ঈদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত ১৩ টি প্রশ্নোত্তর।
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের নিয়্যাতে কি বলতে হয়?
উত্তর : ঈদ বা যে কোনো নামায, রোযা বা অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসাবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যাত পড়া রাসুলুল্লাহ ﷺ বা তার সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত না। তাই মুখে নিয়ত পাঠ করা বিদআত। ~ মিরক্বাত শরহ মিশকাত, খন্ড ১ পৃ. ৪০-৪১
প্রশ্ন : ঈদের তাকবীর ধ্বনি দেওয়ার বিধান কি?
উত্তর : আরাফার দিন ফজর থেকে মিনার শেষ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৯ই যিলহাজ্জ ফজর থেকে ১৩ই যিলহাজ্জ ‘আইয়ামে তাশরীক্ব’ এর শেষ দিন আছর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ছালাত শেষে ও অন্যান্য সময়ে দুই বা তিনবার করে এবং ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে খুৎবা শুরুর আগ পর্যন্ত উচ্চকণ্ঠে ঈদায়নের তাকবীর ধ্বনি করা সুন্নাত। এ সময় বলতে হবে: আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হামদ। ~ তাবারানী ৯৫৩৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫৬৭৯, ৫৬৯৬-৫৬৯৯
প্রশ্ন : ঈদের নামাজ কোথায় পড়া সুন্নাত?
উত্তর : ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। তবে বৃষ্টি বা অন্য যেকোন বাধ্যগত কারণে মসজিদে পড়া যেতে পারে। ~ আলবানী, ছালাতুল ঈদায়েন ফিল মুছল্লা, পৃ. ৩৫ সহীহ বুখারী, ৯৬৫
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের আগে কোন নফল বা সুন্নাত নামাজ পরতে হবে কি?
উত্তর : ঈদের সলাতের আগে বা পরে কোন সুন্নাতে মু'আক্কাদাহ বা নফল সলাত নেই। তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ ঈদের নামাজ শেষে তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন। যদি ঈদের নামাজ মসজিদে পড়া হয়, তবে সেখানে গেলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া মুস্তাহাব। আর যদি ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত ঈদগাহে পড়া হয়, তবে সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোনো নামাজ না পড়াই মুস্তাহাব। ~ বিন বাজ, মাজমু' ফাতাওয়া, ১৩/১৫-১৬ বুখারী ৯৩১ ইবনু মাজাহ ১২৯৩
প্রশ্ন : ঈদের সালাতের সময় কখন শুরু ও শেষ হয়?
উত্তর : সূর্যোদয়ের পনর বিশ মিনিট পর থেকে যোহরের সালাতের পনর বিশ মিটিন পূর্বে পর্যন্ত ঈদের সালাতের সময় যাকে এ সময়টি সালাতুদ দুহা অর্থাৎ চাশতের সালাতের সময়। এ চাশতের সালাত আর ঈদের সালাতের সময় একই।
জুনদুব রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, নাবী ﷺ আমাদেরকে নিয়ে ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করতেন সূর্য যখন দু’ বর্শা পরিমাণ উপরে উঠত এবং ঈদুল আয্হা আদায় করতেন সূর্য যখন এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠত। ~ ফিকহুস সুন্নাহ : ১/৩১৯
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের তাকবীর কয়টি?
উত্তর : ঈদায়নের ছালাতে অতিরিক্ত তাকবীর ১২টি। আয়েশা রাঃ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহাতে প্রথম রাক‘আতে সাত তাকবীর ও দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। ~ আবু দাঊদ ১১৫০; ইবনু মাজাহ ১২৮০
প্রশ্ন : ঈদের নামাজে কোন সূরা পড়া সুন্নাত?
উত্তর : ঈদের সলাতের প্রথম রাকা'আতে 'সূরাহ্ ক্বা'ফ' ও দ্বিতীয় রাকা'আতে 'সূরাহ্ কুমার' পাঠ করা সুন্নাত। কেননা, নবী ﷺ উভয় ঈদে উক্ত সূরাহ দুটি পাঠ করতেন যা আবু ওয়াকিদ আল-লাইসীর হাদীসে বর্ণিত আছে। অথবা প্রথম রাকা'আতে সূরাহ আ'লা এবং দ্বিতীয় রাকা'আতে 'সূরাহ গাশিয়াহ'। কারণ, নু'মান বিন বাশীর এর বর্ণিত হাদীসে আছে যে, নবী ﷺ ঈদের সলাতে ঐ সূরাহ দুটি পাঠ করতেন। ~ সহীহ মুসলিম ২০৬৫ মিশকাত ৮৪০
প্রশ্ন : জুমআর দিনে ঈদ হলে জুমআ পরা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর : জুমআর দিন ঈদ হলে যে ব্যক্তি ঈদের নামায পড়বে, সে ব্যক্তির জন্য জুমআ পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না। ইচ্ছে হলে সে পড়তে পারে। যে ব্যক্তি ঈদের নামায পড়ে অনুমতি পেয়ে জুমআহ পড়বে না, সে ব্যক্তির জন্য যোহরের নামায মাফ নয়। কারণ, যোহর হল ওয়াক্তী ফরয নামায। আর তা ত্যাগ করা সম্ভব নয়। ~ ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব, প্রশ্ন নং ১০৯৩২৩ আবূ দাঊদ ৯৪৫, ৯৪৮ ইবনে মাজাহ ১৩১১
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের সঠিক কেমন?
উত্তর : প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমাসহ সাতটি অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা আ‘লা অথবা সূরা ক্বাফ পড়া সুন্নাত। এরপর অন্য সালাতের মতোই রুকু সিজদা করবে। দ্বিতীয় রাকআতে তাকবীরে ক্বিয়াম ছাড়া পাঁচটি তাকবীর বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা গাশিয়াহ অথবা সূরা ক্বামার পড়া সুন্নাত। এরপর রুকু-সিজদা, শেষ বৈঠক এবং সালাম ফেরাবে। ছালাত শেষে ইমাম খুৎবা প্রদান করবেন, যাতে তিনি মানুষদের নছীহত করবেন, উপদেশ দেবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। ~ ইবনু মাজাহ, ১২৮০ ছহীহ বুখারী, ৯৫৬ মিশকাত, ৮৪০
প্রশ্ন : ঈদের নামাজ না পেলে করণীয় কী?
উত্তর : ঈদের নামাজ ফরজে আইন। ঈদের নামাজ ছুটে গেলে এর কোনো কাযা নেই। কেননা এটি সমাজবদ্ধ নামাজ। এটি জুমার নামাজের মতো। জুমার কোনো কাযা হয় না। কিন্তু এর বদলি যুহর পড়া হয়। কিন্তু ঈদের নামাজের কোনো বদলি নেই। ~ ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ, আশ শারহুল মুমতি’ ৫/১৫৫-১৫৬ মাজমূ ফাতাওয়া ১৬/২১৪
প্রশ্ন : ঈদের খুৎবা কয়টি?
উত্তর : একটি খুৎবা দেয়াই ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম নাসাঈ জুম‘আর দুই খুৎবার হাদীছ ঈদ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন আর তার আলোকেই অনেকে মনে করেন যে, ঈদের খুৎবা দু’টি। অথচ উক্ত হাদীছ কোন মুহাদ্দিছ ঈদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেননি। ঐ হাদীছ সকলেই জুম‘আর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন সুতরাং এই হাদীছ দিয়ে ঈদের দুই খুৎবার দলীল পেশ করা ঠিক হবে না। শায়খ আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় এটা জুম‘আর খুৎবার বিষয়। দুই খুৎবার পক্ষে ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী, বাযযার প্রভৃতি গ্রন্থে যে হাদীছগুলো এসেছে, আলবানী রহিমাহুল্লাহ সেগুলো কে যঈফ বলেছেন। ~ সহীহ বুখারী ৯৭৮ মুসলিম ৮৬২ নাসাঈ, ১৫৮৩, ১৪১৭-১৮ তাহক্বীক্ব ইবনু মাজাহ, ১২৮৯ সিলসিলা যঈফাহ, ৫৭৮৯
প্রশ্ন : মহিলাদের ঈদের নামাজের বিধান কি?
উত্তর : মহিলারা মুসলমানদের সাথে ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করবেন। কেননা রাসূল ﷺ বিবাহিত, অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক, কুমারী, ঋতুবতী গৃহিনীসহ সকল নারীদেরকে দুই ঈদের সময় ঈদগাহে হাজির হতে আদেশ দিয়েছেন। তবে, ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকবে এবং সবার সাথে দোয়ায় শরীক হবে। জনৈক নারী বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি কোন নারীর জিলবাব অর্থাৎ বোরকা না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে তার কোন বোন যেন তাকে নিজের কোন একটি জিলবাব ধার দেয়। ~ ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব, প্রশ্ন নং ২৬৯৮৩ সহীহ মুসলিম ১৯৪১ বুখারী ৯৮১
প্রশ্ন : ঈদের দিন আমাদের করণীয় কী?
উত্তর : ১. গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। ২. ঈদুল ফিতরের দিন খাবার খেয়ে ঈদের সালাতে যাওয়া, আর ঈদুল আযহার দিন না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। তাছাড়া ঈদুল আযহার সালাত শেষে কুরবানীর মাংস দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত। ৩. ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া মুস্তাহাব। আর একপথে যাবে এবং ভিন্ন পথ দিয়ে আবার পায়ে হেটেই আসা সুন্নাত। ৪. তাকবীর পড়া এবং তা বেশি বেশি ও উচ্চস্বরে পড়া সুন্নাত। ৫. ঈদের মোবরকবাদ দেওয়া। সাহাবাগণ ঈদগাহ হতে ফিরার সময় এক অপরকে বলতেন, তাক্বাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। ~ ফাতহুল বারী ২/৪৪৬ তামামুল মিন্নাহ, পৃ. ৩৫৪
Salafi scholars সালাফি স্কলার্স
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের নিয়্যাতে কি বলতে হয়?
উত্তর : ঈদ বা যে কোনো নামায, রোযা বা অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসাবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যাত পড়া রাসুলুল্লাহ ﷺ বা তার সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত না। তাই মুখে নিয়ত পাঠ করা বিদআত। ~ মিরক্বাত শরহ মিশকাত, খন্ড ১ পৃ. ৪০-৪১
প্রশ্ন : ঈদের তাকবীর ধ্বনি দেওয়ার বিধান কি?
উত্তর : আরাফার দিন ফজর থেকে মিনার শেষ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৯ই যিলহাজ্জ ফজর থেকে ১৩ই যিলহাজ্জ ‘আইয়ামে তাশরীক্ব’ এর শেষ দিন আছর পর্যন্ত ২৩ ওয়াক্ত ছালাত শেষে ও অন্যান্য সময়ে দুই বা তিনবার করে এবং ঈদুল ফিৎরের দিন সকালে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে খুৎবা শুরুর আগ পর্যন্ত উচ্চকণ্ঠে ঈদায়নের তাকবীর ধ্বনি করা সুন্নাত। এ সময় বলতে হবে: আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হামদ। ~ তাবারানী ৯৫৩৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫৬৭৯, ৫৬৯৬-৫৬৯৯
প্রশ্ন : ঈদের নামাজ কোথায় পড়া সুন্নাত?
উত্তর : ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। তবে বৃষ্টি বা অন্য যেকোন বাধ্যগত কারণে মসজিদে পড়া যেতে পারে। ~ আলবানী, ছালাতুল ঈদায়েন ফিল মুছল্লা, পৃ. ৩৫ সহীহ বুখারী, ৯৬৫
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের আগে কোন নফল বা সুন্নাত নামাজ পরতে হবে কি?
উত্তর : ঈদের সলাতের আগে বা পরে কোন সুন্নাতে মু'আক্কাদাহ বা নফল সলাত নেই। তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ ঈদের নামাজ শেষে তাঁর বাড়িতে ফিরে আসার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন। যদি ঈদের নামাজ মসজিদে পড়া হয়, তবে সেখানে গেলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া মুস্তাহাব। আর যদি ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত ঈদগাহে পড়া হয়, তবে সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোনো নামাজ না পড়াই মুস্তাহাব। ~ বিন বাজ, মাজমু' ফাতাওয়া, ১৩/১৫-১৬ বুখারী ৯৩১ ইবনু মাজাহ ১২৯৩
প্রশ্ন : ঈদের সালাতের সময় কখন শুরু ও শেষ হয়?
উত্তর : সূর্যোদয়ের পনর বিশ মিনিট পর থেকে যোহরের সালাতের পনর বিশ মিটিন পূর্বে পর্যন্ত ঈদের সালাতের সময় যাকে এ সময়টি সালাতুদ দুহা অর্থাৎ চাশতের সালাতের সময়। এ চাশতের সালাত আর ঈদের সালাতের সময় একই।
জুনদুব রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, নাবী ﷺ আমাদেরকে নিয়ে ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করতেন সূর্য যখন দু’ বর্শা পরিমাণ উপরে উঠত এবং ঈদুল আয্হা আদায় করতেন সূর্য যখন এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠত। ~ ফিকহুস সুন্নাহ : ১/৩১৯
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের তাকবীর কয়টি?
উত্তর : ঈদায়নের ছালাতে অতিরিক্ত তাকবীর ১২টি। আয়েশা রাঃ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহাতে প্রথম রাক‘আতে সাত তাকবীর ও দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। ~ আবু দাঊদ ১১৫০; ইবনু মাজাহ ১২৮০
প্রশ্ন : ঈদের নামাজে কোন সূরা পড়া সুন্নাত?
উত্তর : ঈদের সলাতের প্রথম রাকা'আতে 'সূরাহ্ ক্বা'ফ' ও দ্বিতীয় রাকা'আতে 'সূরাহ্ কুমার' পাঠ করা সুন্নাত। কেননা, নবী ﷺ উভয় ঈদে উক্ত সূরাহ দুটি পাঠ করতেন যা আবু ওয়াকিদ আল-লাইসীর হাদীসে বর্ণিত আছে। অথবা প্রথম রাকা'আতে সূরাহ আ'লা এবং দ্বিতীয় রাকা'আতে 'সূরাহ গাশিয়াহ'। কারণ, নু'মান বিন বাশীর এর বর্ণিত হাদীসে আছে যে, নবী ﷺ ঈদের সলাতে ঐ সূরাহ দুটি পাঠ করতেন। ~ সহীহ মুসলিম ২০৬৫ মিশকাত ৮৪০
প্রশ্ন : জুমআর দিনে ঈদ হলে জুমআ পরা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর : জুমআর দিন ঈদ হলে যে ব্যক্তি ঈদের নামায পড়বে, সে ব্যক্তির জন্য জুমআ পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না। ইচ্ছে হলে সে পড়তে পারে। যে ব্যক্তি ঈদের নামায পড়ে অনুমতি পেয়ে জুমআহ পড়বে না, সে ব্যক্তির জন্য যোহরের নামায মাফ নয়। কারণ, যোহর হল ওয়াক্তী ফরয নামায। আর তা ত্যাগ করা সম্ভব নয়। ~ ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব, প্রশ্ন নং ১০৯৩২৩ আবূ দাঊদ ৯৪৫, ৯৪৮ ইবনে মাজাহ ১৩১১
প্রশ্ন : ঈদের নামাজের সঠিক কেমন?
উত্তর : প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমাসহ সাতটি অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা আ‘লা অথবা সূরা ক্বাফ পড়া সুন্নাত। এরপর অন্য সালাতের মতোই রুকু সিজদা করবে। দ্বিতীয় রাকআতে তাকবীরে ক্বিয়াম ছাড়া পাঁচটি তাকবীর বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতিহা পড়ে সূরা গাশিয়াহ অথবা সূরা ক্বামার পড়া সুন্নাত। এরপর রুকু-সিজদা, শেষ বৈঠক এবং সালাম ফেরাবে। ছালাত শেষে ইমাম খুৎবা প্রদান করবেন, যাতে তিনি মানুষদের নছীহত করবেন, উপদেশ দেবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। ~ ইবনু মাজাহ, ১২৮০ ছহীহ বুখারী, ৯৫৬ মিশকাত, ৮৪০
প্রশ্ন : ঈদের নামাজ না পেলে করণীয় কী?
উত্তর : ঈদের নামাজ ফরজে আইন। ঈদের নামাজ ছুটে গেলে এর কোনো কাযা নেই। কেননা এটি সমাজবদ্ধ নামাজ। এটি জুমার নামাজের মতো। জুমার কোনো কাযা হয় না। কিন্তু এর বদলি যুহর পড়া হয়। কিন্তু ঈদের নামাজের কোনো বদলি নেই। ~ ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ, আশ শারহুল মুমতি’ ৫/১৫৫-১৫৬ মাজমূ ফাতাওয়া ১৬/২১৪
প্রশ্ন : ঈদের খুৎবা কয়টি?
উত্তর : একটি খুৎবা দেয়াই ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম নাসাঈ জুম‘আর দুই খুৎবার হাদীছ ঈদ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন আর তার আলোকেই অনেকে মনে করেন যে, ঈদের খুৎবা দু’টি। অথচ উক্ত হাদীছ কোন মুহাদ্দিছ ঈদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেননি। ঐ হাদীছ সকলেই জুম‘আর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন সুতরাং এই হাদীছ দিয়ে ঈদের দুই খুৎবার দলীল পেশ করা ঠিক হবে না। শায়খ আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় এটা জুম‘আর খুৎবার বিষয়। দুই খুৎবার পক্ষে ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী, বাযযার প্রভৃতি গ্রন্থে যে হাদীছগুলো এসেছে, আলবানী রহিমাহুল্লাহ সেগুলো কে যঈফ বলেছেন। ~ সহীহ বুখারী ৯৭৮ মুসলিম ৮৬২ নাসাঈ, ১৫৮৩, ১৪১৭-১৮ তাহক্বীক্ব ইবনু মাজাহ, ১২৮৯ সিলসিলা যঈফাহ, ৫৭৮৯
প্রশ্ন : মহিলাদের ঈদের নামাজের বিধান কি?
উত্তর : মহিলারা মুসলমানদের সাথে ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করবেন। কেননা রাসূল ﷺ বিবাহিত, অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক, কুমারী, ঋতুবতী গৃহিনীসহ সকল নারীদেরকে দুই ঈদের সময় ঈদগাহে হাজির হতে আদেশ দিয়েছেন। তবে, ঋতুবতী নারীরা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকবে এবং সবার সাথে দোয়ায় শরীক হবে। জনৈক নারী বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি কোন নারীর জিলবাব অর্থাৎ বোরকা না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে তার কোন বোন যেন তাকে নিজের কোন একটি জিলবাব ধার দেয়। ~ ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব, প্রশ্ন নং ২৬৯৮৩ সহীহ মুসলিম ১৯৪১ বুখারী ৯৮১
প্রশ্ন : ঈদের দিন আমাদের করণীয় কী?
উত্তর : ১. গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। ২. ঈদুল ফিতরের দিন খাবার খেয়ে ঈদের সালাতে যাওয়া, আর ঈদুল আযহার দিন না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। তাছাড়া ঈদুল আযহার সালাত শেষে কুরবানীর মাংস দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত। ৩. ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া মুস্তাহাব। আর একপথে যাবে এবং ভিন্ন পথ দিয়ে আবার পায়ে হেটেই আসা সুন্নাত। ৪. তাকবীর পড়া এবং তা বেশি বেশি ও উচ্চস্বরে পড়া সুন্নাত। ৫. ঈদের মোবরকবাদ দেওয়া। সাহাবাগণ ঈদগাহ হতে ফিরার সময় এক অপরকে বলতেন, তাক্বাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। ~ ফাতহুল বারী ২/৪৪৬ তামামুল মিন্নাহ, পৃ. ৩৫৪
Salafi scholars সালাফি স্কলার্স
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন