-২৭২১, তিরমিজি-৩৪৮৯, আহমাদ-৩৬৮৪, ৩৬৯৪, ৩৯৪০, ৪১২৪, ৪১৫১, ৪২২১, রিয়াদুস সলেহীন: ১৪৭৬]
৪৮। সম্পদ লাভের জন্য সাহাবীর দোয়াঃ
اللّهُمَّ هَبْ لِي حَمْدًا، وَهَبْ لِي مَجْدًا، لَا مَجْدَ إِلَّا فِعَالًا، وَلَا فِعَالَ إِلَّا بِمَالٍ، اللَّهُمَّ لَا يُصْلِحُنِي الْقَلِيلُ وَلَا أَصْلُحُ عَلَيْهِ.
আল্লাহুম্মা হাবলি হামদান,
ওয়া হাবলি মাজদান,
লা মাজদা ইল্লা ফি'আল,
ওয়া লা ফি'আল ইল্লা বিমাল,
আল্লাহুম্মা লা ইয়ুসলিহুনিল কলিল
ওয়া লা আসলাহু আলাইহি।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে সম্মান ও মূল্য দান করুন, আল্লাহ যা দান করেন তা ছাড়া আর কোন সম্মান নেই। আর আর্থিক সম্পদ ছাড়া কোন কাজ ও দান হতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি অল্পের জন্য উপযুক্ত নই, আর অল্প আমার জন্য উপযুক্ত নয়। হে আল্লাহ! অল্প আমার জন্য যথেষ্ট নয়, এবং আমি সম্পদের প্রাচুর্য ছাড়া পর্যাপ্তভাবে কাজ করতে পারি না।
সাহাবা সা'দ ইবনে উবাদাহ [রাঃ] সম্পদ লাভের জন্য এই দোয়া করতেন।
৪৯। বাড়ি-ঘর, ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজনদের বিপদ থেকে হেফাজতের দোয়াঃ
আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা, আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আনতা রাব্বুল আরশিল আজীম। মাশা-আল্লাহু কানা ওয়ালাম ইয়াশালাম ইয়াকুন। লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহীল আলিয়্যীল আন্নাল্লাহা আলাকুল্লি শাইয়্যীন কদীর, ওয়া আন্নালাহা কাদ আহাতা বিকুল্লি শাইয়্যীন ইলমান। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শার্রি নাফসী ওয়া মিন শাররী কুল্লি দাব্বাতিন আনতা আখিজুন বিনা সিয়াতীহা। ইন্না রাব্বি আলা সিরাতিম মুস্তাকিম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আপনার উপরই ভরসা করলাম। আপনিই মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং যা চান না, তা হয় না। মহান মর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কোনও ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আমার বিশ্বাস যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান এবং তিনি নিজ জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই নিজের কুপ্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে এবং সকল প্রাণীর অনিষ্ট থেকে, নিশ্চয় আমার রব সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।
[আমালুল ইয়াওমিঃ ৫৭, ইবনুস সুন্নি]
ফযিলতঃ
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দুআটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে যে কোনো ধরণের বিপদ, দুশ্চিন্তা বা অনিষ্ট থেকে হেফাযত করবেন এবং এটি পাঠকারীকে ঈমানের ওপর অবিচল রাখেন।
এই দোয়া করার ফলে এক সাহাবীর ঘর আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
৫০। সূরা নং ৬৫: তালাক ২-৩ [দারিদ্রতা দূর করার জন্য]
৬৫.২: وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا …
৬৫.৩: وَّیَرۡزُقۡہُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ فَہُوَ حَسۡبُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بَالِغُ اَمۡرِہٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰہُ لِکُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا
৬৫.২: … ওয়া মাইয়্যাত্তা কিল্লা-হা ইয়াজ আল্লা-হু মাখ্রাজা।
৬৫.৩: ওয়া ইয়ার ঝুকহু মিন হাইছু লা-ইয়াহতাছিব, ওয়া মাইয়্যা তাওয়াক্কাল আলাল্লা-হি ফাহু ওয়া হাসবুহূ, ইন্নাল্লা-হা বা-লিগু আমরিহী কদ জা-আলাল্লা-হু লিকুল্লি শাইয়িন কদীর-।
অর্থঃ ৬৫.২: …আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন।
৬৫.৩: এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে দান করবেন রিযিক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছে পূরণ করবেনই; অবশ্যই আল্লাহ সবকিছুর জন্য স্থির করেছেন সুনির্দিষ্ট মাত্ৰা।
৫১। দুশ্চিন্তা মুক্ত দিন ও রাত কাটানোর জন্য আমলঃ
১. (সুরা ফাতির: ২)
ما يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلا مُمْسِكَ لَها وَما يُمْسِكْ فَلا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ
মা ইয়াফতা-হিল্লাহু লিন্না-সি মিন রাহমাতিন ফালা মুমসিকা লাহা; ওয়া মা ইউমসিক ফালা মুরসিলা লাহু মিন বা’দিহি…
অর্থঃ "আল্লাহ মানুষের জন্য রহমতের মধ্য থেকে যা উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তা ছাড়িয়ে দেওয়ারও কেউ নেই।"
২. (সুরা ইউনুস: ১০৭)
وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشاءُ مِنْ عِبادِهِ
… ওয়া ইন ইউরিদকা বিখাইরিন ফালা রাদ্দালি ফাদলিহি; ইউসীবু বিহি মাইয়্যাশা-উ মিন ইবাদিহি…
অর্থঃ "আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহকে রুখে দেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ পৌঁছে দেন।"
৩. (সুরা হুদ: ৬)
وَما مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُها
ওয়ামা মিন দা-ব্বাতিন ফিল আরদি ইল্লা আলাল্লাহি রিজকুহা…
অর্থঃ "ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।"
৪. (সুরা তালাক: ৭)
سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْراً
… সা-ইয়াজ আলুল্লাহু বা’দা উসরি ইউসরা।
অর্থঃ "…আল্লাহ শীঘ্রই কঠিন অবস্থার পর সহজ অবস্থা (স্বস্তি) দান করবেন।"
বিখ্যাত তাবেয়ী আমের বিন আবদ কায়েস (রহ.) বলতেন, "আল্লাহর কুরআনের এই চারটি আয়াতের বিশেষ কিছু অংশ যখন আমি সন্ধ্যায় পাঠ করি, তখন রাত কীভাবে কাটবে তা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। আর যখন সকালে পাঠ করি, তখন দিনটি কেমন যাবে তা নিয়েও আমি পরোয়া করি না।" [সূত্র: উয়ুনুল আখবার- ইবনে কুতাইবা রহ.]
৫২। আরশবহণকারী ফেরেশতাদের দোয়াঃ (সূরা- ৪০, গাফের, আয়াতঃ ৭-৮)
ٱلَّذِينَ يَحۡمِلُونَ ٱلۡعَرۡشَ وَمَنۡ حَوۡلَهُۥ يُسَبِّحُونَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَيُؤۡمِنُونَ بِهِۦ وَيَسۡتَغۡفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْۖ رَبَّنَا وَسِعۡتَ كُلَّ شَيۡءٖ رَّحۡمَةٗ وَعِلۡمٗا فَٱغۡفِرۡ لِلَّذِينَ تَابُواْ وَٱتَّبَعُواْ سَبِيلَكَ وَقِهِمۡ عَذَابَ ٱلۡجَحِيمِ *
* رَبَّنَا وَأَدۡخِلۡهُمۡ جَنَّٰتِ عَدۡنٍ ٱلَّتِي وَعَدتَّهُمۡ وَمَن صَلَحَ مِنۡ ءَابَآئِهِمۡ وَأَزۡوَٰجِهِمۡ وَذُرِّيَّٰتِهِمۡۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ
৪০.৭। … রব্বানা ওয়া’সিতা কুল্লা শাইয়্যীর রাহমাতাও ওয়া ইলমান ফাগফির-লিল্লাযীনা তাবু'উ ওয়াত্তা-বা’উ সাবীলাকা ওয়া কিহিম আযাবাল জাহীম।
৪০.৮। রব্বানা ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি আদ-নিনিল্লাতি ওয়া আত্তাহুম ওয়া মান ছালাহা মিন আ-বা—ইহিম ওয়া আজ-ওয়াজিহিম ওয়া যুররিয়্যা-তিহিম ইন্নাকা আন্তাল আজীজুল হাকীম।
অর্থ: ৪০.৭ঃ যারা ‘আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্ৰশংসার সাথে এবং তাঁর উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, 'হে আমাদের রব! আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। অতএব, যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আপনি তাদের রক্ষা করুন।
৪০.৮ঃ 'হে আমাদের রব! আর আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়।
৫৩। সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ করা ও সারা রাত জেগে আল্লাহকে স্মরণ করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ যিকরঃ
الحمد لله عدد ما خلق، الحمد لله ملء ما خلق، الحمد لله عدد ما في السموات وما في الأرض، الحمد لله عدد ما أحصى كتابه، والحمد لله على ملء ما أحصى كتابه، والحمد لله عدد كل شيء، والحمد لله ملء كل شي.
سبحان الله عدد ما خلق، سبحان الله ملء ما خلق، سبحان الله عدد ما في السموات وما في الأرض، سبحان الله عدد ما أحصى كتابه، وسبحان الله على ملء ما أحصى كتابه، وسبحان الله عدد كل شيء، وسبحان الله ملء كل شي.
আলহামদুলিল্লাহী আদাদা মা-খলাক,
আলহামদুলিল্লাহী মিল’আ মা-খলাক,
আলহামদুলিল্লাহী আদাদা মা-ফিস-সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ,
আলহামদুলিল্লাহী আদাদা মা-আহসা কিতাবুহু,
ওয়াল হামদুলিল্লাহী মিল’আ মা-আহসা কিতাবুহু,
ওয়াল হামদুলিল্লাহী আদাদা কুল্লি শাই(য়্যীন), আলহামদুলিল্লাহী মিল’আ কুল্লি শাই(য়্যীন)।
সুবহানাল্লাহি আদাদা মা-খলাক,
সুবহানাল্লাহি মিলআ মা-খলাক,
সুবহানাল্লাহি আদাদা মা-ফিস-সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ,
সুবহানাল্লাহি আদাদা মা-আহসা কিতাবুহু,
ওয়া সুবহানাল্লাহি আলা মিল’আ মা-আহসা কিতাবুহু,
ওয়া সুবহানাল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই(য়্যীন),
ওয়া সুবহানাল্লাহি মিল'আ কুল্লি শাই(য়্যীন)।
অর্থঃ আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টি পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তার কিতাব যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তার কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তু পরিপূর্ণ।
আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টির সমান সংখ্যক, --তার সৃষ্টি পরিপূর্ণ, ---আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, ---তাঁর কিতাব। যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, ---তার কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, - --সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং ---সকল বস্তু পরিপূর্ণ। [তাবারানী সহীহুল জামে ২৬১৫ নং]
৫৪। এমন একটি দু’আ যাতে সবকিছু আছে
اللهمَّ بعِلْمِكَ الغيبَ وقُدْرَتِكَ عَلَى الخلَقِ ، أحْيِني ما علِمْتَ الحياةَ خيرًا لِي ، وتَوَفَّنِي إذا عَلِمْتَ الوفَاةَ خيرًا لي ، اللهمَّ إِنَّي أسألُكَ خشْيَتَكَ في الغيبِ والشهادَةِ ، و أسأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا والغضَبِ ، وأسألُكَ القصدَ في الفقرِ والغِنَى ، وأسألُكَ نعيمًا لَا ينفَدُ ، و أسالُكَ قرَّةَ عينٍ لا تنقَطِعُ ، وأسألُكَ الرِّضَى بعدَ القضاءِ ، وأسألُكَ برْدَ العيشِ بعدَ الموْتِ ، وأسألُكَ لذَّةَ النظرِ إلى وجهِكَ ، والشوْقَ إلى لقائِكَ في غيرِ ضراءَ مُضِرَّةٍ ، ولا فتنةٍ مُضِلَّةٍ ، اللهم زيِّنَّا بزينَةِ الإيمانِ ، واجعلنا هُداةً مهتدينَ
আল্লা-হুম্মা বি-ইলমিক আল গাইবি ওয়া কুদরাতিকা আলাল খালকি আহয়িনী মা আলিম্তাল হায়া-তা খাইরাল্লী, ওয়া তাওয়াফ্ফানী ইযা আলিম্তাল ওয়াফা-তা খাইরাল্লী। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাশ-ইয়াতাকা ফিল গাইবি ওয়াশ-শাহাদাতি, ওয়া আসআলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির-রিদা ওয়াল-গাদাবি। ওয়া আসআলুকাল কাসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা, ওয়া আসআলুকা না-ঈমান লা ইয়ানফাদ, ওয়া আসআলুকা কুররতা আইনিন লা তান-কতি’উ, ওয়া আস্আলুকার-রিদা বা‘দাল কাদায়ী, ওয়া আসআলুকা বারদাল আইশি বা‘দাল মাওতি, ওয়া আসআলুকা লাজ্জাতান-নাযারি ইলা ওয়াজহিকা, ওয়াশ-শাওকা ইলা লিকা-ইকা, ফী গাইরি দাররা-আমুদির-রাতিন, ওয়ালা ফিতনাতিম মুদিল্লা(ত)। আল্লা-হুম্মা যাইয়্যান্না বিযী-নাতিল ঈমান, ওয়াজ‘আলনা হুদাতাম মুহতাদ্বীন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার গায়েবী জ্ঞান এবং সকল সৃষ্টির উপর আপনার সার্বভৌম ক্ষমতার উসিলায় আমি আপনার কাছে ফরিয়াদ করছি, আমাকে আপনি জীবিত রাখুন সে-সময় পর্যন্ত, যে সময় পর্যন্ত জীবিত থাকা আপনার জ্ঞানে আমার জন্য কল্যাণকর; আর আমাকে মৃত্যু দিন যখন আপনি জানেন যে, মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার তাক্বওয়া (ভয় করা) চাই। সন্তুষ্টি ও রাগ উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলার তাওফিক চাই। দারিদ্র্য ও স্বচ্ছলতা উভয় অবস্থায় মধ্যপন্থা ও সংযম চাই। আমি আপনার কাছে এমন নিআমত চাই যা কখনো শেষ হবে না। আপনার নিকট চাই এমন নয়নাভিরাম বস্তু, যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। আমি আপনার ফয়সালার পরে সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক চাই এবং আমি আপনার নিকট চাই মৃত্যুর পর প্রশান্ত জীবন। আমি আপনার নিকট চাই আপনার চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাতের স্বাদ, আপনার নিকট চাই আপনার সাথে সাক্ষাৎ লাভের ব্যাকুলতা; এমন যে, তাতে থাকবে না কোনো ক্ষতিকর কষ্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর ফেতনা। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন এবং আমাদেরকে হেদায়াত-প্রাপ্ত পথপ্রদর্শক বানান।
[সুনানে নাসাঈ ১৩০৫]
৫৫। এক সাহাবীর জীবনের শ্রেষ্ঠ দোয়াঃ
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ فِيْ أَعْلٰى جَنَّةِ الْخُلْدِ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ঈমানান লা ইয়ারতাদ,
ওয়ানা ঈমান লা ইয়ানফাদ,
ওয়া মুরাফাকাতা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম,
ফী আ’লা জান্নাতিল খুলদ।
📖 অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন ঈমান চাই, যা কখনো নষ্ট হবে না; এমন নিয়ামত চাই, যা কখনো শেষ হবে না; আর চাই চিরস্থায়ী জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)–এর সাহচর্য।
একবার আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রা.) আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির উপর দরুদ পাঠ করে দু’আ করছিলেন। তখন নবী করীম (সা:) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন— “চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।” এই কথা শুনে তিনি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চাওয়াটিই চাইলেন। [সিলসিলা সহিহাহ: ২৩০১ (হাদিসটি হাসান)]
৫৬। রাসূল (সাঃ) এর অন্যতম একটি দোয়াঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
📖 অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নি‘আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমা রদেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে।
[মুসলিম : ৬৮৩৭, (ই.ফা. ৬৬৯৩, ই.সে. ৬৭৪৭)]
৫৭। [১০০ বার]
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
সুবহানাল্লাহী ওয়াবি হামদিহ
অর্থঃ আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
ফজিলতঃ
এটি ফেরেশতাদের তাসবীহ।
আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কথা।
[মুসলিম ২৭৩১, তিরমিজি ৩৫৯৩, আহমাদ ২০৮১৩, ২০৯১৯, ২১০১৯, রিয়াদুস সলেহীন ১৪২০]
পাঠকারী ১০০ উট কুরবানী করার ছাওয়াব পাবে।
পাঠকারী ১০০০ নেকী লাভ হবে।
[তিরমিজি, দায়লামী]
পাঠকারী বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
[মুজিবাতুল জান্নাহ; ২৮১]
পাঠকারীর জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
[তিরমিজি ৩৪৬৪, ৩৪৬৫, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৪৭]
রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার তাসবিহটি পাঠ করবে তাঁর পাপগুলো মুছে ফেলা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে।
[বুখারী ৩২৯৩, ৬৪০৫, বুখারী ও মুসলিম ৬৭৩৫, ই.ফা. ৬৫৯৮, ই.সে. ৬৬৫০, তিরমিজি ৩৪৬৬, ৩৪৬৮, ৩৪৬৯, আবূ দাউদ ৫০৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, ৩৮১২, আহমাদ ৭৯৪৮, ৮৫০২, ৮৬১৬, ৮৬৫৬, ৯৮৯৭, ১০৩০৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪৮৬, ৪৮৭]
যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশবার পাঠ করবে, কিয়ামতের দিনে ওর চাইতে উত্তম আমল কেউ আনতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার সমান বা তার থেকে বেশি সংখ্যায় ঐ তাসবীহ পাঠ করে থাকে [তাহলে ভিন্ন কথা]।
[মুসলিম ২৬৯১, ২৬৯২, বুখারী ৩২৯৩, ৬৪০৫, তিরমিজি ৩৪৬৬, ৩৪৬৮, ৩৪৬৯, আবূ দাউদ ৫০৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, ৩৮১২, আহমাদ ৭৯৪৮, ৮৫০২, ৮৬১৬, ৮৬৫৬, ৯৮৯৭, ১০৩০৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪৮৬, ৪৮৭, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৫৯]
৫৮। [১০০ বার]
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ
সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহ সুবহানাল্লাহিল আযীম
অর্থঃ আমি আল্লাহ তা’আলার সমস্ত প্রশংসা, পরিবত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
ফজিলতঃ রাসূলুল্লাহ [সা:] বলেছেনঃ কালিমা দু’টি -
জিহ্বার উপর [উচ্চারণে] খুবই হাল্কা,
মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী,
রহমান [পরম দয়ালু আল্লাহ]-এর নিকট অত্যন্ত প্রিয়।
[মুসলিম ৬৭৩৯, ই.ফা. ৬৬০১, ই.সে. ৬৬৫৪]
৫৯। [১০০ বার]
سُبْحَانَ اللهِ
সুবহানাল্লাহ
ফজিলতঃ
পাঠকারীর জন্য এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে এবং তার আমলনামা হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।
[মুসলিম ৬৭৪৫ (ই.ফা. ৬৬০৭, ই.সে. ৬৬৬০), তিরমিজি ৩৪৬৩, আহমাদ ১৪৯৯, ১৫৬৬, ১৬১৫, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৩৯]
হযরত ইসমাঈল [আঃ] এর বংশের ১০০ গোলাম আযাদ করার ছওয়াব পাবে
১০০ উট কুরবানীর ছওয়াব পাবে
১০০ নফল হজ্বের ছওয়াব পাবে
৬০। [১০০ বার]
ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ
আলহামদুলিল্লাহ
ফজিলতঃ
হযরত ইসমাঈল [আঃ] এর বংশের ১০০ গোলাম আযাদ করার ছওয়াব পাবে
পাঠকারীর সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে
৬১। [১০০ বার]
لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ
ফজিলতঃ পাঠকারীকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
১০০ ঘোড়া জিহাদে দান করার ছাওয়াব দিবেন।
৬২। [১০০ বার]
الله أكبر
আল্লাহু আকবার
ফজিলতঃ পাঠকারীকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
১০০ মকবুল উট কুরবানী
১০০ গোলাম আযাদের ছাওয়াব দান করা হবে।
৬৩। ৫৯ থেকে ৬২ নং যিকর সবগুলি একত্রে –
سُبْحَانَ الله – اَلْحَمْدُ للهِ – لَا اِلَهَ اِلَّا الله – اَللهُ اَكْبَر
সুবহানাল্লাহি ওয়া আলহামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।
অর্থঃ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ ছাড়া [সত্যিকার] কোনো ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সব চাইতে মহান।
[বুখারী ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩, মুসলিম ২৬৯৪, তিরমিজি ৩৪৬৭, ৩৫৩৩, ইবনু মাজাহ ৩৮০৬, আহমাদ ৭১২৭, তা’লীকুর রাগীব (হা: ২/২৪৯)]
পাঠকারীর গুনাহ সমূহ এরূপভাবে ঝরে যায় যেভাবে শুকনা পাতাওয়ালা গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়ে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মি'রাজের রাতে আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মাতকে আমার সালাম পৌছিয়ে দিন এবং তাদেরকে জানান যে, জান্নাতের যামীন অতীব সুগন্ধি সমৃদ্ধ এবং সেখানকার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল "সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার"।
[সহীহাহ (হাঃ ১০৬), জামে' আত-তিরমিজি/- ৩৪৬২]
এই কালেমা পাঠ করা সেই সমস্ত বস্তু অপেক্ষা অধিক প্রিয়, যার উপর সূর্যোদয় হয়।
৬৪। [১০০ বার]
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুলি শাইয়্যীন কদীর।
অর্থঃ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।
ফজিলতঃ যে ব্যক্তি এই দু'আটি দিনে ১০০ বার পড়বে -
১০ জন গোলামমুক্ত করার পুণ্য অর্জন হয়,
তার [আমলনামায়] ১০০ নেকী লেখা হয়
তার আমলনামা হতে ১০০ পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়।
ওই দিন বিকাল পর্যন্ত শয়তান [তার কুমন্ত্রণা] হতে রক্ষা পায়।
সেদিন সে যা পুণ্য অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশি পুণ্যবান কেউ হবে না। তবে কেউ তার চাইতে বেশি আমল করলে তার কথা আলাদা।
[বুখারী ৩২৯৩, ৬৪০৫, মুসলিম ৬৭৩৫, ই.ফা. ৬৫৯৮, ই.সে. ৬৬৫০, তিরমিজি ৩৪৬৬, ৩৪৬৮, ৩৪৬৯, আবূ দাউদ ৫০৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, ৩৮১২, আহমাদ ৭৯৪৮, ৮৫০২, ৮৬১৬, ৮৬৫৬, ৯৮৯৭, ১০৩০৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪৮৬, ৪৮৭]
১০ বার পাঠকারী যেন ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন।
[মুসলিম ৬৭৩৭, ই.ফা. ৬৬০০, ই.সে. ৬৬৫২]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন