তায়েফের মানুষের নিষ্ঠুর আচরণে আহত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন 'নাখলা' নামক একটি স্থানে পৌঁছালেন, তখন রাত গভীর হয়ে এসেছিল। তিনি সেখানে বিশ্রামের জন্য থামলেন এবং রাতের সালাতে (তাহাজ্জুদ) দাঁড়িয়ে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে শুরু করলেন।
সেই সময় আল্লাহ তাআলার নির্দেশে একদল জ্বিন সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা ছিল নাসীবীন অঞ্চলের জ্বিন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুললিত কণ্ঠের কুরআন তেলাওয়াত শুনে তারা থমকে দাঁড়াল। তারা একে অপরকে বলতে লাগল, "চুপ করো, মনোযোগ দিয়ে শোনো!"
পবিত্র কুরআনের অলৌকিক বাণী তাদের হৃদয়ে এমনভাবে দাগ কাটল যে, সালাত শেষ হওয়া মাত্রই তারা সত্য বুঝতে পারল। তারা বুঝতে পারল যে এটি কোনো মানুষের কথা নয়, বরং মহান রবের বাণী—যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব মূসা (আ.)-এর তাওরাতের সত্যায়ন করে এবং সঠিক পথের দিশা দেয়।
সেই রাতেই তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করল। তারা কিন্তু কেবল নিজেরা ইসলাম গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং দ্রুত নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে সতর্ককারী হিসেবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিল। তারা গিয়ে বলল:
> "হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাব (কুরআন) শুনেছি যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, যা সত্য পথ ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে।"
>
রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথমে বুঝতে পারেননি যে তাঁর পেছনে জ্বিনরা দাঁড়িয়ে কুরআন শুনছে। পরবর্তীতে মহান আল্লাহ সূরা আল-আহকাফ এবং সূরা আল-জ্বিন অবতীর্ণ করে তাঁকে এই সুসংবাদ জানান।
এই ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য ছিল এক বিশাল সান্ত্বনা। তায়েফের মানুষ তাঁকে পাথর মেরে তাড়িয়ে দিলেও, অন্য এক জগতের সৃষ্টি (জ্বিন জাতি) তাঁর দাওয়াত কবুল করে ধন্য হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের দাওয়াত কেবল মানুষের জন্য নয়, বরং জিন ও ইনসান—উভয় জগতের জন্যই।
উৎস: আর-রাহীকুল মাখতূম (মহিমান্বিত ফোয়ারা) — শাইখ সফিউর রহমান মোবারকপুরী*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন