যিকিরের উপকারিতা:
======
======
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)বলেন, মাছের জন্য যেমন পানি দরকার অনুরুপ অন্তরের জন্য যিকির আবশ্যক
মাছকে যদি পানি থেকে বের করা হয় তবে তার অবস্থা কেমন হবে।
যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়। তার নিকটবর্তী হওয়া যায়। তার সন্তষ্টি পাওয়া যায়। তার পর্যবেক্ষন অনুভব করা যায়। তাকে ভয় করা যায়। তার কাছে প্রত্যাবর্তন করা যায়। তার আনুগত্য করতে সাহায্য পাওয়া যায়।
যিকিরের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ-বেদনা ও দুশ্চিন্তা দুর হয়। খুশী ও আনন্দ লাভ করা যায়। অন্তর জীবিত থাকে, তাতে শক্তি ও পরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি হয়।
অন্তরের মধ্যে শূন্যতা ও অভাব থাকে আল্লাহর যিকির ছারা তা দুর হবেনা। এমনি ভাবে অন্তরের মধ্যে কঠোরতা আছে আল্লাহর যিকির ছারা তা নম্র হবেনা।
যিকির হচ্ছে অন্তরের আরোগ্য ও পথ্য এবং শক্তি।যিকিরের আনন্দ -স্বাদের তুলনায় কোন আনন্দ নেই কোন স্বাদ নেই। অন্তরের রুগ হচ্ছে যিকির থেকে উদাসীনতা।
যিকিরের সল্পতা মূনাফেকীর দলিল। আধিকত্য ইমানের দৃঢ়তার প্রমান এবং আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভালবাসার দলীল। কেননা মানুষ যা ভালবাসে তাকে বেশী বেশী স্বরণ করে।
বান্দা যখন যিকিরের মাধ্যমে সুখের সময় আল্লাহকে চিনবে। তিনিও তাকে দুঃখের সময় চিনবেন। বিশেষ করে মৃত্যুর সময়, মৃত্যু যন্ত্রনার সময়।
যিকির হচ্ছে আল্লাহর আযাব থেকে বাচার মাধ্যম। যিকিরের কারণে প্রশান্তি নাজিল হয়, আল্লাহর রহমত আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেস্তারা ইস্তেগফার করে।
যিকিরের মাধ্যকে জিহবাকে বাজে কথা, গীবত, চুগোলখোরী, মিথ্যা প্রভৃতি হারাম ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করা যায়।
যিকির হচ্ছে সবচেয়ে সহজ ইবাদত। সর্বাধীক গুরুত্বপূর্ন ও ফযীলতপূর্ন ইবাদত। যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে বৃক্ষরোপন করা হয়।
যিকিরের মাধ্যমে গাম্ভীর্যতা, কথা-বার্তায় মিষ্টতা ও চেহারায় উজ্জলতা প্রকাশ পায়। যিকির হচ্ছে দুনিয়ার আলো এবং কবর ও পরকালের নূর।
যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত নাজিল আবশ্যক হয়, ফেরেস্তারা তার জন্য দো'আ করে। যিকিরকারীদের নিয়ে আল্লাহ ফেরেস্তাদের সামনে গর্ব করেন।
অধীকহারে আল্লাহর যিকিরকারী সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারীদের অন্যতম। যেমন সর্বোত্তম রোজাদার হচ্ছে রোজা অবস্থায় বেশী বেশী আল্লাহর যিকির করা।
যিকিরের মাধ্যমে কঠিন বিষয় সহজ হয়, দুর্বোধ্য জিনিশ সাবলিল হয়, কষ্ট হালকা হয়, রিজিকের পথ উন্মুক্ত হয়, শরীর শক্তিশালী হয়।
যিকিরের মাধ্যমে শয়তান দূরীভুত হয়, তাকে মূলতপাটন করে, তাকে লাঞ্চিত ও অপমানিত করে।
অনুবাদ ও লেখক -শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফি বিন আব্দুল জলিল মাদানি (রহঃ)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন