মসজিদে নববীর এই জায়গা কিনতে অর্থ ব্যয় করেছিলেন হযরত আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাঃ)

 মসজিদে নববীর এই জায়গা কিনতে অর্থ ব্যয় করেছিলেন হযরত আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাঃ)।


তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তার কাছে প্রায় ৪০ হাজার দিরহাম ছিল। বর্তমান হিসেবে ধরলে আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকার মতো হবে। কিন্তু এই সম্পদ তিনি নিজের জন্য জমা রাখেননি… সবটাই আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে দেন। মৃতুকালে তার সম্পদে একটা দীনার বা দিরহামও পাওয়া যায়নি। 


ইসলামের শুরুর যুগে বহু সম্মানিত সাহাবী দাসত্বে আবদ্ধ ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) তাদের কিনে কিনে মুক্ত করে দিতেন।


রাসূল (সাঃ) এর প্রিয় সাহাবী, প্রিয় মুয়াজ্জিন বিলাল ইবনে রাবাহ তিনিও ছিলেন এক নির্যাতিত গোলাম। উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে রেখে “আহাদ! আহাদ!” বলাতে বাধ্য করা হতো যাকে।

সেই বিলাল (রাঃ) কে কিনে মুক্ত করে দেন আবু বকর (রাঃ)।

তেমনি আমির ইবনে ফুহাইরা, উম্মে উবাইস (রাঃ) সহ আরও অনেককে তিনি স্বাধীনতার স্বাদ দেন।


সাহাবী নামের বাগানে আবু বকর নামের ফুল ছিলো রাসূল (সাঃ) কাছে এর সবচেয়ে কিমতি, সবচেয়ে প্রিয়।


একবার আবু বকর আস-সিদ্দীক ও উমর ইবনে খাত্তাব এর মাঝে কোনো এক বিষয়ে কথা-কাটাকাটি হয়ে গেল। আবু বকর (রাঃ) প্রথমে কিছু কঠোর কথা বলে ফেললেন। তারপরই তিনি অনুতপ্ত হয়ে পড়লেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উমর (রাঃ) এর কাছে ক্ষমা চাইতে গেলেন। কিন্তু উমর (রাঃ) তখনও রাগান্বিত ছিলেন তিনি ক্ষমা করলেন না। 


মনের ব্যথা মেহবুবের মজলিস ছাড়া আর কোথায় ব্যক্ত করা যায়। এজন্য আবু বকর (রাঃ) চলে গেলেন রাসূল (সাঃ) এর দরবারে। 


নবীজিকে সালাম করে বললেন, হুযুর! আমার ও উমর ইবনে খাত্তাবের মাঝে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। আমি আগে কঠোর কথা বলেছি পরে আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাই আমি আপনার কাছে এসেছি।


রাসুলে আকরাম (সাঃ) তার কিমতি ফুলকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন—


يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ يَا أَبَا بَكْرِ

আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, হে আবু বকর! 


এরপর উমর (রাঃ)ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বকর (রাঃ) এর ঘরে গেলেন। সেখানে তাঁকে না পেয়ে তখন তিনি রাসূল (সাঃ) এর কাছে চলে এলেন। উমরকে দেখে নবীজির চেহারায় অসন্তোষের ভাব প্রকাশ পেল। আবু বকর (রাঃ) ভয় পেয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমিই প্রথম অন্যায় করেছি। 


তখন নবীজি বললেন: 


আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তখন তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিলে, আর আবু বকর বলেছিল সত্যবাদী। সে তার জান ও মাল দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার এই সাথীকে (কষ্ট দেওয়া থেকে) বিরত থাকবে না?


এই কথাটা রাসূল দুইবার বললেন। এরপর থেকে আর কখনো আবু বকর (রাঃ) কে কষ্ট দেওয়া হয়নি। 

 

যত সীরাত পড়ি ততই দু'জন ব্যক্তিত্বের উপর মুগ্ধ হই। একজন হযরত আবু বকর ও অন্যজন তারই প্রিয় কন্যা আয়শা। যেমন বাপ তেমনি তার বেটি। ইসলামের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাসূলের অন্তরের প্রাশান্তি। 🌹💚

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন