আছমা বিনতে আবু বকর কেন দান করার আগে আতর মাখাতেন?

 

মহীয়সী আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) দান করার আগে, কেন তিনি আতর মাখাতেন? এক ঈমানদীপ্ত ইতিহাস...
ইসলামের ইতিহাসে এমন এক মহীয়সী নারী ছিলেন, যিনি দান করার আগে তাতে সুগন্ধি মেখে দিতেন। কেন তিনি এমন করতেন? তাঁর সেই ঈমানদীপ্ত কারণটি জানলে আমাদের দানের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে যাবে।
আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) যখনই কাউকে কিছু দান করতেন, তাতে যত্ন করে সুগন্ধি বা আতর মাখিয়ে দিতেন। একবার তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন এক উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
"দান গ্রহীতার হাতে পৌঁছানোর আগে তা আল্লাহর হাতে পৌঁছে যায়। আর আমি চাই আমার দানটি আল্লাহর দরবারে সুগন্ধিযুক্ত অবস্থায় পৌঁছাক।"
তথ্যসূত্র ও দলিলঃ-
এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে,
📚মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা হাদিস নম্বর: ১২৪৪৫।
📚হিলইয়াতুল আউলিয়া (আবু নুয়াইম) খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫৫।
📚আল-ইসাবা (ইবনে হাজার আসকালানি) আসমা বিনতে আবি বকরের জীবনী অংশ।
🕋কে এই মহীয়সী নারী? 
আসমা (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের এক অকুতোভয় ও ত্যাগী ব্যক্তিত্ব।
তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কন্যা এবং উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর বড় বোন।
উপাধি (জাতুন নাতাকাইন) মদিনা হিজরতের সময় রাসূল (ছা.) ও তাঁর পিতার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় কাপড়ের অভাবে নিজের কোমরবন্ধ ছিঁড়ে দস্তরখান তৈরি করেছিলেন। এই ত্যাগের কারণে রাসূল (ছা.) তাঁকে 'জাতুন নাতাকাইন' বা 'দুই কোমরবন্ধের অধিকারী' উপাধি দেন।
প্রথম হিজরতকারী শিশু! মদিনায় হিজরত করার পর মুসলমানদের প্রথম যে সন্তানটি জন্ম নেয়, তিনি হলেন আসমা (রা.)-এর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)।
জীবনের শেষ প্রান্তে ১০০ বছর বয়সেও তিনি তাঁর পুত্রকে বাতিলের সামনে মাথা নত না করার যে নসিহত করেছিলেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের প্রেরণা জোগাবে।
এই আমল থেকে আমাদের শিক্ষাঃ-
📍নিয়তের বিশুদ্ধতাঃ- দান কেবল মানুষের উপকার নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর সাথে একটি আধ্যাত্মিক লেনদেন।
📍উত্তম উপস্থাপনাঃ- 
অভাবীকে অবজ্ঞা করে নয়, বরং সম্মান ও ভালোবাসার সাথে দান করা উচিত।
📍সেরাটি দেওয়াঃ- নিজের সবচেয়ে প্রিয় বা সুন্দর জিনিসটি আল্লাহর পথে খরচ করার মানসিকতা রাখা।
"তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো।"
(সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯২)
আসুন, আমরা আমাদের দানগুলোকে কেবল লৌকিকতা নয়, বরং মহান আল্লাহর কাছে সুন্দরভাবে পেশ করার মাধ্যম বানাই। আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন। আমিন।
      #salafisagor 
© সাগর হারুন রশিদ সালাফী   
 বিদ'আতের অন্ধকারে সুন্নাহর মশাল।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন