বিভিন্ন সূরার ফজিলত

 

সূরা ফাতিহা

সূরা ফাতিহা পবিত্র কোরআনের প্রথম সূরা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এটিকে কুরআনের সারাংশ বলা হয়। সুরা ফাতিহা কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৪৯৫)

সূরা ফাতিহার ফজিলত:

  • ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে, চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যথা দূর হয়।
  • হজরত আলী রা: বলেছেন, কোন বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না।
  • ৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে’। (তাওয়ারিখে মদিনা)।  
  • সুরা ফাতিহাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র রোগের মহৌষধ।
  • শেষ রাতে এ সুরা ৪১ বার তেলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বাড়িয়ে দেন
  • সূরা ফাতিহাকে "উম্মুল কোরআন" বা কোরআনের মা বলা হয়। কারণ, এটি কোরআনের মূল বিষয়বস্তুকে ধারণ করে।
  • সূরা ফাতিহাকে "ফাতিহাতুল কিতাব" বা কিতাবের উদ্বোধন বলা হয়। কারণ, এটি কোরআনের প্রথম সূরা।
  • সূরা ফাতিহাকে "সাবউল মাসানী" বা সাতবার পুনরাবৃত্তিকৃত বলা হয়। কারণ, এটি সাতবার পুনরাবৃত্তি করে পড়া হয়।
  • সূরা ফাতিহাকে "রকিয়্যাহ" বা ঝাড়ফুঁককারী বলা হয়। কারণ, এটি দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করলে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। সুরা ফাতেহা ৪০ বার পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রন্ত লোকের মুখমণ্ডলে ছিঁটিয়ে দিলে, এর বরকতে জ্বর দূরীভূত হয়ে যাবে।
  • সূরা ফাতিহা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলার রহমত ও বরকত লাভ হয়।
  • সূরা ফাতিহা পাঠ করলে গুনাহ মাফ হয়।
  • সূরা ফাতিহা পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ হয়।
  • সূরা ফাতিহা পাঠ করলে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

 

আর রহমান

সূরা আর রহমান, পবিত্র কোরআন মাজীদের ৫৫ তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৭৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আর রহমান মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

§  যে ব্যক্তি সূরা আর রহমান নিয়মিত তেলাওয়াত করবে তেলাওয়াতকারীর উপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়।

§  তার জন্য দোজখের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের দরজা সমূহ কে খুলে দেওয়া হবে।

§  যে ব্যক্তি এই সূরাটি নিয়মিত তেলাওয়াত করবে কেয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় ঝলমল করতে থাকবে।

§  দুনিয়াতে তার রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে।

§  যে ব্যক্তি লাগাতার ৪০ দিন সূর্য উদিত হওয়ার সময় এই সূরাটি তেলাওয়াত করবে এবং ‘ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ বলার সময় সূর্যের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবে দুনিয়ার মধ্যে সব কিছু তার অনুগত হবে। তার স্ত্রী সন্তান তার বাধ্য হবে।

§  এই সূরাটি পাঠ করে চোখের মধ্যে ফু দিলে চোখের রোগ ভালো হয়ে যাবে।

§  এই সূরাটি স্বপ্নের মধ্যে পড়তে দেখলে হজ্জ্বে যাওয়া নসীব হবে।

§  এই সূরাটি নিয়মিত তেলাওয়াত করলে বসন্ত রোগ হতে মুক্তি পাবে।

§  ‘ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ এই আয়াতটি তিনবার পাঠ করে কোন বিচার সালিশের মধ্যে গেলে বিচারকের মন পাঠকারীর উপর সদয় হবে।

§  যে ব্যক্তি সূরা আর-রহমান ১১ বার তিলাওয়াত করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করবে তার মনের আশা পূরণ করবে।

§  এই সূরাটি নিয়মিত তেলাওয়াত করলে তেলাওয়াতকারীর সকল অভাব অনটন দূর হয়ে যাবে এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে।

 

সুরা ওয়াকিয়ার ফজিলত

পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৫৬ তম সুরা। এই সুরার আয়াত সংখ্যা ৯৬ আর রুকু আছে ৩টি। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। সুরা আল ওয়াক্বিয়ার অর্থ নিশ্চিত ঘটনা। ‍মুফাসসিরে কিরাম বলেন, ওয়াকিয়া অর্থ কিয়ামতও বটে।

 

এই সূরা প্রতিদিন মাগরিবের পরে পাঠ করা হয়।

প্রতি রাতে যে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, দারিদ্র্য কখনো তাকে স্পর্শ করবে না। 

 

আল-হাশর

আল-হাশর কোরআনের ৫৯ নম্বর সুরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর মোট আয়াত ২৪টি। আলোচ্য সুরার দ্বিতীয় আয়াতের হাশর শব্দ থেকে সুরাটির নামকরণ হয়েছে। এর অন্য নাম সুরা বনু নাজির। কেননা এ সুরায় মদিনা থেকে বনু নাজির গোত্রের বহিষ্কারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। (বুখারি, হাদিস : ৪৫২১)

 

দৈনিক ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরে গুরুত্বের সঙ্গে সুরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত পাঠ করতে হয়। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার পাঠ করবে ‘আউযু বিল্লাহিস সামিউল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম, এরপর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন, যাঁরা বিকেল পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন। এই দিন যদি সে মারা যায় তাহলে তার শহীদি মৃত্যু হয়। আর যদি বিকেলে পাঠ করে, তবু ওই ফজিলতই হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৯২২)

 

সুরা জুমা

সুরা জুমা পবিত্র কোরআনের ৬২তম সুরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ। এর ২ রুকু, ১১ আয়াত। জুমা শব্দের অর্থ জনসমাবেশ।

এই সূরা পাঠকারীর আমলনামায় তার এলাকার সমস্ত জুম’আর নামাজ আদায়কারীর ছওয়াব লেখা হয়।

 

৬২.১। ইয়ুসাব্বিহু লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বিল্ মালিকিল্ ক্বদ্দূসিল্ ‘আযীযিল্ হাকীম্।

৬২.২। হুওয়াল্লাযী বাআছা ফিল্ উম্মিয়্যীনা রসূলাম্ মিন্হুম্ ইয়াত্লূ ‘আলাইহিম্ আ-ইয়া-তিহী অ ইয়ুযাক্কীহিম্ অইয়ুআল্লিমুহুমুল্ কিতা-বা অল্হিক্মাতা অইন্ কা-নূ মিন্ ক্বব্লু লাফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীনি। বাংলা অনুবাদ ৬২.৩। অ আ-খরীনা মিনুহুম্ লাম্মা-ইয়াল্হাকু বিহিম্; অহুওয়াল্ ‘আযীযুল্ হাকীম্।

৬২.৪। যা-লিকা ফাদ্ব্লুল্লা-হি ইয়ুতীহি মাইঁ ইয়াশা-য়্; অল্লা-হু যুল্ ফাদ্ব্লিল্ ‘আজীম্।

৬২.৫। মাছালুল্লাযীনা হুম্মিলুত্তাওর-তা ছুম্মা লাম্ ইয়াহ্মিলূহা-কামাছালিল্ হিমা-রি ইয়াহ্মিলু আস্ফা-র; বিসা মাছালুল্ ক্বওমিল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিল্ লা-হ্; অল্লা-হু লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বওমাজ্ জোয়া-লিমীন্।

৬২.৬। কুল্ ইয়া য় আইয়ুহাল্ লাযীনা হা-দূ য় ইন্ যাআম্তুম্ আন্নাকুম্ আওলিয়া-য়ু লিল্লা-হি মিন্ দূনিন্ না-সি ফাতামান্নাওয়ুল্ মাওতা ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

৬২.৭। অলা ইয়াতামান্নাওনাহূ য় আবাদাম্ বিমা-ক্বদ্দামাত্ আইদীহিম্ অল্লা-হু ‘আলীমুম্ বিজ্জোয়া-লিমীন্। ৬২.৮। কুল্ ইন্নাল্ মাওতাল্লাযী তার্ফিরূনা মিন্হু ফাইন্নাহূ; মুলা-ক্বীকুম্ ছুম্মা তুরদ্দূনা ইলা-‘আ-লিমিল্-গইবি অশশাহা-দাতি ফাইয়ুনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তামালূন্।

৬২.৯। ইয়া য় আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ য় ইযা-নূদিয়া লিছছলা-তি মিঁই ইয়াওমিল্ জুমুআতি ফাস্আও ইলা- যিক্রিল্লা-হি অযারুল্ বাইআ যা-লিকুম্ খইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ তালামূন্।

৬২.১০। ফাইযা- কুদ্বিয়াতিছ্ ছলা-তু ফান্তাশিরূ ফিল্ র্আদ্বি অবতাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিল্লা-হি অয্কুরুল্ লা-হা কাছীরল্ লাআল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

৬২.১১। অইযা রয়াও তিজ্বা- রতান্ আও লাহওয়া নিন্ ফাদ্ব্দ্ব য় ইলাইহা-অতারকূকা ক্ব-য়িমা-; কুল মা- ‘ইন্দাল্লা-হি খইরুম্ মিনাল্লাহ্ওয়ি অমিনাত্তিজ্বা-রহ্; অল্লা-হু খইর্রু র-যিক্বীন্।

 

সূরা আত-তাগাবুন

পবিত্র কুরআন শরীফের ৬৪ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ১৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ২। সূরা আত-তাগাবুন মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

 

ফজিলতঃ ফজর নামাযের পরে সূর্যোদয়ের আগে এই সূরা পাঠ করলে

-        শত্রুপক্ষ পরাস্ত হয়।

-        কঠিন থেকে কঠিনতর রোগের মুক্তি মেলে।

-        জীবনের সকল মুশকিল থেকে মুক্তি মেলে।

 

সুরা মুলক

পবিত্র কুরআনের ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা, যা আল্লাহর কাছে ততক্ষণ সুপারিশ করবে, যতক্ষণ না তার পাঠকারীকে ক্ষমা করা হয়। সুরাটির নাম ‘সুরা মুলক’। 

পবিত্র কুরআনের ৬৭তম এবং ২৯ নম্বর পারার প্রথম সুরা এটি।

সুরা মুলক এর ছয়টি ভাগ:

প্রথম ভাগ ১ থেকে ৪ আয়াত—এ অংশে আছে আল্লাহর ক্ষমতার বর্ণনা।

দ্বিতীয় ভাগ ৫ থেকে ১৫ আয়াত—এ অংশে জাহান্নাম ও জান্নাতের প্রসঙ্গ।

তৃতীয় ভাগ ১৬ থেকে ২২ আয়াত—এখানে আছে অত্যাসন্ন বিপদের বার্তা।

চতুর্থ ভাগ ২৩ থেকে ২৪ আয়াত—সে বিপদে প্রস্তুতির সময় নিয়ে প্রশ্ন।

পঞ্চম ভাগ ২৫ থেকে ২৭ আয়াত—সে বিপদ কবে ঘটবে, তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল?

শেষ ভাগ ২৮ থেকে ৩০ আয়াত—আল্লাহর বিপরীতে মানুষের দুর্বলতা।

 

যে ব্যক্তি প্রতিরাতে সুরা মুলক পাঠ করবে, পাঠকারীর জন্যে সুরাটি কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে।

তাকে কবরের আজাব থেকে হেফাজত করবে। 

সুরা মুলক ৪১ বার তিলাওয়াত করলে সব বিপদ-আপদ হতে রক্ষা পাওয়া যায় এবং ঋণ পরিশোধ হয়।

 

সুরা মুজ্জাম্মিল।

পবিত্র কোরআনের ৭৩ নম্বর সুরা মুজ্জাম্মিল। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ২০। রুকু দুটি।

  • যে ব্যক্তি কোনো বিপদের সময় সুয়া মুযযাম্মিল পাঠ করলে মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় বিপদ হতে উদ্ধার লাভ করবে।
  • যে ব্যক্তি সর্বদা এ সূরা তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে সুখ শান্তি ও নিরাপদে রাখবেন এবং তার জন্য  দোজখের আগুন হারাম হয়ে যাবে।
  • যদি কোনো ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ১১ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে ১১১১ বার “ইয়া মুগনী “পাঠ করে ১১ বার সূরা মুযযাম্মিল পাঠ করে পুনরায় ১১ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার রুজি রোজগার ও ধন সম্পদ বাড়িয়ে দিবেন এবং সব কিছুতে তার উন্নতি হবে।

 

সূরা মুযযাম্মিল বাংলা উচ্চারণ :

 

    ১) ইয়াআইয়ুহাল মুঝঝাম্মিল।

    ২) কুমিল্লাইলা ইল্লা- কালীলা-।

    ৩) নিসফাহূআবিনকু স মিনহু কালীলা-।

    ৪) আও ঝিদ ‘আলাইহি ওয়া রাত্তিলিল কুরআ-না তারতীলা-।

    ৫) ইন্না- ছানুলকী ‘আলাইকা কাওলান ছাকীলা-

    ৬) ইন্না না-শিআতাল্লাইলি হিয়া আশাদ্দুওয়াত’আওঁ ওয়া আকওয়ামুকীলা-।

    ৭) ইন্না লাকা ফিন্নাহা-রি ছাবহান তাবিলা-।

    ৮) ওয়াযকুরিছমা রাব্বিকা ওয়া তাবাত্তাল ইলাইহি তাবতীলা-।

    ৯) রাব্বুল মাশরিকিওয়াল মাগরিবি লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাত্তাখিযহু ওয়াকীলা-।

    ১০) ওয়াসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূ লূনা ওয়াহজুরহুম হাজরান জামীলা-।

    ১১) ওয়া যারনী ওয়াল মুকাযযিবীনা উলিন না’মাতি ওয়া মাহহি হুম কালীলা-।

    ১২) ইন্না লাদাইনাআনকা-লাওঁ ওয়া জাহীমা-

    ১৩) ওয়া তা’আ-মান যা-গুসসাতিওঁ ওয়া’আযা-বান আলীমা-।

    ১৪) ইয়াওমা তারজুফুল আরদুওয়ালজিবা-লুওয়াকা-নাতিল জিবা লুকাছীবাম মাহীলা-।

    ১৫) ইন্নাআরছালনাইলাইকুম রাছুলান শা-হিদান ‘আলাইকুম কামাআরছালনাইলাফির’আওনা রাছুলা-।

    ১৬) ফা‘আসা- ফির‘আওনুর রাছুলা ফাআখায়না- হু আখযাওঁ ওয়া বীলা-।

    ১৭) ফাকাইফা তাত্তাকূনা ইন কাফারতুম ইয়াওমাইঁ ইয়াজ’আলুল বিলদা না শীবা-।

    ১৮) আছছামাউ মুনফাতিরুম বিহী কা-না ওয়া’দুহূমাফ’ঊলা-।

    ১৯) ইন্না হা- যিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রাব্বিহী ছাবীলা-

    ২০) ইন্না রাব্বাকা ইয়া’লামুআন্নাকা তাকৃমুআদনা- মিন ছু লুছাইল্লাইলি ওয়া নিসফাওয়া ছু লুছাওয়া তাইফাতুম মিনাল্লাযীনা মা’আকা ওয়াল্লা- হু ইউকাদ্দিরুল্লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ‘আলিমা আল্লান তুহসূহু ফাতা-বা ‘আলাইকুম ফাকরাঊ মা- তায়াছছারা মিনাল কুরআ-নি ‘আলিমা আন ছাইয়াকূনুমিনকুম মারদা- ওয়া আ-খারনা ইয়াদরিবৃনা ফিল আরদিইয়াবতাগূনা মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আ- খারূনা ইউকাতিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাকরাঊ মা-তায়াছছারা মিনহু ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আকরিদূ ল্লা-হা কারদান হাছানাও ওয়ামা- তুকাদ্দিম্ লিআনফুছিকুম মিন খাইরিন তাজিদূ হু ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরাওঁ ওয়া আ’জামা আজরাও ওয়াছতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

 

সূরা ইয়াছিন

সূরা ইয়াসিনকে বলা হয় পবিত্র কুরআনের হৃদয়। সুরাটিতে রয়েছে ৮৩টি আয়াত, পাঁচটি রুকু এবং ৭টি মুবিন।

§  সূরা ইয়াছিন একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং পাঠকের সব গুনাহ মাফ হয়।

§  রাতে সূরা ইয়াছিন পাঠ করলে নিস্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠা যায় এবং পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

§  যে ব্যক্তি সূরা ইয়াছিন বেশি বেশি পড়ে থাকে কেয়ামতের দিন এই সূরাই তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।

§  যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা ইয়াছিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে।

§  যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করা হবে। (দারেমি)

§  যে ব্যক্তি প্রতি রাতে ইয়াসিন পাঠ করতে থাকে এবং তারপর মারা যায়, সে শহীদ হিসাবে মৃত্যুবরণ করবে।

§  মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)।

§  যদি কোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় হয়, আর সে সময় তার পাশে কেউ সূরা ইয়াসিন পাঠ করে, তবে বেহেশত থেকে রেদওয়ান ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ না দেয়া পর্যন্ত রূহ কবজকারী ফেরেশতা (মালাকুল মাউত) ওই ব্যক্তির রূহ কবজ করেন না। রূহ কবজের সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি অবস্থান হয় রাইয়্যান নামক জান্নাতে।

§  যদি কোনো ব্যক্তি অভাব-অনটনের সময় সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি ও রিজিকে বরকত লাভ হয়। (মাজহারি)।

§  যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে (মাজহারি)।

§  যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বায়হাকি,আবু দাউদ)

§  এ সুরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে আর আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করবেন।

প্রয়োজন মেটানোর জন্য সূরা ইয়াসিনের গোপনীয়তা:

সূরা ইয়াসিনে সাতটি আয়াত রয়েছে, যার শেষটি হল «مبين» শব্দটি। এই সূরায় প্রয়োজন পূরণের জন্য চারটি পদ্ধতি রয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি হলো পাঠ করা, পুরো সূরাটি পড়ুন, তারপর এর পরে দোয়া করুন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো যে আয়াতে «مبين» শব্দটি রয়েছে সেই সাতটি আয়াত কে পুনরাবৃত্তি করা।

তৃতীয় পদ্ধতি কোরান পাঠ করার সময় কেবলমাত্র «مبين» শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা।

চতুর্থ পদ্ধতি হল «مبين» শব্দটি যে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে পৌঁছানোর সময় দুআ করা।

 

সূরা বাকারা

সূরা বাকারার ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য হাদিস হল:

 

যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করবে, তার ঘর থেকে শয়তান দূরে থাকবে। (বুখারি, হাদিস: ৭৫০)

যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। (বুখারি, হাদিস: ৪৬০৪)

যে ব্যক্তি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আয়াতুল কুরসি) পাঠ করবে, তার জন্য যথেষ্ট হবে। (বুখারি, হাদিস: ৫০০০)

এটি পাঠ করলে ঘর থেকে শয়তান দূরে থাকে, জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয় এবং আয়াতুল কুরসি পাঠের ফলে কিয়ামতের দিনের ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

বৃহস্পতিবার রাতে সুরা দুখান তিলাওয়াতের যত ফজিলত

·         যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) সুরা দুখান পাঠ করবে সকাল হওয়ার আগেই তার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

·         যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে অথবা জুমার দিন সুরা দুখান পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (কুরতুবী)

·         যে ব্যক্তি রাতে সুরা দুখান তেলাওয়াত করবে, ৭০ হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবে।

·         জুমার রাতে যে ব্যক্তি সুরা দুখান পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৮৯)

 

জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

- যে ব্যক্তি জুমার নামাজের পর সূরা আল কাহাফ পড়বে

তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।

সে এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত আল্লাহর রহমতের আশ্রয়ে এবং তত্ত্বাবধানে থাকবে।

- যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম) (মিশকাত)।

- ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।

- যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে।’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)।

- জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

- জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।

অর্থাৎ এটা হলো আল্লাহ  তায়ালার পক্ষ থেকে ওই ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি যা কোরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

 

প্রশ্ন : সূরাহ কাহাফ (১৮ নম্বর সূরা) পড়ার সময় কখন?

 

উত্তর : বৃহস্পতিবার দিন শেষে সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সূর্য ডোবা পর্যন্ত যে কোনো সময় সূরা কাহাফ পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী আমল করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

 

 

সূরা সেজদাহ

যে ব্যক্তি পরম ভক্তির সাথে সূরা সাজদাহ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে শবে কদরে ইবাদতের নেকীর তূল্য ছওয়াব দিবেন।

 

এক ব্যক্তি তা পড়ত এবং তা ছাড়া অপর কিছু পড়ত না।

 

আর সে ছিল বড় গোনাহগার ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পরে উক্ত সূরা তার উপর ডানা বিস্তার করে এবং বলতে থাকে যে, হে পরওয়ারদিগার তাকে মাফ করুন।

 

কেননা সে আমাকে বেশী বেশী পড়ত। সুতরাং পরওয়ারদিগার আলম তার সম্পর্কে উক্ত সূরার শাফায়াত কবুল করেন।

 

আর বলেন যে, তার প্রত্যেক গোনাহর স্থলে এক একটি নেকী লেখ এবং তার মর্যাদা বুলন্দ কর। তিনি এও বলেন যে, উক্ত সূরা কবরে তার পাঠকের জন্য,

 

আল্লাহর নিকট আরজি করে বলবে হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার কিতাবের অংশ হই তবে তার ব্যাপারে তুমি আমার শাফায়াত কবুল কর।

 

 

সূরা মুহাম্মদ-এর ফযীলত

 

আর যদি আমি তোমার কিতাবের অংশ না হই তবে আমাকে তা হতে মুছে ফেল। (অপর বর্ণনায়)  তিনি বলেন, তা পক্ষীর ন্যায় হয়ে তার উপর আপন পাখা বিস্তার করবে,

 

তার জন্য সুপারিশ করবে। ফলে সে কবরের আজাব হতে মুক্তি পাবে। তিনি “সূরা তাবারাকাল্লাজী সম্পর্কেও এইরূপ বলেছেন।

 

এ দুই সূরাকে (সূরা মুলক এবং সূরা সেজদাহ) কোরআনের প্রত্যেক সূরা অপেক্ষা ৬০ গুণ অধিক নেকী লাভের মর্যাদা দান করা হয়েছে।

সূরা সেজদাহ এবং সূরা মুলক এর ফজিলত সমস্ত সূরার উর্ধ্বে। অর্থাৎ সূরা বাকারা এবং সূরা ফাতেহার পরে।

কেননা, সূরা ফাতেহার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা, দোয়া এবং ইবাদতের বর্ণনা রয়েছে, এবং সূরা বাকারার মধ্যে শরীয়তের হুকুম আহকাম বিধি-বিধান রয়েছে।

 

 

 

সূরা জীন এর ফজিলত

আয়াত সংখ্যা ২৮।

যে ব্যক্তি পরম বিশ্বাসের সাথে এ সূরাটি পাঠ করবে, নবী করীম (সাঃ) এর সাথে যত মুমিন ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের সকলের পূণ্যের সমসংখ্যক পূণ্য তার নসীব হবে এবং সে জান্নাতুল মাওয়া নামক বেহেশতে প্রবেশ করবে।

 

সুরা নাবা’র ফজিলত

সুরা নাবা পবিত্র কোরআনের ৭৮তম সুরা। এতে দুই রুকু ও ৪০ আয়াত রয়েছে। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সুরা নাবার ফজিলত সম্পর্কে একটি দুর্বল হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা নাবা পাঠ করবে মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন ঠান্ডা পানীয় দ্বারা তৃপ্ত করবেন। (তাফসিরে কাশশাফ : ৬/৩০৩)

 

সুরা আদ-দোহা

মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ওঠার এবং স্বাভাবিক থাকতে সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। এই ভরসা ও তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকতে সাহায্য করতে পারে কুরআন মাজিদের ৯৩ নং সুরা আদ-দোহা। ১১ আয়াতবিশিষ্ট এই সুরাটি ঠিক তখন নাজিল হয়েছিল, যখন নবীজি (সা.)-এর ওপর মিথ্যা সন্দেহ করা হচ্ছিল ও ওহির আগমন বিলম্ব হচ্ছিল। মানসিকভাবে নবীজি (সা.) অস্থিরতা ও অবসাদে ভুগছিলেন।

 

আল-কদর

পবিত্র কোরআনের ৯৭ নম্বর সুরা আল-কদর । মক্কায় নাজিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। আলোচ্য সুরার ‘কদর শব্দ থেকেই এর নামকরণ হয়েছে ।

 

সুরা কদর কোরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান অর্থাৎ চারবার পড়লে এক খতম কোরআনের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে। (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৭১০)

শবে কদরের আমল

 

সুতরাং লাইলাতুল কদর পেলে এ আমল ও দোয়া রাত অতিবাহিত করা জরুরি। তা হলো-

 

১. নফল নামাজ পড়া।

 

২. মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।

 

৩. দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।

 

৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।

 

৫. শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

 

৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।

 

৬. সম্ভব হলে তাওবার নামাজ পড়া।

 

৭. সম্ভব হলে সালাতুল হাজাত পড়া।

 

৮. সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।

 

৯. কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।

 

১০. দরূদ শরিফ পড়া।

 

১১. তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।

 

১১. জিকির-আজকার করা।

 

১২. কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।

 

১৩. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা, কবর জেয়ারত করা।

 

১৪. বেশি বেশি দান-সদকা করা।

 

লাইলাতুল কদর বা ভাগ্য নির্ধারণ রাত্রি মুসলিম জীবনে অতিপূণ্যময় ও অনন্য রজনী। এ রাতের সম্মানেই পবিত্র কুরাআনে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা ‘সূরাতুল কদর অবতীর্ণ হয়েছে। সম্মান বা মর্যাদার এ রাতটিতে রয়েছে শান্তি, সান্তনা এবং সার্বিক কল্যাণ। এ রজনী ভাস্বর হয়ে আছে পবিত্র কুরআন নাজিলের মহিমায়, ভাস্বর হয়ে থাকবে স্বল্প সময়ে অধিক পূণ্য (সওয়াব) লাভের নিশ্চয়তায়।

 

আমাদের সমাজে ১৪ শাবান দিবগত রাতকে ‘লাইলাতুল বরাত ‘শবে বরাত বা ভাগ্য রজনী বলা হয়ে থাকে। যেটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে লাইলাতুল কদর-ই মূলত ভাগ্য রজনী। আরবি ‘লাইলাতুন শব্দের অর্থ হচ্ছে রাত। ‘কদর শব্দের অর্থ হচ্ছে পরিমাপ, পরিমাণ, নির্ধারণ ও ভাগ্য নিরূপণ। ‘কদর থেকেই ‘তাকদির শব্দের উৎপত্তি। অবশ্য কদর শব্দের অন্য অর্থ সম্মান, গৌরব, মর্যাদা ও মহিমা। সুতরাং ‘লাইলাতুল কদর মহিমান্বিত রজনী, সম্মানিত রাত্রি, ভাগ্য নিরূপণ, বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ রজনী অর্থে সাধারণত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হজরত আবু বকর রা. বর্ণনা করেন, ‘এ রাতকে এ জন্য ‘লাইলাতুল কদর বলা হয়, যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে কোনো ইবাদত-বন্দেগি করে ‘কদর বা সম্মানের অধিকারী হয়নি, সে ব্যক্তি এ রাতে তওবা ইস্তেগফার করে ইবাদত-বন্দেগি করলে ‘কদর বা সম্মানের অধিকারী হতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

 

কদরের রাতটি কিন্তু নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট নয়। এ মহিমান্বিত রাতটি পবিত্র রমজানের শেষ দশ দিনের যে কোনো বিজোড় রাত। তবে এ রাতকে চিহ্নিত করার কিছু আলামত হাদিস শরিফে (বুখারী ও মুসলিম) পাওয়া যায়।

 

যেমন- ১. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না;

২. নাতিশীতোষ্ণ হবে;

৩. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে;

৪. ইবাদতে অধিক তৃপ্তি পাবে;

৫. বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে;

৬. হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো।

বিজ্ঞাপন

 

হযরত ইবনে জারির (রা.)এর বর্ণনায় আছে, মহানবী (সা:) একবার ইসরাইল গোত্রের জনৈক ইবাদতকারী সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তিনি (ইসরাইলী ব্যক্তি) একাধারে এক হাজার মাস ধরে সমস্ত রাত্রি ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং সকাল হলেই জেহাদে বের হয়ে যেতেন। মুসলমানগণ একথা শুনে বিস্মিত হন। মহানবী সা. তার উম্মতের জন্য শুধু এক রাত্রির ইবাদতকেই (লাইলাতুল কদর) সে ইবাদতকারীর এক হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করেছেন। (তাফসিরে মাজহারি) যার বর্ণনা সুরা আল-কদরে সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ কদরের রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এক হাজার মাস মহান আল্লাহর ইবাদত করার চেয়েও এই একটি রাত ইবাদত করলে অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।

 

এ রাতে হজরত জিবরাইল আ. অসংখ্য ফেরেশতা নিয়ে এ ধরাপৃষ্ঠে অবতরণ করেন। তিনি যাদের দণ্ডায়মান এবং বসা অবস্থায় নামাজ ও মহান আল্লাহর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতরত দেখতে পান, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।

 

পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনায় লাইলাতুল কদর রমজান মাসেই। তবে কবে? এ নিয়ে আলেমদের একাধিক মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাফসিরে মাজহারির বর্ণনা মতে, ‘এ রাত রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে অবস্থিত। কিন্তু এরও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। সহিহ হাদিস দৃষ্টে এই ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে ‘লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মহানবী সা: বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরকে রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো। (সহীহ বুখারি)

 

মহান আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের রমজানের শেষ ১০ দিন অধিক পরিমাণে ইবাদত করার প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই মূলত লাইলাতুল কদরকে প্রচ্ছন্ন রেখেছেন। তারপরও অধিক সম্ভাব্য রাত হিসেবে ২৭তম রাতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাফসিরে রুহুল বায়ানে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) গণিত সূত্র দিয়ে এর অধিক সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছেন। যেমন- ‘সূরা কদর-এ ‘লাইলাতুল কদর শব্দটি তিনবার উল্লেখ আছে। আরবি বর্ণমালা অনুযায়ী ‘লাইলাতুল কদর লিখতে ৯টি অক্ষরের প্রয়োজন হয়। তিন কে ৯-এর সাথে গুণ করলে গুণফল ২৭ হয়। উপরোক্ত হিসেবে ‘লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি

 

লাইলাতুল কদর অনির্দিষ্ট রাখার তাৎপর্য: কদরের পবিত্র রজনীকে অনির্দিষ্ট রাখার মধ্যে অসংখ্য তাৎপর্য রয়েছে। যেমন-

 

১. প্রতিটি বেজোড় রাতে অধিক পরিমাণে ইবাদাত করে বান্দা যাতে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়;

২.পাপীগণ এ রাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করে পাপকাজ থেকে বিরত থাকবে এবং সঠিক পথে আসার অনুপ্রেরণা পাবে;

৩. নির্দিষ্ট হলে কেউ দূর্ভাগ্যবশত এ রাত হারিয়ে ফেললে সে অত্যন্ত মনকষ্টে নিপতিত হতে পারে;

৪. যত রাতই লাইলাতুল কদর মনে করে ইবাদত করবে প্রত্যেক রাতের জন্য পৃথক পৃথক সওয়াব পাবে;

৫. বছরের বাকি রাতগুলোতে সুযোগ পেলেই যাতে ইবাদতে কাটানো যায় তার একটি প্রশিক্ষণ দানের জন্য।

 

লাইলাতুল ক্বদরের আমল:

 

মহানবী (সা.) যেভাবে এ রাত কাটাতেন এর পূর্ণ অনুসরণ করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আমাদের বর্ণিত কাজগুলো করা আবশ্যক।

 

১. নিজে রাত জেগে ইবাদাত করা এবং পরিবারের সদস্য ও অধীনস্থদের ইবাদাতে উদ্বুদ্ধ করা;

২. তারাবিহের সালাত আদায়ের পর রাতে তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবিহ আদায় করা;

৩. সিজদার মধ্যে তাসবিহ পাঠ শেষে দোয়া করা। কেননা সেজদাবনত অবস্থায় মানুষ তার রবের নিকটে চলে যায়। ফলে তখন দোয়া কবুল হয়;

৪. নিজের কৃত পাপের জন্য বেশি বেশি তওবা করা। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো পাপ না হয় তার জন্য দৃঢ় সঙ্কল্প করা;

৫. অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। উত্তম হবে অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ কুরআন অধ্যয়ন করা;

৬. সাধ্য অনুযায়ী জিকির-আসকার ও তসবিহ তাহলিল আদায় করা;

৭. কবুল হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে নিজ, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, জীবিত-মৃত ব্যক্তিদের জন্য সর্বোপরি দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে একাগ্রচিত্তে দোয়া করা। বিশেষ করে মহানবী সা:-এর শেখানো এই দোয়াটি বেশি বেশি করে পড়া, ‘হে আল্লাহ তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তুমি ভালোবাস, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও

 

লাইলাতুল কদরের ফজিলত:

 

অগণিত ফজিলতে পূর্ণ এ রাতটির কতিপয় ফজিলাত বর্ণনা করা হলো─

১.এ রাতের ফজিলাত বর্ণনা করে এ রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার নাম ‘সূরাতুল কদর;

২. এ এক রজনীর ইবাদাত হাজার মাসের ইবাদাতের চেয়েও উত্তম;

৩. এ রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসে এবং তারা তখন দুনিয়ায় কল্যাণ, বরকত ও রহমত বর্ষণ করতে থাকেন;

৪. এ রাতে ইবাদতে লিপ্ত বান্দাদের ফেরেশতাগণ জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির বাণী শোনান;

৫. এ রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগিরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

 

মহানবী (সা:) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করে আল্লাহ তার ইতঃপূর্বের যাবতীয় সগিরা গোনাহ ক্ষমা করে দেন । (বুখারি, মুসলিম) এছাড়াও, এ রাতে তওবা কবুল হয়। লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির উত্তম মাধ্যম : লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির সুবর্ণ সুযোগ হচ্ছে রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। মহানবী সা. প্রতি রমজানে ১০ দিন নিয়মিত ইতেকাফ করতেন।

 

মুমিন বান্দাদের জন্য লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মঙ্গলময় এবং বরকতময় রাত। এক রাত ইবাদত করে এক হাজার মাসেরও অধিক সময়ের ইবাদতের সাওয়াব পাওয়া যাবে, এর চেয়ে বড় সুবর্ণ সুযোগ আর কী হতে পারে? এ রাতের ইবাদত হতে বিমুখ ব্যক্তি সত্যিই হতভাগা। মহানবী (সা:) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শবে কদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে ব্যক্তি সর্ব প্রকার মঙ্গল থেকেই বঞ্চিত হলো। আর যে বঞ্চিত হলো প্রকৃতপক্ষে সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। (সুনানু নাসায়ি) তাই আসুন, পবিত্র লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও বরকতের অমিয় সুধা পান করে আল্লাহর কাছে উত্তম বান্দা হিসেবে ফিরে যাই। (আমিন)

 

সূরা ফীল

সূরা ফীল পবিত্র কুরআনের ১০৫তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৫টি। সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে প্রথম আয়াতে বর্ণিত "ফিল" শব্দ থেকে। "ফিল" শব্দের অর্থ "হাতি"।

১. আলাম তারা কাইফা ফাআলা রাব্বুকা বিআসহাবিল্ ফীল;

২. আলাম ইয়াজয়াল কাইদাহুম ফী তাদলীল;

৩. ওয়া আরসালা আলাইহিম তাইরান আবাবীল।

৪. তারমীহিম বিহিজারাতিম্ মিন সিজ্জীল;

৫. ফাজাআলাহুম কাআসফিম্ মা'কূল।

 

১. তুমি কি দেখনি, তোমার প্রভু হাতীর বাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেছিলেন? ২. তাদের কৌশল তিনি কি ব্যর্থ করে দেননি? ৩. তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবীল পাখী প্রেরণ করেন, ৪. যারা তাদের উপর প্রস্তর কংকর নিক্ষেপ করে। ৫. অতপর তাদেরকে তিনি ভক্ষিত ঘাসের ন্যায় করেছিলেন।

 

সূরা ফীল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা বর্ণনা করে। ঘটনাটি হলো, মক্কা বিজয়ের আগে, কুরাইশরা মক্কা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একদল হাতি নিয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে, তাদের হাতিরা বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে আসে এবং মক্কা ধ্বংস হয় না।

সূরা ফীলের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

  • হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা ফীল পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিপদ-আপদ দূর করে দেবেন এবং তাকে সুরক্ষা দেবেন।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৮৭৪)
  • হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা ফীল পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য একটি হাতির প্রতিদান দেবেন।" (আবু দাউদ, হাদিস ১৩৮৭)

সূরা ফীলের আমল সম্পর্কেও কিছু বর্ণনা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

  • সূরা ফীল পাঠ করলে বিপদ-আপদ দূর হয়।
  • সূরা ফীল পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে সুরক্ষা দেওয়া হয়।
  • সূরা ফীল পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি হাতির প্রতিদান দেওয়া হয়।

এছাড়াও, সূরা ফীল পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

১. এ সূরাটি ৪০ বার পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ দুশমনের উপর বিজয় লাভ করা যায়। ২. কাউকে যদি শত্রুরা অবরোধ করে তাহলে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে এ সূরাহটি এক হাজার সাত বার পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ শত্রুরা ধ্বংস হবে এবং কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

সূরা মাউন এর ফজিলত

সূরা মাউন এর ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য হাদিস হল:

  • হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা মাউন পাঠ করবে, তাকে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।” (তিরমিযি, হাদিস: ২৮৮৩)
  • হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সূরা মাউন পাঠ করবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যাবে।” (বায়হাকি, হাদিস: ৪৫৮৬)
  • হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা মাউন পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহ তাআলা ১০০০ নেকী লিখে দেবেন এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (তিরমিযি, হাদিস: ২৮৮৪)

এই হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায় যে, সূরা মাউন পাঠের ফজিলত অনেক। এটি পাঠ করলে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায় এবং ১০০০ নেকী ও ১০০০ গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

এছাড়াও, সূরা মাউন পাঠের ফলে নিম্নলিখিত ফজিলতগুলো রয়েছে বলে মনে করা হয়:

  • এটি পাঠ করলে ইমান ও তাওহিদের উপর দৃঢ়তা পাওয়া যায়।
  • এটি পাঠ করলে পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়।
  • এটি পাঠ করলে মানবিক গুণাবলী ও দয়া-মায়া বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং, সূরা মাউন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সূরা। এটি প্রতিদিন পাঠ করা উচিত।

 

সূরা কাউসার এর ফজিলত

সূরা কাউসার পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা। এর আয়াত সংখ্যা মাত্র তিনটি। এ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা কাউসারের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে,

  • হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা কাউসার নিয়মিত পাঠ করবে, তার জন্য কেয়ামতের দিন আমি সাক্ষী হব।" (তিরমিজি)
  • হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা কাউসার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে হাউজে কাউছারের পানির একটি পানপাত্র দেবেন।" (তাবারানী)
  • হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা কাউসার পাঠ করবে, আল্লাহ তার শত্রুদের অনিষ্ট থেকে তাকে রক্ষা করবেন।" (তাবারানী)

 

সূরা কাউসারের অর্থ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

  • ১. إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউছার দান করেছি।

  • ২. فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অতএব (কৃতজ্ঞতা প্রকাশে) আপনার রবের জন্য নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।

  • ৩. إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ

নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই হলো- (লেজকাটা) নির্বংশ।

 

সূরা কাউসারের তাফসির

সূরা কাউসারের প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কাউছার দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। কাউছার হলো জান্নাতে একটি নহর, যার পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি। এই নহরের পানি পান করলে মানুষ কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।

দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজ পড়তে এবং কোরবানি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজ ও কোরবানি হলো ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতগুলো পালন করলে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ হয়।

তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শত্রুদেরকে নির্বংশ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শত্রুরা দুনিয়াতেও এবং আখেরাতেও ধ্বংস হবে।

 

সূরা কাউসার পাঠের নিয়ম

সূরা কাউসার যেকোনো সময় পাঠ করা যায়। তবে, ফজরের নামাজের পর পাঠ করা ভালো। এছাড়াও, জুমার দিন জুমার নামাজের পর, ঈদের দিন ঈদের নামাজের পর এবং রমজানের শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজের পর সূরা কাউসার পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

 

সূরা লাহাব

সূরা লাহাব হল কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৫। এই সূরায় আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী উম্মে জামিলের ধ্বংসের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

সূরা লাহাবের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হল:

  • হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা লাহাব পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের ধ্বংসের সুসংবাদ দেবেন।" (তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ)
  • হযরত আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা লাহাব পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।" (তাবরানী)
  • হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সূরা লাহাব পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহ তায়ালা দশটি নেকী দান করবেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করবেন, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্য দশটি ফেরেশতাকে নিযুক্ত করবেন যারা তাকে সারারাত রক্ষা করবেন।" (বায়হাকি)

এই হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায় যে, সূরা লাহাব পাঠের অনেক ফজিলত রয়েছে। এটি পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের ধ্বংসের সুসংবাদ দেবেন, জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন, দশটি নেকী দান করবেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করবেন,দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং রাতের বেলা দশটি ফেরেশতাকে নিযুক্ত করে তাকে রক্ষা করবেন।

এছাড়াও, সূরা লাহাব পাঠের মাধ্যমে কুফর ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে ঈমানের জয়ের বার্তা পাওয়া যায়। এটি পাঠ করলে কুফর ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

সূরা ফালাক

সূরা ফালাক কুরআনুল কারিমের ১১৩তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৫টি। সূরা ফালাক ও সূরা নাস একসাথে মিলে “মু'আওবিযাতানে কেবির” বা “দুটি বৃহৎ আশ্রয় প্রার্থনা” নামে পরিচিত।

সূরা ফালাক পাঠের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য হাদিস হল:

  • হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করবে,তাকে যাদু, কালো জাদু, বিষাক্ত জীবজন্তুর বিষাক্ত দংশন এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলা রক্ষা করবেন।” (বুখারি,হাদিস: ৫০১৭)
  • হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করবে, তার জন্য যথেষ্ট হবে।” (বুখারি, হাদিস: ৫০০০)

এই হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায় যে, সূরা ফালাক পাঠের ফজিলত অনেক। এটি পাঠ করলে যাদু, কালো জাদু, বিষাক্ত জীবজন্তুর বিষাক্ত দংশন এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এছাড়াও, সূরা ফালাক পাঠের ফলে নিম্নলিখিত ফজিলতগুলো রয়েছে বলে মনে করা হয়:

  • এটি পাঠ করলে ঈমান ও তাওহিদের উপর দৃঢ়তা পাওয়া যায়।
  • এটি পাঠ করলে পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়।
  • এটি পাঠ করলে মানবিক গুণাবলী ও দয়া-মায়া বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং, সূরা ফালাক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সূরা। এটি প্রতিদিন পাঠ করা উচিত।

এখানে সূরা ফালাক পাঠের কিছু নির্দিষ্ট ফজিলত সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

  • যাদু, কালো জাদু থেকে মুক্তি: সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করলে যাদু, কালো জাদুর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, এই সূরাতে আল্লাহর কাছে যাদু ও কালো জাদু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।
  • বিষাক্ত জীবজন্তুর বিষাক্ত দংশন থেকে মুক্তি: সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করলে বিষাক্ত জীবজন্তুর বিষাক্ত দংশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, এই সূরাতে আল্লাহর কাছে বিষাক্ত জীবজন্তুর বিষাক্ত দংশন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।
  • শয়তানের অনিষ্ট থেকে মুক্তি: সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, এই সূরাতে আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।
  • ঈমান ও তাওহিদ বৃদ্ধি: সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করলে ঈমান ও তাওহিদ বৃদ্ধি পায়। কারণ, এই সূরাতে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
  • মানবিক গুণাবলী বৃদ্ধি: সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করলে মানবিক গুণাবলী বৃদ্ধি পায়। কারণ, এই সূরাতে মানবিক গুণাবলী বৃদ্ধির জন্য অনেক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

সূরা নাস এর ফজিলত –

সূরা নাস পড়লে শয়তানের অনিষ্ট ও যাদু থেকে হেফাজতে থাকা যায়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা ( সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। ’ (জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৯০৩)

 

দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু সময় ও স্থান

নিচে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু সময় ও স্থান কুরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো, আশা করা যায় এই সময়গুলোতে এভাবে দুয়া করলে আল্লাহ্ পাক দুয়া কবুল করবেন ইংশা আল্লাহ্। 

০১. ফরজ সালাতের পর : আবু উমামাহ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা:-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দোয়া বেশি গ্রহণযোগ্য হয়? তিনি বললেন, ‘শেষ রাতের মাঝের দোয়া এবং ফরজ সালাতের পরের দোয়া।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হা. ৯৬৮)।

০২. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় : আনাস ইবনে মালিক রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।’ (আবু দাউদ, হা.৫২১)।

০৩. রাতের শেষ ভাগে : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমার কাছে যে দোয়া করবে তার দোয়া আমি কবুল করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট (কিছু) প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে ব্যক্তি আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।’ (বুখারি, হা.১১৪৫)।

০৪. জুমার দিন : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল জুমার দিন সম্পর্কে অলোচনা করেন এবং বলেন, ‘এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোনো মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করেন, তবে তিনি তাকে তা অবশ্যই দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।’ (বুখারি : ৯৩৫)।

সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, ‘জুমার দিন দোয়া কবুলের চূড়ান্ত সময় হচ্ছে, ইমামের মিম্বারে বসা হতে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (মুসলিম : ১৮৬০) অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত।’ (আবু দাউদ: ১০৪৮)।

০৫. সিয়াম অবস্থায় : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া রদ হয় না। ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে এবং মাজলুমের দোয়া। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোয়া মেঘমালার উপরে তুলে নিবেন এবং তার জন্য আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং আল্লাহ বলবেন, আমার মর্যাদার কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, একটু বিলম্ব হলেও।’ (ইবনে মাজাহ)।

০৬. যুদ্ধের মাঠে শত্রুর সাথে মোকাবেলার সময় : সাহল ইবনু সা’দ রা: হতে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেনে, ‘দুই সময়ের দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না বা খুব কমই প্রত্যাখ্যাত হয়। আজানের সময়ের দোয়া এবং যুদ্ধের সময়ের দোয়া, যখন পরস্পর কাটাকাটি, মারামারি আরম্ভ হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ)।

০৭. সিজদায় : ইবনে আব্বাস রা: হতে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেনে, ‘সাবধান! আমাকে রুকুু-সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকুতে তোমাদের রবের মহিমা বর্ণনা করো। আর সিজদায় অতি মনোযোগের সাথে দোয়া করবে। আশা করা যায়, তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে। (মুসলিম)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বান্দা সিজদার সময়ে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। কাজেই এ সময় তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া পাঠ করবে।” (মুসলিম)।

০৮. লাইলাতুল কদরে : কদরের রাত্রি দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসূল সা: ইবাদতের জন্য লাইলাতুল কদরকে খুঁজতে বলতেন এবং নিজে লাইলাতুল কদরে সিজদা করতেন।’ (বুখারি)।

০৯. আরাফার মাঠে : উসামা ইবনে যায়েদ রা: বলেন, ‘আমি আরাফার মাঠে রাসূল সা:-এর সাওয়ারীর পিছনে ছিলাম, তিনি সেখানে দু’হাত তুলে দোয়া করলেন।’ (নাসাঈ) আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘মহামহিমান্বিত আল্লাহ আরাফাতের দিন জাহান্নাম থেকে যত অধিকসংখ্যক বান্দাকে নাজাত দেন, অন্য কোনো দিন এত অধিক সংখ্যক বান্দাকে নাজাত দেন না। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ এ দিন (বান্দার) নিকটবর্তী হন, অতঃপর তাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের নিকট গৌরব করে বলেন, তারা কী চায়?’(মুসলিম)।

১০. তিন শ্রেণীর লোকের দোয়া : আবু হুরায়রা রা: হতে বর্ণিত, নবী সা: বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। ১. পিতামাতার দোয়া ২. মুসাফিরের দোয়া ৩. মাজলুমের দোয়া।’ (আবু দাউদ)। কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকে আশা করা যায়, উপরোক্ত স্থান ও সময়গুলো দোয়া কবুলের জন্য প্রাসঙ্গিক। দোয়া কবুল হওয়ার কার্যকরী মুহূর্ত। আমাদের উচিত উক্ত স্থান, সময় ও মুহূর্তগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। মনে রাখতে হবে, দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল খাবার।

 

§  "সূরা ইখলাস" প্রতিদিন ২০০ বার ওযুর সাথে পড়ার ১০ টি উপকার:

১. আল্লাহ্ তা'আলা তার রাগের ৩০০ দরজা বন্ধ করে দিবেন।

২. রহমতের ৩০০ দরজা খুলে দিবেন।

৩. রিজিকের ৩০০ দরজা খুলে দিবেন।

৪. মেহনত ছাড়া গায়েব এর সাথে রিজিক পৌছে দিবেন।

৫. আল্লাহ্ তা'আলা নিজের জ্ঞান থেকে জ্ঞান দিবেন, আপন ধৈর্য থেকে ধৈর্য দিবেন, আপন বুঝ থেকে বুঝ দিবেন।

৬. ৬৬ বার কোর'আন খতমের সওয়াব দিবে

৭. ৫০ বছরের গুনাহ্ মাফ করে দিবেন।

৮. জান্নাতের মধ্যে ২০ টি মহল দিবেন ' যেগুলো ইয়াকুত মার্জান ও জমজমদের তৈরি ' প্রত্যেক মহলে ৭০ হাজার দরজা থাকবে।

৯. ২০০০ রাকাআত নফল নামাজ পড়ার সওয়াব দিবেন।

১০.  যখন তিনি মারা যাবেন ১,১০,০০০ ফেরেশতা তার যানাযায় শরিক হবেন।

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন