একটি অসাধারণ ঘটনা, যা নবীজি ﷺ-এর অটল তাওয়াক্কুল, সাহসিকতা এবং আল্লাহর অপূর্ব হিফাজতের জ্বলজ্বলে প্রমাণ

 


একটি অসাধারণ ঘটনা, যা নবীজি ﷺ-এর অটল তাওয়াক্কুল, সাহসিকতা এবং আল্লাহর অপূর্ব হিফাজতের জ্বলজ্বলে প্রমাণ।
মুহারিব গোত্রের এক ব্যক্তি, গাওরাস ইবনুল হারিস (অথবা গওরাস/গুরাস ইবনুল হারিস নামে পরিচিত), তার কওমের লোকদের কাছে ঘোষণা করলেন: “আমি তোমাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ ﷺ-কে হত্যা করব।” তারা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কীভাবে তুমি তা করবে?” সে দৃঢ়কণ্ঠে বলল, “আমি তাকে ধোঁকা দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ করব।”
সে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করল। একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ গাজওয়ায়ে যাতির রিকা’ (ধাতুর রিকা’ অভিযান)-এর সময় সাহাবীদের সাথে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে ছিলেন, আর তাঁর তলোয়ারটি কোলের ওপর রাখা ছিল। গাওরাস সুযোগ বুঝে কাছে এসে বলল, “হে মুহাম্মদ! আমি কি আপনার এই তলোয়ারটি দেখতে পারি?”
দয়ার নবী ﷺ, যিনি সবসময় মানুষের প্রতি সরলতা ও বিশ্বাস দেখাতেন, কোনো সন্দেহ ছাড়াই বললেন, “হ্যাঁ, দেখো।”
গাওরাস তলোয়ারটি হাতে নিল, কোষ থেকে বের করল এবং ঘুরাতে লাগল। তার মনে তখন একটাই চিন্তা—এক ঝটকায় নবীজি ﷺ-কে হত্যা করা। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা তার হাতকে নিস্তেজ করে দিলেন, তার শরীর অবশ হয়ে গেল। সে আর আঘাত করতে পারল না। অবাক হয়ে সে জিজ্ঞাসা করল:
“হে মুহাম্মদ! আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন না?”
রাসূল ﷺ শান্ত কণ্ঠে বললেন, “না।”
গাওরাস: “আমার হাতে তলোয়ার, আর আপনি ভয় পাচ্ছেন না?”
রাসূল ﷺ: “না, কারণ আল্লাহ আমাকে তোমার হাত থেকে রক্ষা করবেন।”
এই অটল বিশ্বাস, এই অপার সাহস দেখে গাওরাসের মন ভেঙে গেল। সে আর কোনো ক্ষতি করতে পারল না। তলোয়ারটি কোষে ভরে বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিল। নবীজি ﷺ তাকে কোনো শাস্তি দিলেন না, বরং মুক্ত করে দিলেন। (কিছু রেওয়ায়াতে উল্লেখ আছে যে, পরে সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বা অন্তত নবীজির বিরুদ্ধে আর কখনো লড়াই করেননি।)
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে নাজিল করলেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো—যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের প্রতি হাত বাড়াতে উদ্যত হয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদের হাত তোমাদের থেকে রুখে দিয়েছিলেন। আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহর ওপরই মুমিনদের তাওয়াক্কুল করা উচিত।”
(সূরা আল-মায়িদাহ: ১১)
এই আয়াতটি শুধু একটি ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং একটি চিরন্তন বার্তা—যার রক্ষাকর্তা স্বয়ং আল্লাহ, পৃথিবীর কোনো শক্তি, কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো তলোয়ার তাঁর ক্ষতি করতে পারে না।
নবীজি ﷺ-এর জীবনে এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে, যেখানে মানুষের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ **আল্লাহই যথেষ্ট রক্ষাকারী**।
আমাদের জন্য শিক্ষা: যখন আমরা সত্যের পথে থাকি, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি, তখন কোনো ভয়, কোনো ঝুঁকি আমাদের টলাতে পারে না। কারণ—“وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ”।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর প্রিয় নবী ﷺ-এর মতো তাওয়াক্কুল ও ঈমান দান করুন। 🤲

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন