সূরা কাহাফের নতুন ইনসাইট

 ১। আজ শুক্রবার


কাহাফ পড়তে হবে


কারণ এটা দাজ্জালের ফিতনা থেকে প্রটেক্ট করবে  


সেই দাজ্জাল, 


যেই দাজ্জালকে বলা হয় সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ধোকাবাজ 


কিভাবে প্রটেক্ট করবে? 


নো আইডিয়া  


হয়তো পড়ে একটা ফু দিবো, 


বাস দাজ্জাল হাওয়া হয়ে যাবে!  


এটাই হলো কাহাফ সম্পর্কে আমাদের ধারণা!


আজ এই চিন্তা শক্তি লোপ পেয়েছে বলেই   


আমরা যারা একসময়ে ড্রাইভিং সিটে ছিলাম, 


আজ এখন প্যাসেঞ্জের সিটে বসে কমপ্লেইন করছি!


তাই কাহাফ নিয়ে আজকের লিখা,


ছোট্ট লিখাটা আসলে নিজেকে জন্যই  


বিস্তারিত না হয় আরেক দিন দিবো, ইনশাল্লাহ।  


প্রথমেই প্রশ্ন: 


কোরানের এই ১১০ আয়াত বিশিষ্ট সূরাটিরর কি এমন বৈশিষ্ট আছে যা আমাদের সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ ধোকাবাজ থেকে প্রটেক্ট করবে?


কাহাফ শুরু হয় একটা ধামাকা দিয়ে


"ধন্যবাদ সেই সত্তার যিনি এ কিতাব দিয়েছেন,  

সেই কিতাব যার মদ্ধে কোনো বক্রতা নেই 

যা সময়ের সাথে বেঁকে যায় না!


মনে পরে,


৯০ এর দশকে চুমুর দৃশ্য 

তখন ছিল দুটো গোলাপের ঠুকঠুকি   


আর এখন?      


৯০ এর দশকে যেটা মোরালি আনএকসেপটাবল ছিল সেটা এখন মোরালি একসেপটাবল!


অর্থাৎ সময়ের সাথে সেন্সর বোর্ডের স্টান্ডার্ড বেঁকে গিয়েছে।


প্রশ্ন আসে না সময়ের সাথে কি এমন কোনো স্টান্ডার্ড আছে আছে যা বেঁকে যায় না?


আছে, 


কুরআন!


কি? ব্রু কুঁচকে গেলো?  


দাঁড়ান, বলছি কেন. 


কোরান "প্রিন্সিপাল বা আদর্শ" এর কথা বলে 


আর এই প্রিন্সিপাল বা আদর্শ সময়ের সাথে বেঁকে যায় না 


যেমন ,


নৈতিকতা, বিশুদ্ধতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, সত্যবাদিতা, এবং মানবতা


পৃথিবীর যেই  প্রান্তেই থাকেন না কেনো,


ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সাদা কালো, নির্বিশেষে


এই প্রিন্সিপাল গুলোকে কে মান্য করে,


কারণ এদের নিজেস্ব একটা শক্তি আছে.


অন্য ভাবে যদি বলি, 


কুরআনকে কম্পেয়ার করা হয়েছে শক্তিশালী একটা গাছের সাথে  


এমন একটা গাছ যার মূল বা রুট অনেক গভীর 


এমন একটা শক্তিশালী খুঁটি যা জোয়ারে ভেসে যায় না 


এমন একটা খুঁটি যা আপনি অনাআসে আঁকড়ে ধরতে থাকতে পারবেন


এর অর্থ এই নয় যে আপনি প্রেসার ফিল করবেন না


করবেন, 


তবে আপনাকে খোঁড়া শ্রোতা ট্রেন্ড থেকে তা রক্ষা করবে.


যেমন, 


যদি প্রশ্ন উঠে 


চুমুর দৃশ্য কি এখন দেখা যাবে? 


উত্তর:  সিম্পল, কুরআনের স্টান্ডার্ড   


"অশ্লীলতার ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না!"


বাকিটা বুঝে নিন!   


দাজ্জাল যখন আসবে 


সে মানুষকে গান পয়েন্টে বশ্যতা শিকার করাবে না 


সে আসলে আমাদেরকে সিডিউস করবে। 


সে ট্রেন্ড স্টার্ট করবে 


এবং বেশির ভাগ মানুষ সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে দিবে।


সেই সময়টা যখন আসবে  


জেনে রাখুন, 


কুরআন হবে আমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট। 


কাহাফের প্রথম আয়াত সেই ইঙ্গিতই করে. 


দাজ্জাল ৪টি ডাইমেনশন থেকে আমাদেরকে সিডিউস করবে   


"বিস্বাস, সম্পদ, জ্ঞান এবং ক্ষমতা" 


খেয়াল করে দেখুন 


এই ৪ টি ডাইমেনশনই কিন্তু আমাদের জীবনের মৌলিক চাহিদার সাথে জড়িত 

 

এমনকি হিউমান সাইকোলজির ৪ টি ন্যাচারাল পার্ট 


যা মাইন্ড, বডি, হার্ট এবং সৌল


সেই গুলোও এর সাথেও সম্পৃক্ত। 


আল্লাহ সূরা কাহাফে এই ৪ টি ডাইমেনশনকে ৪টি কেস স্টাডির মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং বলে দেন কিভাবে ইন্টালেকচুয়ালি আমরা এই  ডাইমেনশন গুলোর ডাইলেমা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি! 


প্রথম কেস স্টাডি: ধর্ম বা বিশ্বাসের 


এখানে তুলে ধরেন কি ভাবে কয়েকজন যুবক সামাজিক ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে নিজেদের বিস্বাস কে আগলে রেখেছিলেন    


দ্বিতীয় কেস স্টাডি: সম্পদের  


এখানে তুলে ধরেন কিভাবে দুই জন মালিক কি ভাবে সম্পদ নিয়ে বিতর্ক করেন 


তৃতীয় কেস স্টাডি: জ্ঞানের  


এখানে তুলে ধরেন কিভাবে হজরত মুসা জ্ঞান আহরণের জন্য বেরিয়ে পড়েন  এবং সেখান থেকে কি শিক্ষা লাভ করেন 


চতুর্থ কেস স্টাডি: ক্ষমতার 


এখানে তুলে ধরেন কি ভাবে হজরত যুলকারনাইন তার ক্ষমতা শক্তি ও মেধা বেবহার করেছিলেন। 


দাজ্জাল কি ভাবে এই মৌলিক দিক গুলোতে আঘাত আনবে?


প্রথমত, 


সে ইনফরমেশন কন্ট্রোল করবে, অর্থাৎ নলেজ বা জ্ঞান কন্ট্রোল করা স্টার্ট করবে 


সে ইনফরমেশন মেনুপুলেট করবে এবং 


সে যা জানে তা দিয়ে মানুষকে তাক লাগিয়ে ফেলবে  


দ্বিতীয়ত: 


সে পৃথিবীর ক্ষমতাবানদের নিজের পকেটে পুরে নিবে 


তারপর পৃথিবীর গভর্নেন্স নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে আসবে 


তৃতীয়ত 

 

সে ইকোনোমি কন্ট্রোল করবে  


সে বৃষ্টিকে কন্ট্রোল করবে, অতঃপর তা থেকে উৎপাদিত খাদ্য কন্ট্রোল করবে যা কিনা পুরো ইকোনোমিতে ইম্পেক্ট ফেলবে  


এবং ফাইনালি 


সে বিস্বাসের উপর আঘাত আনবে, 


প্রথমে নিজেকে হজরাত ঈসা  দাবি করবে 


অলোকিকতা দেখাবে,  


মৃত আত্মীয় স্বজন কে কবর বের করে আনবে!


এবং একটা সময় গেলে  


নিজেকেই খোদা দাবি করা স্টার্ট করবে। 


মানুষ কে সে সিডিউস করবে, 


তাকে যেন সবাই উপাসনা করে!


আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক 


এগুলো যে হবে এতে কোনো সন্দেহ নাই 


তাই বেটার হয় 


তার সিডাকশন পয়েন্টেগুলো টেকেল করার টেকনি আমরা জেনে রাখি। 


লাকিলি আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিটি কেস স্টাডির পর পরেই এর টেকেলের টেকনিকও বাতলে দিয়েছেন।   


প্রথম কেস স্টাডি: 


আসহাবে কাহাফের ঘটনা


ধর্ম বা বিশ্বাস নিয়ে যে ডিফেন্স টেকনিক আল্লাহ আমাদের শিখিছেন তা হলো: 


"সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস 

অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ" 


অর্থাৎ 


"এমন একটা গ্রুপের সাথে থাকতে হবে যারা 

ভালোকে প্রমোট করবে আর খারাপ কে ডেমোট করবে"; 


আরো শিখান 


পরিস্থিতি খারাপ হলে হিজরত করতে হবে;

খেয়াল রাখতে হবে, 

ছোট খাটো ইস্যু যেন মূল ইস্যুকে ভুলিয়ে না দেয়;

জিনিসের সঠিক প্রায়োরিটি বুঝতে হবে।"    


দ্বিতীয় কেস স্টাডি: 


দুই বাগানের মালিকের গল্প, 


এখানে আল্লাহ আমাদেরকে সম্পদ বিষয়ে যা শিখান তা হলো: 


"জীবনটা কয়েক দিনের জন্য মাত্র 

জীবনের উদ্দেশ্যটা কি সেটা আগে বুঝা দরকার   

যা আছে তাতেই খুশি থাকতে হবে  

বিশ্বাস রাখতে হবে যে 

রিজিক আল্লাহই কন্ট্রোল করেন 

সম্পদের মোহে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না 

অহংকার করা তো যাবেই না,  

যেই অর্থের এতো বড়াই আমরা দেখাই  

তা যেকোনো মুহূর্তেই তিনি কেড়ে নিতে পারেন।" 


তৃতীয় কেস স্টাডি:


হজরত মুসার অভিযান,


জ্ঞান তান্ত্রিক বিষয়ে যে ডিফেন্স টেকনিক আল্লাহ আমাদের শিখান তা হলো:

 

"কেউ না কেউ থাকবেই যে কিনা আমাদের থেকে বেটার

অতএব অহংকারী হওয়া যাবে না  

প্রয়োজনে সঠিক জ্ঞান আহরণে বেরিয়ে পড়তে হবে 

ভালো মেন্টর খুঁজে বের করতে হবে

সঠিক জ্ঞান আমাদেরকে বিনয়ী বানাবে 

যদি না বানায় ধরে নিতে হবে জ্ঞানের ইনটেকে সমস্যা আছে 

যে বিষয়ে আমাদের জানা নেই 

সে বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে  

কারণ অনেক সময়ই অনেক ঘটনা মেক সেন্স করে না, 

তখন মাথায় রাখতে হবে যে  

বেকগ্রাউন্ডে কাজ চলছে,   

যা হচ্ছে ভালোর জন্যই হচ্ছে।"  


আর ফাইনাল কেস স্টাডি:  


হজরত যুলকারনাইনের অভিযান, 


এখানে ক্ষমতা তান্ত্রিক বিষয়ে যে ডিফেন্স টেকনিক আল্লাহ আমাদের শিখান তা হলো:


"ক্ষমতা থাকলে তার বিষয়ে সিনসিয়ার হতে হবে

ক্ষমতা থাকলে সেটা দিয়ে মানুষকে হেল্প করতে হবে  

হকের সাথে সুবিচার করতে হবে 

জীবনে থেমে থাকা যাবে না

টেকনিক্যাল স্কিল ডেভেলাপ করতে হবে 

অলোওকিকতার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদেরই কাজে নেমে পড়তে হবে

একা একা নয়, টিমে কাজ করতে হবে   

অতরপর আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে" 


এই হলো ৪ টি ডাইমেনশনের ডিফেন্স টেকনিক। 


এর মাঝে আল্লাহ আরেকটি রিয়ালিটিও তুলে ধরেন 


আর তা হলো সব থেকে আদি ইতিহাস 


কোথা হতে এই দ্বন্দ্বের সূচনা এবং 


এর মুল হোতা কে?


সকল নাটের গুরু, সেই ইবলিশ!


যার অবজেকটিভই হলো 

আমাদের ধোকায় ফেলা  


যার অবজেকটিভই হলো 

আমাদেরকে সফলতা থেকে ভুলিয়ে রাখা এবং 


যার অবজেকটিভই হলো 

আমাদেরকে সফলতা থেকে সরিয়ে রাখা 


দাজ্জালতো আসলে তার হয়েই কাজ করবে।   


উল্লেখিত ৪ টি ডাইমেনশনের যেকোনো একটিতে ফাক থাকলেই দাজ্জাল ও তার সহকর্মীরা আমাদেরকে পেয়ে বসবে,

 

তাই প্রতিটি এঙ্গেলেই গুরুত্বপূর্ণ। 


কোরানের প্রতিটা সূরারই একটা অবজেকটিভ আছে, 


কাহাফের অবজেকটিভ হলো 


"প্রটেকশন" 

 

আগেকার মানুষরা যেমন ভয়াল বিপদ থেকে গুহায় আশ্রয় নিতো 


তেমনি কাহাফের নাম করুন দিয়ে আল্লাহ সেটাই বুঝিয়েছেন, 


কাহাফ অর্থ গুহা 


অর্থাৎ 


ভয়াল দাজ্জাল যখন আসবে তখন


"কাহাফই হবে আমাদের প্রটেকশন!


তাই অনুরোধ,


এখন থেকে কাহাফ যখন পড়বেন,


তোতা পাখির মতো শুধু আওড়াবেন না   


বুঝে পড়বেন,


সাথে তাফসীর পড়বেন  


এক জনের তাফসীর শুধু নয়, 


ভিন্ন ভিন্ন মুফাস্সিরের তাফসীর 


ভিন্ন ভিন্ন আলেমদের তাফসীর    


পসিবল হলে 


খাতা নিয়ে বসবেন এবং নোট নিবেন  


আস্তে আস্তে অবাক হয়ে লক্ষ্য করবেন 


কি নিদারুন এর গভীরতা! 


এই এপ্রোচটি খুব দরকার, 


কারণ 


দাজ্জাল একটা সিরিয়াস মেটার!






২। শুক্রবার


কাহফ পড়ছিলাম


যত বারই পড়ি ততবারই নতুন কিছু ইনসাইটস পাই  


এবারের পাওয়া গুলো নিয়ে কিছু লিখা


এবারের ফোকাস হজরত মুসা আর খিজির আ এর কাহিনী:


আগে একটু পটভূমি:


মুসা আ যখন নবুওতের প্রায় শেষ দিকে


যখন ভাবছিলেন তিনি হলেন পৃথিবীর সব থেকে বড় আলেম


তখন আল্লাহ জানালেন যে


না! তোমার থেকেও বড় আলেম আছেন।


আদেশ করলেন এক ফিল্ড ট্রিপের


উনার এই ফিল্ড ট্রিপ আমাদেরকে ইঙ্গিত দেয় যে


জ্ঞান আহরণের জন্য প্রয়োজনে আমাদেরকেও ট্র্যাভেল করতে হবে  


প্রয়োজনে স্পেশাল জ্ঞানের জন্য স্পেশাল টিচারের কাছে যেতে হবে.  


ইন্টারেস্টিংলি এই সূরা থেকে আমরা এটাও বুঝি যে


সব ধরনের উপকারী জ্ঞানই আমাদের প্রয়োজন


সব ধরনের জ্ঞানই ইম্পর্ট্যান্ট যদি তাহা ইউসফুল হয়


ইম্পর্ট্যান্ট দেখেই তিনি ঠিক এর পরের গল্পেই দেখিয়েছেন যে  


কি ভাবে জুলকার নাইন আ অ্যাপ্লাইড ইঞ্জিনারিং ব্যবহার করে


ইয়াজুজ মাজুজ কে রুখে দিয়েছিলেন।  


তো যা বলছিলাম


মুসা আ যখন খিজির আ এর কাছে গেলেন


তিনি প্রথমেই উনাকে স্ট্রেইট আপ মানা করে দিলেন


বলেন "না!


আপনাকে রাখা যাবে না"


"কারণ আপনি ধৈর্য ধরে রাখতে পারবেন না"


খেয়াল করে দেখুন


কথাটা বলেছিলেন সেই মানুষটাকে


যিনি ফিরাউনকে টেকেল করার ধৈর্য দেখিয়েছিলেন  


সাথে দেখিয়েছিলেন বাণী ইসরাইলের মতো বেয়াদপ এক জাতিকে টেকেল করে!  


তবুও খেয়াল করুন মুসা আ এর রেসপন্স


কোনো হুমকি ধামকি নেই


কখনো অহংকার বা দাম্ভিকতা নাই


সিম্পলি বিনয়ের সাথে নরম হয়ে বলেছিলেন


ইনশাল্লাহ! আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবেই পাবেন!


আসলে প্রকৃত জ্ঞান আমাদেরকে বিনয়ী হতে শেখায়!  


আর জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে এই হিউমিলিটি হলো খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা ফ্যাক্টর


কারণ আপনি যদি নীচু না হন


উঁচু জায়গা থেকে জিনিস গ্রহণ করবেন কি করে?


পাশাপাশি মনে রাখবেন


যেই জ্ঞান আপনাকে বিনয়ীর বদলে অহংকারী করে তুলে


বুঝবেন আপনার সেই জ্ঞানের ইনটেকে প্রব্লেম আছে.


খিজির আ অবশ্য প্রথমে "না" বলার কারণটাও জানালেন


বললেন যে


"আসলে যে বিষয় গুলো আপনার চিন্তার পরিধির বাইরে  


সেই বিষয়গুলোতে আপনি ধৈর্য ধারণ করবেন কী করে?"


খিজির আ বুঝেছিলেন


মুসা আ যেই মেন্টাল মডেল কেরি করছিলেন  


তা তার কার্যকলাপ সহ্য করতে পারবে না


কারণ মেন্টাল মডেল আমাদেরকে একটা মেন্টাল লেন্স তৈরি করে


আমরা সেই লেন্স দিয়েই পৃথিবীকে দেখার চেষ্টা করি


সাইকোলোজিতে এটাকে প্যারাডাইম বলে.


যাই হোক অনুরোধ শেষে তিনি রাজি হলেন এবং


তিনটা কাজ করলেন এবং মুসা আ মোটামুটি তিনটা কাজেই ভেটো দিলেন।


খিজির আ এর সেই তিনটা কাজ আমরা সবাই জানি


প্রথমত, তিনি এক গরিব মাঝির নৌকা ফুটো করে দিলেন  


দ্বিতীয়ত তিনি একজন নিরীহ বাচ্চাকেই হত্যা করে বসলেন    


আর তৃতীয়ত তিনি একটা ইনকন্সিডারেট জাতিকে একটা দেয়াল ফিক্স করে দিলেন


ইনকন্সিডারেট বললাম কারণ


তারা যখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় গিয়ে তাদের কাছে সামান্য কিছু খানা চাইলো  


পুরো লোকালয়ে কেউ তাদেরকে ন্যূনতম কোনো মানবতা দেখায়নি  


তবুও খিজির আ বিনা মজুরিতে তাদের একটা উপকার করে দিলো


তাদের এলাকার একটা ভাঙা দেয়াল মেরামত করে দিল।


মুসা আ এর পয়েন্ট অফ ভিউ তে তিনটার কোনোটাই মেক সেন্স করে না


তিনি দেখছেন যে  


যারা ইনোসেন্ট, খিজির আ তাদের ক্ষতি করলেন আর যারা রুড তাদেরকে উপকার করলেন


আর এই জন্যই প্রতিটা কাজে তিনি ভেটো দিয়েছিলেন,


বলেছিলেন  


নৌকা ফুটা করলেন কেন?


বাচ্চাকে মারলেন কেন?


কিংবা দেয়াল ঠিক করার পর বললেন


মজুরি নিলেন না কেন?  


তার শেষ প্রশ্নে খিজির আ বললেন  


বাস, দান দান তিন দান!


আপনি আর আমার সাথে চলতে পারবেন না!


এবং এবার বিদায়ের পূর্বে তিনি তার কর্ম কান্ডগুলো এক্সপ্লেইন করলেন


আর সেখানেই এবারের ফাইন্ডিংস।  


খিজির আ বলেন


নৌকা ফুটোর কাজটি করেন নিজের ইচ্ছায় ,


শব্দটা ব্যবহার করেন


"ফা আরাদ তু" অর্থাৎ "তাই আমি চাইলাম"  


কারণ তিনি জানেন সামনে এক খারাপ বাদশা আছে


যে কিনা গরিবের ভালো নৌকা গুলো কেড়ে নেয়  


উনি ফুটা করে তাদেরকে বাঁচালেন।    


বাচ্চাটির জীবন নষ্ট করেন, আল্লাহ অনুমতিতে,


শব্দটা ব্যবহার করলেন  


"ফা আরাদ না", "তাই আমরা চাইলাম"  


কারণ উনাকে জানানো হয়েছে যে বাচ্চাটা বড় হয়ে তার মাতা পিতাকে অনেক কষ্ট দিবে


বিনিময়ে এর বদলে এখন উনাদেরকে আল্লাহ আরো উত্তম কাউকে দান করবেন।


আর দেয়াল মেরামতের কাজটি ছিল একান্তই আল্লাহর ইচ্ছাতে,


শব্দটা ব্যবহার করেন


"ফা আরাদা রাব্বুকু" অর্থাৎ "তাই তোমার রব চাইলেন"


কারণ সেই দেয়ালের নিচে দুই এতিমের কিছু সম্পদ ছিল


আর তারা যেমন জালিম গোত্র


সামান্য খানা পর্যন্ত যারা পথচারীকে দিলো না  


তারা যদি সেই সম্পদের সন্ধান পায় তাহলে তাদের হাত থেকে এতিম গুলো কিভাবে উদ্ধার করবে !  


খিজিরের উত্তরের ইম্পর্ট্যান্ট ট্রেন্সলেশনে হারিয়ে যায়


আমি বহু ট্রান্সলেশন দেখিয়েছি যেখানে একটা কমন ভুল পেয়েছি


পেয়েছি ওখানে বলা হয় খিজির আ বলেন


আমার ভালো মনে হলো তাই আমি বাচ্চাটাকে মেরেছি


কারেক্ট ট্রেন্সলেশন দেখলে বুঝা যায়


খিজির ছিলেন আসলে নিজের ইচ্ছায় সেটা করেন নাই


তিনি ছিলেন একজন এক্সিকিউটার মাত্র


আসল হুকুম এসেছিল উপর থেকেই!    


মুসা আ এবং খিজিরের এই ঘটনায় একটা বিষয় স্পষ্ট  


আমরা যা দেখি তা এক ধরনের রিয়ালিটি


আর যা দেখি না সেটাও এক ধরনের রিয়ালিটি


যেমন আমাদের কাঁধের দুই ফেরেশতা আমরা দেখি না


অথচ সেটা এক ধরনের রিয়ালিটি  


আমরা কবরের বহমান দুনিয়া দেখতে পাই না


কিন্তু সেটাও এক ধরণের রিয়ালিটি।


আমরা যা দেখি আর যা দেখি না এই দুই রিয়ালিটি মাঝে আছে একটা পর্দা  


মৃত্যুর পর আর হাশরের দিনে আল্লাহ সেই পর্দা উঠিয়ে নিবেন


সূরা কাহাফে আল্লাহ সেই পর্দাটাই হালকা একটু উঠিয়ে দেখালেন যে


আমরা যা দেখি বা দেখতে পাই শুধু সেটাই রিয়ালিটি না


পর্দার আড়ালেও আরেকটি রিয়ালিটি আছে


সেখানে চলছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ  


এবং সেখানেও বিভিন্ন ইন্সট্রাকশন যাচ্ছে বিভিন্ন লেয়ারে


যেমন কখনো খিজির আ এর মতো নিজ ইচ্ছায়


কখনো কোলাবোরেটেড ইচ্ছায় আবার


কখনো তা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়!


এই ট্রিপে আল্লাহ মুসা আ কে শিক্ষা দিলেন সাথে আমাদের যে জ্ঞান দুই ধরনের


একটা হলো ভিসিবল রিয়ালিটির আর


অপরটি হলো ইনভিজিবল রিয়ালিটির


হজরত মুসা আ ছিলেন ভিসিবল রিয়ালিটিতে শ্রেষ্ঠ


আল্লাহ চাইলেন তিনি যেন এবার কিছুটা ইনভিসিবল রিয়ালিটির জ্ঞানেরও ঝলক দেখতে পান.  


সোঁ আজ আপনার জীবনে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে থাকে,


এই ধরুন


হঠাৎ করে চাকরি টা চলে গেলো


কিংবা বিয়ে টা ভেঙে গেলো


কিংবা অপ্রত্যাশিত কোনো অ্যাকসিডেন্ট হলো  


বিশাল কোনো রজার দুঃসংবাদ পেলেন


অথবা মিসক্যারেযে মাসুম বেবিটা চলে গেলো  


জেনে রাখুন  


প্রতিটা কাজের পিছনে একটা কিন্তু ছিল


যা হয়েছে বা হচ্ছে প্রতিটা কাজের একটা এক্সপ্লানেশন আছে


প্রতিটা কাজ ইনভিসিবল রিয়ালিটির বিগার টাইম লাইনে আপনার ভালোর জন্যই কিছু রেডি করছে!


খিজির এ আর মুসা আ গল্পের আরেকটা ফেসিনেটিং সাইড আছে


অনেক দিন থেকেই ভাবছি শেয়ার করবো কিন্তু করা হয়ে উঠে নাই  


আজ করলাম।


খেয়াল করে দেখেন  


মুসা আ খিজির কে ঠিক কি ভাবে খুঁজে পেলেন?


কি ছিল তার গ্রিন সিগন্যাল?


গ্রিন সিগন্যালটি ছিল


সেই পয়েন্ট খুঁজে বের করা,


যেই পয়েন্টে মৃত তার জীবন খুঁজে পায়"  


হ্যাঁ, তাইতো দেখেন


খিজির আ যে জায়গায় অবস্থান করছিলো


ঠিক সেই জায়গায় যাওয়ার সাথে সাথে তাদের ভাজা মাছটা হঠাৎ জীবিত হয়ে তরতর করে বেড়িয়ে পরে  


অর্থাৎ তারা শুধু দুই সমুদ্রের মিলন জংশনেই পৌঁছায়নি


পৌঁছে ছিল জীবন আর মৃত্যুর মিলন জংশনেও।


সেই জংশনে এমন এক টা রিয়ালিটির দরজা ওপেন হয়েছিলো


যেখানে জীবন বা মৃত্যুর কোনো কনসেপ্ট নেই, কনসেপ্ট নেই সময়ের.


(এখানে দরজা কথাটা ইম্পর্টেন্ট)


সেই মাছ বের হয়ে যাওয়ার ডেস্ক্রিপশনটাও বেশ ইন্টারেস্টিং


মাছটা এমন ভাবে বের হয়ে গেলো


যেন সব কিছু ছেদ করে


একটা টানেলের মতো ইফেক্ট তৈরি করে


তরঙ্গের ঢেউ ক্রিয়েট করে বেড়িয়ে পড়লো!


বিষয়টা ভিসুয়ালাইস করার বেস্ট উপায় হলো


ছোট বেলার মেট্রিক্স মুভি  


সেথায় আমরা যেমন দেখতে পাই যে


বুলেট গুলো ঠিক স্লো মোশনে টানেল ক্রিয়েট করে করে বেরিয়ে যায় ঠিক তেমন!


অর্থাৎ এই জংশনে টাইম স্পেসের ফেব্রিকের ঢেউ টিক এমনটাই ভিসিবল হয়ে উঠে।  


এই গল্পে আমরা শিখতে পারি


খিজির যেথায় অবস্থান করে


সেথায় এমন একটা এনভায়রনমেন্ট সৃষ্টি হয় এমন একটা দরজা খুলে যায়


যেটা আমরা আমাদের এই ডিমেনশনের নলেজে দ্বারা এক্সপ্লেইন করতে পারি না  


এমনি এনভিরনমেন্টের কথা সূরা কাহাফে অন্য জায়গাতেও আমরা পাই!


পাই হচ্ছে কাহাফের যুবকের ঘটনায়


খেয়াল করে দেখুন


যখন কাহাফের যুবকগুলো আল্লাহ ঘুম পারলো


কি ভাবে পারলো?


পরালো কানে আঘাত এনে  


প্রশ্ন আসে না এতগুলো মানুষকে কি দিয়ে একসাথে আঘাত আনলেন ?


এনেছিলেন তরঙ্গের ঢেউ দ্বারা!


সহজ ভাষায় সাউন্ড ওয়েভ দ্বারা!  


সাথে এও বলেন যে


তারা সেই এনভায়রনমেন্ট এতো অদ্ভুত ভাবে ঘুমিয়ে ছিল যে


যে কেউ তাদের দেখলে ভয়ে পালিয়ে আসতো!  


আবারো প্রশ্ন!


ঘুমন্ত মানুষ দেখে মানুষ কেন পালিয়ে আসবে?


বেশ কিছুদিন আগে


ফোর্থ ডিমেনশনের একটা সিমুলেশন দেখেছিলাম  


সেখানে দেখতে পাই যে


আমরা যখন কোনো অবজেক্টকে থ্রি ডিমেনশন থেকে ফোর্থ ডিমেনশনে দেখার চেষ্টা করি  


তখন তাদের শরীর বিকৃত হয়ে পরে


চেহারা উলটা পালটা হয়ে যায়


মোটকথা দূর থেকে সব কিছু প্রচণ্ড ভয়ংকর লাগে!  


পাশাপাশি এই এনভায়রনমেন্ট সম্পর্কে আরো বলেন


বলেন যে সেথায় এমন এক এনভায়রনমেন্ট তৈরী হয়েছিল  


যেথায় দেখে মনে হতো যে


সূর্য যখন উঠছে তখন তা সাঁই করে ডানদিকে দিয়ে চলে যাচ্ছে  


আবার যখন তা নামছে তখন তা হে তা বা দিকে দিয়ে সাঁই করে চলে যাচ্ছে !


একবার ভাবুনতো পৃথিবীর কোনো জায়গায় এই ঘটনাটা ঘটে বা ঘটতে পারে?


পৃথিবীর কোনো জায়গায় সূর্যু শুধু তাদের জন্যই উঠার সময় ডান দিক দিয়ে টার্ন করবে


আবার নামার জন্য তাদের জন্যই শুধু বা দিক দিয়ে টার্ন করবে


একটা খাতা কলম নিয়ে স্কেচ করার চেষ্টা করেন  


পারবেন না!    


বিষয়টা তখনি বুঝতে পারবেন যখন অপটিক্যাল ফাইবারের কনস্পেট কি ভাবে কাজ করে বুঝতে পারবেন    


কাহাফের যুবকেরা এমন একটা রিয়ালিটির ভিতর ছিল


কিংবা এমন একটা এনভিরনমেন্টের ভিতর ছিল  


যা তাদের আসে পাশের বাতাসের ঘনত্বে পরিবর্তন এনেছিল  


যা ডিফারেন্ট রিফ্রেক্টিভে ইনডেক্স তৈরি করছিলো    


অর্থাৎ যা একটা প্রিসমের মতো বিহেভ করছিলো  


এবং তা আলোকে বেন্ড করছিলো!


বুয়েটের এস পি মজুমদার স্যার একবার বুঝিয়েছিলেন


এক্সাক্টলি এই প্রিন্সিপাল ব্যবহার করেই অপটিক্যাল ফাইবার ফাংশন করে


আলোর রোশনি আসার পথে ডিফারেন্ট রিফ্রেক্টিভ ইনডেক্সের কারণে ইন্টার্নালি বেন্ড করে


অতঃপর তা বাড়ি খেয়ে ডানদিকে সাঁই টার্ন করে


আবার যাওয়ার পথে বাড়ি খেয়ে বাম দিকে টার্ন করে!  


আমার মনে হয়


যখনই দৃশ্য আর অদৃশ্যের পর্দা মাঝের সেই দরজা খোলা হয়


তখনি এধরণের সুপারনেচারাল এনভায়রনমেন্ট আমরা এক্সপেরিয়েন্স করি.  


মুসা আ এক্সপেরিয়েন্স করেছিলেন আর এবার এক্সপেরিয়েন্স করলো কাহাফের ছেলে গুলো।  


একটু ঠান্ডা মাথায় যদি চিন্তা করি


এই দরজা কিন্তু আমাদের জন্য নতুন কিছু না  


কারণ আমরা জানি এমন দরজা আছেই  


কারণ এই দরজা ব্যবহার করেই তো


হজরত আদম দুনিয়াতে এসেছিলেন  


এই দরজা ব্যবহার করেই তো


হজরত ইদ্রিস চতুর্থ আসমানে গমন করেছিলেন  


কিংবা এই দরজা ব্যবহার করেই তো


প্রতিদিন কোটি কোটি ফেরেস্তারা উঠা নামা করছে!


এই বিষয়ে সূরা হিজড়ে ১৪- ১৫ আয়াতে


একটা ইন্টারেস্টিং রেফারেন্স পাওয়া যায়


"আমি যদি তাদের জন্য আসমানের কোন দরজা খুলে দেই


আর তাতে তারা যদি আরোহণ করতে থাকত


তবুও তারা বলত


‘আমাদের চোখকে বাঁধিয়ে দেয়া হয়েছে,


আমাদের উপর যাদু করা হয়েছে।’


আমরা জানতে পারি এই দরজার দুটো ওয়ে আছে


একটা উর্ধজগতে আরেকটা এই জগতে  


এই জগতে মুভ করার জন্য এই দরজা অ্যাকসেস করেছিল এমন আরেকজন ব্যক্তির কথা আমরা কুরআনে পাই


সূরা নামলে ৪০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তার ব্যাপারে আমাদেরকে জানান


বলেন যে তিনি টাইম স্টপ করে সাবার সিংহাসন হাজার কিলোমিটার দূর থেকে চোখের নিমিষে নিয়ে এসেছিলেন!


তারমানে এই কনস্পেট গুলো কোনো ফেন্টাসি না এগুলো রিয়ালিটি!


তাই বলছি নেক্সট টাইম যখন কাহাফ যখন পড়বেন


জাস্ট গণহারে পরে যাবেন না


প্রতিটা আয়াতে থেমে একটু চিন্তা করে পড়বেন  


এই চিন্তা করাটা ইম্পর্ট্যান্ট কারণ


আমরা এমন একটা সময় দিয়ে যাচ্ছি


যেখানে আমাদেরকে ইন্টেলেকচুয়ালি পেরালাসিড করে ফেলার চেষ্টা চলছে।  


আমরা ইদানিং চিন্তা করতে ভুলে যাচ্ছি!


জানি ইনফরমেশন গুলো নতুন  


ইনফরমেশন গুলো হজম করতে একটু কষ্ট হচ্ছে  


তবে ভয় নাই


কারণ এগুলো আকিদা গত বিষয় না


তবে শেয়ার করে রাখলাম কারণ সময়টা খারাপ


ডেঞ্জারাস একটা যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি  


হাদিস শরিফে এসেছে


দাজ্জাল যখন আসবে তিনি প্রায় প্রতিটা শহরে ইন্সটেন্টলি ট্র্যাভেল করে বেড়াবে  


ভয় হয় সে না আবার এই টেকনোলজি নিয়ে এসে মানুষকে ভড়কে দেয়  


তাই একটু প্রস্তুত থাকা


তার অনুসারীরা যদি এসে আবার সাফাই গাওয়া শুরু করে যে


দেখো একজন খোদাই তো এসব করতে পারে


অতএব তাকেই খোদা মান


তখন এটলিস্ট আমরা যেন বলতে পারি


হাহ! এটা আর এমন কি!


এই বিষয়ে তো আমার রব অনেক আগেই আমাদেরকে জানিয়ে রেখেছেন!






৩। শুত্রুবার! 


কাহাফ টাইম 


এন্ড এভরি টাইম এই সুরার প্রথম আয়াতটি পড়ি    


সাথে সাথে একটি বই এর পাতা চোখের সামনে ভেসে উঠে 


“দা হিডেন পারসুয়েডার”


১৯৫০ সালে জার্নালিস্ট ভেন্স পিকার্ড বোমা ফাটানো এই বইটি লিখেন


বইটিতে তিনি দেখান যে 


দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইন্ডাস্ট্রি গুলো বিপুল পরিমাণের পণ্য উৎপাদন করার সক্ষমতা অর্জন করে 


তবে সেই অনুপাতে তখনো মানুষ কনসিউম করছিল না 


তখন মেডিসন এভিনিউর ব্যবসায়ীরা রীতিমতো রিসার্চ শুরু করে যে 


কি ভাবে মানুষকে বেশি বেশি কনসিউম করানোর জন্য স্টিমুলেট করা যায়?


কি ভাবে মানুষের আনকোনশাস হ্যাবিটকে রি-ডাইরেক্ট করে 


তার পারচেসিং বিহেভিয়ার কে মেনুপুলেট করা যায় 


তিনি ভেঙে দেখান 


কেন আমরা দুই থেকে তিন বছর পর পর নতুন ফোন কিনার জন্য এতো অস্থির হয়ে উঠি?


কেনই বা তা কিনতে না পারলে অনুশোচনা আর হীনমন্যতায় ভুগি


পুরো বইটি জুড়ে তিনি এক্সপোস করেন 


একটি শক্তিশালী ইকোনমিক আইডিয়াকে


“দা কোনসুমেরিসম ইকোনমিক থিওরি”


অর্থাৎ


“বেশি বেশি ভোগ করো” 


“বেশি বেশি কনসিউম করো”


তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে


তারা যে এটা করলো 


কোন হাতিয়ার দ্বারা করলো  


কি করে আমরা এই সেলফ ডিস্ট্রাক্টিভ আইডিয়াতে এমন নিবিড় ভাবে প্রভাবিত হলাম?


উত্তর হলো মিডিয়া!


অর্থাৎ টিভি, পেপার, বিলবোর্ড কিংবা মুভিস!


সমস্যা হলো


যারা এই মিডিয়াকে কন্ট্রোল করে  


তারা বেশিরভাগই সেক্যুলার পন্থি।


অর্থাৎ যখনি কোনো এডভার্টাইসমেন্ট দেয়া হয় 


তা দেয়া হয় সেক্যুলার দৃষ্টিকোণ থেকে


প্রশ্ন হচ্ছে সেক্যুলার পন্থি দৃষ্টি কোন বলতে কি বুঝায়?


বুঝায় তাদের বিস্বাস বা ফিলোসোফিকে:


তাদের বিশ্বাস হলো 


“মানুষ ব্যক্তি হিসেবে নিজেই নিজের মোরাল স্ট্যান্ডার্ড নির্ণয়ে যথেষ্ট”


তার কোনো বহিরাগত ইনফ্লুয়েন্সের প্রয়োজন নেই 


এমনকি স্রষ্টা কন্সপেটেরও প্রয়োজন নেই!


এই দর্শনের প্রধান সমস্যা হলো


এর কোনো এবসোলিউট রেফারেন্স পয়েন্ট নেই 


সবই আপেক্ষিক !


আর আপেক্ষিকতার সমস্যা হলো 


এটি সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল


যেমন:


আমার তো এখনো মনে পরে


৯০ এর দশকে স্ক্রিনে চুমুর দৃশ্য ছিল কেবল দুটো গোলাপের্ ঠুকাঠুকি 


আর এখন?


অর্থাৎ যা ৯০ এর দশকে মোরালি আনএক্সেপ্টেড ছিল 


তা এখন মোরালি এক্সেপ্টেড


এই দর্শনের আরো কিছু সমস্যা হলো


এর কোনো সলিড বাউন্ডারি নেই 


যেমন সে বলে না


পর্নোগ্রাফি ভালো না খারাপ?


ব্যবসায় ধোঁকা দেয়া উচিত কি উচিত না?


মানুষের পিছনে কথা লাগাবেন কি লাগাবেন না?


বড় দেড় সম্মান করবেন কি করবেন না?


সমকামিতা করা যাবে কি যাবে না?


আর এখন তো এর সাথে যোগ হয়েছে  


সোশ্যাল মিডিয়া


সবাই এখন সাংবাদিক


সবাই নতুন নতুন আইডিয়া ফ্লোট করে বেড়াচ্ছে


কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ বুঝব কি করে?


বুঝব কি করে যে কোন ইনফরমাসন ইনটেক করবো আর কোনটা বর্জন করবো


করলেও সেটা কার সাপেক্ষে করবো?


এবং এই প্রশ্নের উত্তরেই চলে আসে সেই প্রথম আয়াতটি [কুরআন ১৮:১]


"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য 


যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এই কিতাব নাজিল করেছেন 


যাতে রাখেননি কোন বক্রতা " 


এখানে বক্রতা বোঝাতে যেই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হলো 


"ইওয়াজা"


"ইওয়াজা" হচ্ছে সেই সব বস্তু যা এক সময় সোজা ছিল 


তবে সময়ের বিবর্তনে আস্তে আস্তে সে বাঁকা হতে শুরু করে 


যেমন কোনো গাছের ডাল কিংবা স্টিলের রড 


অর্থাৎ তিনি এই কিতাবকে এমন ভাবে তৈরি করেছেন  


যা সময়ের সাথে বেঁকে যায় না 


তাইতো দেখবেন 


পুরো কোরান জুড়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রিন্সিপালের কথা বলা হয়েছে 


যেমন


নৈতিকতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, উদারতা, সত্যবাদিতা, মানবতা ইত্যাদি 


কারণ এগুলো সময়ের সাথে বেঁকে যায় না!


আমরা এখন এমন একটা ফাস্ট পেস্ড সোসাইটিতে আছি 


যেখানে ২০ বছর আগেও যা কল্পনা করা যেত না 


আজ মিডিয়ার পাবলিসিটির কল্যাণে  


লিটেরালি তা সেলিব্রেটেড হচ্ছে 


এবং এস এ সোসাল বিং 


আমরাও সেই স্রোতে গা ভাসাচ্ছি  


প্রশ্ন তুলছি  


"আচ্ছা বিষয়টা কি আসলেই এতো খারাপ?" 


এই যখন স্রোতের অবস্থা  


বলি কি 


কুরআনকে ভাবুন একটি শক্তিশালী গাছের নেয়  


যা আপনাকে এই স্রোত থেকে বাঁচিয়ে রাখবে  


এর অর্থ এই নয় যে আপনি প্রেসার ফিল করবেন না


করবেন,


তবে আপনাকে খরস্রোতা এই ট্রেন্ডে ভেসে যেতে দিবে না 


কারণ এটি হচ্ছে সেই রেফারেন্স পয়েন্ট  


"যা সময়ের সাথে বেঁকে যায় না"!






৪। শুক্রবার, 


কাহাফ পড়ছিলাম 


যতই পড়ি এর মিনিং যেন ততই ডিপার হয়  


এই যেমন  


দুই বন্ধুর গল্প, 


দুই বাগানের মালিক 


একজনকে ফুলে ফেঁপে দিয়েছেন, অন্যজনকে মেপে  


দুজনের দৌলতের বিশাল ব্যবধান 


ব্যবধান স্রষ্টার আন্ডারস্টেন্ডিংএও 


একজন দাবি করে বসলেন 


"আমার মনে হয় না আমার যা ধন দৌলত যা আছে তা কখনো নিঃস্ব হয়ে যাবে" 


কথাটা এটা তিনি কনফিডেন্স থেকেই বলেছিলেন  


কনফিডেন্সে থাকা প্রব্লেম না  


প্রব্লেম হলো কনফিডেন্সের সাথে রবে নামটা এটাচ না রাখা 

 

যেমন তিনি বলতে পারতেন 


"ইনশাল্লাহ আমার রব আমাকে কখনই নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে দিবেন না"

 

তিনি তা বলেন নি 


উল্টো একলাইন বাড়িয়ে বলেছিলেন


বলেছিলেন  


"শুধু তাই না, 

আমার তো মনে হয় না 

এই কেয়ামত বলতে কিছু আছে বা কখনো হবে"

 

আর এখানেই ভুলটা করে বসেছিলেন 


ঈমান থেকে সরে গেলেন 


যদিও বললেন 


"কেয়ামত যদি হোয়েও, আমার অতটা ক্ষতি হবে না"


তবে ঈমান অ্যাটাচড না থাকায় 

সেই কনফিডেন্স তার কোনো কাজে আসলো না 


কারণ কিছুদিনের মদ্ধেই 


সে সব হারিয়ে বসলো 


পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে আফসোস করে বললো   


"হায়! আমি যদি শিরক না করতাম!"


উইয়ার্ড রাইট? 


তিনি তো আমাদের তথাকথিত শির্কের কোনো বিষয়ই বলেন নি 


যেমন তিনি তো অন্য কাউকে উপাসনার ঘোষণা দেননি 


তাহলে শিরক আসলো কোথা থেকে? 


তিনি আসলে নিজের নাফ্সের আরাধনাকেই "শিরক" সম্মোধন করেছিলেন  

  

তিনি বুঝেছিলেন  


"আমরা যা ঔন করি সবই আসলে স্রষ্টার"  


তাঁর জিনিস তিনি যখন চাবেন, নিয়ে যেতে পারেন 


আমরা কেবল কয়েক দিনের ইউসার মাত্র 


আর এই মহা সত্যটি আমাদের নাফ্স আমাদের থেকে লুকিয়ে রাখে 


একটা ইলিউশন ক্রেইট করে!





৫। কুরআনের গঠন শৈলী: পার্ট ৫


আজ শুক্রবার!


ছোট থেকে শুনে শুনে বড় হয়েছি। 

 

"শুক্রবারে সূরা কাহ্ফ বেশি বেশি পড়, তাহলে দাজ্জালের এক্সাম থেকে বেঁচে যাবে"


কিন্তু আফসোস কেউ কখনো বুঝিয়ে দেয়নি কি বা কিভাবে একটি মাত্র সূরা আমাদেরকে পৃথিবীর সবথেকে বড় ও কঠিন এক্সামিনেশনে পাশ করাবে?  


শুরু হলো রিসার্চ যতই পড়ছি ততই ক্লিয়ার হচ্ছে। 


প্লেন করলাম পুরো কাহাফ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করানর, সবার জানার দরকার আছে। 


আজ সেই লিখার সামান্য এক গ্লিম্পস তুলে ধরলাম.... 


সূরা কাহাফে মোট ৪টি গল্প আছে 


প্রথম দর্শনে গল্পও গুলো খানিক বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, ৪টি গল্পই কিন্তু এক নিপুন সুতয় বাধা। 


শুধু তাই নয়, প্রতিটি গল্পের ভিতরেও তাঁর নিজের ভিন্ন শৈলী আছে।     


সেই ৪ টি গল্প কি? বা কি করে সেই গল্প গুলো আমদেরকে দাজ্জালের এক্সাম থেকে বাঁচাবে? সেই বিস্তারিত লিখা আশা করছি আগামি সপ্তাহের মদ্ধে তুলে ধরতে পারবও ইনশাল্লাহ।

  

আজ শুধু প্রথম গল্পের শৈলীটি তুলে ধরলাম।    


প্রথম গল্পের শৈলী: 


ক যুবকেরা দুয়া করলেন (আয়াত ১০)

খ আল্লাহ তাদের ঘুম পারালেন (আয়াত ১১)

গ আল্লাহ তাদের ঘুম থেকে জাগালেন (আয়াত ১২)

ঘ আল্লাহ ঘোষণা দিলেন, তিনি আসল ঘটনা সত্য ও উদ্দেশ্য সহকারে বাতলে দিবেন (আয়াত ১৩)

ক’ তিনি খুলে বললেন যুবকেরা কেন দুয়া করেছিলেন (আয়াত ১৪-১৬)

খ’  তারপর তাদের ঘুমের বর্ণনা দিলেন (আয়াত ১৭-১৮)

গ’  ঘুম থেকে উঠার পর তারা কি করলেন সেটা বললেন (আয়াত ১৯-২১)

ঘ’ তাঁরা কয় বছর ঘুমিয়েছিলেন সেই আসল সংখ্যার সত্যতা প্রকাশ করলেন আবার এও বললেন যে তাঁরা কয়জন ছিল সেটা থেকে আরও গুরুত্তপূর্ণ বিষয় হল তাঁরা কোন উদ্দেশে নিয়ে সেই গুহায় আশ্রয় নিইয়েছিল সেটা 


খেয়াল করুন কি করে 


ক এবং ক’ 

খ এবং খ’ 

গ এবং গ’ এবং সব শেষে 

ঘ এবং ঘ’ কানেকটেড

 

আবার বলছি, প্রশ্ন জাগে না যে কে বলে এভাবে কথা?    


আশা রাখি পুরো লিখার জন্য অপেক্ষায় থাকবেন। 


ধন্যবাদ।





৬। মানুষজন এখানে অনেকটা মজার ছলেই বলে থাকে: 


ভ্যাঙ্কুভারে কেবল দুটোই সিজন:


একটা হলো গ্রীষ্ম আর আরেকটা হলো বর্ষা


কারণ এখানে যে বছরের ৮ মাসই বৃষ্টি লেগে থাকে। 


কথায় আছে


"অঝোরে ধারা, জীবনে আনে কষ্ট, ফসলে আনে স্বস্তি" 


কথাটা এখানে হারে হারে টের পাওয়া যায়। 


এই বৃষ্টির কারণেই প্রকৃতি যেন পুরো ভ্যাঙ্কুভারকে সবুজ চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে!


তবে বছরের এই সময়টা আসতে না আসতেই কিছু কালের জন্য এই সবুজ শ্যামলতায় একটা শিফট আসে  


পাতাগুলো পাকতে শুরু করে, রং গুলো বদলাতে শুরু করে


সবুজ ভ্যাঙ্কুভার হয়ে উঠে রঙিন  


রাস্তায় রাস্তায় রঙের মহড়া চোখে ধরা পরে  


কখনো লাল, কখনো হলুদ আবার কখনো বা কমলা


মানুষ সেই মহড়ার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া রাঙিয়ে তুলে।


তবে এটাও ক্ষণস্থায়ী 


এক মাস যেতে না যেতেই শীতের বাতাস বইতে শুরু করে 


পাতাগুলো একে একে সব ঝরতে শুরু করে


শুকনো পাতা গুলো উড়তে শুরু করে


আর ন্যাড়া গাছ গুলো কেবল মন খারাপ করে একা একাই দাঁড়িয়ে থাকে 


কারণ কেউ যে আর তাদের সাথে ছবি তুলে না.


ভ্যাঙ্কুভারের এই সাইকেলটা জীবনের সাইকেলকেই যেন মনে করিয়ে দেয়


জীবনটা তো এমনি : 


এক সময় সবুজ, এক সময় পাকা, আর এক সময় নিঃশব্দে ঝরে পড়া 


মোমেন্টারিলি সুন্দর আবার চোখের পলকেই বিলীন


হ্যা মাঝের সময়টা সুন্দর 


ফিলস রিয়েল


তাকে আমরা চেইস করি


তাকে নিয়ে এক্সসাইটেড থাকি 


আবার কখনো কখনো তাকে নিয়ে স্ট্রেসডও হয়ে পড়ি!   


তাকে নিয়ে কনস্ট্যান্টলি কম্পিট করি, কম্পেয়ার করি: 


কার ঘরটা কত বেশি বড়


কার ক্যারিয়ার কতটা শার্প 


কে কত বেশি আর্ন করছে 


আর কেই বা কার থেকে বেশি বাহবা কুড়াচ্ছে!


অথচ ভুলে যাই যে 


একদিন তো সব ওই পাতার মতোই ঝরে পড়বে।  


নোট বিকজ আমরা ব্যর্থ কিংবা ইনেফিসিয়েন্ট বাট বিকজ 


সিস্টেমটাই এমনভাবে ডিজাইনড।


যিনি বানিয়েছেন এক্সাক্টলি এই উপমাটা দিয়েই জীবনকে ডিফাইন করেছেন     


ডিপ ফিলোসফিক্যাল কণ্ঠে বলেছেন 


“তাদেরকে বলুন


দুনিয়ার জীবনের উপমা তো অনেকটা এরকম: 


পানি বর্ষণ হলে গাছগুলো ঘন হবে 


আবার একসময় তা শুকিয়ে ভুষি হয়ে যাবে


শেষে বাতাস এসে তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে"


[কুরআন ১৮:৪৫]


আয়াতটা কই এসেছে জানেন? 


এসেছে সূরা কাহাফের ঠিক দুই বন্ধুর গল্পের পর পরেই 


যেটা আজ মাত্র পড়লেন 


কাহাফের দুই বন্ধুর কথোপকথনটা মনে আছে তো?  


ওই যে একজন সম্পদে খুব সমৃদ্ধ আর আরেকজন ঈমানে


একজন অহংকারী, আরেকজন বিনয়ী?


সম্পদশালী বন্ধু ভাবে 


এ সবই তার কষ্টের উপার্জন


দুই দুটা বাগান, ফ্রি ওয়াটার সাপলাই আর সাথে ফ্রি ফেন্সিং এ সব তারই কৃত কর্ম। 


ঈমানদার বন্ধুটি পাশ থেকে মনে করিয়ে দেয়


এসব আসলে তোমার এচিভমেন্ট নয় বরং তাঁর পক্ষ থেকে একটা গিফট মাত্র 


তিনি চাইলেই একদিন তা কেড়ে নিতে পারেন।


অপরজন ভাবে 


"আরে ধুর, তা কি আর হয়?


আর আখিরাত বলেও আদৌ কিছু আছে?


আর এখানেই শুরু হয় টুইস্ট  


একদিন অহংকারী বন্ধুটি এসে দেখে 


যিনি দিয়েছিলেন তিনিই সব চোখের পলকে কেড়ে নিয়েছেন!


তখন গিয়ে সে রিয়ালাইজ করে যে  


আসল অর্কেস্টার তো তিনিই, সে তো ছিল কেবল এক স্টেইজ প্রপ মাত্র! 


কাহাফের এই গল্পটা শুধু কোনো গল্প নয়


এটা একটা লাইফ লেসন যে  


আসল রিয়ালিটি এটাই 

 

"আজ আছি তো কাল নেই"!


আজকে যা যা অ্যাডমায়ার করছি  


এক দিনের এক সামান্য ঝোড়ো হাওয়াই সব কেড়ে নিতে পারে!


তবে তার মানে আবার এই না যে 


"সব কিছু ফেলে-ফুলে এখন বৈরাগী হতে হবে"  


তিনি লাইফকে এনজয় করতে নিষেধ করেননি  


জাস্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন যে 


এটার সাথে যেন আমরা খুব বেশি এটাচড না হয়ে পড়ি শুধু! 


একটা সময় হয়তো আপনি ভেবেছেন


"আপনিই তো এগুলো অর্জন করেছেন" 


"আপনিই তো সব কিছু গড়েছেন"


আর তিনি আপনার এই ইলিউশনটাকেই ব্রেক করেছেন  


বলেছেন যে 


যা পেয়েছেন তা তিনিই দিয়েছেন 


আর যা পেয়েছেন সেটাও টেম্পোরারি!


বুঝিয়েছেন যে 


আমাদের কাজ হলো 


এই রিয়ালিটিকে আঁকড়ে না ধরে ক্লেরিটির সাথে এটাকে অবজার্ভ করা!


বুঝিয়েছেন যে  


বাগান থাকাটা  প্রবলেম না


অর্থ গোড়াটাও প্রবলেম না


সাকসেসের পিছে ছুটাটাও প্রবলেম না


পার্মানেনসির ইলিউশন ধরে রাখাটা হচ্ছে আসল প্রবলেম!


একজন অ্যারোগ্যান্ট সেটা না জানতেই পারে 


কিন্তু একজন বিলিভার এটা ঠিকই জানে


কারণ একজন বিলিভারের কাছে রাইট গার্ডেন থাকাটা ইম্পর্টেন্ট নয় 


রাইট পার্সপেক্টিভ থাকাটাই হচ্ছে ইম্পর্ট্যান্ট!


ফাইনালি এই আয়াতেই তিনি বলেন    


"তিনিই সবকিছুর উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।” কুরআন [১৮:৪৫]


অর্থাৎ কনক্লুড করলেন যে


আমাদের সম্পদ, আমাদের অ্যাচিভমেন্ট, আমাদের স্ট্যাটাস, আমাদের স্বাস্থ কোনোটাই পার্মানেন্ট নয় 


একমাত্র তিনিই পার্মানেন্ট


সো এমন জিনিসের সাথেই হৃদয়কে জুড়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ 


যেটা সময়ের সাথে উড়ে যায় না


যেটা পার্মানেন্ট।


ফাইনাল পয়েন্ট: 


শীত যেতে না যেতেই কিন্তু ভ্যাঙ্কুভারে আবার আগের রূপে ফিরে আসে 


সে পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠে, সবুজে সবুজ হয়ে উঠে! 


এটা যেন আরেকটা রিমাইন্ডার: 


এই শীতে ঝরে যাওয়ায় মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয় 


সমানে আরেকটা স্টেইজ আসছে। 


সিমিলারলি এই জীবনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মানেও শেষ হয়ে যাওয়া নয় 


সামনে আরেকটা স্টেইজ আসছে। 


আর এই কথাটাই অন্তত চার জায়গায় পেলাম  


তিনি চার চার জায়গায় আমাদেরকে বলেছেন যে 


আমরা হলাম এই গাছের মত 


এই গাছের মতোই হাশরের ময়দানে আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে!


[আয়াত গুলো কমেন্টে]


সো যেটা বলে শেষ করতে চাইছি 


লাইফের নানান অ্যাসপেক্ট গুলোতে যখন কোনো ধাক্কা আসে  


হোক তা দাম্পত্যে 


হোক তা উপার্জন 


কিংবা হোক তা রেপুটেশনে 


যখন মনে হবে সব কিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে  


তখন শুধু এই একটা আয়াত একটু রিকল করবেন 


দেখবেন কি স্ট্রেস-ফ্রি-টাই না লাগছে!  


কারণ প্রকৃত প্রশান্তি তখনই আসে  


যখন আপনার হৃদয় এই সত্যতা বুঝে যায় যে  


এই দুনিয়াটা তো কেবল সুখের মরীচিকা মাত্র, প্ৰকৃত সুখ তো অপেক্ষায় আছে!  


কারণ দুনিয়াটা তো একটা টেম্পোরারি স্টপেজ মাত্র, আসল স্টপেজ তো সামনেই আছে!





৭। শুক্রবার, কাহাফ পড়ছিলাম


আবারও একটা নতুন ইনসাইটস পেলাম  


নতুন ইনসাইট নিয়েই আজকের লেখা


খুব সম্ভবত কাহাফ নিয়ে ৭ম লেখা।


শুরু করি, বিসমিল্লাহ:


প্রতিটা সূরারই একটা থিম থাকে


সেই থিমকে রিফ্লেক্ট করার জন্য আমরা এক বা একাধিক শব্দ বা ফ্রেইজ রিপিট হতে দেখি  


এগুলোকে আমরা এঙ্কর বলি  


যেমন সূরা মারিয়ামে এঙ্কর হিসেবে আছে "রহমান" শব্দটি কিংবা


সূরা রহমানে এঙ্কর হিসেবে আছে "ফাবি আইয়ে আলা ই রাব্বিকুমা তু কাজ্জিবান" ফ্রেইজটি


এই এঙ্কর গুলোই বলা যায় সুরা গুলোর মূল থিমকে ডিকটেট করে।  


কাহাফে এমন এঙ্কর পেলাম দুটো    


"টেস্ট" আর "ফলো"  


কিভাবে? চলুন দেখা যাক!


সূরাটা শুরুই হয়েছে একটা চরম সত্য দিয়ে


"তিনি পৃথিবিটা এমন এট্রাকটিভ ওয়েতেই বানিয়েছেন যেন তিনি আমাদেরকে টেস্ট করতে পারেন" [কুরআন ১৮:০৫]


সেই টেস্ট গুলো কি ধরণের হবে


সেটা আবার ৪ টা ভিন্ন কেস স্টাডিতে ডিটেইলসে ডিসকাস করুন।  


তবে আজকের ইনসাইট টেস্ট না, আজকের ইনসাইটস হচ্ছে "ফলো" নিয়ে


"ফলো" দিয়ে স্টার্ট করলাম দেখবেন "টেস্ট" অটোমেটিক ফলো করছে!  


"ফলো" শব্দটির আরবি হলো "ইত্তেবাআ"


এসেছে মোট ৪ বার আর এসেছে রুট "তা বা য়া" থেকে যার মূল অর্থই হলো "ফলো করা"


আরবি লিট্রেচার ঘাঁটলে দেখা যায় এই "ইত্তেবাআ" নানা ভাবে ব্যবহার হয়, যেমন


মরুভূমিতে একজন ট্রেকার যখন বালুর ওপর কারো পায়ের চিহ্ন ধরে এগোতে থাকে সেটা "ইত্তেবাআ"


একটি শিশু যখন তার বাবা–মায়ের ছত্রছায়ায় বড় হতে থাকে সেটাও "ইত্তেবাআ"


আবার একজন ছাত্র যখন তার উস্তাদের চাল চলন অনুকরণ করে সেটাও কিন্তু "ইত্তেবাআ"


তাছাড়া একজন সৈনিক যখন নিষ্ঠার সাথে তার কমান্ড পালন করে সেটা যেমন "ইত্তেবাআ"


তেমনি একজন যাত্রী যখন তার পরিচিত রাস্তায় চলতে থাকে সেটাও হলো "ইত্তেবাআ"


অর্থাৎ "ইত্তেবাআ" হচ্ছে পুরো একটা স্পেকট্রাম!  


এই "ইত্তেবাআ" খুব সূক্ষ্মভাবে পুরো সূরার সেন্ট্রাল স্কেলেটন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে  


আমাদেরকে সে একটি প্রশ্ন বারবার ছুঁড়ে দিচ্ছে


ফলো করছো তো কাকে করছো?


প্রথম গল্পে গুহাবাসীর কাছে আমরা শিখি


সোসাইটি যখন তোমাকে পুশ করবে তখন তুমি কাকে ফলো করবে?


গুহাবাসী কোনো সোসাইটি বা ট্রেন্ড ফলো করেনি  


ফলো করেছিল স্রেফ এক ইলাহকে!    


তবে এই ফলোশিপের গল্পেই আরেকটা ইম্পর্ট্যান্ট আছে যা আমরা প্রায়শই ইগনোর করি  


আর তা হলো


যুবকরা যখন মারা গেলো তখন সেখানকার মানুষেরা তাদেরকে কি ভাবে সম্মান করলো


তারা তাদের কে অতি সম্মান দেখতে গিয়ে সেখানে একটা সেজদার জায়গা বানিয়ে ফেললো  


যেই শিরক থেকে বাঁচার জন্য তাদের এত লড়াই  


তাদেরকেই কিনা উল্টো শিরকের উসীলা বানিয়ে নিলো  


তাদের উপর মসজিদ বানালো, সেটাকে ঘিরে নতুন নতুন মিনিংলেস রিচুয়ালস স্টার্ট করলো!


সো লেসনটা বেশ স্পষ্ট


আমরা কোনটা ফলো করবো?


মিনিংফুল ট্রুথ নাকি মিনিংলেস রিচুয়ালস!  


সামারি: প্রথম গল্প হচ্ছে শিরক ভার্সেস ইমানকে ফলো করার টেস্ট।


এবার আসি দ্বিতীয় গল্পে, দুই বাগানীর গল্প


এবারের থিম নিজেকে নিয়ে!  


তুমি কাকে ফলো করছো?


নিজের ইগোকে না সত্যকে?


নিজের অহংকারকে না বিনয়কে?


অহংকারী বন্ধু স্রষ্টাকে না ফলো করে তার ইগোকে ফলো করলো


তার ডাউনফলের কারণ ছিল তার অহংকার


সামারি: দ্বিতীয় গল্প হচ্ছে প্রাচুর্যের মাঝে বিনয়কে ফলো করার টেস্ট।


এবার আসি তৃতীয় গল্পে, মুসা আ ও খিজির আ এর গল্প


এখানেই প্রথম "ফলো" ডিরেক্ট অ্যাপিয়ার হয়  


মুসা আ খিজির আ কে ডিরেক্ট প্রশ্ন করেন  


"আমি কি আপনাকে ফলো করতে পারি?"


সাথে প্রমিজও করলেন যে তিনি ধৈর্যশীল হয়েই থাকবেন


মুসা আ এর আখলাক আমাদেরকে শিখায়


সত্যকে ফলো করতে হলে শুধু ইনটেনশন না


বিনয় থাকতে হবে আর বিনয়ের সাথে সবরও থাকতে হবে।


খেয়াল করুন, এই গল্পে মুসা আ ইনস্ট্রাকশন ফলো করতে স্ট্রাগল করেছিলেন  


সেখান থেকে আমরা বুঝি যে


ফলো করতে হলে কন্ট্রোলকে গিভ আপ করতে হবে


ফলো করতে হলে ডিভাইন উইসডম কে ট্রাস্ট করতে হবে!  


সামারি: তৃতীয় গল্প হচ্ছে টাফ টাইমে ডিভাইন উইসডমের উপর সবরকে ফলো করার টেস্ট।


এবার আসি চতুর্থ গল্পে, জুলকারনাইন আ ও তার অভিযানের গল্প


এই এক গল্পেই "ইত্তেবাআ" শব্দটি এসেছে পরপর তিনবার!


খেয়াল করে দেখুন


এই গল্পে তিনি জুলকারনাইন আ কে কেন মেনশন করেছেন?


তার মিলিটারি পাওয়ার, তার অর্থ, তার ব্রিলিয়ান্স এর জন্য?  


তাকে মেনশন করেছেন তার প্রিন্সিপালের জন্য


জুলকারনাইন নিজের নিজের ইচ্ছায় জার্নি গুলো করেননি


করেছিলেন উপরের ইন্সট্রাকশনে


প্লাস তিনি যেখানেই গিয়েছেন সেখানে গিয়েও কিন্তু ইমোশন দেখাননি


দেখিয়েছেন জাস্টিস।


যারা গ্র্যাটফুল তাদেরকে পুরস্কৃত করার কথা বলেছেন


আর যারা দুর্বৃত্ত তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন  


সাথে তিনি মজলুমদের রক্ষা করেছেন


এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দেয়াল দাঁড় করিয়েছেন    


এমনকি সেটা দাঁড় করিয়ে অহংকার দেখাননি বরং রবের প্রতি বিনয় দেখিয়েছেন।


জুলকারনাইন আ দেখিয়েছেন যে


আসল পাওয়ার নাফ্সকে ফলো করে নয় বরং রাইট প্রিন্সিপালকে ফলো করে পাওয়া যায়।  


সামারি: চতুর্থ গল্প হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়েও জাস্টিসকে ফলো করার টেস্ট।


ফাইনালি এই সূরাতেই আরেকটা গল্প আছে


আমরা যেটা বেমালুম ভুলে যাই


তা হলো সৃষ্টির আদি গল্প


এখানে ইবলিশের ইতিহাস তুলে ধরে অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন    


এতো কিছু জানার পরেও


"আমাকে বাদ দিয়ে কি তোমরা ইবলিশ ও তার সন্তানদেরকেই ফলো করবে!" [কুরআন ১৮:৫০]!


সো বলা যায় কাহাফের প্রতিটা গল্পই হচ্ছে এক একটা ডিফারেন্ট কেস স্টাডি যে  


আপনি কাকে ফলো করছেন?


সাইকোলোজিকালি, "আপনি কাকে ফলো করছেন?" এটা বের করার একটা সহজ আর সিম্পল টেকনিক আছে


টেকনিকটা হচ্ছে ব্রেইনকে অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করা!


ব্রেইনকে অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করলে সে অটো পাইলট মুড্ থেকে মেনুয়াল মুডে অ্যাক্টিভেট হয়


আর এই ম্যানুয়াল মুডে আমরা তখন কন্ট্রোল নিতে পারি!


ট্রাই করে দেখতে পারেন  


প্রতিটা কাজের আগে কনসাসলি, পসিবলী লাউডলি, অ্যাক্টিভলি নিজেকে প্রশ্ন করুন  


"এই মুহূর্তে আমি কাকে ফলো করছি?"


কোনো একটা খারাপ ভিডিও দেখার আরজ এসেছে?


অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করুন  


এই একশনে করে আমি কাকে ফলো করছি?


নিজের নাফ্সকে নাকি নিজের দ্বীনকে?


সুন্দরী ললনাকে দেখে তাকাতে ইচ্ছে করছে?


অ্যাক্টিভলি প্রশ্ন করুন  


এই একশনে করে আমি কাকে ফলো করছি?


নিজের নাফ্সকে নাকি নিজের দ্বীনকে?


দেখবেন উত্তর চোখের সামনে ভেসে উঠেছে!


কাহাফ আসলে একটা গাইডেন্স  


"কি ফলো করবো" আর "কি ফলো না করবো"


"কিভাবে ফলো করবো" আর "কিভাবে ফলো না করবো" এর গাইডেন্স  


এর প্রতিটা টেস্টই হচ্ছে ফলোশিপের টেস্ট।


তো প্রতি শুক্রবার কেন পড়তে হবে?


পড়তে হবে আমাদের ফলোশিপকে রিসেট করার জন্য


কারণ পুরো সপ্তাহ জুড়ে আমরা


আমাদের ডিজায়ার কে ফলো করছি


আমাদের স্ট্রেস কে ফলো করছি


আমাদের ভয় কে ফলো করছি


আমাদের ডিস্ট্রাকশনকে ফলো করছি


নানান ধরণের ট্রেন্ডকে ফলো করছি


কাহাফ হচ্ছে আমাদের সাপ্তাহিক কম্পাস


এই রিডিং এর মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে সপ্তাহে সপ্তাহে ফিসফিস করে মনে করিয়ে দেন    

 

"তাদেরকে না, আমাকে ফলো করো"


ফলো করো সর্ব অবস্থায়


ফলো করো যখন তুমি যুবক


ফলো করো যখন তুমি ধনী


ফলো করো যখন তুমি কনফিউসড কিংবা


ফলো করো যখন তুমি পাওয়ারফুল!




কাহাফ নিয়ে বাকি আগের লিখা গুলো


১. https://www.facebook.com/share/p/1BkPmj7Ysx/

২. https://www.facebook.com/share/p/1DFKf642ae/

৩. https://www.facebook.com/share/p/1CH1eYWVAV/

৪. https://www.facebook.com/share/p/1AEvCgVzZT/

৫. https://www.facebook.com/share/p/1HuwVgPEpZ/

৬. https://www.facebook.com/share/p/1D7uFSH6Ef/?mibextid=wwXIfr

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন