তাহাজ্জুদ এমন এক নামাজ যে নামাজের দোয়া বিফলে যায় না

 

এশা ও ফজর নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে কোনো ফরজ নামায নেই। কাজেই এশার নামায যদি প্রথম ওয়াক্তে কিংবা অল্প দেরিতে আদায় করা হয়, তবে ফজর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পাওয়া যায়। গভীর রাতে পরিবেশ যেরূপ প্রশান্তিময় হয় অন্য সময় তা হয় না। 


যদি কেউ এশা পড়ে সাথে সাথে নিদ্রা যায় এবং রাতের শেষাংশে জাগ্রত হয়ে নামায আদায় করে তখন যে একাগ্রতা নসীব হয়, তা অন্য সময় সম্ভব নয়। তা ছাড়া এ সময় শয্যা ত্যাগ করে নামায আদায় করা প্রবৃত্তিকে বশীভূত করা ও শাসনের একটি মাধ্যম। যেমন কুরআন মজীদে উল্লেখ করা হয়েছে - “অবশ্য রাতের উত্থান প্রবৃত্তি দমনে প্রবলতর এবং বাক্য স্ফুরণে সঠিক।” (সূরা মুযযাম্মিল ৬)


অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- “এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করবে, এ হলো তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।”

(সূরা বনী ইসরাঈল ৭৯)


হাদীস শরীফে এসেছে- হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি সদয় হন, যে রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তাহাজ্জুদের জন্য এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়। আর যদি স্ত্রী উঠতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ সেই নারীর প্রতিও সদয় হন যে রাতে ঘুম থেকে ওঠে, তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে এবং নিজের স্বামীকেও তাহাজ্জুদের জন্য জাগায়। আর যদি স্বামী উঠতে অস্বীকৃতি জানায় তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। 

(আবু দাউদ হাদীস নং ১৩০৮) 


হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘ফরজ নামাযের পর সর্বোৎকৃষ্ট নামায হলো তাহাজ্জুদের নামায। 

(মুসলিম হাদীস নং ১৯৯০) 


হযরত আমর ইবনে আবাসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘আল্লাহ তা’আলা রাতের শেষ প্রহরে বান্দার সর্বাধিক নিকটবর্তী হন। কাজেই ওই মোবারক সময়ে আল্লাহর যিকির করা সম্ভব হলে তখন তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও’। (তিরমিযী হাদীস নং ৩৫৩৩)


হযরত আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘তোমাদের তাহাজ্জুদের নামায আদায় করা উচিত। কেননা তা তোমাদের পূর্বেকার সজ্জনদের প্রতীক এবং তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। নামাজ গোনাহসমূহ বিমোচনকারী এবং গোনাহের প্রতিবন্ধক’। 

(তিরমিযী হাদীস নং ৩৫৪৯)


বর্ণিত আছে, রাতের শেষভাগে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর আকাশে এসে তার বান্দাদের এই বলে ডাকতে থাকেন যে, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে গুনাহ মাফ করতে চায়, আমি তাকে মাফ করে দেব। তোমাদের মধ্যে কে আছে যে রিজিক চায়? আমি তাকে রিজিক দিব। আল্লাহু আকবার! 


তাহাজ্জুদ এমন এক নামাজ, যেই নামাজের দোয়া বিফলে যায় না। আল্লাহ তার বান্দাকে ফিরিয়ে দেন না। তাই আমাদের সকলের উচিত পাঁচ ওয়াকতো নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদের অভ্যাস করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই তাওফিক দেন, আমীন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন