অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দেয় এমন কুরআনের ১০টি আয়াত

 

👉✊ অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সত্যের পক্ষে l ✊
অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দেয় এমন কুরআনের ১০টি আয়াত l
১. ন্যায়ের সাক্ষী হও যদিও নিজের বিরুদ্ধে যায়।
সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ১৩৫
আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَن تَعْدِلُوا ۚ وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا.
অর্থ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসেবে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতামাতা ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়ের ব্যাপারে অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী। সুতরাং তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যাতে ন্যায়বিচার করতে পারো। আর যদি তোমরা কথা ঘুরিয়ে বলো বা এড়িয়ে যাও তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।
অনুপ্রেরণা:
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সেটা নিজের বা প্রিয়জনদের বিরুদ্ধে যায়। কিন্তু আল্লাহ চান আমরা যেকোনো মূল্যে ন্যায়ের পক্ষে থাকি। আত্মীয়তা, ধন-সম্পদ কিছুই সত্যকে লুকানোর অজুহাত হতে পারে না। এটাই প্রকৃত সাহসিকতা।
২. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা ফরজ।
সূরা: আলে ইমরান | আয়াত: ১০৪
আরবি:
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ.
অর্থ:
আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।
অনুপ্রেরণা:
চুপ থাকা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা। যখন আমরা অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করি না তখন আমরা অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যাই। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা শুধু একটি ভালো কাজ নয়, এটা আমাদের দায়িত্ব। যারা এই দায়িত্ব পালন করে তারাই সফল।
৩. অন্যায়কারীদের পক্ষে দাঁড়িও না।
সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ১০৫
আরবি:
إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا.
অর্থ:
নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছি যাতে তুমি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করো যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন। আর তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না।
অনুপ্রেরণা:
কখনো কখনো আমরা চাপের মুখে বা সম্পর্কের খাতিরে অন্যায়কারীদের পক্ষ নিয়ে ফেলি। কিন্তু আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন খেয়ানতকারী বা অন্যায়কারীদের পক্ষে দাঁড়ানো যাবে না। ন্যায় যেখানে আমরা সেখানে, তা যাই হোক না কেন।
৪. সত্য প্রকাশ করো এবং মিথ্যা লুকিয়ো না।
সূরা: আল-বাক্বারা | আয়াত: ৪২
আরবি:
وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ.
অর্থ:
আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেবুঝে সত্য গোপন করো না।
অনুপ্রেরণা:
সত্য জানা থাকলেও তা লুকানো মহাপাপ। অনেক সময় আমরা সত্য জানি কিন্তু বিভিন্ন কারণে চুপ থাকি। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন সত্য যখন জানো তখন তা প্রকাশ করতে হবে। সত্য লুকিয়ে রাখা মিথ্যা বলার মতোই অপরাধ।
৫. ন্যায়বিচারে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
সূরা: আল-মায়িদা | আয়াত: ৮
আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ.
অর্থ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার না করতে প্রলুব্ধ না করে। ন্যায়বিচার করো, এটা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমরা যা করো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।
অনুপ্রেরণা:
শত্রু হলেও তার সাথে ন্যায়বিচার করতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ ন্যায়বিচারে বাধা হতে পারে না। যাকে আমরা পছন্দ করি না তার সাথেও ইনসাফ করতে হবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। ন্যায় সবার জন্য, শুধু আপন মানুষের জন্য নয়।
৬. দুর্বলদের পক্ষে কথা বলো।
সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ৭৫
আরবি:
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا.
অর্থ:
তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুদের জন্য লড়াই করছ না যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নাও যার অধিবাসীরা জালিম। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করো এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করো।
অনুপ্রেরণা:
যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না, যারা অত্যাচারিত, যাদের কথা বলার সাহস নেই তাদের পক্ষে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। দুর্বলদের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের ঈমান পূর্ণ নয়। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন আমরা মজলুমদের জন্য কী করেছি।
৭. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকো।
সূরা: আল-ফুরকান | আয়াত: ৭২
আ রবআরব#হকি:
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا.
অর্থ:
আর যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথার সম্মুখীন হয় তখন সম্মানের সাথে পার হয়ে যায়।
অনুপ্রেরণা
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া অন্যায়ের সবচেয়ে বড় সহায়ক। যখন আমরা জেনেবুঝে মিথ্যা সাক্ষ্য দিই তখন আমরা সরাসরি অন্যায়কে সাহায্য করি। সত্যিকার মুমিন কখনো মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে।
৮. আল্লাহকে ভয় করে সত্য কথা বলো।
সূরা: আল-আহযাব | আয়াত: ৭০
আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا.
অর্থ:
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।
অনুপ্রেরণা:
সত্য কথা বলতে সাহস লাগে। কিন্তু যখন আমরা আল্লাহকে ভয় করি তখন মানুষের ভয় চলে যায়। সরল ও সত্য কথা বলার অভ্যাস করলে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করেন। মিথ্যা ও কূটকৌশল ছেড়ে সরাসরি সত্য বলাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
৯. অন্যায় দেখলে বাধা দান করার চেষ্টা করো।
সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ১১৪
আরবি:
لَّا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا.
অর্থ:
তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে দান-খয়রাত, সৎকাজ অথবা মানুষের মধ্যে সংশোধনের আদেশ দেয়। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটা করে অচিরেই আমি তাকে মহা পুরস্কার দেব।
অনুপ্রেরণা:
শুধু অন্যায় দেখে চুপ থাকলে হবে না, সেটা সংশোধনের চেষ্টাও করতে হবে। মানুষের মধ্যে বিরোধ মিটানো, সৎপথে আনা, সমাজ সংশোধন করা এগুলো মহৎ কাজ। আল্লাহ এই কাজের জন্য বিশাল পুরস্কার দেবেন।
১০. সত্যের পথে দৃঢ় থাকলে আল্লাহ সাহায্য করেন।
সূরা: মুহাম্মাদ | আয়াত: ৭
আরবি:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ.
অর্থ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।
অনুপ্রেরণা:
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন মনে হতে পারে। শত্রু শক্তিশালী, আমরা দুর্বল। কিন্তু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হলো যারা তাঁর দীনের পক্ষে দাঁড়াবে তিনি তাদের সাহায্য করবেন। তিনি তাদের পা মজবুত করে দেবেন। তাই ভয় না পেয়ে সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সাহস দান করুন। যেন আমরা জুলুম দেখেও চুপ না থাকি এবং মজলুমদের পাশে দাঁড়াই।। 🤲🕋🤲

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন