সালাতুত তাসবীহ নামাযের কোন ভিত্তি কি নেই?
প্রশ্ন : কিছু মানুষ বলতেসে সালাতুত তাসবির যে হাদিসটা আছে এইটার রেফারেন্স নাকি দুর্বল। আমি জানি দুর্বল রেফারেন্সের হাদিস আমলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আপনি বললেন যে সালাতুত তাসবির হাদিসটা সহিহ। তাই কষ্ট করে যদি মুহাদ্দিসগন এর নামগুলো দেন যারা এটাকে সহিহ বলেছেন তাহলে বাধিত হব। দুর্বল রেফারেন্সের জন্য কিছু মানুষ সালাতুত তাসবিহ নামায আদায় করতে না করছে।
উত্তর :
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃ) ‘আব্বাস ইবনু ‘আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)-কে বললেনঃ হে ‘আব্বাস! হে আমার চাচা ! আমি কি আপনাকে দান করবো না? আমি কি আপনাকে উপহার দিবো না? আমি কি আপনার দশটি মহৎ কাজ করে দিবো না? আপনি যখন সে কাজগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তখন আল্লাহ আপনার প্রথম ও শেষ, অতীত ও বর্তমান, ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃত, ছোট ও বড় এবং প্রকাশ্য ও গোপন সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
ঐ দশটি মহৎ কাজ হচ্ছেঃ আপনি চার রাক’আতের ক্বিরাআত হতে অবসর হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বলবেন, “সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” পনের বার,
অতঃপর রুকূ’ করুন এবং রুকূ’ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার,
আবার রুকূ’ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার,
অতঃপর সাজদাহ্য় যান এবং সাজদাহ্ অবস্থায় তা পাঠ করুন দশবার,
অতঃপর সাজদাহ্ হতে মাথা উঠিয়ে তা পাঠ করুন দশবার।
আবার সাজদাহ্ করুন, সেখানে তা পাঠ করুন দশবার।
অতঃপর সাজদাহ্ হতে মাথা তুলে তা পাঠ করুন দশবার,
এ নিয়মে প্রত্যেক রাক’আতে তাসবীহর সংখ্যা হবে পঁচাত্তুর বার এবং তা করতে থাকুন পূর্ণ চার রাক’আতে। (এতে পুরো সলাতে তাসবীহর সংখ্যা হবে তিন শত বার)। আপনার পক্ষে সম্ভব হলে উক্ত সলাত দৈনিক একবার আদায় করুন। অন্যথায় সপ্তাহে একবার, তাও সম্ভব না হলে মাসে একবার, এটাও সম্ভব না হলে বছরে একবার, যদি তাও না হয় তবে সারা জীবনে অন্তত একবার আদায় করুন।
[সুনানে আবু দাউদ: ১২৯৭, ইবনে মাজাহ ১৩৮৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা ১২১৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা ৪৬৯৫, হাদীসটি সহীহ]
উক্ত হাদীসকে যারা সহীহ বলেছেন!
১. ইমাম আবু দাউদ, হাদীস নং-১২৯৭, [ইমাম আবু দাউদ হাদীস বললে, চুপ থাকলে সেটি তার কাছে সহীহ।
২. ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, এর সনদটি হাসান। [আলখিছাল-১/৪১]
৩. আল্লামা ওয়াদেয়ী বলেন, হাসান। [সহীহুল মুসনাদ, হাদীস নং-৫৮২]
৪. ইবনুল মুলাক্কিন বলেন, এর সনদ উত্তম। [আবদরুল মুনীর-৪/২৩৫]
৫. ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, হাসান। [তাখরীজুল মিশকাতুল মাসাবীহ-২/৭৮]
৬. শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। [সহীহুল জামে, হাদীস নং-৭৯৩৭]
এতগুলো মুহাদ্দিস হাদিসটি সহীহ ও হাসানের মর্যাদা দেবার পরও একে বাতিল বলা ধৃষ্ঠতা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।
দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহ্হুদ পড়ার জন্য বসবে তখন আগে উক্ত তাসবীহ ১০ বার পড়বে তারপর তাশাহ্হুদ পড়বে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠবে। অতঃপর তৃতীয় রাকাত ও চতুর্থ রাকাতেও উক্ত নিয়মে উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে। তাসবীর বাংলা উচ্চারণ হলো-“সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার”
কোন এক স্থানে উক্ত তাসবীহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নিবে। আর এই নামাযে কোন কারণে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সাজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে না। তাসবীহের সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙ্গুলের কর গণনা করা যাবে না, তবে আঙ্গুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।
বিঃ দ্রঃ সালাতুত তাসবীহ পড়ার আরো একটি নিয়ম রয়েছে। তবে উপরোল্লিখিত নিয়মটি উত্তম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে :
~ মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী হাফিজাহুল্লাহ
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন