দরুদ পড়ার ফজিলত

 চারটি বিষয় হৃদয়ে রেখে দুরুদ শরীফ পড়ুন—ইনশাআল্লাহ, আপনার অন্তর নিজেই দুরুদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাবে।



১) রাসূল ﷺ-এর কাছে আপনার দুরুদ পৌঁছায়
আপনি যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দুরুদ পাঠ করেন, তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
“তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।”
—(সুনান আবু দাউদ: ২০৪২, মুসনাদ আহমদ: ১০৫৯৪)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা বান্দার দুরুদ পৌঁছে দেয়।
এটি চিন্তা করলে হৃদয়ে এক অদ্ভুত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়—আমার পাঠানো দুরুদ তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে।
২) একবার দুরুদে দশগুণ রহমত
রাসূল ﷺ বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করেন এবং তার মর্যাদা দশগুণ বৃদ্ধি করেন।”
—(সুনান আন-নাসায়ী: ১২৯৭, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৮)
আর কুরআনে আল্লাহ বলেনঃ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দুরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ করো।”
—(সূরা আল-আহযাব: ৫৬)
এটি এমন এক আমল—যার প্রতিদান সরাসরি আল্লাহ নিজেই দান করেন।
৩) দুরুদ দুঃখ-কষ্ট দূর করে
এক সাহাবি রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন—
তিনি তাঁর দোয়ার কতটুকু অংশ দুরুদের জন্য নির্ধারণ করবেন।
শেষে তিনি বললেন, সবটুকুই দুরুদে নির্ধারণ করলে কেমন হয়?
রাসূল ﷺ উত্তরে বললেনঃ
“তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর করা হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
—(সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৫৭)
এ থেকে বোঝা যায়—দুরুদ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি জীবনের বোঝা হালকা করার একটি রহমতপূর্ণ মাধ্যম।
৪) রাসূল ﷺ-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসা
তিনি আমাদের জন্য কষ্ট সহ্য করেছেন, অপমান সহ্য করেছেন, তবুও উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন।
কিয়ামতের দিনও তিনি বলবেনঃ
“আমার উম্মত, আমার উম্মত।”
—(সহিহ মুসলিম: ২০২, তিরমিজি: ২৪৪৩)
এমন একজন নবীর ওপর দুরুদ পাঠ করা—এটি শুধু আমল নয়, এটি ভালোবাসার প্রকাশ।
অতিরিক্ত আমল
দুরুদের পাশাপাশি বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ুন—
“আস্তাগফিরুল্লাহ”
এবং দোয়া ইউনুস পড়ুনঃ
“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন”
কুরআনে এই দোয়ার বিষয়ে এসেছে—
“এভাবেই আমি মুমিনদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।”
—(সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭-৮৮)
এটি বিপদ থেকে মুক্তির এক শক্তিশালী দোয়া।
সারকথা
দুরুদ শরীফ শুধু একটি আমল নয়—
এটি রহমত, এটি নৈকট্য, এটি ভালোবাসা, এটি মুক্তির পথ।
তাই আজ থেকেই বেশি বেশি দুরুদ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুরুদের সাথে জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন।
আমীন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন