খারেজীদের কিছু বৈশিষ্ট্য ও আলামত

 যথেষ্ট লিখেছেন ডক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ)।

খারিজিরা আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমার) মতো সাহাবায়েকেরামদের কেউ হত্যা যোগ্য অপরাধি বা (কাফের) মনে করত, নাউজুবিল্লাহ। 

এখনো এমন গুণাবলী মানুষের অভাব নাই তাই সাবধান। 

******

▌খারেজীদের কিছু বৈশিষ্ট্য ও আলামত

━━━━━━━━━━━━━━━━

❑ তারা হবে নবীন, তরুণ ও নির্বোধ, অথচ নিজেদেরকে অনেক জ্ঞানী ভাববে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১১, ৫০৫৭, ৬৯৩৪; মুসলিম হা/ ২৪৬২, ২৪৬৯ ]


❑ তারা সর্বোত্তম (অর্থাৎ খুব ভালো ভালো) কথা বলবে, কিন্ত সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ... করবে।

— [ সূত্রঃ মুসলিম হা/২৪৬২; আবুদাঊদ হা/৪৭৬৭; আহমাদ হা/২০৪৪৬ ]


❑ বাহ্যিকভাবে সুন্দর কথা বলবে অর্থাৎ তাদের কথাগুলো সঠিক মনে হবে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৫০৫৭ ]


❑ মুখে ঈমানের কথা বললেও তাদের অন্তরে ঈমানের লেশমাত্র থাকবে না।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৪১৫ ]


❑ তাদের ঈমান ও ছালাত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।

— [ সূত্রঃ মুসলিম হা/২৪৬২ ]


❑ পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এরা আর ঈমানের দিকে ফিরে আসবে না। যেমন তীর আর ধনুকের ছিলাতে ফিরে আসে না।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ২৪৬২ ]


❑ তারা হবে ইবাদতে অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী অর্থাৎ ইবাদাতে তারা আগে আগে থাকবে, কিন্তু নিজেদের ইবাদতের জন্য হবে অহংকারী। লোকেরা তাদের ইবাদত দেখে অবাক হবে।

— [ সূত্রঃ আহমাদ হা/১২৯৭২; ইবনু আবী আছিম, আস-সুন্নাহ হা/৯৪৫ ]


❑ তাদের নিদর্শন হ’ল, তাদের মাথা থাকবে ন্যাড়া।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৬১০; মুসলিম হা/২৪৫১; ইবনু মাজাহ হা/১৫৭ ]


❑ তারা মুসলমানদের হত্যা করবে আর কাফের, মুশরিক ও মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দিবে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ২৪৫১ ]


❑ তারা দ্বীনদারিতার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবে, এমনকি দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ২৪৫১; আহমাদ হা/ ৭০৩৮; ইবনু আবী আছিম, আস-সুন্নাহ, হা/ ৯২৯-৯৩০ ]


❑ তারা মুসলিম শাসকদের নিন্দা করে, অপবাদ দেয় এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও কাফির বলে দাবী করে। যেমনটি খুওয়াইছারা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে করেছিল।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৬১০; মুসলিম হা/ ১০৬৪; মিশকাত হা/ ৫৮৯৪ ]


❑ তারা মানুষকে কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করবে। কিন্তু সে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই থাকবে না। অর্থাৎ কিতাবুল্লাহ দিয়ে দলীল গ্রহণ করবে। কিন্তু না বুঝার কারণে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল করবে।

— [ সূত্রঃ আবুদাঊদ হা/ ৪৭৬৫; আহমাদ হা/ ১৩৩৩৮; মিশকাত হা/ ৩৫৪৩ ]


❑ তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করবে।

— [ সূত্রঃ আহমাদ হা/১২৯৭২; বায়হাক্বী, মাজমা যাওয়ায়েদ ২২৯/৬ ]


❑ তারা সর্বোত্তম দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। যেমন আলী ও মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে করেছিল।

— [ সূত্রঃ আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৭/৩০৫ ]


❑ তারা তাদের নিহতদেরকে জান্নাতী মনে করে। যেমন তারা নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধের ময়দানে পরস্পরকে ‘জান্নাতমুখী’ ‘জান্নাতমুখী’ বলে ডাকছিল’।

— [ সূত্রঃ আল-বিদায়া ১০/৫৮৭ ]


❑ ওরা এমন জাতি যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা।

— [ সূরা আলে-ইমরান ১০৬ নং আয়াতের তাফসীর, মুসনাদে আহমাদ হা/২২৩১৩ ]


❑ মতভেদ ও মতানৈক্যের সময় এদের আবির্ভাব হবে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৬৯৩৩ ]


❑ মক্কা থেকে পূর্বের কোন এলাকা থেকে দলটির আবির্ভাব হবে।

— [ সূত্রঃ সহীহ আল বুখারী, হা/ ৭১২৩ ]


❑ যেসব আয়াত কাফেরের জন্য প্রযোজ্য তারা সেগুলিকে মুমিনদের উপর প্রয়োগ করবে।

— [ সূত্রঃ আবুদাঊদ হা/৪৭৬৯ ]


❑ তাদের আগমন ঘটবে শেষ যামানায়।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/৩৪১৫ ]


❑ তারাও কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েই কথা বলবে কিন্তু অপব্যাখ্যা করবে।

— [ সূত্রঃ বুখারী হা/ ৩৪১৫ ]


❑ কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েই কথা বলবে কিন্তু অপব্যাখ্যা করবে: ফলে তারা আলেমদের সাথে সবচেয়ে বেশী শত্রুতা পোষণকারী হবে। প্রতিপক্ষের বিরোধিতা করতে গিয়ে জাল হাদীছ পর্যন্ত রচনা করে।

— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আক্বীদাতান ওয়া ফিকরান ৫৪-৬৮ পৃঃ ]


❑ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নামে এ সম্পর্কিত শরী‘আতের দলীলগুলিকে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে।

— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]


❑ ক্বুরআনুল কারিম থেকে তারা কেবল ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত আয়াতগুলি দিয়ে দলীল গ্রহণ করে। কিন্তু ভাল কাজের পুরস্কার বা উৎসাহমূলক আয়াতগুলিকে পরিত্যাগ করে।

— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]


❑ তারা আলেমগণকে মূল্যায়ন করবে না। নিজেদেরকেই বড় জ্ঞানী মনে করবে। যেমন খারেজীরা নিজেদেরকে হযরত আলী রাঃ, হযরত ইবনু আববাস রাঃ সহ সকল ছাহাবী (রাঃ)-এর চেয়ে জ্ঞানী দাবী করেছিল।

— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]


❑ ওরা হুকুম লাগানোর ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে।

— [ সূত্রঃ আল-খাওয়ারিজ আউয়ালুল ফিরাক্ব ফী তারীখিল ইসলাম পৃঃ ৩৭-৩৮ ও ১৪৬ ]


❑ তারাই সর্বপ্রথম মুসলিমদের জামা‘আত তথা আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা'আত হ’তে বেরিয়ে গেছে এবং তাদেরকে পাপের কারণে কাফের সাব্যস্ত করেছে।

— [ সূত্রঃ ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৭৯/৩৪৯, ৭/৩ ]


❑ তারা ক্বিয়াস (ধারণা বা অনুমান) ভিত্তিক কাজে বেশী বিশ্বাসী।

— [ সূত্রঃ আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১১৬/১ ]


❑ তারা মনে করে যালেম শাসকের শাসন জায়েয নয়।

— [ সূত্রঃ মাকালাতুল ইসলামমিয়্যন ২০৪/১ ]


❑ ওরা মুখে আহলে ইল্মদের তথা মুহাদ্দিসিন ও ফুকাহানে ক্বিরামে ইমামগণের কথার বকওয়ায করে কিন্তু তার মর্মাথ বুঝে না।

— [ সূত্রঃ আশ-শারী‘আহ ২৮ পৃঃ ]


❑ যতবারই তাদের আবির্ভাব হবে, ততবারই তারা ধ্বংস হবে। এভাবে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বিশ বার বলেন।

— [ সূত্রঃ ইবনু মাজাহ হা/১৭৪; আরনাঊত্ব ছহীহ বলেছেন, মুসনাদ ৩৯৮/৯ ]


❑ ভূপৃষ্ঠে সর্বদাই খারেজী আক্বীদার লোক থাকবে এবং সর্বশেষ এদের মাঝেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে।

— [ সূত্রঃ ইবনু মাজাহ হা/১৭৪ ]

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন