🟥🇧🇩 প্রশ্ন:
(১) সালাফ শব্দের অর্থ কী?
(২) সালাফ কারা?
(৩) সালাফী কারা?
(৪) সালাফী বলে পরিচয় দেওয়া কি দোষনীয়?
(৫)সালাফদের মানহায অনুসরণ করা অপরিহার্য কেন?
উত্তর:- আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর।
(১) #সালাফ_শব্দের_অর্থ_কী?
শাব্দিক অর্থ : আরবী السلف শব্দটি السالف শব্দের বহুবচন। যার অর্থ পূর্ববর্তী। অর্থাৎ যে বস্ত্ত স্বীয় অস্তিত্বে অন্যের পূর্বে হয়। ইবনুল আছীর (৫৫৫-৬৩০হিঃ) বলেন, سلف الإنسان বলতে বুঝায় কোন ব্যক্তির পূর্বসূরী পিতা-মাতা বা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, যারা মৃত্যুবরণ করেছেন। এজন্য তাবেঈদের মধ্যে যারা প্রথম সারির, তাদেরকে ‘সালাফে ছালিহীন’ বলা হয়।
[ ইবনুল আছীর, আন-নিহায়াতু ফী গারীবিল হাদীছ, ২য় খন্ড, পৃঃ ৩৯০ ]
পবিত্র কুরআনে ‘সালাফ’ শব্দটি এই অর্থেই এসেছে। যেমন আল্লাহ বলেন:-
فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ
‘আমি তাদেরকে পরবর্তীদের জন্য অতীত নমুনা ও দৃষ্টান্তস্বরূপ করে রাখলাম’ (যুখরুফ ৫৬)। অনুরূপভাবে রাসূল (ছাঃ)-এর যবানীতেও একই অর্থে শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। যেমন রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুকালে ফাতিমা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন:-
وَلاَ أَرَى الْأَجَلَ إِلَّا قَدِ اقْتَرَبَ، فَاتَّقِي اللهَ وَاصْبِرِي، فَإِنِّي نِعْمَ السَّلَفُ أَنَا لَك ‘
আমার মনে হয়, আমার চিরবিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং (তোমার প্রতি উপদেশ হ’ল) তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করবে। নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী (পূর্বসুরী)’।
[ বুখারী হা/৬২৮৫; মুসলিম হা/২৪৫০; ইবনু মাজাহ হা/১৬২১ ]
পারিভাষিক অর্থ :
(২) #সালাফ_কারা ?
এ বিষয়ে বিদ্বানদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যেমন :-
কেউ বলেন, সালাফ হ’লেন কেবল ছাহাবীগণ।
কেউ বলেন, সালাফ হ’লেন ছাহাবী এবং তাবেঈগণ। ইমাম গায্যালী এই মত পোষণ করেছেন।
কারো মতে, সালাফ হ’লেন ছাহাবী, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈগণ। এটাই অধিকাংশ বিদ্বানের মত।
[ ছালেহ আদ-দাখীল, খাছায়েছু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, পৃঃ ১২৬-১২৭ ]
রাসূল (ছাঃ)-এর একটি হাদীছ এই মতের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। যেমন তিনি বলেন:-
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ،
‘আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম লোক, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের। এরপর এমন সব লোক আসবে যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে’।
[ বুখারী হা/৩৬৫১; মুসলিম হা/২৫৩৩ ]
(৩) #সালাফী_কারা?
সালাফীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন,
السلفيون: جمع سلفي نسبة إلى السلف، وقد تقدم معناه، وهم الذين ساروا على منهاج السلف من اتباع الكتاب والسنة والدعوة إليهما والعمل بهما، فكانوا بذلك أهل السنة والجماعة.
“ ‘সালাফিয়্যূন’ শব্দটি ‘সালাফী’ শব্দের বহুবচন। সালাফদের দিকে সম্পৃক্ত করে ‘সালাফী’ বলা হয়। ‘সালাফ’ শব্দের অর্থ কিছুপূর্বে গত হয়ে গেছে। যারা কিতাব ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করা, এ দুয়ের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং এ দুয়ের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করে, তারাই সালাফী। আর এরূপ অনুসরণের কারণে তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত।”
[ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফাতওয়া নং: ১৩৬১]
আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ যাইদ বিন হাদী আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩৫ হি./২০১৪ খ্রি.] বলেছেন:-
أصحاب النبي ﷺ هم السلف، ومن جاء بعدهم ونهج نهجهم واتبع أثرهم يلحق بهم؛ فيقال عنه: سلفي، وعقيدته السلفية.
“নাবী ﷺ এর সাহাবীগণ হলেন সালাফ। যে ব্যক্তি তাঁদের পরে এসে তাঁদের পথে চলেছে এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, সেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। তার ব্যাপারে বলা হবে—সে একজন সালাফী, আর তাঁর ‘আক্বীদাহ হলো সালাফী ‘আক্বীদাহ।” [‘আল্লামাহ যাইদ আল-মাদখালী (রাহিমাহুল্লাহ), আল-আজউয়িবাতুল আসারিয়্যাহ ‘আনিল মাসাইলিল মানহাজিয়্যাহ; পৃষ্ঠা: ৭৯; আল-মীরাসুন নাবাউয়ী (আলজিয়ার্স) এবং দারু আদ্বওয়াইস সালাফ (কায়রো) কর্তৃক প্রকাশিত; সন: ১৪৩৩ হি./২০১২ খ্রি. (১ম প্রকাশ)]
ইমাম মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.] কে সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থ কী– এরূপ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
مفهوم الدعوة السلفية هو التمسك بالكتاب والسنة على ما فَهِمَ السلف الصالح.
“সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থ হলো—ন্যায়নিষ্ঠ সালাফগণের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা।”
[মাজমূ‘উ ফাতাওয়াল ওয়াদি‘ঈ, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৩-৩৪]
তবে কেবলমাত্র ছাহাবী, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈগণই নন বরং পরবর্তীকালে যারাই দ্বীনের ক্ষেত্রে উপরোক্ত প্রশংসিত তিন যুগের অনুসৃত নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত থেকেছেন, তাদেরকে বিদ্বানগণ সালাফী বা সালাফদের অনুসারী হিসাবে গণ্য করেছেন। আর সালাফী দা‘ওয়াতের মর্মার্থও এটাই যে, কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে সালাফদের বুঝ অনুযায়ী।
ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর বক্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন:-
من كان منكم متأسيا فليتأس بأصحاب محمد صلى الله عليه وسلم؛ فإنهم كانوا أبر هذه الأمة قلوبا وأعمقها علما وأقلها تكلفا وأقومها هديا وأحسنها حالا، قوما اختارهم الله تعالى لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم، فاعرفوا لهم فضلهم واتبعوهم في آثارهم؛ فإنهم كانوا على الهدى المستقيم- ‘
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অনুসরণকারী হ’তে চায় সে যেন মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীদের অনুসরণ করে। কেননা তাঁরা ছিলেন মন-মানসিকতায় এ উম্মতের সর্বাধিক পুণ্যবান, গভীর জ্ঞানের অধিকারী, সর্বাধিক কৃত্রিমতা পরিহারকারী, হেদায়াতের উপরে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সর্বোত্তম অবস্থা সম্পন্ন। তাঁরা ছিলেন এমন সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর ছাহাবী হিসাবে মনোনীত করেছেন। অতএব তাদের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হও এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ কর। কেননা তাঁরা সঠিক হেদায়াতের উপরে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন’।
[ইবনু আব্দিল বার্র, জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি, ২/৯৪৭ পৃঃ ]
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (১১৮-১৮১হিঃ) একদা জনসম্মুখে এসে বলেছিলেন:-
دعوا حديث عمرو بن ثابت فإنه كان يسب السلف،
তোমরা আমর বিন ছাবিতের বর্ণিত হাদীছ পরিত্যাগ কর। কেননা সে সালাফদের গালি দেয়’।
[মুকাদ্দামা ছহীহ মুসলিম, ১/১৬ পৃঃ ]
আব্দুর রহমান আল-আওযাঈ (৮৮-১৫৭হিঃ) একবার এক ব্যক্তির ভ্রান্ত প্রশ্নের জওয়াব দিতে গিয়ে বলেছিলেন:-
فاصبر نفسك على السنة، وقف حيث وقف القوم، وقل فيما قالوا، وكف عما كفوا عنه، واسلك سبيل سلفك الصالح،
তুমি নিজেকে সুন্নাতের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। মুসলিম উম্মাহ যে অবস্থান নিয়েছে, সেই অবস্থানে থাক। তারা যা বলে সেটাই বল। তারা যা থেকে বিরত থাকে তা থেকে বিরত থাক এবং তোমার সালাফে ছালেহীনের অনুসৃত পথের অনুসরণ কর’।
[ আবূবকর আল-আজুর্রী, আশ-শারী‘আহ, ২/৬৭৩ পৃঃ ]
তিনি আরও বলেন:-
عليك بآثار من سلف، وإن رفضك الناس، وإياك وآراء الرجال، وإن زخرفوا لك بالقول،
‘তুমি সালাফদের পদাংক অনুসরণ কর, যদিও মানুষ তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মানুষের রায় থেকে বেঁচে থাক, যদিও তাদের চমকপ্রদ কথা তোমাকে বিমোহিত করে’।
[ প্রাগুক্ত, ১/৪৪৫ পৃঃ]
ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬হিঃ) তাঁর ‘ছহীহ’ গ্রন্থে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন:-
باب ما كان السلف يدخرون في بيوتهم وأسفارهم، من الطعام واللحم وغيره، ‘
সালাফগণ যেভাবে তাদের বাড়িতে এবং সফরকালে খাদ্য, গোশত এবং অন্যান্য দ্রব্য সঞ্চিত রাখতেন’ অনুচ্ছেদ।
(৪) #সালাফী_বলে_পরিচয়_দেওয়া_কি_দোষনীয়?
সালাফী’ হিসাবে নিজেকে পরিচয় দেয়াকে কোন বিদ্বান নিন্দা করেননি; বরং প্রশংসা করেছেন। যেমন ইবনু তায়মিয়া (৬৬১-৭২৮হিঃ) বলেন:-
لا عيب على من أظهر مذهب السلف وانتسب إليه واعتزى إليه بل يجب قبول ذلك منه بالاتفاق. فإن مذهب السلف لا يكون إلا حقا،
‘কোন ব্যক্তির সালাফদের মানহাজকে প্রকাশ করা এবং নিজেকে সালাফদের প্রতি সম্পৃক্ত ও সম্বন্ধিত করায় দোষের কিছু নেই। বরং তার এই কর্ম সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়াই আবশ্যক। কেননা সালাফদের মাযহাব হক্ব বৈ কিছু নয়’।
[ ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ৪/১৪৯ পৃঃ ]
ইমাম দারাকুৎনী (৩০৬-৩৮৫হিঃ)-এর জীবনীতে লিখেছেন:-
لم يدخل الرجل أبدا في علم الكلام ولا الجدال، ولا خاض في ذلك، بل كان سلفيا، ‘
এই ব্যক্তি কখনও ইলমুল কালাম ও তর্কশাস্ত্রের বেড়াজালে নিপতিত হননি। কখনও এতে মগ্ন হননি। বরং তিনি ছিলেন একজন সালাফী।
[শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১৬/৪৫৭ পৃঃ]
শামসুদ্দীন আস-সাফারীনী (মৃ. ১১৮৮হিঃ) সালাফী মানহাজের সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা দিয়ে বলেন:-
المراد بمذهب السلف ما كان عليه الصحابة الكرام رضوان الله عليهم وأعيان التابعين لهم بإحسان وأتباعهم وأئمة الدين ممن شهد له بالإمامة، وعرف عظم شأنه في الدين، وتلقى الناس كلامهم خلف عن سلف، دون من رمي ببدعة، أو شهر بلقب غير مرضي مثل الخوارج والروافض والقدرية والمرجئة والجبرية والجهمية والمعتزلة والكرامية، ونحو هؤلاء
সালাফদের মাযহাব অর্থ হ’ল সেই মাযহাব যার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ছাহাবী, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈগণ ও তাঁদের উত্তরসূরী ইমামগণ, যারা কিনা দ্বীনের ক্ষেত্রে উচ্চমর্যাদা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। সেই সাথে যারা বিদ‘আতী আখ্যা পাননি এবং খারেজী, রাফেযী, ক্বাদারিয়া, মুরজিয়া, জাবারিয়া, জাহমিয়া, মু‘তাযিলা, কার্রামিয়া প্রভৃতি নিন্দিত অভিধায় ভূষিতও হননি’।
[শামসুদ্দীন আস-সাফারীনী, লাওয়ামিঊল আনওয়ার আল-বাহিয়াহ, ১/২০ পৃঃ ]
(৫) #সালাফদের_মানহায_অনুসরণ_করা_অপরিহার্য_কেন?
ইমাম ইবনু ক্বুদামাহ্ (রহিমাহুল্লাহ্) বলেছেন:-
”فمن أحب الكون مع السلف في الآخرة، وأن يكون موجودا بما وعدوا به من الجنات والرضوان؛ فليتبعهم بإحسان، ومن اتبع غير سبيلهم؛ دخل في عموم قوله تعالى:- وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا.“
‘‘যে ব্যক্তি পরকালে সালাফদের সাথে থাকতে এবং তাঁদেরকে যে জান্নাত ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা নিজের জন্য পেতে চায়, সে যেন তাদের যথাযথভাবে অনুসরণ করে। আর যে তাঁদের পথ ভিন্ন অন্য কোন পথের অনুসরণ করে সে আল্লাহ্ তা‘আলার এই ব্যাপক বিধানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, ‘‘যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব; কতই না মন্দ সে গন্তব্যস্থল!’’
(সূরাহ্ নিসা: ১১৫)’’ (যাম্মুত তা’বীল, পৃষ্ঠা: ১০)]
#সালাফদের_মানহাজ_পূর্ণাঙ্গঃ
সালাফের মানহাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে, তাদের মানহাজ পূর্ণাঙ্গ; কোন ত্রুটি ও বিচ্যুতি নেই। তাদের মানহাজ ছাড়া বাকি মানহাজ অপূর্ণাঙ্গ, বিচ্যুত ও বিভিন্ন ভ্রষ্টতায় পরিপূর্ণ।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহি. বলেন:-
لا يكاد شيء إلا ويوجد فيه عن أصحاب النبي.
হয়তো এমন কোন জিনিস পাওয়া যাবে না যে-ব্যাপারে সাহাবীদের মত পাওয়া যাবে না। (মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ বি-রিওয়ায়াতি আবী দাউদ, ২৭৭)
সালাফদের মানহাজ পূর্ণাঙ্গ ও বিচ্যুতমুক্ত হওয়ার কারণে হচ্ছে, সালাফদের প্রথম প্রজন্ম তথা সাহাবীগণ সরাসরি রাসূল (সা.)এর পবিত্র হাতে গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় প্রজন্ম গড়ে ওঠে রাসূল স.-এর ছাত্রের হাতে। আর তৃতীয় প্রজন্ম গড়ে রাসূল স. এর ছাত্রের ছাত্রের হাতে। তাই তাদের মানহাজ কিয়ামত পর্যন্ত সকল স্থানকাল ও পাত্রের উপযুক্ত।
এ প্রসঙ্গে ইমাম মালেক (রহ.) বলেন:-
لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما أصلها.
এই উম্মাহর শেষ প্রজন্ম মূল প্রজন্ম ছাড়া সঠিক থাকতে পারবে না।
এজন্য ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহ.) বলেছেন:-
لا تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام.
তুমি এমন মাস'আলার ব্যাপারে মুখ খুলো না যে মাস'আলায় তোমার কোন ইমাম নেই। (ইবনুল জাওযী, মানাকিবু ইমাম আহমাদ, ১৭৮)
পরিশেষে কিছু কথা-
❛যদি আমরা নিজেদেরকে ‘সালাফি’ বলতে ভালোবাসি, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে সালাফদের জীবনাদর্শ পড়তে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে আমাদের সালাফদেরকে। কেবল সালাফিয়াতের দাবি করা, কিংবা স্রেফ সালাফিয়াত ও সুন্নিয়াতের দাবি করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়।❜
— ইয়েমেনের জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস, ইমাম মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি রাহিমাহুল্লাহ।
সূত্র: ইজবাতুস সায়িল আলা আহাম্মিল মাসায়িল, পৃষ্ঠা: ৩৭৪।
[সংকলন ও লেখক:- ইকরামুজ্জামান রুকন]
==========================__=_===__
সালাফী কারা?
বর্তমান সময়ে 'সালাফী' শব্দটিকে নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঁকি দেয়। আসলে সালাফী হওয়া কোনো নতুন দল বা ফিরকা নয়, বরং এটি ইসলামের মূল ধারায় ফেরার একটি বিশুদ্ধ পথ বা মানহাজ।
১. সালাফ শব্দের অর্থ কী?
'সালাফ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পূর্বসূরী। ইসলামী পরিভাষায় 'সালাফে সালেহীন' বা 'সৎকর্মশীল পূর্বসূরী' বলতে ইসলামের শ্রেষ্ঠ তিনটি প্রজন্মকে বোঝানো হয়।
সাহাবায়ে কেরাম, যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সান্নিধ্য পেয়েছেন।
তাবেয়ীগণ, যারা সাহাবীদের দেখেছেন।
তাবে-তাবেয়ীগণ, যারা তাবেয়ীদের দেখেছেন।
২. সালাফী কারা?
(ফাতওয়া লাজনাহ দায়িমাহ)
সৌদি আরবের স্থায়ী ফাতওয়া কমিটি (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) সালাফীদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,
"সালাফী হলো তারা, যারা সালাফে সালেহীনের পদ্ধতির উপর চলে, কিতাবুল্লাহ এবং রাসূল ﷺ এর সুন্নাহর অনুসরণ করে, সে পথে দাওয়াত দেয় এবং এর উপর আমল করে। আর এই কাজগুলো যারা করেন, তারাই প্রকৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত।"
📚ফাতওয়া লাজনাহ দায়িমাহ, খণ্ড ০২, পৃষ্ঠা ১৬৫, ফাতওয়া নং ১৩৬১
৩. কেন আমরা সাহাবীদের আদর্শ অনুসরণ করব?
সাহাবীগণ ছিলেন ইসলামের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বুঝের অধিকারী।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন,
"তোমাদের কেউ যদি আদর্শ গ্রহণ করতে চায়, তবে সে যেন রাসূল ﷺ এর সেই সাহাবীদের অনুসরণ করে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন। কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়। তাঁরা ছিলেন উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ অন্তরের অধিকারী, সবচেয়ে গভীর ইলমের অধিকারী এবং লৌকিকতামুক্ত।"
📚জামি’উ বায়ানিল ইলমি ও ফাদ্বলিহী, পৃ. ৪১৯; মিশকাত হা/১৯৩
৪. সালাফী মানহাজের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ...
বিশুদ্ধ তাওহীদঃ- ইবাদতের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করা এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা।
সুন্নাহর অনুসরণঃ- প্রতিটি কাজে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং দ্বীনের নামে নতুন উদ্ভাবিত 'বিদআত' বর্জন করা।
সালাফদের বুঝঃ-
কুরআন ও সুন্নাহকে নিজের ইচ্ছা বা যুক্তিতে ব্যাখ্যা না করে সাহাবীদের বুঝ অনুযায়ী আমল করা।
একনিষ্ঠতাঃ-
ইসলামের আদি ও অকৃত্রিম রূপে ফিরে যাওয়া, যেখানে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন নেই।
৫. দলিল ও তথ্যসূত্রঃ-
সালাফদের অনুসরণ করার গুরুত্ব সম্পর্কে অসংখ্য সহীহ বর্ণনা রয়েছে...
সহীহ বুখারী ও মুসলিম:
"মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ (সাহাবীদের যুগ), তারপর তার পরের যুগ, তারপর তার পরের যুগ।"
📚সহীহ বুখারী
✅হাদীস নম্বর ২৬৫২
✅হাদীস নম্বর ৩৬৫১
✅হাদীস নম্বর: ৬৬৫৮
এই হাদীসের মাধ্যমেই মূলত 'সালাফ' বা শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্ম নির্ধারিত হয়েছে। এই তিন প্রজন্মের সময়কাল ছিল হিজরী প্রথম ৩০০ বছর পর্যন্ত।
✅দ্বীনের কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে এই তিন প্রজন্মের "বুঝ" বা ব্যাখ্যাই হবে চূড়ান্ত ফয়সালা। কারণ রাসূল ﷺ নিজেই তাদের সত্যায়ন করে গেছেন।
রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশেদীনের পথ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ। (শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📚আল-ইরওয়া হা/২৪৫৫)।
সালাফী হওয়া মানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অন্ধ অনুসারী হওয়া নয়, বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর সাহাবীদের দেখানো পথে চলা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সালাফে সালেহীনদের আদর্শে জীবন গড়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।
#salafisagor
======================
কেন আমি একজন মুসলিম হিসাবে আহলে হাদিস এবং সালাফী মানহাজ্ব গ্রহণ করলাম...
চতুর্থ হিজরী শতাব্দীর ইতিহাসবিদ বিশারী মাক্বদেসী (মৃঃ ৩৭৫ হিঃ) মানছূরার (সিন্ধুর) অধিবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের অধিকাংশই আহলেহাদীছ’।আহসানুত তাক্বাসীম ফি মা‘রিফাতিল আক্বালীম, পৃঃ ৪৮১।
আমার উম্মাতের এক দল সর্বাবস্থায়(কিয়ামত) আসার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে। তাদের ব্যাপারে আলী (রাঃ) বলেন, এরা হলো আহলুল হাদীস।
দলিল তিরমিযী ২২২৯
সহি হাদিস
📗 আবূ ঈসা (ইমাম তিরমিজি) বলেন:
“এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
নবী ﷺ থেকে এ হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে।”
তারপর তিনি বলেন:
“আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) বলেছেন —
আমি আলী ইবনুল মাদিনী-(ইমাম বুখারীর শিক্ষক) কে বলতে শুনেছি:
‘এই উম্মতের সেই বিজয়ী দল (الطائفة المنصورة) হলো আহলুল হাদীস।’”
📚 (সূত্র: সুনান আত-তিরমিজি, হাদীস ২২২৯)
🕌 বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা:
ইমাম তিরমিজি নিজে বলেছেন — এই হাদীসটি “হাসান সহীহ”।
অর্থাৎ, এটি নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য।
ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী (ইমাম বুখারীর শিক্ষক) বলেন —
“যে দল সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে — তারা হলো আহলুল হাদীস।”
ইমাম বুখারী নিজেও এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন, অর্থাৎ তাঁর শিক্ষকের এই ব্যাখ্যা তিনি ইমাম তিরমিজিকে শুনিয়েছেন।
ইমাম তিরমিজি, ইমাম বুখারী ও ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী সবাই বলেন—
এই দল হচ্ছে “আহলে হাদীস”।
অতএব,
🕌 “আহলে হাদীস গণ একমাত্র হক পন্থি দল” —
এটি সরাসরি ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী (رحمه الله)-এর বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত,
যা তিরমিজি (হাদীস ২২২৯)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখিত।
আহলে হাদিসদের ৩টি আলামত বা বৈশিষ্ট্যঃ
✅ ১. তারা হাদীসের উপর আমল করে।
✅ ২. তারা সুন্নাত তথা হাদীসের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকে।
✅ ৩. তারা সুন্নাত বিরোধিদের মূলোৎপাটন করে।
🖼️ সহিহ ইবনু হিব্বান,
আল-ইহসান, হা/৬১২৯
(1). ইমাম বুখারীর ও ইমাম মুসলিম ইমাম আহম্মদ বিন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
দুনিয়াতে এমন কোন বেদাতি নেই যে সে আহলে হাদিসগনদের হিংসা করেনা "
( মারিফাতু উলূমিল হাদিস পৃষ্ঠা ৪)
ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন,আহলে হাদিসরা প্রত্যেক যুগে সাহাবীদের মত।তাই আমি যখন কোন আহলে হাদিসকে দেখি তখন রাসুল(সা:) এর কোন সাহাবীকেই দেখি
📖 মীযানে শা'রানী ১ম খন্ড ৫০ পৃষ্টা
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) তার দরজায় একদিন আহলে হাদিসদের সমাবেশ দেখে বলেন, জমিনের উপরে আপনাদের চেয়ে উত্তম কেউ নাই
📖 কিতাবুশ শাফলির খতীব বাগদাদী ৫১ পৃ
(3).রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِى مَنْصُورِينَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُوْمَ السَّاعَةُ ‘আমার উম্মতের মধ্যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত একটি দল (আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হ’তে) সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হ’তে থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না’। ইবনে মাজাহ হা/৬; তিরমিযী হা/২১৯২, সনদ ছহীহ।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)- কে 'ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক -
এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে' মর্মে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যা জানতে
চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন,
‘তারা যদি ‘আহলেহাদীস' না হয়। তাহ'লে আমি জানি না তারা কারা?
[তিরমিযী হা/ ২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী
১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/ ২৭০; শারফু
আসহাবিল হাদীস পৃঃ নং: ১৫।]
(4).ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
ফেরেশতাগণ আসমানের পাহারাদার আর আহলেহাদীছগণ যমীনের পাহারাদার’।(ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা খন্ড:৭ পৃষ্ঠা:২৭)
(5).খলীফা হারূনুর রশীদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
আমি হক অন্বেষণ করেছি, আর সেটা আহলে হাদীসদের কাছেই খুঁজে পেয়েছি’।(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা;৫৫)
(6) বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে উয়ায়নাহ বলেন-‘আমাকে আবু হানিফা রাহ. আহলে হাদিস বানিয়েছেন’ (হাদায়িকুল হানফিয়াহ;১৩৪ পৃষ্ঠা)। অতএব যিনি অপরকে আহলে হাদিস বানান সেই আবু হানিফা রহ. নিজে কি আহলে হাদিস ছিলেন না?
শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (৪৯১-৫৬১ হিঃ) বলেন, 'অতঃপর
ফির্কা নাজিয়া হ'ল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত। আর আহলে সুন্নাত
ওয়াল জামা'আতের অন্য কোন নাম নেই একটি নাম ব্যতীত। সেটি হ'ল
‘আহলুল হাদীছ'। [আব্দুল ক্বাদির জীলানী, কিতাবুল গুনিয়াহ ওরফে
গুনিয়াতুত ত্বালেবীন (মিসর: ১৩৪৬ হিঃ) ১/৯০ পৃষ্ঠা।]
📚 কোরআন থেকে আহলে হাদিসদের রেফারেন্স
কুরআনের সূরাহ বানী ইসরাঈল এর ৭১ নং আয়াতের “যেদিন আমি প্রত্যেক দলকে তাদের নেতাসহ আহবান করব” -
জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহঃ) সুরাহ বানী ইসরাঈল এর ৭১ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে "আহলুল হাদীসদের জন্য এর চেয়ে বড় শ্রেষ্ঠতার আর কিছু নাই কারণ আল্লার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত আহলুল হাদীসদের আর কোন ইমাম নেই।" [তাদরীবুর রাওয়ি: ২/১২৬, নূ':২৭]
হাফেয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৭৪ হি.]
আহলে হাদীসদের একটি ফযীলত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কতিপয় সালাফে সালেহীন এই আয়াতটি
সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটি আহলেহাদীছের জন্য সবচেয়ে বড় ফযীলত। কেননা তাদের ইমাম হচ্ছেন স্বয়ং রাসূল (ﷺ) (বাণী ইসরাঈল ১৭/৭১ তাফসীর ইবনে কাসীর খন্ড: ৪ পৃষ্ঠা: ১৬৪)
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন আঁমিই হব নবীগনের ইমাম (নেতা), তাঁদের মুখপাত্র এবং তাদের সুপারিশকারী, এতে কোন অহংকার নাই।
[সূত্র: জামে আত-তিরমিযী, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৪৬, হাদীসঃ ৩৫৪৬, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ঢাকা, সন-১৯৯৮; বুখারী ও মুসলিম]
হাদীছের বর্ণনামতে, মুসলমানরাই ৭৩ দলে
বিভক্ত হবে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ হা/৩৯৯২)।যে
দলটি জান্নাতে যাবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'আজকের দিনে আমি
ও আমার ছাহাবীগণ যে নীতির উপরে আছি, তার
অনুসারী দল (হাকেম ১/১২৯)। ইমাম বুখারী, আব্দুল কাদের জীলানী,ইমাম আহমাদ ইবনুল
মাদীনী, সকলেই বলেন যে, ঐ দলটির নাম 'আহলুল হাদীছ' (তিরমিযী, মিশকাত হা/৬২৮৩)।
এঁদের বাহ্যিক পরিচয় হ'ল....
(১) তারা সর্বদা হক-এর উপরে জামা'আতবদ্ধ থাকবে
(সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৯২),
(২) তারা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মিটে যাওয়া সুন্নাতগুলো জীবিত করবে
(আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৭০),
(৩) তারা নবী (ছাঃ) এবং তাঁর ছাহাবীগণের বৈশিষ্ট্যের উপর অটল
থাকবে (তিরমিযী, মিশকাত হা/১৭১)।
আল্লাহ তাআলা কুরআনকেও হাদীছ বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ উত্তম হাদীছ অবতীর্ণ করেছেন’ । সুরা যুমারের ১৩ নং আয়াত ও সুরা আন নাজমের ৫৯ নং আয়াত, সুরা তুরের ৩৪ নং আয়াত সহ কুর’আনের মোট চৌদ্দটি আয়াতে কুর’আনকেই ‘হাদীস’ বলা হয়েছে।
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি, যতক্ষণ ওই দুটি আঁকড়ে ধরে রাখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত’।
অতএব যারা কুর’আন ও হাদিস অনুসরন করে তারা নিজেদেরকে আহলে হাদিস (কুর’আন ও হাদিস ওয়ালা) বলে পরিচয় দিলে ক্ষতি কি?
যখন কেউ ১০০% হানাফী,১০০% শাফেঈ,১০০%মালেকী,১০০% হাম্বলী পরিচয় দেয় তখন আমি
নিজেকে মুসলিম এবং সালাফি হিসেবে পরিচয় দেই.............সালাফ শব্দের অর্থ হলো- অতীত, অগ্রগামী, পূর্ববর্তী। সালাফ শব্দের দিকে সম্বন্ধ করে সালাফী বলা হয়। যেমন ইমাম মালেকের দিকে সম্বন্ধ করে মালেকী বলা হয়। সালাফী মানহাজ অর্থ হলো- পূর্ববর্তীদের পথ বা মতাদর্শ।
পবিত্র কুরআনের ছয় জায়গায় সালাফ শব্দ এসেছে। যথা- সূরা আল-বাক্বারা, ২/২৭৫; আন-নিসা, ৪/২২, ২৩; আল-মায়েদা, ৫/৯৫; আল-আনফাল, ৮/৩৮ ও আল-যুখরুফ, ৪৩/৫৬।
ছহীহ বুখারী হা/৬২৮৬।
সালাফ সম্পর্কে কোরআন থেকে দলিল দিচ্ছি
আল্লাহ তা’আলা বলেন...
আর মুহাজির(হিজরতকারী ) ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী(সালাফ ) এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য। (সূরা আত-তাওবাহ ৯/১০০)।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন
যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না (সূরা হাশর ৫৯:১০)।
স্বয়ং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাফ শব্দ ব্যবহার করেছেন। । যেমন রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুকালে ফাতিমা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
আমার মনে হয়, আমার চিরবিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং (তোমার প্রতি উপদেশ হ’ল) তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং বিপদে ধৈর্যধারণ করবে। নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী ,পূর্বসুরী’।(সালাফ)
[ বুখারী হা/৬২৮৫; মুসলিম হা/২৪৫০; ইবনু মাজাহ হা/১৬২১ ]
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে সুরা মুমিনুনের নিচের আয়াত, অর্থ: ‘এবং যারা যা কিছু দান করে, তা ভীত ও কম্পিত হৃদয়ে দান করে। কেননা তাদের আপন রবের কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে তারা কি মদপায়ী বা চোর হবে? তিনি উত্তর দিলেন, না, হে সিদ্দিক তনয়া! তারা নিয়মিত নামাজ আদায় করবে, রোজা রাখবে, দান-সদকাও করবে আবার এই ভেবে ভীত থাকত যে (কোনো ভুলের কারণে) তাদের আমল কবুল করা হবে না। তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী(সালাফ ) . (তিরমিজি: ৩২৭৫)
পারিভাষিক অর্থে, ছাহাবী, তাবিঈ ও তাবি‘ তাবিঈগণকে ‘সালাফ’ বলা হয়।
আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেন, তাঁদের পথ ও পদ্ধতির উপর অটল থাকেন, তাঁদেরকে ‘সালাফী’ বলা হয়। তার কারণ হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন
‘আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি (ছাহাবীরাগণ)। অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী (তাবিঈগণ)। অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী (তাবি‘ তাবিঈগণ).....’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৩)।
সালাফীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন...
“ ‘সালাফিয়্যূন’ শব্দটি ‘সালাফী’ শব্দের বহুবচন। সালাফদের দিকে সম্পৃক্ত করে ‘সালাফী’ বলা হয়। ‘সালাফ’ শব্দের অর্থ কিছুপূর্বে গত হয়ে গেছে। যারা কিতাব ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করা, এ দুয়ের দিকে মানুষকে আহ্বান করা এবং এ দুয়ের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করে, তারাই সালাফী। আর এরূপ অনুসরণের কারণে তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দাইমাহ, ফাতওয়া নং: ১৩৬১]
শায়খ বিন বায রহিমাহুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সালাফী বা আছারী বলে নামকরণ করার ব্যপারে আপনার মতামত কী? এর দ্বারা কী আত্মা পরিশুদ্ধির দাবী বুঝায়?
শায়খ রহিমাহুল্লাহ জবাবে বলেন, যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে (প্রকৃত সালাফী হয়) তাহলে সমস্যা নাই। যেমন সালাফীগণ বলতেন অমুকে সালাফী অমুকে আছারী। এর দ্বারা অবশ্যই পরিশুদ্ধি বুঝায়, আবশ্যক পরিশুদ্ধি। ১৬ মুহারাম ১৪১৩ হিজরীতে তায়েফ নগরীতে প্রদত্ত 'হাক্কুল মুসলিম' নামক অডিও লেকচার থেকে সংকলিত।
যেমন ইমাম যাহাবী (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল বাহরানী এর পরিচয়ে বলেন ‘‘তিনি উত্তম দ্বীনদ্বার সালাফী ছিলেন’’। (মুজামুশ শুয়ুখ খ ২ পৃ. ২৮০)
📂 তাবে-তাবেঈ ইমাম আওযায়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তুমি নিজেকে সুন্নাহর উপর ক্বায়িম রাখ, সালাফগণ যেখানে থেমেছেন তুমিও সেখানে থামো। এবং সালাফগণ যা বলেছেন তুমিও তাই বল। তুমি তোমার সালাফে ছালিহীনের পথে চল। সালাফগণের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তা তোমার জন্যও যথেষ্ট’।
(আল-ই‘তিকাদ, পৃ. ৩১৫; হিলয়াতুল আওলিয়া, ৮ম খ-, পৃ. ২৫৪)
ইমাম আব্দুর রহমান আল-আওযায়ী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন প্রখ্যাত তাবে-তাবেঈ, ইমাম এবং তৎকালীন শাম অঞ্চলের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম। তাঁর এই উক্তিটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের একটি মৌলিক নীতি ও আদর্শকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরে।
ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬হিঃ) তাঁর ‘ছহীহ’ গ্রন্থে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন:
সালাফগণ যেভাবে তাদের বাড়িতে এবং সফরকালে খাদ্য, গোশত এবং অন্যান্য দ্রব্য সঞ্চিত রাখতেন’ অনুচ্ছেদ।
সালাফি কোন দল নয়.......এটা একটা মানহাজ কিংবা পদ্ধতি. ...সালাফিয়্যাহ হলো আকীদা-বিশ্বাস বোধ ও জীবন চলার পথে সালাফে সালেহীনের তথা ছাহাবা, তাবিঈন ও ফযীলত প্রাপ্ত যুগের মানহাজের উপর চলা।
যখন ময়দানে রয়েছে শিয়া, খারেজী, মু'তাযেলী, জাহমী, আশআরী, মাতুরীদী, দেওবান্দী, বেরেলী, সূফী, ইখওয়ানী, জামাতে ইসলামী, তবলীগী প্রভৃতি নানা ফিরকা, আর তারা সকলেই দাবিতে মুসলিম, তখন সঠিক মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত মুসলিমের একটা পৃথক পরিচয় হওয়া দরকার, যাতে তাকে সকলের মাঝে চেনা সহজ হয়।
কেউ যদি নিজেকে ‘মিসরী’ বলে, সে কি আল্লাহর দেওয়া নাম ‘মুসলিম’ থেকে বের হয়ে যায়?
কেউ যদি নিজেকে মুহাজির’ বলে, সে কি আল্লাহর দেওয়া নাম ‘মুসলিম’ থেকে বের হয়ে যায়?
কেউ যদি নিজেকে ‘আনসারী’ বলে, সে কি আল্লাহর দেওয়া নাম ‘মসলিম’ থেকে বের হয়ে যায়?
তাহলে কেউ যদি নিজেকে সালাফী’ বা ‘আহলে হাদীস বলে, সে আল্লাহর দেওয়া নাম ‘মুসলিম’ থেকে বের হয়ে যাবে কেন?
৭৩ দলের সব দল জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে দলটি কারা? উত্তরে তিনি বললেন, ‘বর্তমানে যার উপর আমি ও আমার ছাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে’।
এটাই হলো সালাফদের পথ। মুক্তির পথ, যা জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন,
তোমাদের কেউ যদি অন্য কাউকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে চায় তাহলে সে যেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে ছাহাবীগণ মৃত্যু বরণ করেছেন তাদেরকে আদর্শ হিসবে গ্রহণ করে। তারা অন্তরের দিক থেকে সবচেয়ে সৎব্যক্তি। ইলম/জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে বিদগ্ধ। এবং আমলের দিক থেকে অকৃত্রিম। (জামি’উ বায়ানিল ইলমি ও ফাদ্বলিহী, পৃ.৪১৯, মিশকাতুল মাসবীহ খ.০১, পৃ.২৭ হা.১৯৩)
সৌদি আরব।🇸🇦
"সহস্র (হাজার) বছর থেকে সৌদি আরব হলো শ্রেষ্ঠ সালাফী রাষ্ট্র। তিনশত হিজরীর পরে তাওহীদ ও সালাফী আক্বীদা প্রচারে সৌদি আরবের মত আর কোন রাষ্ট্র পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরব হলো হারামাইনের (মক্কা-মদীনা) দেশ, তাওহীদের আশ্রয়স্থল, ও সালাফী দাওয়াত পরিচালনাকারী দেশ, অতএব সৌদি আরবের সাথে শত্রুতা মানে ইসলামের সাথেই শত্রুতা করা।"
✍️শায়েখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ
[মাজমুআ ফাতাওয়া 1/380 ]
যেদিন দুনিয়ায় .....হানাফী,দেওবান্দী, বেরেলী, সূফী, ইখওয়ানী, জামাতে ইসলামী, তবলীগী ,কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশাবন্দী, ......আটরশি চরমোনাই,মাইজভান্ডারী ,ফুরফুরা,এনায়েতপুরী ,রাজারবাগী ফুলতলি প্রভৃতি নানা ফিরকা..গুলি থাকবে না।....সেদিন কাউকে আর আলাদা করে সালাফী বা আহলেহাদীছ বলার প্রয়োজন থাকবে না।
@Roney Ahmed salafi ...........................
🔥 যে সমস্ত মুর্খ মুকাল্লিদরা বলে শুধু মুহাদ্দিসগন'রাই আহলে হাদিস, তাদেরকে বলবো
আপনাদের মতো মিথ্যুক মুকাল্লিদ্দের কথা নেবো নাকি বিখ্যাত ইমাম দশ লক্ষ হাদিসের হাফেজ আহমদ ইবনে হাম্বাল রহঃ এর কথা নেবো!?
🔸ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল( রহঃ) (১৬৪-২৪১ হিজরী) বলেছেন, صَاحِبُ الْحَدِيثِ عِنْدَنَا مَنْ يَسْتَعْمِلُ الْحَدِيثَ ‘আমাদের নিকটে আহলেহাদীছ ঐ ব্যক্তি যিনি হাদীছের উপরে আমল করেন’।
📚খত্বীব, আল-জামে‘, হা/১৮৬, সনদ ছহীহ।
📌(১) রিজাল শাস্ত্রের অদ্বিতীয় মনিষী হাফিয যাহাবী( রহঃ) বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম শাবী( রহঃ) এর এক উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন,,ইমাম শাবী(রহঃ) এর মতে মহানবী(সাঃ) এর সাহাবীগন আহলে হাদীস ছিলেন
📚(তাযকিরাতুল হুফফায ১ম সংস্করন ৭৭ পৃষ্টা)
📌(১) দৃষ্টি আর্কষনঃ- যারা বলে শুধু মাত্র মুহাদ্দিসদের আহলে হাদীস বলা হয়েছে,,তারা বলুনতো সাহাবাগন(রাঃ) সবাই কি মুহাদ্দিস ছিলেন? অব্যশই না,,তাহলে এখানে বুজা যাচ্ছে,,যারা কুরআন ও সহিহ হাদীসের উপর আমল করে তারাও আহলে হাদীস,,যদিও তারা মুহাদ্দীস নন।
📌(২)তাবেঈ বিদ্বান আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক( রহঃ) বলেন,, নাজী দল হলো আহলে হাদীস জামাআত,,----- লোকদের মধ্যে তারাই ছিরাতে মুস্তাক্বীম এর উপর সর্বাপেক্ষা দৃঢ।
📚(শারফু আসহাবিল হাদীস পৃষ্টা১৫,৩৩)
📌(২) দৃষ্টি আর্কষনঃ- এখন আপনারাই বলুন,,শুধু মাত্র মুহাদ্দিসগনেই কি নাজাত প্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত? সাধারন আম জনতা, যারা কুরআন ও সহিহ হাদীসের উপর আমল করে তারা কি নয়,,,একটু ভাবুন।
📌(৩)ইবনু কাসীর(রহঃ) সুরা বনী ইসরাঈল এর ৭১ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যায় তার নিজ তাফসীরের কিতাবে বিগত এক মনীষীর উক্তির উদ্ধতি করে বলেন,,"আহলে হাদীসদের" জন্য এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা যে,,তাদের একমাত্র ইমাম হলেন মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ(সাঃ)।
📚(ইবনু কাসির,তাফসিরুল কুরআনিল আযীম(বৈরুত : ১৪০৮/১৯৮৮) সুরা বনী ইসরাঈল এর ৭১ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যা)
📌(৩) দৃষ্টি আকর্ষনঃ- আপনারাই বলুন শুধু মাত্র মুহাদ্দিসদের ইমাম কি মুহাম্মাদ( সাঃ)?যারা কুরআন ও সহিহ হাদীসের উপর আমল করে,,যদিও তারা মুহাদ্দীস নন,,তাদের ইমাম কি মুহাম্মাদ(সাঃ) নয়,,একটু নিউটাল মন নিয়ে ভাবুন তো
📌(৪) ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল ( রহঃ) বলেছেন,,আমার নিকটে ঐ ব্যাক্তিই আহলে হাদীস,,যিনি হাদীসের উপর আমল করেন।
📚(খত্বিব বাগদাদী,আল জামি ১/৪৪ পৃষ্টা, হা/১৮৩)
📌(৫) ইবনু তাইমিয়াহ( রহঃ) হাদীসের উপর আমল কারী সাধারন লোকদেরকেও আহলে হাদীস আখ্যা দিয়েছেন।
📚(মাজমুউ ফতওয়া,,ইবনু তাইমিয়াহ,৪/৯৫)
📌(৬) হাফিজ ইবনু হিব্বান আহলে হাদীসদের ৩টি আলামত বর্ননা করেছেনঃ-
(১) তারা হাদীসের উপর আমল করেন
(২) তারা সুন্নাত তথা হাদীসের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকেন
(৩) তারা সুন্নাত বিরুধীদের মুলোৎপাটন করেন।
📚(সহিহ ইবনু হিব্বান,,আল ইহসান হা/৬১২৯,,অন্য কপিতে হা/৬১৬২)
📌(৭) ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ বিন আহমদ বেশাবী মাকদিসী,,সিন্ধুর অধিবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন* তাদের অধিকাংশই আহলে হাদীস"।
📌(৭) দৃষ্টি আর্কষনঃ- সিন্ধুর প্রদেশের সকলে কি মুহাদ্দিস ছিলেন,,অব্যশই না,,তাদের মধ্যে বহু সাধারন কুরআন ও সহিহ হাদীসের অনুসারী ছিলেন,,
📌(৮) আব্দু কাদির জিলানী( রহঃ) বলেন,,মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের দল,,আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একটি মাত্র নাম,,তাহলো আহলে হাদীস
📚(গুনিয়াতুত তালেবীন,করাচি ছাপা ৩০৯-৩১০).
Roney Ahmed salafi .................... ........
....
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন