নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায়
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা সাইয়িদিল আম্বিয়া-ই ওয়াল-মুরসালীন, ওয়া আলা আলিহী, ওয়া আসহাবিহী, ওয়ামান তাবিয়াহুম বি ইহসানিন ইলা ইয়াওমিদ্দীন, মিনাল উলামা ওয়াল মুজাহিদীন ওয়া আম্মাতিল মুসলিমীন।
আমীন ইয়া রাব্বাল আ'লামীন।
ভাই ! আমরা সকলেই প্রথমে দুরূদ শরীফ পড়ে নিই।
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على ابراهيم وعلي آل إبراهيم، إنك حميد مجيد،
اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
আলহামদুলিল্লাহ বেশ কিছুদিন পর আবার আমরা তাযকিয়া মজলিসে হাজির হতে পেরেছি,
এ জন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি- আলহামদুলিল্লাহ।
উপস্থিত এক ভাইঃ আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।
মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহঃ ভাই আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা
করব ইনশাআল্লাহ তা হল
“আমরা আমাদের নফসের কুমন্ত্রণা থেকে কীভাবে বাঁচতে
পারি?'
-
আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছে দুটি শত্রু
আল্লাহ তাআলা আমাদের পরীক্ষা করার জন্য আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে দুটি করে শত্রু দিয়ে
রেখেছেন। একটি রয়েছে আমাদের ভিতরে আর অপরটি বাইরে। বাইরের শত্রু হল, শয়তান
আর ভিতরের শত্রু হল, আমাদের নফস। এই নফস ও শয়তান দুটোই প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে নানান গুনাহের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে। নফস ভিতর থেকে উদ্ধুদ্ধ করে আর শয়তান সেটিকে আমাদের সামনে আকর্ষণীয় করে তুলে তাতে লিপ্ত করায়।
নফস ও শয়তান দুটোই আমাদের শত্রু। তবে নফস শয়তানের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর শত্রু।
কেন ভয়ঙ্কর জানেন ভাই?
কারণ, এই নফসই শয়তানকে শয়তান বানিয়েছে। শয়তানের আগে তো আর কোন শয়তান ছিল না। এই নফসই শয়তানকে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে উদ্ধুদ্ধ করেছে।
পরিণামে সে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়েছে।
এই যে নফসের কথা বলছি ভাই, এটি আমার আপনার সবার সাথে আছে। নফসের বৈশিষ্ট্য
হল, সে আমাকে আপনাকে কেবল খারাপ কাজের প্রতিই উদ্ধুদ্ধ করে। নফস কখনো কাউকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে না ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম
বললেন)
.
"আমি নিজের নফসকে পবিত্র মনে করি না। নিশ্চয়ই নফস (সবাইকেই) মন্দ কাজের নির্দেশ
দিয়ে থাকে, একমাত্র ওই ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয়
আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়ালু"
- (সূরা ইউসুফ : ৫৩)
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যার প্রতি দয়া করেন, কেবল সে-ই নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে
থাকতে পারে।
নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার কিছু আমল
তো ভাই, যদিও নফস আমাদের খুবই ভয়ঙ্কর এক শত্রু তবে তার কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য কিছু আমলও আছে।
আমরা যদি সেই আমলগুলো যথাযথভাবে করতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের নফসের সকল কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবো।
আমলগুলো হল,
১ম আমল :
১। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা ও সব ধরণের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে
সাহায্য কামনা করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"তারা কখনও কোনও অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা (কোনও মন্দ কাজে জড়িত হয়ে)
নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কে আছে?
আর তারা যা করেছে, জেনে- শুনে তা বার বার করে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রস্রবণ। যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল।
সৎকর্মশীলদের পুরষ্কার কতই না চমৎকার।"
- (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫-১৩৬)
২য় আমল :
২। সব সময় আল্লাহকে ভয় করা এবং সাদিকীন তথা যারা কথা ও কাজে সত্যবাদী তাদের
সাহচার্য গ্রহণ করা।
সাদিকীন তথা সত্যবাদীদের সঙ্গ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম একটি উপায়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং যারা (কথা ও কাজে) সত্যবাদী তাদের
সঙ্গে থাকো। "
- (সূরা তাওবা : ১১৯)
এ আয়াতে যে সাদিকীন তথা সত্যবাদীদের সাহচর্য গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এই
সাদিকীন বলে কারা উদ্দেশ্য?
আল্লাহ তা'আলা সূরা হুজরাতে সাদিকীনদের পরিচয় দিচ্ছেন,
" মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে অতপর কোনরূপ
সন্দেহ পোষণ করেনি এবং নিজের সম্পদ ও নিজের জান দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদ
করেছে। তারাই হল সাদিকীন-(কথা ও কাজে) সত্যবাদী। "
- (সূরা হুজুরাত : ১৫)
অন্য আরও কিছু আয়াতে সাদিকীনের পরিচয় এসেছে, যেমন, সূরা আহযাবে আল্লাহ তা'আলা
বলেন,
" মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে।
তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ (শাহাদাত লাভের) প্রতীক্ষায়
রয়েছে। আর তারা (তাদের সংকল্প) মোটেই পরিবর্তন করেনি। এটা এজন্য যেন আল্লাহ,
সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং মুনাফেকদেরকে চাইলে
শাস্তি দেবেন বা ক্ষমা করেন।
নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
- (সুরা আহযাব : ২৩, ২৪)
মোটকথা, উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে বুঝা যায় যে, সাদিকীন তথা সত্যবাদীদের মধ্যে অন্যান্য গুণের পাশাপাশি জিহাদের গুণটিও থাকতে হবে। জিহাদের গুণ
ব্যতীত কারও পক্ষেই সাদিকীনের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
উপস্থিত এক ভাইঃ বারাকাল্লাহু ফি ইলমিকা ওয়া আমালিকা। হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে সাদিকীনদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহঃ আমীন।
ভাই বলুন তো দেখি, ওপরের আয়াতগুলো
থেকে আমরা কী কী শিক্ষা পেতে পারি?
উপস্থিত এক ভাইঃ আয়াতগুলো থেকে আমরা যে যে শিক্ষা পেতে পারি তার কয়েকটি হল,
এক. সত্যবাদীদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
দুই. সত্যবাদীদের গুণ অর্জন করার চেষ্টা করা।
তিন. নিজেদের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহঃ আমার কাছে মনে হচ্ছে, এই আয়াতের গুরুত্বপূর্ণ
একটি শিক্ষা হল এ কথা বুঝানো যে, আত্মশুদ্ধির জন্য অবশ্যই সাদিকীন তথা মুজাহিদদের
সাহচর্য গ্রহণ করতে হবে।
৩য় আমল :
৩। সর্বদা আল্লাহ আমাকে দেখছেন, এ মানসিকতা অন্তরে বদ্ধমূল রাখা, বিশেষ করে
ইবাদতের ক্ষেত্রে। এ বিষয়টির প্রতি হাদীসে জিব্রাইলে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন তখন উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
(ইহসান হল) তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো।
যদি তাঁকে দেখতে না পাও, তাহলে তিনি তো তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।
- ( সহী মুসলিম : ৮)
কুরআনুল কারীমের সূরা আলাকে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
" সে কি জানে না যে, আল্লাহ (প্রতি মুহুর্তে সব কিছু) দেখেন?"
- (সুরা আলাক : ১৪)
৪র্থ আমল :
৪। যে কোনও মুহুর্তে আমার মৃত্যু আসতে পারে, এ বিশ্বাস অন্তরে মজবুত রাখা। গুনাহের
অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে কী ভয়াবহ পরিণতি হবে? এ ভয় সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা।
এ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-
খুশী থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।"
- (সূরা নাযিয়াত : ৪০-৪১)
৫ম আমল :
৫। আল্লাহর যিকির করা ও কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা। এর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর
ভয় সৃষ্টি হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
" ঈমানদার তারাই যারা এমন যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন তাদের
অন্তর ভীত হয়ে পড়ে আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করা হয় তখন
তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই ভরসা করে।"
- (সূরা আনফাল : ২)
সুতরাং মুজাহিদীনের অন্তরের খোরাক হলো, কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াত ও দৈনন্দিনের আযকার।
আমরা সবাই অবশ্যই এগুলো পালন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ।
উপস্থিত এক ভাইঃ আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমীন।
মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহঃ আজকে আমরা নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার
জন্য পাঁচটি আমলের কথা আলোচনা করেছি।
আমলগুলো সংক্ষেপে আবার বলছি,
১। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা ও গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা
করা।
২। সব সময় আল্লাহকে ভয় করা ও সাদিকীন তথা সত্যবাদীদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
৩। সর্বদা আল্লাহ আমাকে দেখছেন, এ মানসিকতা অন্তরে বদ্ধমূল রাখা, বিশেষ করে
ইবাদতের ক্ষেত্রে।
৪। যে কোনও মুহুর্তে আমার মৃত্যু আসতে পারে, এ বিশ্বাস অন্তরে মজবুত রাখা। গুনাহের
অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে কী ভয়াবহ পরিণতি হবে?
এ ভয় সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা।
৫। আল্লাহর যিকির ও কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা, এর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং ঈমান বৃদ্ধি পাবে।
এই আমলগুলো করার দ্বারা আমরা আশা করতে পারি যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে
নফসের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবেন এবং আমাদের অন্তরকে পবিত্র করে দিবেন।
তবে আমরা কখনোই এই দাবী করতে পারবো না যে, আমরা ত্রুটিমুক্ত হয়ে গেছি, আমাদের
অন্তর পুত-পবিত্র হয়ে গেছে।
কারণ, আল্লাহ তা'আলা এটা করতে নিষেধ করেছেন,
" অতএব তোমরা নিজের প্রশংসা করো না বা নিজেকে পবিত্র মনে করো না। তিনি ভালো
করেই জানেন, (তোমাদের মধ্যে) কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে।"
- (সূরা নাজাম : ৩২)
নিজেকে পবিত্র ভাবা ইহুদিদের চরিত্র
নিজেকে পবিত্র ভাবা এবং নিজেই নিজের প্রশংসা করা, এটি মুসলমানদের চরিত্র নয়, এটি হল ইহুদিদের চরিত্র। তারা নিজেদেরকে পবিত্র মনে করত এবং নিজেরাই নিজেদের প্রশংসা
করে বেড়াত।
আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার এক আয়াতে তাদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন,
" তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ আল্লাহ যাকে
(পবিত্র করার) ইচ্ছা করেন (একমাত্র) তাকেই পবিত্র করেন?
বস্তুতঃ তাদের উপর সুতা পরিমাণও অন্যায় হবে না।"
- (সুরা নিসা : ৪৯)
ইহুদিরা নিজেদেরকে পুত-পবিত্র বলে দাবী করতো। তারই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে তাদের নিন্দা করেছেন। উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, কারও জন্যই নিজেকে
পুত-পবিত্র বলে দাবী করা বৈধ নয়।
এটি বৈধ না হওয়ার তিনটি কারণ হতে পারে,
১ম কারণঃ
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মপ্রশংসার কারণ হয়ে থাকে কিবির বা অহংকার ও
অহমিকা। কাজেই এই নিষিদ্ধতা মূলত কিবিরের কারণেই।
২য় কারণঃ
শেষ পরিণতি সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই জানেন যে, তা ভালো হবে, নাকি মন্দ হবে। কাজেই নিজে নিজেকে পবিত্র বলে আখ্যায়িত করা রবেরভীতির পরিপন্থী। একটি
13.
হাদীসে এসেছে,
" হযরত সালামা বিনতে যয়নব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? তখন যেহেতু
আমার নাম ছিল বাররাহ (যার অর্থ পাপমুক্ত) কাজেই আমি তা-ই বললাম। তখন তিনি
বললেন,
তোমরা নিজেকে পাপমুক্ত বলো না। কারণ, একমাত্র আল্লাহই জানেন, তোমাদের মধ্যে কে
পবিত্র-পাপমুক্ত। এরপর তিনি বাররাহ নামটির পরিবর্তে যয়নব রেখে দেন।"
- (তাফসীরে মাযহারী)
৩য় কারণঃ
অধিকাংশ সময় এ ধরণের দাবী করতে গিয়ে মানুষের মনে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়ে থাকে যে, সে আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে সে মুক্ত।
অথচ এটি কখনোই হতে পারে না। কারণ, সবার মধ্যেই অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে।
এই তিনটি কারণে নিজের প্রশংসা করা বৈধ নয়।
হ্যাঁ, এখানে একটি কথা আছে, তা হল, যদি উল্লেখিত কারণগুলো না থাকে তাহলে শুধু আল্লাহর নেয়ামতের কথা প্রকাশ করার নিয়তে নিজের কোনো গুণ বর্ণনা করার অনুমতি আছে।
- (বয়ানুল কোরআন)
শহীদ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রহ.র মূল্যবান তিনটি উপদেশ :
রাহবারে উম্মত, মুজাহিদে মিল্লাত শহীদ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রহ.র মূল্যবান তিনটি উপদেশ
বলে আজকের আলোচনা শেষ করছি। শাইখ রহ. বলেন,
এক।
যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় তাকে অবশ্যই অন্য কারও ব্যক্তিগত ব্যাপরে নাক গলানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
দুই।
যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে হেফাজত করতে চায় তাকে অবশ্যহি অযথা এদিক-ওদিক তাকানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।
তিন।
"যে ব্যক্তি যিনা-ব্যাভিচার পরিত্যাগ করতে চায় তাকে অবশ্যই এমন প্রতিটি কাজ পরিত্যাগ করতে হবে যা তাকে ওই অশ্লীল কাজের দিকে নিয়ে যায়। "
-(আত তাওহীদুল
আমালী, পৃঃ ৫৪-৫৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সর্ব প্রকার গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন
এবং তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করুন।
আমিন।
আমাদের সবাইকে তাঁর পথে সাচ্চা মুজাহিদ হিসেবে কবুল করুন এবং শাহাদাতের সুউচ্চ
মাকাম লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ভাইয়েরা আজকের মজলিস এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কথাগুলোর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।
আমরা সকলে মজলিস থেকে উঠার দোয়াটা পড়ে নিই।
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك
وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله واصحابه اجمعين
وآخر دعوانا ان الحمد لله رب العالمين
___________

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন