Bismillahir Rahmanir Rahim
Rabbish rahli sadri wa yas-sir li amri wahloul uqdatam mil-lisaani yafqahu qawli.
O my Lord! expand me my breast; Ease my task for me; And remove the impediment from my speech, So they may understand what I say[20:25-28]
আল-মুজিব – প্রার্থনা গ্রহণকারী
আল্লাহ্তায়ালার কিছু নাম কোরআনে মাত্র কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কিছু কিছু নাম অসংখ্যবার ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ঘটনা উল্লেখ করে সেই সব নাম বার বার ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে করে আমরা ক্ষণিকের জন্য ভুলে গেলেও আবার যেন সেটা আমাদের মনে পড়ে যায়। তেমনই একটি নাম, যেটা মনে হয় আমরা প্রায় ভুলেই যাই, সেটা হচ্ছে “আল-মুজিব”, প্রার্থনা গ্রহণকারী, যাকে ডাকলে সাড়া পাওয়া যায়। কোরআনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ্ এই নামের প্রকাশ ঘটিয়েছেন বা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যারাই আল্লাহ্কে ডেকেছেন, তাঁদের ডাকের সাড়া আল্লাহ্ দিয়েছেন।
আমরা এমন এক জগতে বাস করি যেখানে বাঁচার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়। সেই সব পন্থা আল্লাহ্তায়ালা আমাদের জন্য সহজ করে দেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই আমরা ভুলে যাই যে, মন থেকে দু’আ করাটাও একটা বেঁচে থাকার পন্থা। মাঝে মাঝে এইটাই একমাত্র বেঁচে থাকার পন্থা হয়ে যায়। আবার মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অনেক পন্থার মাঝে একটি পন্থা হতে পারে। যেমন, চাকরী পাবার জন্য একটি আবেদনপত্র ডাউনলোড করলেই আমরা সেই চাকরিটা পাবো না। ডাউনলোড করে, আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে, তারপর সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠাতে হবে, এমন অনেকগুলো স্তর পার করে চাকরিটা পেতে হবে। ঠিক তেমনি, কোনো লক্ষ্য পূরণের একটি স্তর হচ্ছে দু’আ করা। আল-মুজিব হচ্ছেন দু’আ কবুলকারী।
যখন আপনি আল্লাহ্’র কাছে কিছু চেয়ে থাকেন, তার মানে আপনি তাঁকে চিনেন। অর্থাৎ, আপনি জানেন যে আল্লাহ্ সব দেখেন (আল-বাসির), আল্লাহ্ সব শুনেন (আস-সামিউ), তিনি প্রেমময় সত্তা (আল ওয়াদুদ), তিনি আমাদের পুরষ্কার দিয়ে থাকেন, যদিও সে পুরষ্কারের প্রাপ্য আমরা নই (আল-ওয়াহহাব), তাঁর কোনো মানুষকে বা জিনিসকে প্রয়োজন নেই, কিন্তু আমাদের তাঁর প্রয়োজন আছে (আল-গানিউ)। যদি আমরা তাঁকে না ডাকি, তাহলে বুঝতে হবে সত্যিকারভাবে আমরা তাঁকে চিনি না এবং চমৎকার একটা ইবাদত থেকেও আমরা নিজেকে বঞ্চিত করে রাখবো। হ্যাঁ, দু’আ করাটাও একটা ইবাদত।
কেন আমরা আল্লাহ্কে ডাকি না বা কেন তাঁর কাছে সাহায্য চাই না? এর দুটো কারণ আছে। প্রথমত, আমরা বিশ্বাস করি না যে আল্লাহ্ আমাদের ডাকের সাড়া দেন বা দিতে পারেন। এবং দ্বিতীয়ত, আমরা বিশ্বাস করি যে তাঁর সাহায্য ছাড়াই আমরা যে কোনো কাজের সমধান করে ফেলতে পারি। দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে অহংকারের পরিচয়। সূরা মুমিনুনের ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, "আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের [ডাকে] সাড়া দিব। কিন্তু যারা অহংকার, ঔদ্ধত্যে আমার এবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের জাহান্নামে লাঞ্ছিত অবস্থায় দেখতে পাবে।" যারা আল্লাহ্কে ডাকে না, তাদেরকে তিনি তুলনা করেছেন এমন লোকদের সাথে, যারা তাঁর ইবাদত করে না।
কিন্তু এখানে আমরা আলোচনা করবো প্রথম কারণটা নিয়ে। আল্লাহ্ বলেছেন যে, তিনি আল-মুজিব, তাই চূড়ান্ত আস্থা থাকতে হবে যে তিনি আমাদের দু’আর সাড়া অবশ্যই দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ খুব লজ্জাশীল, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যখন আল্লাহ্’র নিকট দু হাত তুলে কিছু চায়। তখন সেটা যদি তার জন্য কল্যাণকর হয় তবে আল্লাহ্ তা তাকে দেন, আর যদি তা তার জন্য কল্যাণকর না হয় তবে আল্লাহ্ তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান, ফলে তাকে কিছু না কিছু দিয়েই থাকেন। (আবু দাউদ)
বান্দার প্রার্থনা আল্লাহ্ খুব ভালোবাসেন। মাঝে মাঝে আল্লাহ্ আপনাকে কিছু দিবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটা আপনি আল্লাহ্’র কাছে চাইবেন। অথচ আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে সেটা দিয়ে দিতে পারেন এবং এটা করা হয় কারণ, যাতে আপনি আপনার প্রভুকে আরো ভালো মত বুঝতে পারেন বা জানতে পারেন, অর্থাৎ আল্লাহ্’র কাছে চাইলে যে সেটা নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়, আল্লাহ্’র এই গুণাবলীটা যেন আমরা জানতে পারি।
আল-মুজিব নামের গুণাবলীর উপর বিশ্বাস যাতে আরো শক্তিশালী হয়, সেটা সুস্পষ্ট করার জন্য আল্লাহ্ কোরআনে বিভিন্ন ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। সূরা আম্বিয়ার ৮৩-৮৪ আয়াতে আইউব আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর ঘটনা বলেছেন - “ যখন আইউব তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, দুঃখ - দুর্দ্দশা আমাকে গ্রেফতার করে ফেলেছে । কিন্তু তুমি তো দয়ালুদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ। সুতারাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম ও তাঁর দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দিলাম। এবং তাঁকে তাঁর পরিবার -পরিজন প্রত্যার্পন করলাম এবং তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করলাম - আমার রহমত স্বরূপ, এবং যারা আমার আনুগত্য করে তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ”।
আইউব আলাইহে ওয়া সাল্লাম ১৮ বছর রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং সেজন্য তিনি কোনোদিন অভিযোগ করেননি। রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে ৫০ বছর ধরে তিনি প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন এবং সবসময় আল্লাহ্’র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। রোগাক্রান্ত হওয়ার পরে তিনি সমস্ত ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলেন এবং কখনোই সেজন্য আল্লাহ্কে দোষারোপ করেননি। তিনি দু’আ করতেন। যদি আমরা তাঁর দু’আর দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে খেয়াল করবো যে তিনি আল্লাহ্’র মহিমান্বিত নাম ধরে আল্লাহ্কে ডেকেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন যে সত্যিকারভাবে একমাত্র আল্লাহ্ই পারেন তাঁকে সাহায্য করতে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, যখন আল্লাহ্তায়ালা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন, তখন আল্লাহ্ শুধু তাঁর কষ্ট দূর করে দেননি, তাঁকে আগের চেয়ে বেশী সম্পদ দান করেছেন। এখানে সবচেয়ে আশার কথা কী জানেন ? “যারা আমার আনুগত্য করে তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ”- এই বাক্যটি আমাদের আশা জাগায়। যখনই দুঃখ কষ্টে পতিত হবো, তখনই আল্লাহ্’র কাছে দু’আ করবো, ধৈর্যের সাথে, অভিযোগ না করে।
আল্লাহ্ আমাদের ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর ঘটনা বলেছেন সূরা আম্বিয়ার ৮৭-৮৮ নাম্বার আয়াতে - “এবং স্মরণ কর যুন নুন এর কথা , যখন সে ক্রোধভরে বের হয়ে গিয়েছিলো এবং মনে করেছিলো যে, তার উপরে আমার কোনো ক্ষমতা নাই। অতঃপর সে অতল অন্ধকার থেকে আর্তনাদ করেছিলো, তুমি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নাই। তুমি পবিত্র মহান! আমি তো পাপী। সুতরাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুর্দশা থেকে উদ্ধার করলাম। এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে”।
"যুন -নুন " অর্থ মাছের অধিকারী বা মাছের সাথে সর্ম্পকিত ব্যক্তি। এই উপাধিটি দেয়া হয় হযরত ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লামকে। কারণ তাঁকে এক বিরাট মাছ [তিমি মাছ] গিলে ফেলেছিলো। আল্লাহ্ তাঁকে আসেরিয়ান সম্রাজ্যের রাজধানী নিনেভাতে নবী হিসেবে পাঠান। যখন নিনেভা নগরীর বাসিন্দারা ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর প্রথম সাবধান বাণীকে উপেক্ষা করলো, তিনি অধৈর্য্য হয়ে তাদের উপরে আল্লাহ্র গজব কামনা করলেন এবং রাগে দুঃখে তিনি আল্লাহ’র নির্দেশ ছাড়াই নগরী ত্যাগ করেন। ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লাম নিনেভা নগরী ত্যাগ করে সমুদ্র যাত্রা করেন এবং বিভিন্ন ঘটনার পর আল্লাহ্’র ইচ্ছায় তাঁকে এক বিরাট মাছ গিলে ফেলে। মাছের পেটের ভিতরে সেই নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে তিনি ব্যাকুলভাবে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করেন, নিজের কৃত অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আল্লাহ্র হুকুম ব্যতীত তাঁর উপরে অর্পিত দায়িত্ব ত্যাগ করা এক মহা অপরাধ।
ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর দু’আর বিশেষত্ব কী ছিল ? তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং আরো বুঝেছিলেন যে, সাফল্যের দাবীদার একমাত্র করুণাময় আল্লাহ্। কারণ আল্লাহ্ সর্ব ক্ষমতার অধিকারী। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর দু’আ কবুল হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই দু’আ পড়েই গিয়েছেন। যখন আমরা কোনো ভুল বা অন্যায় করে ফেলি তখন আল্লাহ্’র কাছে ফিরে যেতে লজ্জা পাই, সাহায্য পেতে লজ্জা পাই। কিন্তু এটা নবীদের দেখানো রাস্তা না। আপনি ভুল করার পরেও যখন আল্লাহ্’র দিকে ফিরে যান, তখন বুঝতে হবে যে আল্লাহ্’র নামের গুণাবলীর উপর প্রচণ্ড আস্থা আপনার আছে। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন, তার প্রভুর অনুগ্রহ তার নিকট না পৌঁছুলে সে লাঞ্ছিত হয়ে নিক্ষিপ্ত হতো উন্মুক্ত প্রান্তরে। (সূরা কালাম: আয়াত ৪৯)
আল্লাহ্ তাঁর ডাকে সাড়া দেন এবং তাঁর চরম দুর্দশা থেকে তাঁকে মুক্তি দেন এবং তিনি যখন আবার তাঁর এলাকায় ফিরে যান, তখন সবাই আল্লাহ্’র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। আল্লাহ্ তাঁর অসীম রহমত ও দয়ার কারণে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, “এভাবেই আমি তাদের উদ্ধার করি যাদের ঈমান আছে” ।
যখন আপনি চরম দুর্দশার সম্মুখীন হবেন অথবা সাংঘাতিক মুশকিলে পড়বেন, তখন ‘দু’আ ইউনুস’ (যে দু’আটা ইউনুস আলাইহে ওয়া সাল্লাম অনবরত পড়েছিলেন) পড়বেন এবং নিজের অন্যায় আল্লাহ্’র কাছে স্বীকার করে নিবেন, ইন শা আল্লাহ্ তিনি দু’আ কবুল করে আপনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।
এরপর আল্লাহ্ আমাদের জাকারিয়া আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর ঘটনা বলেছেন সূরা আম্বিয়ার ৮৯-৯০ নাম্বার আয়াতে – “এবং [স্মরণ কর] জাকারিয়ার কথা, যখন সে তাঁর প্রভুর নিকট কেঁদে বলেছিলো, হে আমার প্রভু! আমাকে নিঃসন্তান [অবস্থায়] ত্যাগ করো না, যদিও তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী। সুতরাং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং ইয়াহ্ইয়াকে দান করেছিলাম। আমি তাঁর স্ত্রীর [বন্ধ্যাত্ব] আরোগ্য করেছিলাম। তারা [তিনজন] সৎ কাজে প্রতিযোগীতা করত। তারা আমাকে ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে ডাকতো, এবং নিজেদের আমার সামনে করতো বিনীত”।
জাকারিয়া আলাইহে ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ছিলেন একান্ত অনুগত এবং কর্তব্য কর্মে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়। তাঁরা বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের কোনও বংশধর ছিলো না। জাকারিয়া আলাইহে ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্ কে ডাকলেন উত্তম নাম ধরে এবং ক্রমাগত ভালো কাজ করতে থাকলেন, ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহ্কে ডাকতে থাকলেন। তাঁরা কখনোই উদ্ধত ছিলেন না, বিনয়ী ছিলেন। তাঁদের এসব গুণাবলী থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এসব গুণ আল্লাহ্’র কাছাকাছি নিয়ে যায়।
আল্লাহ্তায়ালা তিনটি উদাহরণ দিয়েছেন: একটি উদাহরণে দেখা যায় একজনের সবকিছু ছিল কিন্তু এক সময় তিনি সব হারিয়ে ফেলেন, ক্ষতির সম্মুখীন হন। আরেকজন নিজের উপর জুলুম করেছিলেন এবং আরেকজন এমন এক জিনিস চেয়েছিলেন, যেটা তাঁর কাছে ছিল না। তিনজন ব্যক্তিই আল্লাহ্’র কাছে চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ্ তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। তাঁরা নবী ছিলেন বলে তাঁদের ডাকে সাড়া দেননি, তাঁরা আল্লাহ্’র মুখাপেক্ষী হয়েছিলেন বলেই আল্লাহ্ তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। প্রতিটি আয়াতে আল্লাহ্ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে বিশ্বাসীদের সাথে তিনি এমন ব্যবহারই করে থাকেন।
অনেকেই বলেন যে, আল্লাহ্কে এত ডাকি, কিন্তু আল্লাহ্ কোনো সাড়াই দেন না, দু’আ কবুল করেন না। আসলে তা না, তিনি সাড়া দেন। তবে দু’আ কবুল না হওয়ার কিছু কারণ আছে। হারাম উপার্যন করলে এবং হারামের টাকায় চললে দু’আ কবুল হবে না। দু’আ কবুল না হওয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে তাড়াহুড়া করা।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির দু’আ গৃহীত হয়; যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে; বলে, ‘আমার প্রভুর নিকট তো দু’আ করলাম, কিন্তু তিনি আমার দু’আ কবুল করলেন না।” [সহীহ বুখারী ৬৩৪০; সহীহ মুসলিম ২৭২৯]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দার দু’আ সর্বদা কবুল করা হয় যদি সে দু’আতে পাপ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কের ছিন্ন করার কথা না বলে এবং তাড়াহুড়ো না করে। জিজ্ঞেস করা হল হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ো বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, দু’আতে তাড়াহুড়ো হল, প্রার্থনাকারী বলে আমিতো দু’আ করলাম কিন্তু কবুল হতে দেখলাম না। ফলে সে নিরাশ হয় ও ক্লান্ত হয়ে দুআ করা ছেড়ে দেয়। [সহীহ মুসলিম]
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আমরা তো আল্লাহ্কে সময় বেঁধে দিতে পারি না। কারণ তিনি জানেন কখন আমাদের জন্য কোন জিনিসটা দিলে ভালো হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই বলতে পারেন যে, তাহলে দু’আ করে আমার লাভটা কী হবে? লাভ হতে পারে এইভাবে, আইউব আলাইহে ওয়া সাল্লামকে যেমন আল্লাহ্ দ্বিগুণ জিনিস দিয়ে দিয়েছিলেন, আপনার ক্ষেত্রেও সেটা ঘটতে পারে। আবার দু’আর কারণে আপনার জন্য যেটা ভালো সেটাও আপনাকে দিয়ে দেওয়া হতে পারে।
ইমাম গাজ্জালি কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন যে, কীভাবে আল মুজিবের কাছাকাছি থাকা যাবে। প্রথমত আল্লাহ্তায়ালা যা আদেশ করেছেন তা মেনে চলতে হবে। আমরা সবাই গুনাহ করি, ভুল করি, কিন্তু তারপরেও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে আল্লাহ্’র আদেশ সঠিকভাবে মেনে চলতে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ’র বান্দার ডাকে সাড়া দিতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ’র বান্দাদের সাধ্যমত সাহায্য করতে হবে ও দয়া দেখাতে হবে।
সব শেষে আয়েশা রাদিয়াল্লাহ তায়ালা আনহা’র বর্নিত একটি হাদিস বর্ননা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমরা যখন দু’আ করি তখন উক্ত দু’আর বিনিময়ে তিনটি বিষয় ঘটে, আল্লাহ্ দু’আ দ্রুত কবুল করে নেন, দু’আর প্রতিদান পৃথিবীতে না দিয়ে আখিরাতের জন্য রেখে দেন, আর না হলে দু’আর বিনিময়ে আসন্ন কোনো কষ্ট দূর করে দেন।
দু’আ কখনোই হারিয়ে যায় না। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না যে, দু’আ করার মাধ্যমে কী সম্পদ আপনি জমা করছেন। মনে রাখবেন আপনি নিজের উপর ভিত্তি না করে, আল্লাহ্’র গুণাবলীর উপর ভিত্তি করেই দু’আ করবেন।
___________
|| আল মুজিব ||
আসমাউল হুসনা
তাহনিয়া ইসলাম খান
#রৌদ্রময়ী
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন