আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব ভাষা আছে

 আল্লাহর ভাষা কি


অনেকে বলেন, আল্লাহর ভাষা হলো আরবী। তাদের যুক্তি হল, কুরআন যেহেতু আল্লাহর বাণী, এবং কুরআন নাজিল হয়েছে আরবী ভাষায়, সুতরাং আল্লাহর ভাষাও আরবী।

.

একই যুক্তিতে ইহুদীরাও বলে, আল্লাহর ভাষা হলো হিব্রু। যেহেতু আল্লাহর বাণী তাওরাত নাজিল হয়েছিল হিব্রু ভাষায়, সুতরাং আল্লাহর ভাষা হলো হিব্রু।

.

আসলে বিষয়টা হলো, হযরত মূসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ছিল ইবরাণী বা হিব্রু, তাই এ ভাষায় ‘তাওরাত’ নাজিল হয়। হযরত ঈসা (আঃ) এর জাতির মাতৃভাষা ছিল সুবিয়ানি, তাই এ ভাষায় ‘ইঞ্জিল’ অবতীর্ণ হয়। হযরত দাউদ (আঃ) এর গোত্রের মাতৃভাষা ছিল ইউনানী, তাই ‘যাবুর’ অবতীর্ণ হয় ইউনানী বা আরামাইক ভাষায়।

.

এগুলোর কোনোটাই আল্লাহর নিজের ভাষা নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাই আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু আল্লাহর নিজের ভাষা তাঁর সৃষ্ট ভাষার মতো নয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “কোনো কিছুই আল্লাহর সাদৃশ্য নয়, তিনি শুনেন এবং দেখেন” [৪২ : ১১]

.


ইমাম আবু হানিফা বিষয়টিকে আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলেনঃ

ويتكلم لا ككلامنا ، ويسمع لا كسمعنا، ونحن نتكلم بالآلات والحروف، والله تعالى يتكلم بلا آلة ولا حروف ، والحروف مخلوقة وكلام الله تعالى غير مخلوق


“আল্লাহ তায়ালা কথা বলেন, তবে তাঁর কথা আমাদের কথা বলার মতো নয়। তিনি শুনেন, তবে তাঁর শোনা আমাদের মতো নয়। আমরা বাগযন্ত্রের ও অক্ষরের সাহায্য কথা বলি, কিন্তু আল্লাহ বাগযন্ত্র ও অক্ষর ছাড়াই কথা বলেন। অক্ষরগুলো সৃষ্ট, কিন্তু আল্লাহর কালাম বা কথা সৃষ্ট নয়।”

.

প্রাসঙ্গিক আরেকটা তথ্য দিয়ে রাখি। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল ৭ রকম আঞ্চলিক উপভাষায়। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি হিশাম ইবনু হাকীমকে সূরা ফুরকান ভিন্নভাবে পড়তে শুনলাম। আমি তাড়াতাড়ি তাকে বাধা দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তার সালাত শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তার গলায় চাদর পেঁচিয়ে তাকে আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর কাছে নিয়ে এলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে যা পড়তে শিখিয়েছেন, আমি তাকে তা হতে ভিন্ন পড়তে শুনেছি। নাবী ﷺ আমাকে বললেন তাকে ছেড়ে দিতে। তারপর তাকে পড়তে বললেন, সে পড়ল। তিনি [নাবী ﷺ ] বললেন, এরূপ নাযিল হয়েছে। এরপর আমাকে পড়তে বললেন, আমিও তখন পড়লাম। আর তিনি [নবী ﷺ ] বললেন, এরূপও নাযিল হয়েছে। কুরআন সাত হরফে নাযিল হয়েছে। তাই যেরূপ সহজ হয় তোমরা সেরূপেই তা পড় (বুখারী: ২৪১৯)

.

শেষকথা হলো, আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব ভাষা আছে, কিন্তু সেই ভাষা কোনো মানুষের ভাষার মতো নয়। আল্লাহ সব ভাষাই বোঝেন, যে কোনো ভাষাতেই তাঁর সাথে কথা বলা যায়, দোয়া করা যায়...

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন