
- এক যুবকের বাবা মারা গেলেন। কিন্তু লোকটির কর্ম হয়তো এমন ছিল যে, তাঁর জানাযায় অংশ নিতে একজন মানুষও এগিয়ে এল না।
শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তার ছেলেই নিজের বাবার নিথর দেহটি টেনে নিয়ে মরুভূমির দিকে চলল। উদ্দেশ্য ছিল, লোকচক্ষুর অন্তরালে মরুভূমির কোনো এক প্রান্তে বাবাকে দাফন করে দেবে।
মরুভূমিতে এক রাখাল তার ভেড়া চরাচ্ছিল। সে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে এগিয়ে এল। ছেলেটিকে একা দেখে জিজ্ঞেস করল, "অন্যরা কোথায়? তুমি একা কেন দাফন করছ?"
ছেলেটি লজ্জায় বাবার কোনো বদনাম প্রকাশ করতে চাইল না। সে শুধু মাথা নিচু করে বলল, "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"
রাখালটি ছেলেটির চোখের ভাষা আর নিরবতা দেখে সব বুঝে নিল। সে ছেলেটির সাথে কবর খুঁড়ল এবং তার বাবাকে দাফন করতে সাহায্য করল। দাফন শেষে রাখালটি আকাশের দিকে হাত তুলে মনে মনে খুব সংক্ষেপে একটি দোয়া করল এবং নিজের ভেড়ার পালের কাছে ফিরে গেল।
সেই রাতেই ছেলেটি স্বপ্নে তার বাবাকে দেখল। তিনি অত্যন্ত উজ্জ্বল পোশাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের এক উঁচু স্থানে খুব খুশি মনে বসে আছেন। ছেলেটি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা! আপনার জানাযায় তো কেউ ছিল না, তবে আপনি জান্নাতের এত সম্মানের জায়গায় কীভাবে পৌঁছালেন?"
বাবা মুচকি হেসে বললেন, "বাবা, সেই মরুভূমির রাখালটির দোয়ার বরকতে আল্লাহ আজ আমাকে এই রাজকীয় সম্মান দিয়েছেন।"
পরদিন সকালে ছেলেটি পাগলের মতো সেই রাখালকে খুঁজতে শুরু করল। পুরো মরুভূমি চষে ফেলার পর যখন তাকে পেল, তখন তার হাত জড়িয়ে ধরে আকুতি জানাল, "আল্লাহর দোহাই লাগে! আমাকে বলুন আপনি আমার বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কী দোয়া করেছিলেন? আমি তাঁকে জান্নাতে দেখেছি!"
রাখালটি অবাক হয়ে বলল, "আমি তো খুব সাধারণ একটা কথা বলেছিলাম। আমি আল্লাহর কাছে বলেছিলাম,
'হে আল্লাহ! আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। আমার ঘরে যখন কোনো মেহমান আসে, আমি আমার সাধ্যমতো তাকে সম্মান করি এবং খাওয়াই। আজ এই বান্দা আপনার মেহমান হয়ে আপনার জমিনে এসেছে। আর আপনি তো মহাবিশ্বের সবথেকে বড় দাতা! আপনি তাকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করে ধন্য করুন'।"
অনেক সময় বড় বড় আমল কিংবা বংশমর্যাদা নয়, বরং কোনো এক অপরিচিত মানুষের সরল মনের ছোট্ট একটি দোয়াই আল্লাহর কাছে মুক্তির উসিলা হয়ে দাঁড়ায়।
মরুভূমির সেই রাখাল বড় কোনো কিতাব দেখে দোয়া করেনি। সে তার মনের কথাগুলো খুব সহজভাবে আল্লাহর কাছে পেশ করেছে। অলংকৃত ভাষার চেয়ে হৃদয়ের আকুতি আল্লাহর কাছে বেশি পৌঁছায়।
আল্লাহ আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের অন্তরকে নরম করে দিন। পরকালে আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদাউসে প্রিয় নবী ﷺ-এর প্রতিবেশী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
(আরবি আর্টিকেল থেকে অনূদিত)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন