চার মাযহাবের ইমামের মতে আহালুল হাদিস

 📝আসসালামু আলাইকুম- 

📝হে মুসলিম ভাই আহলে হাদিস কে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা,গালিগালাজ করা, আহলে খবিশ বলে গালি দেওয়া, ফেৎনাবাজ বলা কি ঠিক এবং কুরআন সুন্নায় এর কোন অস্তিত্ব আছে কিনা, চার মাজহাবের ইমামের মতে.........

ইমাম আবু হানিফ (রহঃ) 

ইমাম শাফেঈ (রহঃ)

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ)

ইমাম মালেক (রহঃ) এর দিকনির্দেশনা আছে কিনা কোরআন হাদিসের দলিল দিয়ে খন্ডন করে ভুল-ভ্রান্তির  অবসান হবে ইনশাআল্লাহ বিইজনিল্লাহ।


আহলে হাদীস কারা জেনে নেইঃ-

_____________________________


আহলে হাদীস শব্দটি আরবী ভাষা আহলুল হাদীস থেকে এসেছে আহলুল শব্দের অর্থ বংশধর বা অনুসারী, হাদীস অর্থ কথা বা বাণী। শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ ও রাসুলের কথা বা বাণীকে হাদীস বলা হয়। 

আল্লাহ নিজে কোরআন মাজীদে তার কথাকে হাদীস বলেছেন।

 

وَ مَنۡ اَصۡدَقُ مِنَ  اللّٰہِ حَدِیۡثًا 

 আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী কে হতে পারে? [আন নিসা ৪/ ৮৭]


فَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَہٗ یُؤۡمِنُوۡنَ

 সুতরাং কুরআনের পরিবর্তে আর কোন্ বাণীর প্রতি তারা ঈমান আনবে? [আল- মুরসালাত ৫০]

  


 ۚفَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَ اللّٰہِ  وَ اٰیٰتِہٖ یُؤۡمِنُوۡنَ 

 অতএব তারা আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে? (আল- জাসিয়া ৬)


اَللّٰہُ  نَزَّلَ  اَحۡسَنَ الۡحَدِیۡثِ کِتٰبًا مُّتَشَابِہًا  مَّثَانِیَ

 আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী, সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব (আল কুরআন), যা বারবার আবৃত্তি করা হয়।

(আয-যুমার ২৩) 


হাদীস শব্দ দিয়ে আল্লাহ কুরআনকেও বুঝিয়েছেন ।  হাদিসের পারিভাষিক অর্থ রাসূল (সাঃ) এর কথা, কর্ম, সম্মতি ও চারিত্রিক গুণাবলীকে হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ  রাসূল (ﷺ) এর কথা, কর্ম ও আল্লাহর কুরআন মেনে চলাকেই আহলুল হাদীস বলে। আহলে হাদীস দাবি করার বিষয় নয় আমাদের পরিচয় আমরা মুসলিম বরং যারা আল্লাহর কোরআন এবং রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাহর অনুসারী হয় তারা সবাই আহলে হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা কুরআন এবং রাসূল (ﷺ) সুন্নাহকে মেনে চলে তারা সবাই আহলুল হাদীস। আহলে হাদীসের অর্থ জেনেও যারা বলবে আমি আহলে হাদীস নই তারচে অজ্ঞ/অবুঝ আর কে হতে পারে? অতএব, কুরআন কোন বানানো হাদীস নয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ ﴾ﷻ﴿ পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ


لَقَدۡ کَانَ فِیۡ قَصَصِہِمۡ عِبۡرَۃٌ  لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ ؕ مَا کَانَ حَدِیۡثًا یُّفۡتَرٰی وَ لٰکِنۡ تَصۡدِیۡقَ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَ تَفۡصِیۡلَ کُلِّ شَیۡءٍ وَّ ہُدًی وَّ رَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ  یُّؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۱۱﴾٪ 


তাদের এ কাহিনীগুলোতে অবশ্যই বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা, এটা কোন বানানো গল্প নয়, বরং তাদের পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ। আর হিদায়াত ও রহমত ঐ কওমের জন্য যারা ঈমান আনে। [সূরা-ইউসুফ, ১২/১১১] 


অধিকন্তু আরও বলা যায় যে, যারা হাদীস তথা কুরআনকে মিথ্যা মনে করবে তাদেরকে আল্লাহ পাকড়াও করবেন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ ﴾ﷻ﴿ পবিত্র কুরআনে বলেছেন:

ﻓَﺬَﺭْﻧِﻲ ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﻜَﺬِّﺏُ ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﺳَﻨَﺴْﺘَﺪْﺭِﺟُﻪُﻡْ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﻻ

“কাজেই আমাকে ছেড়ে দেয় এবং যারা এই (হাদীস) বাণীকে মিথ্যারোপ করবে; তাদেরকে আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেও পারবে না ।” [সূরা আল-কালাম, ৬৮/৪৪] ।


সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, হাদীস বলতে, আল্লাহর বাণী ‘কুরআন’ ও রাসূলের বাণী অর্থাৎ হাদীস উভয়কেই বুঝায়। আহলে হাদীসের সমর্থক শব্দগুলো হলোঃ- আসহাবুল হাদীস, সাহিবুল হাদীস, আসহাবুল আসার, সাহিবুল আসার, আহলুস সুন্নাহ, মুহাদ্দিস।

ইবনে হাজর আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, একটি দল সদা সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর তারা হলো ফুকাহাউ আসহাবিল হাদীস। অর্থাৎ আহলে হাদীস ফকীহগণ সদা সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত দল হিসেবে পরিগণিত হবে। [ফাতহুল বারী ১/১৪০ ]


আহলে হাদিস সম্পর্কে বিখ্যাত ইমামদের মতামতঃ

___________________________________________


আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইহূদী জাতি ৭১ ফের্কায় বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে একটি ফের্কা জান্নাতী এবং অবশিষ্ট ৭০ ফের্কা জাহন্নামী। খৃস্টানরা ৭২ ফের্কায় বিভক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ৭১ ফের্কা জাহান্নামী এবং একটি ফের্কা জান্নাতী। সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মাত ৭৩ ফের্কায় বিভক্ত হবে, তার মধ্যে একটি মাত্র ফের্কা হবে জান্নাতী এবং অবশিষ্ট ৭২টি হবে জাহান্নামী। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ফের্কাটি জান্নাতী। তিনি বলেনঃ আল-জামাআত "‏ الْجَمَاعَةُ ‏"‏ ‏ (একতাবদ্ধ দলটি)। সহীহ তিরমিযী হা/২১২৯, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২] 


উক্ত হাদীছ সম্পর্কে আলেমদের মতামত-

____________________________________


(১) হাকেম বর্ণিত ‘হাসান’ সনদে এসেছে, “আমি ও আমার সাহাবীগণ আজকের দিনে যার উপরে আছি।” (হাকেম হা/৪৪৪, ১/১২৯ পৃঃ)


(২) খ্যাতনামা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে রাসূল (সাঃ) বর্ণিত ‘আল-জামা‘আত’ অর্থ কি- একথা জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, “হক-এর অনুগামী দলই জামা‘আত, যদিও তুমি একাকী হও।” (ইবনু ‘আসাকির, তারীখু দিমাশক ১৩/৩২২ পৃষ্ঠা; আলবানী, মিশকাত ১/৬১ পৃষ্ঠা, হা/১৭৩-এর টীকা নং ৫) ।


(৩) মুক্তিপ্রাপ্ত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ)- এর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী (১৬১-২৩৪হিঃ) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, -“তারা হল ‘আহলুল হাদীছ’ জামা’আত । … তারা ব্যতীত মু’তাযিলা, রাফেযী (শী’আ), জাহ্মিয়া, মুরজিয়া ও আহলুর রায়-দের নিকট থেকে সুন্নাতের কিছুই আশা করতে পারি না।” (আবুবকর আল-খ্বতীব বাগদাদী, শারফু আসহাবিল হাদীস, ৩০ পৃষ্ঠা; আল-কামেল ইব্নে আদী, ১/১৩১ পৃঃ; আবূ মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন, মতবাদ ও সমাধান, ১৫ পৃঃ)


(৪) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ)-কে ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত হক-এর উপরে একটি দল টিকে থাকবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, -“তারা যদি ‘আহলেহাদীছ’ না হয়। তাহ’লে আমি জানি না তারা কারা ?” (তিরমিযী হা/২১৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যাখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ পৃঃ, হা/৭৩১১-এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০- এর ব্যাখ্যা; শারফু আসহাবিল হাদীস পৃঃ ১৫।)


(৫) ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃঃ ৪০৫ হিঃ) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই মন্তব্য করে ভালোই করেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকার সেই বিজয়ী দলটি হল ‘আসহাবুল হাদিস’। (মা’রিফাতু উলূমুল হাদিস, পৃঃ ২)


(৬) ইয়াযীদ ইবনে হারূণ ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল ফের্কায়ে নাজিয়া সম্পর্কে বলেন, “তারা যদি আহলেহাদীছ না হয়, তবে আমি জানি না তারা কারা’’। (তিরমিযী, মিশকাত হা/৬২৮৩-এর ব্যখ্যা; ফাৎহুল বারী ১৩/৩০৬ হা/৭৩১১- এর ব্যাখ্যা; সিলসিলা ছহীহা হা/২৭০ –এর ব্যাখ্যা; শারফ ১৫)


(৭) ক্বাযী আয়ায বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ) একথা দ্বারা আহলে সুন্নাত এবং যারা আহলুল হাদীছ-এর মাযহাব অনুসরণ করেন, তাদেরকে বুঝিয়েছেন’। (ফৎহুল বারী ‘ইলম’ অধ্যায় ১/১৯৮ হা/৭১- এর ব্যাখ্যা


(৮) ইমাম হাম্বল আরো বলেন, ‘আহলে হাদিসের চেয়ে উত্তম কোন দল আমার কাছে নেই । তারা হাদীছ ছাড়া অন্য কিছু চেনে না’। (আবু বকর আল-খতিব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদিস পৃঃ ২৭ ।)


(৯) ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘যখন আমি কোন আহলে হাদীছকে দেখি তখন আমি যেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জীবন্ত দেখি’ (শারফুঃ ২৬)


(১০) ইমাম আবু ইউসুফ (রহঃ) তার দরজায় একদিন আহলে হাদীসের সমাবেশ দেখে বলেন: "জমিনের উপরে আপনাদের চেয়ে উত্তম কেউ নেই।" [কিতাবুশ শার্ফালিল খতীব বাগদাদী,পৃষ্ঠা ৫১


(১১) আলী ইবনুল মাদীনী (রহঃ) বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো আহলুল হাদিস। শারফু আসহাবীল হাদীস, ৩০ পৃষ্ঠা 


(১২) ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আহলুল হাদিস যদি দুনিয়ায় না থাকতো তাহলে ইসলাম দুনিয়া থেকে মিটে যেতো। শারফু আসহাবীল হাদীস, ২৯পৃঃ


(১৩) ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো আহলুল হাদিস। শারফু আসহাবীল হাদীস ১৫ পৃঃ। 


(১৪) বিখ্যাত মুহাদ্দিস সুফয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বলেন-‘আমাকে আবু হানিফা (রাহ.) আহলে হাদিস বানিয়েছেন’ (হাদায়িকুল হানফিয়াহ;১৩৪ পৃষ্ঠা)।


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও আহলুল হাদীসের পার্থক্য:

––––––––––––––––––––––––––––––


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও আহলুল হাদীস দুটো একই। ভারত এবং বাংলাদেশ আহলে হাদীস এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করছে। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ইমাম ব্যক্তিবর্গদের মতামতঃ-


(১) ইমাম আহমদ বিন সানান আল-ওয়াসিতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “দুনিয়ায় এমন কোনো বিদআ’তী নেই যে, আহলে হাদীসদের প্রতি বিদ্বেষ রাখেনা।”

[মা’আরিফাতু উলুম আল-হাদীস, ইমাম হাকীম, পৃঃ ৪, সনদ সহীহ]


(২) আল-হাফিয, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যুঃ ৭৫১ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত “কাসিদা নু-নিয়াহ্‌” তে বলেছেন, “ওহে তোমরা যারা (আহলুল হাদীসদেরকে) ঘৃণা কর এবং আহলুল হাদীসদের গালি-গালাজ কর, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর যে শয়তানের সাথে তোমাদের দোস্তি হয়েছে।”

[আল-কাফিয়া আশ-শাফিয়া, পৃষ্ঠা-১৯৯]


(৩) শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুঃ ৫৬১ হিঃ) “নাজী” ফের্কা হিসাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের বর্ণনা দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিদআ’তীদের ক্রোধ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “বিদআ’তীদের লক্ষণ হচ্ছে ‘আহলে হাদীসদের’ গালি দেওয়া এবং তাদেরকে বিভিন্ন ‘মন্দ নামে’ সম্বোধন করা।


এগুলি সুন্নাহপন্থীদের বিরুদ্ধে তাদের দলীয় বিদ্বেষ ও অন্তঃর্জ্বালার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের অন্য কোন নাম নেই, একটি নাম ছাড়া সেটি হচ্ছে “আসহাবুল হাদীছ” বা আহলুল হাদীস।”

[গুনিয়া-তুত্তালিবিনঃ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯০]

 

পথভ্রষ্টকারী নেতৃবৃন্দ প্রসঙ্গে সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদেরকেই ভয় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ  আমার উম্মাতের এক দল লোক আল্লাহ তা'আলার হুকুম (কিয়ামাত) আসার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত সর্বদা বিজয়ীবেশে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের অপমানিত করতে চাইবে তারা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।


সহীহ, সহীহাহ (৪/১১০, ১৯৫৭), মুসলিম ২য় অংশ।


আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে আমি বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদীসটি আলী ইবনুল মাদীনীকে এভাবে বর্ণনা করতে শুনেছিঃ  আমার উম্মাতের এক দল সর্বাবস্থায় সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে। 

তাদের ব্যাপারে আলী (রাঃ) বলেন, এরা হলো আহলুল হাদীস। সুনান আত- তিরমিজী হা/নং ২২২৯, হাদিসের মানঃ সহীহ।


অথচ সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাইদের দেখা যায় বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টামি জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে ফেতনা মনে করে থাকেন। 

ইসলামের কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করাও ইমাম ভঙ্গের কারণ দেখুন (আত-তাওবাহ : ৬৫-৬৬) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সবাইকে দ্বীনের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন