ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 
“সম্পদের প্রাচুর্যের মোহ তোমাদেরকে (আল্লাহ্‌ তা’আলা হতে) উদাসীন করে ফেলেছে” 
(📗সুরা: তাকাসুর-১)। তিনি আরো বললেনঃ 
মানুষ বলে, আমার মাল, আমার সম্পদ। 
কিন্তু তুমি দান-খাইরাত করে যা (আল্লাহ্ তা’আলার খাতায়) জমা রেখেছ, খেয়ে যা শেষ করেছ এবং পরিধান করে যা পুরানো করেছ এগুলো ব্যতীত তোমার সম্পদ বলতে আর কিছু নেই।

📚 তিরমিজিঃ ২৩৪২, ৩৩৫৪
সহিহ মুসলিমঃ ৭৩১২, ৭৩১০
নাসায়ীঃ ৩৬১৩
রিয়াদুস সলেহিনঃ ৪৮৭
হাদিস সম্ভারঃ ২৮০, ৯৫১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 রসূলুলাহ (ﷺ) বলেছেনঃ 
একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, 
একটি দীনার গোলাম আযাদ করার জন্য এবং 
একটি দীনার মিসকীনদেরকে দান করলে এবং 
আর একটি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করলে। 
এর মধ্যে (সাওয়াবের দিক থেকে) ওই দীনারটিই উত্তম যা তুমি পরিবারের লোকদের জন্য ব্যয় করলে। 

📚 সহিহ মুসলিমঃ ২২০১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ 
“হে আদম সন্তান! 
তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে মালামাল রয়েছে তা খরচ করতে থাক; এটা তোমার জন্য উত্তম। 
আর যদি তুমি তা দান না করে কুক্ষিগত করে রাখো তাহলে এটা তোমার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। 
তবে প্রয়োজন পরিমান রাখায় কোন দোষ নেই। এজন্য তোমাকে ভৎসনাও করা হবে না। 
যাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদেরকে দিয়েই দান শুরু কর। 
উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। 

📚 সহিহ মুসলিমঃ ২২৭৮
জামে' আত-তিরমিজিঃ ২৩৪৩
মিশকাতঃ ১৮৬৩
হাদিস সম্ভারঃ ৩৪৯, ৯৩৩
রিয়াদুস সলেহিনঃ ৫১৪, ৫১৫, ৫৫৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী। 

ফুটনোট: আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুলই মানুষকে প্রকৃতপক্ষে ধনী অন্তঃকরণ দান করে, যার ফলে সে গরীব হয়েও দান করতে ভয় করে না। 
অপরপক্ষে আল্লাহ্‌র প্রতি যার বিশ্বাস ও নির্ভরতা দৃঢ় নয়, সে অগাধ সম্পদের অধিকারী হয়েও, গরীব হয়ে যাওয়ার ভয়ে দান করা থেকে বিরত থাকে ।

📚 সহীহুল বুখারীঃ ৬৪৪৬, 
মুসলিমঃ ২৩১০, 
তিরমিজিঃ ২৩৭৩, 
সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৪১৩৭
আদাবুল মুফরাদঃ ২৭৬ 
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

🛑 সাবধান 
আদম সন্তানকে মাটি ছাড়া আর কিছুই তার পেট ভরাতে পারে না‼️
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
‎ যদি কোন আদম সন্তান একটি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হয়ে যায় তাহলে সে এরূপ আরেকটি উপত্যকা পেতে আকাঙ্ক্ষা করে। 
মাটি ছাড়া আর কিছুই তার পেট ভরাতে পারে না। আর যে ব্যাক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ্‌ তা’আলা তার তাওবাহ কবূল করেন। 

📚 সহিহ মুসলিমঃ ২৩০৭, ২৩০৫, ২৩০৮, ২৩০৯, 
বুখারীঃ ৬৪৩৭, ৬৪৩৮
ইবনে মাজাহঃ ৪২৩৫ 

যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হয়। 
আর যে ব্যক্তি অসৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে - সে অনেক খাচ্ছে কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।
📚 মুসলিমঃ ২৩১১, ২৩১৩,
বুখারীঃ ৬৪২৭ 
ইবনে মাজাহঃ ৩৯৯৫ 
আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ৬২৫

⚛️ প্রতিদিনের দোয়ায় নিম্নরূপ কথাগুলো যোগ করি

হে আল্লাহ! 
আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ‘ইল্‌ম হতে যা কোন উপকারে আসবে না 
ও এমন অন্তঃকরণ থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না; 
এমন আত্মা থেকে যা কক্ষনও তৃপ্ত হয় না। 
আর এমন দু‘আ থেকে যা কবূল হয় না।

📚 মুসলিমঃ ৬৭৯৯,
নাসায়ীঃ ৫৪৪২, ৫৪৫৮, ৫৪৬৭, ৫৪৭০, ৫৫৩৬
আবু দাউদঃ ১৫৪৮
তিরমিজিঃ ৩৪৮২ 
ইবনে মাজাহঃ ২৫০, ৩৮৩৭, 
রিয়াদুস সলেহিনঃ ১৪৮৭ 
মিশকাতঃ ২৪৬৪ 
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন