আপনি হয়তো শুনেছেন — "বেশি বেশি ইস্তিগফার করো, রিজিক বাড়বে।"
কিন্তু মনে মনে প্রশ্ন জাগে — "ক্ষমা চাইলে টাকা আসবে কীভাবে? এর মধ্যে সম্পর্কটা কোথায়?"
এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন — কুরআনে। একজন নবীর মুখ দিয়ে। সেই নবী হলেন নূহ (আ.)।
নূহ (আ.)-এর দাওয়াতের কৌশল
নূহ (আ.) ৯৫০ বছর তাঁর জাতিকে দাওয়াত দিয়েছেন। দিনে, রাতে, প্রকাশ্যে, গোপনে — সব পথে চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু তিনি শুধু "আল্লাহকে বিশ্বাস করো" বলেননি। তিনি একটা বিশেষ কথা বলেছিলেন — যেটা শুনলে অবাক লাগে।
তিনি বললেন, "ইস্তিগফার করো — তোমাদের আসমান থেকে বৃষ্টি আসবে, তোমাদের সম্পদ বাড়বে, তোমাদের সন্তান বাড়বে।"
এটা কোনো গল্প না। এটা কুরআনের আয়াত।
আল্লাহ বলেছেন —
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
উচ্চারণ: ফাকুলতুস তাগফিরূ রাব্বাকুম ইন্নাহু কানা গাফফারা। ইউরসিলিস সামাআ আলাইকুম মিদরারা। ওয়া ইউমদিদকুম বিআমওয়ালিও ওয়া বানীনা ওয়া ইয়াজআল লাকুম জান্নাতিও ওয়া ইয়াজআল লাকুম আনহারা।
"আমি বললাম, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও — নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি পাঠাবেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান তৈরি করবেন এবং নদী প্রবাহিত করবেন।"
(সূরা নূহ: ১০-১২)
এই আয়াতে আল্লাহ একটা কাজের বিনিময়ে পাঁচটা জিনিস দেওয়ার কথা বলেছেন —
এক — আকাশ থেকে বৃষ্টি।
দুই — সম্পদ বৃদ্ধি।
তিন — সন্তান বৃদ্ধি।
চার — বাগান অর্থাৎ শান্তিময় জীবন।
পাঁচ — নদী অর্থাৎ রিজিকের প্রবাহ।
সেই একটা কাজ হলো — ইস্তিগফার।
ইস্তিগফার ও রিজিকের সম্পর্ক — আসলে কী ঘটে?
গুনাহ রিজিকের পথ বন্ধ করে দেয়। এটা শুধু ধর্মীয় কথা না — এটা আল্লাহর বিধান।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই মানুষ গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।"
(ইবনে মাজাহ: ৪০২২, হাসান)
গুনাহ একটা দেয়ালের মতো — রিজিকের দরজা খোলা আছে, কিন্তু দেয়ালের কারণে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ইস্তিগফার সেই দেয়াল ভাঙে।
আর বৃষ্টির কথা যে আয়াতে এলো — সেটাও গভীর। বৃষ্টি মানে শুধু পানি না। বৃষ্টি মানে ফসল, বৃষ্টি মানে জীবন, বৃষ্টি মানে রিজিকের মূল উৎস। যখন আসমানের দরজা ক্ষমার কারণে খুলে যায় — রিজিকের দরজাও খুলে যায়।
দৈনিক ইস্তিগফারের আমল
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন।
(সহীহ বুখারি: ৬৩০৭)
তিনি যাঁর কোনো গুনাহ নেই — তিনি এত ইস্তিগফার করতেন। আমাদের কতটুকু করা উচিত — সেটা নিজেই ভাবুন।
সবচেয়ে সহজ ইস্তিগফার —
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার — সবচেয়ে উত্তম —
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাস্তাতা'তু আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা'তু আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযান্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার দাস। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকারে আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি, আমার গুনাহও স্বীকার করছি। আমাকে ক্ষমা করুন — আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।
(সহীহ বুখারি: ৬৩০৬)
কখন পড়বেন?
সকালে ফজরের পর — কমপক্ষে ১০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ।
রাতে ঘুমানোর আগে — একবার সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার।
যেকোনো কাজের ফাঁকে — যানজটে, রান্নায়, হাঁটতে হাঁটতে।
এক নজরে — আজকের শিক্ষা
১. নূহ (আ.) ইস্তিগফারকে রিজিকের চাবিকাঠি বলেছেন — সূরা নূহ: ১০-১২।
২. গুনাহ রিজিকের পথ বন্ধ করে, ইস্তিগফার সেই পথ খুলে দেয়।
৩. রাসূল (সা.) প্রতিদিন ৭০-১০০ বার ইস্তিগফার করতেন।
৪. সবচেয়ে সহজ আমল — আস্তাগফিরুল্লাহ, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়।
©Ekram Hossain - ইকরাম হোসাইন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন