ইসলামে বাপ-দাদার দোহাই চলে না

 

বাপ-দাদার ধর্মের সম্মান রক্ষার জন্য নবীজি ﷺ এর প্রিয় চাচা, আবু তালেব কাফির অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করেছেন‼️
বাপ-দাদার ধর্ম টিকিয়ে রাখার জন্য আবু জেহেল, আবু লাহাব কাফের হয়ে মরেছে 💔
আমাদের সমাজে এখনো বাপ-দাদার অজুহাত দেয়া হয়🚦
আবু তালিবের মৃত্যুর সময় এই আবু জেহেল, আবু লাহাবরাই বলেছিল কালেমা পড়ে বাপ-দাদার মুখে চুনকালি দিও না, এজন্য আবু তালিব ঈমান নিয়ে মরতে পারেনাই। যদিও তিনি নবীজি ﷺ এর প্রিয়তম চাচাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন❗
আবু তালেব জানতো কুরআন আল্লাহর বানী, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী ♥️
তবুও বাপ-দাদার মুখে চুনকালি পড়বে ভেবে সত্য মেনে নিতে পারে নাই তাই কাফের হয়ে মরতে হয়েছে ✅
এখনো কিছু লোক আছে যারা কুরআন সুন্নাহর স্পষ্ট দলিল পাওয়ার পরও ইসলামে বাপ-দাদার দোহাই দেয় 🚩
মাইন্ড করবেন না আর কিছুতে বাপদাদার দোহাই দেননা কেন❓
কুরআন হাদিসের রেফারেন্স দিলেই বলেন বাপের জন্মে এসব শুনেন নাই‼️
শুনবেন কি করে❓
শুনেছেন তো শুধু কিছু ভ্রান্ত হুজুরদের আজগুবি কিচ্ছা কাহিনী 💥
এখন শুনার সুযোগ হয়েছে শুনে নিন
যাচাই করে দলিল মিলিয়ে নিন🚦
যার কথা কুরআন হাদিস সম্মত তারটা গ্রহন করুন বাকিটা ছুড়ে ফেলে দিন ✅
ইসলামে বাপ-দাদার দোহাই চলে না ❎
বাপ-দাদার দোহাই দেয়া ওয়ালাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে বলেন-
2:170
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّبِعُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ قَالُوۡا بَلۡ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلۡفَیۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ اٰبَآؤُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ شَیۡئًا وَّ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۱۷۰﴾
Bengali - Taisirul Quran
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ঐ জিনিসের অনুসরণ কর যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই উপর চলব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই বুঝত না এবং সঠিক পথে চলত না তবুও।
📗 আল বাকারাহঃ 170
5:104
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا اِلٰی مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَ اِلَی الرَّسُوۡلِ قَالُوۡا حَسۡبُنَا مَا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ اٰبَآؤُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا وَّ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۱۰۴﴾
Bengali - Taisirul Quran
তাদেরকে যখন বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে ও রসূলের দিকে এসো (তখন) তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে যা করতে দেখেছি (যে পথ ও পন্থা অবলম্বন করতে দেখেছি) আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিল না (তবুও কি তারা তাদের পথেই চলবে)?
📗 আল মায়িদাহঃ 104
31:21
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّبِعُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ قَالُوۡا بَلۡ نَتَّبِعُ مَا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ الشَّیۡطٰنُ یَدۡعُوۡہُمۡ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیۡرِ ﴿۲۱﴾
Bengali - Taisirul Quran
তাদেরকে যখন বলা হয়- আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ কর, তখন তারা বলে- বরং আমরা তারই অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যে পথ অনুসরণ করতে দেখেছি। শয়ত্বান যদি তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি (তারা তারই অনুসরণ করবে)?
📗সুরা লুকমানঃ 21
বাপ-দাদার হিসাব বাপ-দাদারা দিবেন। আপনার হিসাব আপনাকে দিতে হবে। এটা কিন্তু ১০০% সত্য🌛
এরপরও যারা ওহীর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আসলে প্রকৃতপক্ষে এরাই আবু জেহেল, আবু লাহাবের উত্তরসূরী
কিছু নমুনা দেখুনঃ-
(১) বাপ-দাদারা কি এতদিন ভুল করে এসেছেন❓
(২) অধিকাংশ মানুষই কি ভুল করে
আসছেন❓
(৩) এত বড় বড় আলেম তো এভাবেই বলে আসছেন, আমল করে আসছেন! তারা কি ভুল করে গেছেন❓
মূলত এই তিনটি অজুহাতে মানুষ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর দাওয়াতকে পরিত্যাগ করে❗
মনে রাখতে হবে “অধিকাংশ” কোন দলীল নয়; দলীল হল কুরআন ও সহীহ হাদিস ♥️
আল্লাহ ভালো করেই জানেন (তিনি পূর্ব পর সবই অবগত) ভবিষ্যতে এমন প্রশ্ন আসবে তাই নিদর্শন রেখে অজুহাত বন্ধ করে দিয়েছেন🌛
অধিকাংশের ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে বলেছেন-👇
“অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাপার সম্পর্কে অবগত নয়”
[সূরা ইউসুফ : ৬৮]
“অধিকাংশ লোকই অবগত নয়”
[সূরা আনআম : ৩৭]
“অধিকাংশই অজ্ঞ”
[সূরা আনআম : ১১১]
“অধিকাংশই জানে না”
[সূরা আরাফ : ১৩১]
“তুমি যতই প্রবল আগ্রহ ভরে চাও না কেন, মানুষদের অধিকাংশই ঈমান আনবে না”
[সূরা ইউসুফ:১০৩]
“আমি তোমার নিকট সুস্পষ্ট আয়াত নাজিল করেছি, ফাসিকরা ছাড়া অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না; বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান রাখে না”
[সূরা বাকারাহ:৯৯-১০০]
“আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী”
[সূরা যুখরুফ:৭৮]
“তাদের অধিকাংশকেই আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি,বরং অধিকাংশকে ফাসিকই পেয়েছি”
[সূরা আরাফ : ১০২]
“তুমি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরন কর তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে, তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানের অনুসরন করে চলে তারা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই করেনা”
[সূরা আনআম :১১৬]
“অধিকাংশ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে’’
[সূরা ইউসুফ : ১০৬]
“আমি কি তোমাদের জানাব কাদের নিকট শয়তানর অবতীর্ণ হয়❓
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট।ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী’’
[সূরা শু’আরা:২২১-২২৩]
“তারা তাদের পিতৃ-পুরুষদের বিপথগামী পেয়েছিল। অতঃপর তাদেরই পদাংক অনুসরন করে ছুটে চলেছিল। এদের আগের লোকদের অধিকাংশই গোমরাহ হয়ে গিয়েছিল”
[সূরা সাফফাত :৬৯-৭১]
সুতরাং হে আমার মুসলিম ভাই/বোন!
আসুন আমরা অধিকাংশের, বাপ-দাদার, পুর্ব পুরুষদের অজুহাত বাদ দিয়ে ””কুরআন” ও “সহীহ সুন্নাহর অনুসরন করি। আর সেটাই সকলের জন্য উত্তম ও কল্যানকর ♥️
আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন।🤲
♥️আমীন♥️

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন