বাপ-দাদার ধর্মের সম্মান রক্ষার জন্য নবীজি ﷺ এর প্রিয় চাচা, আবু তালেব কাফির অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করেছেন
আমাদের সমাজে এখনো বাপ-দাদার অজুহাত দেয়া হয়
আবু তালিবের মৃত্যুর সময় এই আবু জেহেল, আবু লাহাবরাই বলেছিল কালেমা পড়ে বাপ-দাদার মুখে চুনকালি দিও না, এজন্য আবু তালিব ঈমান নিয়ে মরতে পারেনাই। যদিও তিনি নবীজি ﷺ এর প্রিয়তম চাচাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন
আবু তালেব জানতো কুরআন আল্লাহর বানী, মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী
তবুও বাপ-দাদার মুখে চুনকালি পড়বে ভেবে সত্য মেনে নিতে পারে নাই তাই কাফের হয়ে মরতে হয়েছে 
এখনো কিছু লোক আছে যারা কুরআন সুন্নাহর স্পষ্ট দলিল পাওয়ার পরও ইসলামে বাপ-দাদার দোহাই দেয় 
মাইন্ড করবেন না আর কিছুতে বাপদাদার দোহাই দেননা কেন
কুরআন হাদিসের রেফারেন্স দিলেই বলেন বাপের জন্মে এসব শুনেন নাই
শুনবেন কি করে
শুনেছেন তো শুধু কিছু ভ্রান্ত হুজুরদের আজগুবি কিচ্ছা কাহিনী 
এখন শুনার সুযোগ হয়েছে শুনে নিন
যাচাই করে দলিল মিলিয়ে নিন
যার কথা কুরআন হাদিস সম্মত তারটা গ্রহন করুন বাকিটা ছুড়ে ফেলে দিন 
ইসলামে বাপ-দাদার দোহাই চলে না 
বাপ-দাদার দোহাই দেয়া ওয়ালাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে বলেন-
2:170
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّبِعُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ قَالُوۡا بَلۡ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلۡفَیۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ اٰبَآؤُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ شَیۡئًا وَّ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۱۷۰﴾
Bengali - Taisirul Quran
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ঐ জিনিসের অনুসরণ কর যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই উপর চলব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই বুঝত না এবং সঠিক পথে চলত না তবুও।
5:104
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا اِلٰی مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَ اِلَی الرَّسُوۡلِ قَالُوۡا حَسۡبُنَا مَا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ اٰبَآؤُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا وَّ لَا یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۱۰۴﴾
Bengali - Taisirul Quran
তাদেরকে যখন বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে ও রসূলের দিকে এসো (তখন) তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে যা করতে দেখেছি (যে পথ ও পন্থা অবলম্বন করতে দেখেছি) আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিল না (তবুও কি তারা তাদের পথেই চলবে)?
31:21
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اتَّبِعُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ قَالُوۡا بَلۡ نَتَّبِعُ مَا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوۡ کَانَ الشَّیۡطٰنُ یَدۡعُوۡہُمۡ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیۡرِ ﴿۲۱﴾
Bengali - Taisirul Quran
তাদেরকে যখন বলা হয়- আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ কর, তখন তারা বলে- বরং আমরা তারই অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যে পথ অনুসরণ করতে দেখেছি। শয়ত্বান যদি তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি (তারা তারই অনুসরণ করবে)?
বাপ-দাদার হিসাব বাপ-দাদারা দিবেন। আপনার হিসাব আপনাকে দিতে হবে। এটা কিন্তু ১০০% সত্য
এরপরও যারা ওহীর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় আসলে প্রকৃতপক্ষে এরাই আবু জেহেল, আবু লাহাবের উত্তরসূরী
কিছু নমুনা দেখুনঃ-
(১) বাপ-দাদারা কি এতদিন ভুল করে এসেছেন
(২) অধিকাংশ মানুষই কি ভুল করে
আসছেন
(৩) এত বড় বড় আলেম তো এভাবেই বলে আসছেন, আমল করে আসছেন! তারা কি ভুল করে গেছেন
মূলত এই তিনটি অজুহাতে মানুষ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর দাওয়াতকে পরিত্যাগ করে
মনে রাখতে হবে “অধিকাংশ” কোন দলীল নয়; দলীল হল কুরআন ও সহীহ হাদিস 
আল্লাহ ভালো করেই জানেন (তিনি পূর্ব পর সবই অবগত) ভবিষ্যতে এমন প্রশ্ন আসবে তাই নিদর্শন রেখে অজুহাত বন্ধ করে দিয়েছেন
অধিকাংশের ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে বলেছেন-
“অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাপার সম্পর্কে অবগত নয়”
[সূরা ইউসুফ : ৬৮]
“অধিকাংশ লোকই অবগত নয়”
[সূরা আনআম : ৩৭]
“অধিকাংশই অজ্ঞ”
[সূরা আনআম : ১১১]
“অধিকাংশই জানে না”
[সূরা আরাফ : ১৩১]
“তুমি যতই প্রবল আগ্রহ ভরে চাও না কেন, মানুষদের অধিকাংশই ঈমান আনবে না”
[সূরা ইউসুফ:১০৩]
“আমি তোমার নিকট সুস্পষ্ট আয়াত নাজিল করেছি, ফাসিকরা ছাড়া অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না; বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান রাখে না”
[সূরা বাকারাহ:৯৯-১০০]
“আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী”
[সূরা যুখরুফ:৭৮]
“তাদের অধিকাংশকেই আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি,বরং অধিকাংশকে ফাসিকই পেয়েছি”
[সূরা আরাফ : ১০২]
“তুমি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরন কর তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে, তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানের অনুসরন করে চলে তারা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই করেনা”
[সূরা আনআম :১১৬]
“অধিকাংশ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে’’
[সূরা ইউসুফ : ১০৬]
“আমি কি তোমাদের জানাব কাদের নিকট শয়তানর অবতীর্ণ হয়
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট।ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী’’
[সূরা শু’আরা:২২১-২২৩]
“তারা তাদের পিতৃ-পুরুষদের বিপথগামী পেয়েছিল। অতঃপর তাদেরই পদাংক অনুসরন করে ছুটে চলেছিল। এদের আগের লোকদের অধিকাংশই গোমরাহ হয়ে গিয়েছিল”
[সূরা সাফফাত :৬৯-৭১]
সুতরাং হে আমার মুসলিম ভাই/বোন!
আসুন আমরা অধিকাংশের, বাপ-দাদার, পুর্ব পুরুষদের অজুহাত বাদ দিয়ে ””কুরআন” ও “সহীহ সুন্নাহর অনুসরন করি। আর সেটাই সকলের জন্য উত্তম ও কল্যানকর 
আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন