✨ বিদ‘আত থেকে বাঁচা ও সুন্নাত আঁকড়ে ধরা ✨
ভূমিকা
আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই মুসলিম। আল্লাহ আমাদেরকে সবচেয়ে বড় নিয়ামত দিয়েছেন—ঈমান। কিন্তু শুধু ঈমানই যথেষ্ট নয়, বরং ঈমানের সাথে সাথে আমাদের আমলকে হতে হবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত অনুযায়ী। কারণ ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে কুরআন ও সুন্নাতের মাধ্যমেই।
📌 সুন্নাত কী?
সুন্নাত হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেখানো পথ, নির্দেশনা, আমল ও জীবনব্যবস্থা। অর্থাৎ রাসূল ﷺ যেমন করে দ্বীন পালন করেছেন, ঠিক তেমনই অনুসরণ করাই সুন্নাত।
🔹 আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।”
📖 (সূরা আহযাব: ২১)
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
> «فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي، وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي، تَمَسَّكُوا بِهَا»
“তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার পরের খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো।”
📚 (আবু দাউদ ৪৬০৭, তিরমিজি ২৬৭৬)
📌 সুন্নাত আঁকড়ে ধরার বরকত
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
«تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِي»
“আমি তোমাদের মাঝে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন এগুলো আঁকড়ে ধরবে, কখনো গোমরাহ হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাত।”
📚 (মুয়াত্তা মালিক, হাদীস: ১৬০৯)
👉 সুন্নাত আঁকড়ে ধরলে—
১.আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়,
২.রাসূল ﷺ এর শাফাআত পাওয়া যায়,
৩.দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জিত হয়।
📌 বিদ‘আত কী?
“বিদ‘আত” শব্দের অর্থ হলো নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। দ্বীনের ক্ষেত্রে বিদ‘আত মানে হলো—কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর বাইরে নতুন কোনো ইবাদত, কাজ বা পদ্ধতি চালু করা, যা রাসূল ﷺ, সাহাবা বা তাবেঈনদের যুগে ছিল না।
🔹 উদাহরণ:
১.মৃত্যুবার্ষিকীতে কুলখানি করা,
২.মিলাদ মাহফিল উদ্ভাবন,
৩.নির্দিষ্ট দিনে শবেবরাতের আমল,
৪.কবর জিয়ারতের নামে উৎসব করা।
👉 এগুলো কুরআন ও সহিহ হাদীসে নেই, তাই এগুলো বিদ‘আত।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
«وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة»
“সবচেয়ে মন্দ কাজ হলো দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবনই বিদ‘আত, আর প্রতিটি বিদ‘আত গোমরাহী।”
📚 (সহিহ মুসলিম, হাদীস: ৮৬৭)
📌 বিদ‘আতের ক্ষতি
বিদ‘আত করলে মানুষ আল্লাহর দরবারে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়।
১.বিদ‘আত সুন্নাতকে সমাজ থেকে মুছে ফেলে।
২…বিদ‘আতের কারণে মানুষ জাহান্নামের দিকে ধাবিত হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»
“যে আমাদের দ্বীনে এমন কিছু নতুন চালু করবে, যা এর অংশ নয়—তা প্রত্যাখ্যাত।”
📚 (বুখারি ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮)
📌 বিদ‘আতের ভয়াবহতা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদ‘আতের ব্যাপারে কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেনঃ
🔹 তিনি বলেনঃ
«إيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ، وَكُلَّ ضَلالَةٍ فِي النَّارِ»
“তোমরা নতুন নতুন কাজ (বিদ‘আত) থেকে বাঁচো। কারণ প্রত্যেক নতুন কাজই বিদ‘আত, আর প্রত্যেক বিদ‘আত গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহির গন্তব্য জাহান্নাম।”
📚 (আবু দাউদ ৪৬০৭, তিরমিজি ২৬৭৬)
রাসূল ﷺ আরও বলেছেনঃ
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»
“যে আমাদের দ্বীনে এমন কিছু নতুন চালু করবে, যা এর অংশ নয়—তা প্রত্যাখ্যাত।”
📚 (বুখারি ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮)
📌 সাহাবাদের সতর্কতা
সাহাবাগণ বিদ‘আতের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।
🔹 ইবনে উমর (রাঃ) বলেনঃ
“প্রতিটি বিদ‘আতই গোমরাহী, যদিও মানুষ সেটাকে ভালো মনে করে।”
📚 (দারিমি, মুকাদ্দিমাহ, হাদীস: ২০৯)
📌 আজকের বাস্তবতা
আজ আমরা দেখছি মুসলিম সমাজে নানান বিদ‘আত চালু হয়েছে—
১.কুলখানি,
২.শবেবরাতের নির্দিষ্ট আমল,
৩.মিলাদ মাহফিল,
৪.মৃত্যুবার্ষিকীতে দাওয়াত ইত্যাদি।
কিন্তু এগুলো রাসূল ﷺ বা সাহাবাদের যুগে ছিল না। বরং তারা কেবল কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলতেন।
📌 বিদ‘আতের ক্ষতি
১.বিদ‘আত করলে মানুষের সওয়াব নষ্ট হয়।
২.বিদ‘আত সুন্নাতকে ধীরে ধীরে সমাজ থেকে সরিয়ে দেয়।
৩.বিদ‘আতের মাধ্যমে মানুষ শয়তানের ফাঁদে পড়ে।
উপসংহার
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, দ্বীনের নাম করে নতুন নতুন কাজ চালু করা কখনোই ইসলাম নয়। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে কুরআন ও সুন্নাতের মাধ্যমেই। তাই—
✅ বিদ‘আত বর্জন করতে হবে,
✅ সুন্নাত আঁকড়ে ধরতে হবে,
✅ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ এর দেখানো পথেই থাকতে হবে।
🌿 আল্লাহ আমাদেরকে সব বিদ‘আত থেকে বাঁচিয়ে দিন এবং রাসূল ﷺ এর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার তাওফিক দিন। আমীন।
তারিখ:২৬.০৯.২০২৫
খুতবার স্থান: আমান জামে মসজিদ, নারায়ণগঞ্জ
খতীব:হাসানুর রহমান মাদানি
সংকোলক:মুহাম্মদ ফায়েজ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন