চোখের যিনা গায়রে মাহরামকে দেখা
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, চোখ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, আর চোখের ব্যভিচার হলো গায়রে মাহরামকে দেখা। কানও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, কানের ব্যভিচার হচ্ছে হারাম বিষয় শোনা। জিহ্বাও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, জিহ্বার ব্যভিচার হলো গুনাহের কথা বলা। হাতও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা।
আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অত্যধিক আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন। আল্লাহ তা'আলা আমার থেকেও বেশি আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন সত্তা। আল্লাহ তা'আলা তাঁর মর্যাদার কারণেই প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীল কাজকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন।
আমরা হাদীস থেকে বুঝতে পারলাম যে, পাপের কাজ আল্লাহ তা'আলার কাছে চরম অপছন্দের। তাই গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা আপন রহমত থেকে বঞ্চিত করেন।
বান্দার উচিত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনে মনোযোগী হওয়া। আল্লাহভীরু ব্যক্তি গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। ফলে সে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করে।
কোরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
আল্লাহ তা'আলা মুত্তাকীদের ভালোবাসেন।
আরেক আয়াতে বলেন-
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
জেনে রেখো, আল্লাহ তা'আলা মুত্তাকীদের সঙ্গেই আছেন।
মুত্তাকীদের জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ কত বড় সুসংবাদ দিয়েছেন! আল্লাহভীরুগণ দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলার ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জন করেন।
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন-
وَ نَفْسٍ وَّ مَا سَوّٰهَا. فَأَلْهَمَهَا فُجُوْرَهَا وَ تَقْوٰهَا. قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكّٰهَا. وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰهَا
শপথ মানুষের নফসের এবং যিনি তাকে সবদিক থেকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। অতঃপর তিনি তার নফসের মধ্যে ভালো-মন্দের ভিত্তি দিয়েছেন। যে নফসকে পবিত্র করে সে নিশ্চিত সফলকাম হয় আর যে তাকে কলুষিত করে সে ব্যর্থমনোরথ হয়। (সূরা শামস, আয়াত: ৭-১০)
আসলে মুমিনের অন্তরে যে নূর রয়েছে, তা সেই নূর যা দ্বারা বান্দা তার রবের সন্তুষ্টি লাভে নিজেকে ধন্য করবে। এছাড়াও কলব যখন আলোকিত হবে, তখন আল্লাহ তা'আলার রহমত তার প্রতি চারদিক থেকে আসতে থাকবে। আর কলব যখন গুনাহের কারণে কলুষিত হয়ে যায়, তখন অকল্যাণ ও বিপদের মেঘমালা সকল দিক থেকেই তার প্রতি অগ্রসর হয়।
অবশেষে কলবের নূরের বিলুপ্তি ঘটে এমন অন্ধকার হয়ে যায় যে, সে আলোহীন জীবনে প্রবেশ করে।
ব্যক্তির উপর গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। গুনাহের কারণে ব্যক্তির আত্মা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। অন্তরকে ছোট মনে হয় সর্বদা। নানা প্রকার বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ভালো কাজের শক্তি, সাহস ও সামর্থ্য হ্রাস পায়। এখন প্রশ্ন হতে পারে- দুনিয়াতে পাপিষ্ঠরাই গড়ে তুলেছে বিত্ত-বৈভবের সম্রাজ্য! তারা স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন-যাপন করছে! কত আনন্দে আছে!
হ্যাঁ, এমনটা আমরা দেখছি; অসত্য নয়। তবে এটা মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাদের পাকড়াও করার কৌশল মাত্র। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বহু স্থানে এ ব্যাপারে বলেছেন-
وَاُمْلِىْ لَهُمْؕ اِنَّ كَيْدِىْ مَتِيْنٌ
আমি তাদের সময় দিই। নিশ্চয়ই আমার কৌশল মজবুত। (সূরা কলম, আয়াত: ৪৫)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّمَا نُمْلِىْ لَهُمْ خَيْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْؕ اِنَّمَا نُمْلِىْ لَهُمْ لِيَزْدَادُوْۤا اِثْمًا ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
কাফেররা যেন মনে না করে যে, আমি যে অবকাশ দান করি, তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। আমি তো তাদের অবকাশ দান করি যাতে করে তারা পাপে উন্নতি লাভ করতে পারে। বস্তুত তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৮)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন