হাদিসে এমন একটা দুআ আছে যে দুআটা আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখেরী নবী মুহাম্মাদে মুসতফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পর্যন্ত শিখিয়েছেন। দুআটা এমন অব্যর্থ যে বড় বড় সাহাবীরা নিজেরাও বার বার পড়তেন অন্যদেরও বার বার বর্ণনা করতেন ও পড়ার জন্য বলতেন। সেই দুআ সম্পর্কে হাসান বসরী রহ. বলেছেন:
.
আমাকে সামুরা ইবনে জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি কি আপনাকে এমন এক হাদিস শোনাবো যেটা আমি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও অনেকবার শুনেছি আবার আবু বকর ও উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও অনেকবার শুনেছি? শুনাবো সেটা?
আমি বললাম: হ্যাঁ বলুন!
সামুরা বললেন:
যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যা এই দুআটা পড়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাবে আল্লাহ তায়ালা তার দুআ কবুল করবেন অবশ্যই অবশ্যই।
اللَّهمَّ أنتَ خلقتَني وأنتَ تَهْديني وأنتَ تُطعمُني وأنتَ تَسقيني وأنتَ تُميتُني وأنتَ تُحييني
আল্লাহুম্মা আনতা খালাক্বতানি ওয়া আনতা তাহদিনী ওয়া আনতা তুত্বঈমুনি ওয়া আনতা তাসক্বিনী ওয়া আনতা তুমিতুনি ওয়া আনতা তুহইয়িনি।
.
আয় আল্লাহ! তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো। তুমিই আমাকে হিদায়াত দাও। তুমিই আমাকে খাওয়াও পিলাও। তুমিই তো আমার হায়াত মওত দেনে ওয়ালা মালিক!
[মুজামুল আওসাত্ব - তাবারানী ১০২৮]
হাদিসের মান ও নির্ভরযোগ্যতা
অধিকাংশ হাদিস বিশারদদের মতে, এই হাদিসটি 'যঈফ' বা দুর্বল। ইসলামি স্কলাররা এর সনদে থাকা ত্রুটিগুলোর কারণে এটিকে সহিহ মনে করেন না [১.৪.৩]।
সনদ বিশ্লেষণ: এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারেন যাদের স্মৃতিশক্তি বা বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এছাড়া মুজামুল আওসাত গ্রন্থটি সংকলনের সময় ইমাম তাবারানী নিজেই অনেক সময় এমন হাদিস যুক্ত করেছেন যা একক সূত্রে বর্ণিত এবং যার বর্ণনাকারীরা ততটা শক্তিশালী নন [১.৩.১]।
বিখ্যাত স্কলারদের মত: ইসলাম ওয়েব (Islamweb) এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ফতোয়া সাইট অনুসারে, এই নির্দিষ্ট দুআটি (সকাল-সন্ধ্যায় ৭ বার পাঠের ফজিলত) সংবলিত হাদিসটির সনদ দুর্বল হিসেবেই স্বীকৃত [১.৪.৩]।
গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য: ইমাম তাবারানী তাঁর এই গ্রন্থে মূলত বিরল ও একক সূত্রে আসা হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে সহিহ (সঠিক), যঈফ (দুর্বল) এবং মাউজু (বানোয়াট) তিন ধরনের হাদিসই রয়েছে [১.৩.২]।
আমল করার বিধান
হাদিসটি দুর্বল হলেও এর বক্তব্য ইসলামি আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ এতে আল্লাহর সৃষ্টি, হেদায়েত এবং রিজিকদাতার গুণের কথা স্বীকার করা হয়েছে। ফজিলতের ক্ষেত্রে যঈফ হাদিস আমল করা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, এটি পাঠ করা শিরক বা বিদআত নয়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো 'সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার' (اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ...) পাঠ করা অনেক বেশি উত্তম ও নির্ভরযোগ্য, কারণ এটি বুখারি শরিফের সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত [১.৪.১, ১.৪.২]।
সামুরা আরো বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমের কাছে গিয়েও এই দুআর কথা বলেছিলাম। তিনি শুনে বলেছিলেন:
.
আমার পিতামাতা কুরবান হোক। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কালিমাগুলো দিয়ে দুআ করতেন এবং বলতেন:
.
আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিস সালামকেও এই দুআ গুলো দিয়েছিলেন। তিনি দৈনিক সাতবার এই দুআগুলো পড়ে আল্লাহর কাছে যা চাইতেন আল্লাহ তায়ালা তা দিয়ে দিতেন।
.
আমি অবাক বিস্ময়ে ভাবি! আল্লাহ তায়ালা কতবড় দেনেওয়ালা রব! হাজার বছর ধরে এক নবী থেকে আরেক নবীকে দুআ শিখিয়ে যাচ্ছেন যেন তারা উম্মতকে শেখাতে পারেন। উম্মত যেন তাদের মালিকের কাছে চাইতে পারে। আর কোন মালিক এমন আছে যে মালিক চায় তার দাস তার কাছে চেয়ে নিক!
.
.
~ Ammarul Hoque (Hafi.)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন