এক আমলে একাধিক নিয়ত

May be an illustration of body of water 

এক আমলে একাধিক নিয়ত
---
নিয়ত হল আমলের প্রাণ। নিয়ত ছাড়া আমল শুদ্ধ হবে না। গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা সারাদিনে অসংখ্য আমল করি। প্রতিটি আমলে আমরা একসাথে একাধিক নিয়ত করে, অল্প মেহনতেই আমার আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারি।
--
লেখাটি নিয়ত বিষয় প্রকাশিতব্য পুস্তিকার প্রথম খসড়া।
সংযোজন বিয়োজন, সংশোধন বিষয়ক কোনও পরামর্শ থাকলে, কমেন্টে জানানোর বিনীত অনুরোধ থাকল।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
.
.
ওজু-তহারত
-
আমি কেন ওজু করব? ওজুর করার আগে, মনে মনে এই নিয়তগুলো করতে পারি।
১. আল্লাহ ও তার রাসূলের হুকুম পালন করার জন্য ওজু করছি। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ ওজু করে না। এই ওজু দ্বারা আমার ঈমান বৃদ্ধি পাবে। মর্যাদা বুলন্দ হবে।
২. কেয়ামতের দিন আমার মুখম-ল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল আলোকিত থাকবে।
৩. পানির ফোঁটার সাথে সাথে আমার গুনাহখাতাও ঝরে যাবে।
৪. ওজু ও ওজুর জিকিরের পর আমার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। 
৫. প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাতর হয়েও, ওজুর অঙ্গগুলো ভাল করে ধৌত করলে, আমার দারাজাত-মর্যাদা বুলন্দ হবে। আমার গুনাহ মাফ হবে।
৬. ওজু অবস্থায় ঘুমুলে সারারাত ফিরিশতা আমার জন্য দোয়া করতে থাকবে। 
৭. ওজুর মাধ্যমে আমি ঈমানের অর্ধেক বা একাংশ অর্জন করব।
৮. ওজু অবস্থায় ঘুমিয়ে রাতে জেগে উঠলে, আমি যা দোয়া করি, কবুল করা হবে (মুয়ায বিন জাবাল রা.। আবূ দাউদ ৫০৪২)।
৯. কনকনে শীত-ঠাণ্ডায় কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মনের ওপর জোর খাটিয়ে ভাল করে ওজু করলে, আল্লাহর রাস্তায় রিবাতের সওয়াব পাওয়া যাবে। রিবাত, ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া।
ইন শা আল্লাহ।
সলাতে
-
সলাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে বা সলাতের নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার নিয়ত ভাবব, 
১: প্রতিটি কদমের আল্লাহ আমার দরজা-মর্যাদা বুলন্দ করছেন। প্রতিটি কদমে গুনাহ মাফ করছেন। সলাত আদায় করে ফেরার সময়ও একই নিয়ত করব।
২. এহরাম পরা হাজী সাহেবের মতো সওয়াব পেতে থাকব।
৩. মসজিদে যাওয়ার সময় যত বেশি কদম, ততবেশি আল্লাহর রাস্তায় রিবাতের সওয়াব পাব।
৪. আমি মসজিদে গেলে, পরম আকাঙ্খিত হারানো ব্যক্তি বা বস্ত ফিরে ফেলে মানুষ যেমন খুশি হয়, আল্লাহ তাআলাও আমাকে মসজিদে পেয়ে তেমন খুশি হবেন (আবূ হুরায়রা রা.। ইবনে মাজাহ ৮০০)।
ইন শা আল্লাহ।
ما من رجلٍ كان توطَّن المساجدَ، فشغله أمرٌ أو عِلَّةٌ ثم عاد إلى ما كان إلا يتبَشْبَشُ اللهُ إليه كما يَتَبَشْبَشُ أهلُ الغائبِ بغائبِهم إذ أقدم
সলাতের ইন্তেজারে
-
সলাতের ইন্তেজার বা অপেক্ষায় বসে থাকার সময় নিয়ত রাখব,
১: আমি যতক্ষণ সলাতের অপেক্ষায় বসে থাকাবস্থায় আমি মূলত সলাতেই থাকব। সলাতের সওয়াব ও ফজীলত লাভ করতে থাকব।
২. আল্লাহ তাআলা আমার গুনাহখাতা মাফ করতে থাকবেন। আমার দারাজাত-মর্যাদা বুলন্দ করতে থাকবেন।
৩. আল্লাহর রাস্তায় রিবাতের সওয়াব পেতে থাকব। 
৪. যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনও ছায়া থাকবে না, সেদিন যারা আল্লাহ যাদের তার ছায়ায় আশ্রয় দিবেন, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হব।
৫. সলাতের অপেক্ষায় বসে থাকার চিত্র দেখিয়ে, আল্লাহ আমাকে নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করবেন।
সলাতে দাঁড়ানোর সময়
-
সলাতে দাঁড়ানোর সময় নিয়ত করব,
১: আল্লাহ তাআলা আমার সলাতখানা দয়া করবে কবুল করে নিবেন। কারণ, সমস্ত আমলের শুদ্ধতা সলাত কবুল হওয়ার উপর নির্ভরশীল।
২. সলাত শ্রেষ্ঠতম আমল-ইবাদত করতে যাচ্ছি।
৩. এই সলাত আমার কবরে নূর হবে, পুলসিরাতে আলোকবর্তিকা হবে।
৪. এই সলাতের মাধ্যমে সিদ্দীকীন ও শুহাদায়ে কেরামের দারাজাত-মর্যাদা হাসিল করব।
৫. আমার জীবন থেকে যাবতীয় অশ্লীলতা, অন্যায়কাজ সমাপ্তির সূচনা হবে।
৬. আল্লাহর কাছে একান্ত মুনাজাতের মাধ্যম হবে।
৭. পাঁচওয়াক্ত সলাতের প্রতি যতœবান হওয়ার বরকতে, আল্লাহ তাআলা আমার গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন।
৮. ‘সলাত’ নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের দুর্লভ সুযোগ লাভ হবে।
৯. চল্লিশদিন টানা জামাতে তাকবীরে তাহরীমার সাথে নামাজ পড়ার মাধ্যমে, আমি জাহান্নাম ও নিফাক থেকে দায়মুক্তি লাভ করব।
.
.
জামাতে ও পাঁচ নামাজে
-
সলাতের জামাতে শরীক হওয়ার সময় নিয়ত করব,
১: আমি শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রোকন আদায় করতে যাচ্ছি।
২. এই সলাত আমার জান্নাতে প্রবেশের কারণ হবে।
৩. এই একটি সলাত আদায় করে, আমি সাতাশটি সলাতের ফজীলত লাভ করব।
.
ফজরের সময় নিয়ত করব,
১: ফজর নামাজ পড়লে আমি আল্লাহর যিম্মা-সুরক্ষায় থাকব।
২. এশা ও ফজর পড়ার মাধ্যমে আমি পুরো রাত তাহাজ্জুদ পড়ার ফজীলত হাসিল করব।
৩. কেয়ামতের পরিপূর্ণ নূর লাভ করব। 
৪. আমার সপক্ষে ফিরিশতাগন সাক্ষ্য দিবেন।
৫. বারদাইন মানে দুই শীতল নামাজ (ফজর-আসর) আদায়ের মাধ্যমে, আমি জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করব।
৬. রহমান-রহীম আমাকে জাহান্নাম থেমে মুক্তি দেবেন।
৭. মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকব। কারণ, মুনাফিকের জন্য এশা ও ফজর আদায় করা অত্যন্ত কষ্টকর।
৮. একটি ওমরার সওয়াব হাসিল করব।
৯. ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের মুসাল্লায় অবস্থান করে, তারপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, একটি পরিপূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণতম ওমরার সওয়াব লাভ করব।
.
আসরের সময় নিয়ত করব,
১: বারদাইন মানে দুই শীতল নামাজ (ফজর-আসর) আদায়ের মাধ্যমে, আমি জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করব।
২. আল্লাহ তাআলা আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।
৩. নিয়মিত আসর আদায় করার মাধ্যমে আমি অতিরিক্ত দ্বিগুন সওয়াব লাভ করব। 
৪. তার মধ্যে একটি সওয়াব লাভ করব, কুরআনে বর্ণিত সলাতে উসতা (মধ্যবর্তী সলাত) বা আসরের নামাজ পড়ার কুরআনী আদেশ পালন করার কারণে।
৫. আরেকটি সওয়াব লাভ করব, আসরে সলাতে অবহেলা না করে, একটি আমলে নিয়মিত যতœবান থাকার কারণে।
.
সলাতুল ইশায় নিয়ত করব,
১: অর্ধের রাত কিয়ামুল লাইল মানে তাহাজ্জুদ আদায়ের সওয়াব লাভ করব।
২. মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকব। কারণ, মুনাফিকের জন্য এশা ও ফজর আদায় করা অত্যন্ত কষ্টকর।
.
জুমায় নিয়ত করব,
১: দুই জুমার মাঝে কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থেকে, এক সপ্তাহের যাবতীয় সগীরা গুনাহ মাফ পেয়ে যাবো।
২. সময়মতো মসজিদে হাজির হয়ে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করার সওয়াব লাভ করব। 
৩. ইমাম সাহেব খুতবার জন্য মিম্বরে আরোহণের আগে আগে মসজিদে হাজির হয়ে, ফিরিশতাগনের বিশেষ বরকতপূর্ণ খাতায় আমার নাম ওঠাব।
.
সুন্নত-নফলে নিয়ত করব,
১: ফরজ নামাজ আদায়কালে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসঙ্গতি, খামতি, ঘাটতি হয়েছে, আল্লাহর নিজ অনুগ্রহে এই নফল-সুন্নতের মাধ্যমে সেগুলো পূরণ করে দেবেন।
২ আল্লাহর মহব্বত লাভ করব। 
৩. আল্লাহ আমার জন্য জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।
৪. ফজরের সুন্নত পড়ব। কারণ এই দুই রাকাত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে দুনিয়া ও তার মধ্যে বিদ্যমান সবকিছু থেকে উত্তম বস্তু লাভ করব।
৫. জোহরের আগে-পরের সুন্নত আদায় করব। তাহলে আল্লাহ আমার শরীরকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন।
.
সলাতুদ দুহা ও ইশরাক আদায়কালে নিয়ত করব,
১: এই নামাজ আদায় করার জন্য নবীজি ওসিয়ত করে গেছেন। আমিও ওসিয়তের অন্তর্ভুক্ত হবো।
২. সূর্য উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, দুই রাকাত সলাতুদ দুহা আদায় করলে, আউয়াবীন-আল্লাহভিমুখী বান্দাদের তালিকায় নাম লেখা হবে।
৩. শুধু দুই রাকাত নামাজ পড়েই শরীরের ৩৬০টি গ্রন্থির বিনিময়ে শুকরিয়া আদায় করার সৌভাগ্য লাভ করব।
৪. এই সময় চার রাকাত নামাজ আদায় করলে, দিনের শেষভাগ পর্যন্ত আল্লাহ আমার জন্য যাবতীয় সুরক্ষার জন্য যিম্মাদার হয়ে যাবেন।
.
ঘরে নফল-সুন্নত আদায়কালে নিয়ত করব,
১: ফরজ নামাজের বাইরে শ্রেষ্ঠতম নামাজ হল, বান্দা যে নামাজ ঘরে আদায় করে। আমিও এই ফজীলত লাভ করব।
২. একাকী ও জামাতে নামাজের ফজীলতে যেমন পার্থক্য, ঘরে অন্য নফল ইবাদতের চেয়ে নফল নামাজ আদায় করার ফজীলতে ঠিক তেমনই পার্থক্য। আমিও এই সৌভাগ্য করব।
৩. নফল সলাত আদায়ের বরকতে, আল্লাহ আমার ঘরে ভরপুর খাইর-কল্যাণ দান করবেন।
৪. ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা, আমাকে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখবে।
.
কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের সময় নিয়ত করব,
১: আমি ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠতম সলাত আদায়ের সৌভাগ্য অর্জন করতে যাচ্ছি।
২. নেককার-সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।
৩. তাহাজ্জুদ মুমিনের জন্য বিশেষ মর্যাদা। আমিও এই মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছি।
৪. এর মাধ্যমে আল্লাহ আমার গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন।
৫. তাহাজ্জুদে দীর্ঘ তিলাওয়ামের মাধ্যমে, আল্লাহ আমার কলবে আরও ভালভাবে কুরআন কারীম বসিয়ে দেবেন।
৬. নিজে জাগ্রত হয়ে, পরিবারকেও জাগিয়ে দিয়ে, দুজন মিলে তাহাজ্জুদ আদায় করলে, আমাদের নাম যিকিরকারীগনের তালিকায় লেখা হবে।
৭. তাহাজ্জুদের আমি দশ আয়াত পড়লে, আমার নাম আর গাফেলদের তালিকায় থাকবে না। একশ আয়াত পড়লে, আমার নাম কানিতীন বা একান্ত অনুগত বান্দাদের তালিকায় লেখা হবে। এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করলে, আমার নাম মুকানতিরীন মানে রাশি রাশি সোনাদানা দানকারীদের তালিকায় লেখা হবে।
মাতাপিতার প্রতি সাদাচারে
-
আমি মাতা-পিতার প্রতি সদাচার করব। কারণ,
১: আল্লাহ মাতাপিতার প্রতি বির বা সদাচার করারও ওসিয়ত (আদেশ) করেছেন। 
২. মাতাপিতার প্রতি সদাচার, আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত প্রিয় আমল।
৩. মাতাপিতাই সবচেয়ে বেশি উত্তম আচরণ-সদাচার পাওয়ার উপযুক্ত। অধিক হকদার। 
৪. তারা দুজন আমার প্রতি যে অবিশ^াস্য অনুগ্রহ করেছেন, তা কিঞ্চিত পরিমাণে হলেও ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা।
৫. ক্ষেত্রবিশেষে মাতাপিতার প্রতি সদাচার করা, জিহাদের চেয়েও বেশি ফজীলতপূর্ণ আমল।
৬. মাতাপিতা জান্নাতের মধ্যমতম দরজা। অর্থাৎ মাতাপিতার প্রতি সদাচারের ফলে, জান্নাতের সবচেয়ে উত্তম উৎকৃষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ হবে (আবুদ দারদা রা.। ইবনে মাজাহ ১৭১২)।
الوالدُ أوسَطُ أبوابِ الجنَّةِ فحافِظ علَى والديكَ أوِ اترُكْ
৭. আল্লাহ আমার হায়াত, রিযিকে বরকত দান করবেন। 
৮. আল্লাহ তাআলা আমার সংকট-দুর্যোগ দূর করবেন।
৯. আল্লাহ আমার গুরুতর পাপও মাফ করে দেবেন।
১০. আমার জন্য তাদের দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন।
১১. মাতাপিতাকে রাজিখুশি করতে পারলে, আল্লাহও আমার প্রতি রাজিখুশি হবেন।
১২. নবীজি সা. ও জিবরীল মিলে, মাতাপিতার সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ ব্যক্তি, জাহান্নামী হওয়ার বদদোয়া করেছিলেন। এই বদদোয়া থেকে মুক্তি পাবো।
১৩. মাতাপিতার প্রতি সদাচারের মাধ্যমে, মাতাপিতার প্রতি দুরাচার করার কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকতে পারব।
১৪. আমার সন্তানেরা আমার প্রতি সদাচার করবে।
রুগির শুশ্রƒষা
-
রুগি দেখতে গেলে নিয়ত করব,
১: আমার প্রতি মুসলিম ভাইয়ের হক আদায় করছি। 
২. জান্নাতের ফল ও বাগবাগিচা লাভ করবো।
৩. সত্তর হাজার ফিরিশতা আমার জন্য ইস্তেগফার করবেন।
৪. মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ পৌঁছাচ্ছি। তার মনোভার লাঘব করছি।
৫. দোয়ার মাধ্যমে মুসলিম ভাইয়ের উপকার করছি।
.
যিকরুল্লাহ: আল্লাহর যিকির
-
আল্লাহর যিকির করার সময় নিয়ত করব,
১: যিকির করছি কারণ, আল্লাহর যিকির শ্রেষ্ঠতম আমল। পবিত্রতম আমল। সবচেয়ে বুলন্দ মর্যাদার আমল।
২. ক্ষেত্রবিশেষে আল্লাহর রাস্তায় ইনফাক (ব্যয়) ও জিহাদের চেয়েও উত্তম।
৩. কলব যিন্দা হবে। মুর্দা দিলে রূহের সঞ্চার হবে।
৪. অন্তরে প্রশান্তি ও আরাম হাসিল হবে।
৫. শরীরে শক্তি ও উদ্যম হাসিল হবে।
৬. দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর হবে। মনটা ফুরফুরে হবে।
৭. আমি আল্লাহর যিকির করলে, আল্লাহও আমার যিকির করবেন। আমাকে স্মরণ করবেন।
৮. আল্লাহর মাইয়্যত বা সঙ্গ-সাহচর্য লাভ হবে।
.
বিয়েশাদি ও সন্তান লাভ
-
বিয়েশাদি ও সন্তানলাভের আগে নিয়ত করব,
১: বিয়ের মাধ্যমে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম সম্পদ ‘নেককার বিবি’ লাভ করব। 
২. সন্তান লাভের আগে ভাবব, নবীজি সা. কেয়ামতের দিন আমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্য উম্মাতের সাথে তুলনা করে গর্ব করবেন। আমি নবীজির উম্মতের সংখ্যা বাড়িয়ে তাকে গর্ব করার সুযোগ করে দিচ্ছি।
৩. নেকসন্তানের দোয়া লাভ করে, মৃত্যুর পরও উপকৃত হব।
৪. বিয়ের মাধ্যমে নজরের হেফাজত হবে। লজ্জাস্থান নিরাপদ থাকবে।
৫. কন্যাসন্তান জন্ম নিলে, তার প্রতিপালনের বরকতে, আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা দেবেন।
৬. একটি আদর্শ মুসলিম পরিবার গঠন করতে পারব।
.
.
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা
-
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার সময় নিয়ত করব,
১: আল্লাহ আমার রিযিকে বরকত দান করবেন। আমার সম্পদে বরকত দান করবেন। আমার হায়াতে বরকত দান করবেন।
২. মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ-খুশি পৌঁছাতে পারব।
.
.
সাদাকা
-
দান-সাদাকা করার সময় নিয়ত করব,
১: সাদাকা করলে, বিনিমেয় অনেকগুণ বেশি প্রতিদান পাবো।
২. একটি খেজুরের ছোট্ট অংশ দিয়ে হলেও, জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষিত থাকার ব্যবস্থা করব।
৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে সাদাকার পুণ্য লাভের জন্য, নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু দান করব।
৪. গোপন সাদাকায় আল্লাহর গযব-ক্রোধ প্রশমিত করে। 
৫. গোপন সাদাকার বরকতে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় লাভ করব। যেদিন আর কোনও আশ্রয় থাকবে না।
৬. সাদাকার মাধ্যমে মুসলিম ভাইয়ের দুর্যোগ-অনটন দূর করবো।
৭. মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ-খুশি প্রবেশ করাব।
৮. আমি সাদাকার করছি, কারণ উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।
.
.
পেশাগত কাজ ও উপার্জন
-
পেশাগত কাজকর্ম, চাকুরি, উপার্জন করার সময় নিয়ত করব,
১: মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য চাকুরি করছি।
২. যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার কাঁধে, তাদের জন্য প্রতি কর্তব্য পালন করব।
৩. মানুষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিয়ম-অবিচার, কষ্টে সবর করব।
৪. হালাল রিজিক খাওয়ার জন্য হালাল উপার্জন করব।
৫. হালাল উপার্জন ফরজে কেফায়া। কাজ করে ফরজ আদায় করবো। মানুষের উপকার করব।
.
.
উত্তম আখলাক
-
উত্তম আখলাক অর্জনের চেষ্টায় নিয়ত করব,
১: উত্তম আখলাকের মাধ্যমে সায়েম-কায়েম অর্থাৎ রোজাদার ও নামাজীর মর্যাদা লাভ করব।
২. উত্তম আখলাকের জন্য, নবীজি সা. বর্ণিত, জান্নাতের সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রাসাদের আশ^াস দিয়ে গেছেন। আমি সেই প্রাসাদ লাভ করব।
৩. উত্তম আখলাকের মাধ্যমে আমি মজলিসে নবীজির সবচেয়ে কাছের মানুষে পরিণত হব।
.
.
সিয়াম
-
সিয়াম পালনকালে আমি নিয়ত করব,
১: সিয়ামের মতো আর কোনও ইবাদত নেই।
২. সাওম শুধুই আল্লাহর জন্য। স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই সওমের প্রতিদান দেবেন। 
৩. রোজা আমার জন্য ঢালস্বরূপ হবে। চরিত্র রক্ষার কারণ হবে। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার এক সুরক্ষিত দুর্গ হবে।
৪. আল্লাহর কাছে আমার সপক্ষে সুপারিশ করবে।
৫. আমার খালিপেট থেকে নির্গত ‘গন্ধ’, আল্লাহর কাছে মিশকে আম্বরের চেয়েও বেশি সুরভিত মনে হবে।
৬. ইফাতিরর সময় আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন। 
৭. আল্লাহ আমার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে ১০০ হাত দূরে সরিয়ে রাখবেন।
৮. রোজামুখে খাতিমাহ বিল-খাইর হলে মানে ইন্তেকাল করলে, জান্নাতের সুবিখ্যাত দরজা, বাবুর রাইয়ান দিয়ে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
.
.
কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ
-
কুরআন কারীম তিলাওয়াত ও হিফজকালে নিয়ত রাখব,
১: আমি আল্লাহর আহল বা পরিবারভুক্ত ও খাস লোকে পরিণত হব।
২. কেয়ামতের দিন কুরআন আমার জন্য সুপারিশ করবে।
৩. প্রতিটি হরফে দশনেকী করে লাভ করব।
৪. পুণ্যবান সম্মানিত লেখক ফিরিশতাদের সাথে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করব।
৫. আমাকে সম্মাননার তাজ (মুকুট) পরানো হবে। মর্যাদাসূচক পোশাকে আচ্ছাদিত করা হবে। আমার মাতাপিতাকে জমকালো পোশাক পরানো হবে, দুনিয়াতে বসে যার যথাযথ মূল্য উপলব্ধি করা অসম্ভব। 
৬. আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুনে পোড়াবেন না।
৭. আল্লাহর কালাম পাঠের মাধ্যমে আমি মূলত আল্লাহর সাথেই কথা বলছি। কথা বলতে বলতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করছি।
৮. নির্জন কবরের নিঃসঙ্গ জীবনে কুরআন আমাকে সঙ্গ দিবে। সঙ্গী হবে।
.
ইলম তলবের নিয়ত
-
১. আল্লাহ আমাকে ইলম তলবের সুযোগ দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, আল্লাহ আমার কল্যাণ চান।
২. ফেরেশতারা আমার প্রতি বিনয়ন¤্র আচরণ করবেন। আমাকে তারা আদর মায়া দিয়ে বেষ্টন করে রাখবেন। আমার চলার পথকে তারা ডানা বিছিয়ে মসৃণ করে রাখবেন। আমাকে ছায়া দিয়ে যাবেন।
৩. আল্লাহর আমার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দিবেন।
৪. দুনিয়ার সবকিছু আমার জন্য ইস্তেগফার করবে। 
৫. আল্লাহ আমার মর্যাদা বুলন্দ করবেন। 
৬. আল্লাহর ভয় ও মহব্বতের মাকাম হাসিল হবে।
৭. আমার জাহালত বা অজ্ঞতা দূর হবে।
৮. ইলম অনুযায়ী আমলের তাওফিক হবে।
৯. নবীজি সা. ও তার অনুসারীদের আদর্শ জানা যাবে।
১০. দীনের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা যাবে। পরিপূর্ণ আত্মবিশ^াস নিয়ে দীনের এগিয়ে যাওয়া যাবে। 
.
দোয়ার নিয়ত
-
১. আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। 
২. আল্লাহর আদেশ পালন। 
৩. কল্যাণ অর্জন। 
৪. আল্লাহর গযব থেকে সুরক্ষা।
.
দুরূদ পাঠের নিয়ত
-
১. আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য দুরূদ পাঠ করলে, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন। আমার দশগুণ মর্যদা বুলন্দ করবেন। আমার জন্য দশটি নেকি লিখবেন। আমার দশটি গুনাহ মাফ করবেন।
২. ফেরেশতাগন আমার জন্য ক্ষমা, রহমতের দোয়া করবেন।
৩. আমার আত্মা পরিশুদ্ধ হবে। কলব সাফ হবে।
৪. কেয়ামতের দিন নাজাতের কারণ হবে।
৫. আমার দোয়া কবুলের কারণ হবে।
৬. আমার সবকিছুর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, এটা নিশ্চিত হবে।
৭. আমার প্রতি নবীজির মহব্বত বৃদ্ধি পাবে। আমার উপর নবীজির হকের কিছুটা হলেও আদায় হবে।
৮. আমার সবকিছুতে বরকত দেখা দেবে।
.
হজ ও ওমরার নিয়ত
-
১. ইসলামের একটি রোকন আদায়ের ফজীলত হাসিল হবে।
২. অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিহাদের ফজীলত অর্জন।
৩. হজ আমার আমলনামায় লিখিত সমস্ত গুনাহ ধ্বংস করে দেবে। হজশেষে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরব। 
৪. দারিদ্র্য ও পাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার মনোবল লাভ করব।
৫. আল্লাহ আমাকে নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করতে পারবেন।
.
বালা মুসিবতে আমার নিয়ত
-
১. বিপদে যা হারিয়েছি আল্লাহ তার উত্তম ক্ষতিপূরণ দান করবেন।
২. আল্লাহর আমার পাপমোচন করবেন। 
৩. আল্লাহ আমার মর্যাদা বুলন্দ করবেন। 
৪. আল্লাহ আমাকে বেহিসাব প্রতিদান দিবেন।
.
পানাহারের নিয়ত
-
১. খাবার থেকে অর্জিত শক্তি আল্লাহর ইবাদত আনুগত্যের জন্য সহায়ক হবে।
২. আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় করতে পারব।
৩. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য শরীর প্রস্তুত হবে।
৪. খাবারের আগে-পরে আল্লাহর যিকিরের সুযোগ হবে।
৫. বসে পানাহারের মাধ্যমে সুন্নত পালন হবে।
৬. পরিবার ও মুসলিম ভাইকে আহার করানোর মাধ্যমে সদকার সওয়াব পাবো।
.
ঘুমের নিয়ত
-
১. ঘুমের মাধ্যমে শরীর সুস্থ্য থাকবে। আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্যের শক্তি অর্জিত হবে।
২. শরীরেরও আমার ওপর হক আছে। ঘুমের মাধ্যমে সে হক আদায়ের ইবাদত করছি।
৩. সুস্থ্য দেহে ফজরে জাগ্রত হওয়ার জন্য বিশ্রাম করছি।
৪. ঘুমের যিকির আদায় করে সওয়াব লাভের সুযোগ পাচ্ছি।
৫. সুন্নত তরীকায় ঘুমুনোর মাধ্যমে নবীজি সা.-এর অনুসরণ করছি।
.
ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়ত
-
১. মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া।
২. ওলামায়ে কেরামের ইলমি মজলিসে শরিক হবো।
৩. ইসলাম প্রচার করব।
৪. সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজে নিষেধ করব।
৫. গুরুত্বের সাথে মুসলিম উম্মাহর খবরাখবর রাখব।
.
আমর বিল মারূফ, নাহি আনিল মুনকার ও দাওয়া ইলাল্লাহ
-
১. এই কাজের মাধ্যমে আমি শ্রেষ্ঠ উম্মতের একজন হবো। যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের উপকারের জন্য। 
২. নবি ও রাসূলগনের পালন করে যাওয়া দায়িত্বভার পালনের সম্মান অর্জন করব।
৩. আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সুন্দর কথার অধিকারী বান্দা হবো।
৪. মানুষের হেদায়াতের উসিলা হবো। তাদের আমলের সওয়াবের শরিক হবো।
৫. কল্যাণের চাবি হয়ে, জান্নাতি তুবা বৃক্ষের মালিক হবো।
৬. দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত হবো। 
৭. আযাব ও ধ্বংস হওয়া থেকে নাজাত পাবো।
.
জানাযা, কবর যেয়ারত ও সান্ত¡না প্রদানের নিয়ত
-
১. লজ্জাস্থান ঢেকেঢুকে যে ব্যক্তি মাইয়েতের গোসল করাবে, আল্লাহও তার গুনাহ ঢেকে রাখবেন। 
২. মাইয়েতকে যে ব্যক্তি কাফন পরাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতি রেশমি পোশাক পরাবেন। 
৩. যে ব্যক্তি মাইয়েতের জন্য কবর খোদাই করবে ও দাফন করবে, আল্লাহর তার জন্য সওয়াব জারি করে দেবেন (কথা বাকি আছে ৫৪)। 
৪. কলব নরম হবে। চোখ অশ্রুসজল হবে। আখেরাতের কথা স্মরণ হবে। 
৫. আমার প্রতি মুসলিম ভাইয়ের হক আদায় হবে।
৬. জানাযা ও দাফনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে দুই কিরাত সওয়াব হাসিল হবে। 
৭. মৃত ভাইয়ের জানাযায় অংশগ্রহণ করে তার জন্য দোয়ার উসিলায় আল্লাহ ভাইটির গুনাহ মাফ করবেন।
.
পোশাক পরার নিয়ত
-
১. পোশাকের দোয়া পড়ার সওয়াব মিলবে।
২. আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় করার সুযোগ হবে।
৩. সুন্নত তরীকায় পোশাক পরার মাধ্যমে নবিজির সুন্নত জিন্দা করার সওয়াব হবে। 
৪. আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। নেকনিয়তে সুন্দর পোশাক পরাও ইবাদত।
.
আল্লাহর জন্য মুসলিম ভাইকে দেখতে যাওয়া
-
১. পরস্পর মিল-মহব্বত, সৌহার্দ্য সম্প্রীতি সৃষ্টি করা।
২. মুসলিম ভাইয়ের কলবে আনন্দ উদ্রেক করা।
৩. তার সাথে মুসাফার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হবে।
৪. আল্লাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা (ব্যাখ্যাসাপেক্ষ ৫৭)। 
.
আনন্দভ্রমণের নিয়ত
-
১. আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতে শক্তি ও উৎসাহ লাভের জন্য নিজের মনকে প্রফুল্ল করা।
২. আল্লাহর সৃষ্টি ও আল্লাহর বড়ত্ব সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা। 
৩. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা। 
.
.
রব্বে কারীম কবুল করুন। আমীন।
শায়েখ: Atik Ullah হাফিজাহুল্লাহ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন