স্বালাতুল ইশরাক, য্বুহা বা চাশতের নামায

 

▪️ইশরাক্ব ও চাশতের ছালাত (صلاة الإشراق والضحى)
‘শুরূক্ব’ অর্থ সূর্য উদিত হওয়া।
'ইশরাক্ব’ অর্থ চমকিত হওয়া।
'যোহা’ অর্থ সূর্য গরম হওয়া।
এই ছালাত সূর্যোদয়ের পরপরই প্রথম প্রহরের শুরুতে পড়লে একে ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’ বলা হয় এবং কিছু পরে দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা চাশতের ছালাত বলা হয়। এই ছালাত বাড়ীতে পড়া ‘মুস্তাহাব’। এটি সর্বদা পড়া এবং আবশ্যিক গণ্য করা ঠিক নয়। কেননা আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) কখনও পড়তেন, কখনো ছাড়তেন।[1]
▪️ফযীলত :
আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতে পড়ে, অতঃপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহর যিকরে বসে থাকে, অতঃপর দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজ্জ ও ওমরাহর নেকী হয়।[2]
ইমাম নববী বলেন, ‘ইবনু ওমর (রাঃ) ছালাতুয যোহাকে বিদ‘আত বলেছেন’ তার অর্থ হ’ল, এটি নিয়মিত মসজিদে পড়া বিদ‘আত।[3]
বুরাইদা আসলামী (রাঃ) বলেন,
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় রয়েছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হ’ল প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে ছাদাক্বা করা। ছাহাবীগণ বললেন, কার শক্তি আছে এই কাজ করার, হে আল্লাহর নবী? তিনি বললেন, চাশতের দু’রাক‘আত ছালাতই এজন্য যথেষ্ট।[4]
চাশতের ছালাতের রাক‘আত সংখ্যা ২, ৪, ৮, ১২ পর্যন্ত পাওয়া যায়। মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর বোন উম্মে হানীর গৃহে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ৮ রাক‘আত পড়েছিলেন।[5] প্রতি দু’রাক‘আত অন্তর সালাম ফিরাতে হয়।
উল্লেখ্য যে, দুপুরের পূর্বের এই ছালাতকেই ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলে।[6]
মাগরিবের পরের ছয়, বিশ বা যে কোন পরিমাণ নফল ছালাতকে আউওয়াবীন বলার হাদীছগুলি যঈফ। [7]
▪️রেফারেন্স :
[1] . মির‘আত শরহ মিশকাত ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ-৩৮; ৪/৩৪৪-৫৮।
[2] . তিরমিযী হা/৫৮৬, মিশকাত হা/৯৭১ ‘ছালাতের পরে যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮।
[3] . মির‘আত ৪/৩৪৬।
[4] . আবুদাঊদ, মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১৫, ১৩১১ ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ-৩৮।
[5] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৩০৯ ‘ছালাতুয যোহা’ অনুচ্ছেদ-৩৮।
[6] . মুসলিম, মিশকাত হা/১৩১২; মির‘আত ৪/৩৫১।
[7] . তিরমিযী, মিশকাত ১১৭৩-৭৪, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৬৯, ৪৬৭, ৪৬১৭।
💥সালাতুদ দোহা (ইশরাক, চাশত ও আওয়াবীন) একটাই স্বলাত, নাম তিনটা (সময় ভিন্ন হওয়ার কারণে)
~শাইখ ড. মুহাম্মাদ মঞ্জুর -ই-ইলাহী (হাফিজাহুল্লাহ)
~শাইখ মতিউর রহমান মাদানী (হাফিজাহুল্লাহ)
~শাইখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ (হাফিজাহুল্লাহ)
~শাইখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম (হাফিজাহুল্লাহ)
~শাইখ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (হাফিজাহুল্লাহ)
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- 

➤ কেউ কি স্বালাতুল ইশরাক, দুহা বা চাশতের নামায পড়ায় অভ্যাসী?


তাহলে সুসংবাদ তার জন্য।


আনাস বিন মালেক (রায্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকর করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।” বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল ﷺ বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” 


অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব। (তিরমিযী ৫৮৬, সহীহ তারগীব ৪৬৪নং)


আর স্বালাতুয-য্বুহাই হল 'স্বালাতুল-আওয়াবীন' (আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারী)দের নামায। (মুসলিম ১৭৮০নং)


৩৬০ টি সাদকার সওয়াব চাইলে চাশ্তের দু'রাকআত নামায যথেষ্ট হবে। (মুসলিম ১৭০৪নং)


দিনের প্রথমাংশে ৪ রাকআত (চাশতের) নামায পড়লে তার প্রতিদানে আল্লাহ দিনের শেষাংশের জন্য যথেষ্ট হন।” (আহমাদ ১৭৩৯০, আবু য়্যালা ১৭৫৭, সহীহ তারগীব ৬৭১নং)


*****************************


আর মসজিদে গিয়ে পড়লে, তার বৈশিষ্ট্য আলাদা।


যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশ্তের নামায পড়ার উদ্দেশ্যেই (মসজিদে) বের হয়, তার সওয়াব হয় উমরাকারীর সমান!  (আহমাদ ২/২১২, আবু দাঊদ ৫৫৮, সহীহ তারগীব ৩২০, সহীহুল জামে' ৬৫৫৬নং)


যে ব্যক্তি সকালে ওযু করে চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে নিকটতর যুদ্ধক্ষেত্রে যোগদান ক'রে অধিকতর সম্পদ লাভ করে এবং অধিকতর শীঘ্র ঘরে ফিরে আসে! (আহমাদ ৬৬৩৮, ত্বাবারানী, সহীহ তারগীব ৬৬৮নং)


----আব্দুল হামীদ আল-ফাইযী আল-মাদানী


===================✪✪✪✪✪=================


(⊕) কপি ও শেয়ার করুনঃ


➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজের পথ দেখাবে, সে তার প্রতি আমলকারীর সমান নেকী পাবে।’’ ( সহীহ মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিযী ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯ মান: সহীহ)


➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)  বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। (সহীহ মুসলিম--৬৬৯৭,তিরমিযী ২৬৭৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৯, দারিমী ৫১৩, ইবনে মাজাহ-২০৬  মান: সহীহ)

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন