সূরা ফালাকের একেবারে শেষ আয়াতে, কোন জিনিস থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই বলতে পারেন?

 সূরা ফালাক তিলাওয়াতকালে প্রতিবারই আমি একটা ধাক্কা খাই। সূরা ফালাকের একেবারে শেষ আয়াতে, কোন জিনিস থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই বলতে পারেন? হিংসুকের হিংসা থেকে। ওই আয়াতে আমরা বলি—

وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ‎٥‏


“(আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।” 


আমি অবাক হয়ে ভাবি—এই সূরায় মানুষ ক্ষতিকর প্রাণী, কীটপতঙ্গ, অন্ধকারের যা কিছু অনিষ্ট এবং যারা কুফরি-কালাম তথা ব্ল্যাক ম্যাজিক করে তাদের কাছ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। একেবারে শেষে এসে বলে—‘আমাকে আশ্রয় দিন হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।’


যার অন্তরে ‘হাসাদ’ তথা হিংসা আছে তাকে কুরআন ক্ষতিকর প্রাণী, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ এবং মানুষের ক্ষতি সাধন করে এমন জাদুকরদের সাথে সমান্তরালে রেখে কথা বলেছে। অর্থাৎ—হিংসুক ব্যক্তি ক্ষতিকর প্রাণী, কীটপতঙ্গ কিংবা জাদুকরদের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়!


ধরুন—আপনার অন্তরে হিংসা আছে। আপনি কারও উন্নতি দেখে সহ্য করতে পারেন না। কারও পদোন্নতি, ভালো অবস্থা দেখলে আপনার মন খচখচ করে। কারও ভালো কোনো অর্জন দেখলে আপনি তা মেনে নিতে পারেন না। মনে মনে আশা করেন—এই অর্জন যেন ধুলোয় পর্যবসিত হয় কিংবা এটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।


আপনার অন্তরের অবস্থা যদি এরকম হয়, তাহলে সূরা ফালাকের শেষের সেই আয়াত, যে আয়াতে ‘হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট’ থেকে পানাহ চাওয়া হয়, আপনিও সেই আয়াতের অন্তর্ভুক্তদের একজন।


অর্থাৎ—কেউ যখন আল্লাহর কাছে হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে পানাহ চায়, তখন সে মূলত আপনার থেকেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। হিংসা করার মাধ্যমে তার যে ক্ষতি আপনি করে দিতে পারেন, সেই ক্ষতি থেকে সে বাঁচতে চায়।


মানুষেরা রোজ রোজ, সকাল-সন্ধ্যায় প্রার্থনা করে আপনার কাছ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছে—দৃশ্যটা ভাবতে কেমন লাগে আপনার?


‘হাসাদ’ তথা হিংসা অন্তরের এমন একটা মারাত্মক ব্যাধি যা আমাদেরকে ক্ষতিকর জিন, হিংস্র প্রাণী এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের কাতারে নামিয়ে আনে। এটা মানুষকে এমন স্তরে নামিয়ে আনে, যে স্তরে নেমে আসার পর অন্য মানুষদের আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া লাগে তার ক্ষতি থেকে বাঁচতে।


.


২০২৩ সালে প্রকাশিতব্য 'কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ' বই থেকে নেওয়া টুকরো অংশ। ইন শা আল্লাহ, বইটি প্রকাশিত হবে সত্যায়ন প্রকাশন থেকে...


> আরিফ আজাদ

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন