সমাজে প্রচলিত কিছু বিদ’আত এর তালিকা
বিদআত হলো ইবাদাতের উদ্দেশ্যে এমন কিছু আমল করা যেটা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত নয়। বিদআতীদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।কারণ বিদআত করলে রাসূল[সাঃ] কে অপমান করা হয়। রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেনঃ “তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকো। নিশ্চয় প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদআত ও প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।”
[২:১৭০] আল বাকারা
وَإِذا قيلَ لَهُمُ اتَّبِعوا ما أَنزَلَ اللَّهُ قالوا بَل نَتَّبِعُ ما أَلفَينا عَلَيهِ آباءَنا أَوَلَو كانَ آباؤُهُم لا يَعقِلونَ شَيئًا وَلا يَهتَدونَ
ওয়া ইযা ক্বীলা লাহুমুত্তাবিউ মা আনযালাল্লাহু ক্বালু বাল নাত্তাবিউ মা আলফাইনা আলাইহি আবা’আনা। আওলাও কানা আবাও ওয়াহুম লা ইয়াক্বিলূনা শাই’আঁ ওয়া লা ইয়াহতাদূন।
অর্থঃ আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন’, তারা বলে, ‘বরং আমরা অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যার উপর পেয়েছি’। যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎ পথেও ছিল না।
আজও যদি বিদআতীদেরকে বুঝানো হয় যে, এই বিদআতগুলোর দ্বীনে কোন ভিত্তি নেই, তবে তারা এই উত্তরই দেয় যে, এই প্রথাগুলো তো আমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকেই চলে আসছে। অথচ হতে পারে যে, পূর্বপুরুষরাও দ্বীনী ব্যাপারে অজ্ঞ এবং হিদায়াত থেকে বঞ্চিত ছিল। কাজেই শরীয়তের দলীলের মোকাবেলায় বাপ-দাদার [অন্ধ] অনুকরণ বা ইমাম ও আলেমদের অনুসরণ করা ভুল।
নিচের কথা গুলো বিশ্বাস বা মেনে চললে বা করলে বিদ’আত হয়ঃ
1. সাত সালাম।
2. খতমে খাঞ্জেখান।
3. কদম বুসি করা।
4. ১৩০ ফরজ মানা।
5. কবরে চুম্বন করা।
6. তাওবা খতম করা।
7. কালেমা খতম করা।
8. দুআ ইউনুস খতম করা।
9. সূরা ইয়াসিন খতম দেয়া।
10. একত্রে তিন তালাক দেয়া।
11. ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা।
12. জায়নামাজের দু’আ পড়া
13. অজুতে ঘাড় মাসেহ করা
14. অপরের কাছে তাওবা পড়া
15. বিবাহ বার্ষিকী পালন করা।
16. ওজুর পর সূরা কদর পড়া।
17. ইসলামের নামে দলাদলি করা
18. বিদায় কালে ফি আমানিল্লাহ বলা।
19. জোরে জোরে চিল্লিয়ে যিকর করা।
20. বিভিন্ন মাসের খেয়ালী নামাজ পড়া
21. ইলমে তাসাউফ বা সুফীবাদ মানা।
22. দশদিনে রুটি হালুয়া বাটা।
23. শুধু ইল্লাল্লাহ শব্দের যিকর করা।
24. কবরের উপর শামিয়ানা টাঙ্গানো।
25. বরকতের জন্য সীনা খতম পড়ানো।
26. মৃতের সামনে চিৎকার করে কাঁদা।
27. মৃত স্বামীর এবং মৃত স্ত্রীর মুখ না দেখা।
28. কারোর গায়ে পা লাগলে গাঁ ছুঁয়ে সালাম করা।
29. ইছালেহ সোয়াব নামে ওয়াজ ও দু’আ করা।
30. জাক-জোমক ভাবে খাৎনার অনুষ্ঠান করা।
31. রমাদান মাসে “বদর দিবস” পালন করা।
32. ঈদের পরে “ঈদ পূণর্মিলনী” অনুষ্ঠান করা।
33. মৃতের শোকে কাপড় ছেড়া, গায়ে চড় মারা।
34. আশেকে রাসূল বলে দাবী করা। জসনে জুলুস করা।
35. জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চৈস্বরে যিকর করা।
36. প্রথম মহররম রাত্রিতে নেকির আশায় অনুষ্ঠান করা।
37. ৭০ হাজার বার কালিমা খতম করা
38. দ্বীন প্রতিষ্ঠায় প্রচলিত রাজনীতি করা
39. দাফনের পর কবরের কাছে আযান দেয়া।
40. তারাবিতে চার রাকাত অন্তর দোয়া পরা।
41. কবরে মৃতের উপরে গোলাপ পানি ছিটানো।
42. শুক্রবার ৮০ বার নির্দ্দিষ্ট বানানো দরুদে পড়া।
43. ঔষধ খাওয়ার আগে "আল্লাহ্ শাফী..." বলা।
44. নাবী [সাঃ] কে দাড়িয়ে সালাম দেয়া।
45. বাতেনী এলেম বা তাওয়াজ্জুহ মানা।
46. নামাজ শেষে জয়নামাজে চুমু খাওয়া।
47. দল বেঁন্দে উচ্চসরে যিকির করা।
48. নামাযে ‘নাওয়াইতু আন…’ পড়া।
49. হুযুর ডেকে এনে কুরআন খতম পড়া।
50. দলবেধে পারা ভাগ করে কোরআন খতম।
51. হুযুরদের ডেকে এনে খতমে ইউনুস পড়া।
52. কবরে হাত তুলে সবাই একএে দূ’আ করা।
53. মৃত ব্যক্তির পাশে বসে কুরআন খতম দেয়া।
54. নামাযের মুছল্লায় ‘ইন্নি ওয়াজজাহতু…’ পড়া।
55. শবে বরাত পালন করা এবং এদিন রোজা থাকা।
56. কবর পাকাকরণ বা সজ্জিত করা ও উৎসবের আয়োজন।
57. দরুদে মাহি, দরুদে হাজারি, দরুদে লাঠি ইত্যাদি দরুদ পড়া।
58. তিন বা পাঁচ লাখ কালেমা খতম করা। [মৃত অথবা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য]।
59. বিশেষ চাহিদা বা মনের আসা পুরনের জন্য ৪০ দিনের যে কোন আমল করা।
60. শবে মেরাজ পালন করা। সালাত বা সাওম বা এ উপলক্ষে কোন ইবাদাত করা।
61. খতমে আম্বিআ।
62. মাজারে কুরআন পাঠ।
63. স্বপ্নের ফয়সালা মেনে নেয়া।
64. সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে।
65. উমরী কাযা সালাত আদায় করা।
66. স্বপ্নে পাওয়া তরিকায় নফল ইবাদত করা।
67. মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন দল তৈরী করা।
68. সালাত শেষে জায়সালাতকে চুমু খাওয়া।
69. সালাত শেষে অতিরিক্ত একটি সাজদা দেয়া।
70. কারী ও হুজুর ভাড়া করে এনে খতম পড়ানো।
71. আল্লাহকে পাওয়ার জন্য জংগলে চলে যাওয়া।
72. সওয়াবের উদ্দেশ্যে দলাইলুল খাইরাত পাঠ করা।
73. খানার উপর বরকতের জন্য সূরা কুরাইশ পড়া।
74. সালাত শেষে জায়নামাযের কোনা ভাজ করে রাখা।
75. সালাতের কাতারে শিশুদের রাখা মাকরূহ মনে করা।
76. সফরে কসর না পড়ে নিয়ম মত সালাত আদায় করা।
77. সালাতের পর আমল করে মাথায় বা কপালে হাত রাখা।
78. রাজতন্ত্রের ন্যায় বংশানুক্রমে পীরের ওয়ারিস হওয়া।
79. সুন্নতী পোশাকের নামে বিশেষ ধরনের পোশাক পরা।
80. নতুন নতুন দুরূদ এর আবিস্কার করা এবং তা পড়া।
81. দু’আ শেষ করে দুই হাত দিয়ে মুখ মুছা জরুরী মনে করা।
82. দুই হাতে মোসাফা করা, মোসাফা শেষে বুকে লাগানো বিদাত।
83. ফরজ নামাজের পরে দল বদ্ধ ভাবে মুনাজাত করা।
84. রোযার সময় ‘নাওয়াতুআন আছুম্মাগাদাম…’ পড়া।
85. মনগড়া প্রাত্যহিক নামায ও তার খেয়ালী সওয়াব
86. ফজর নামাজের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লাহ’ বলা।
87. মাসিক/হায়েজ/পিরিয়ড অবস্থায় রোজা রাখা।
88. জানাজা দেয়ার সময় কালিমা শাহাদাত পাঠ করা।
89. রমজান মাসে কুরআন পড়ে অন্যর জন্য বক্সিয়ে দেয়া।
90. হাল্কায়ে যিকর, ইসকের যিকর লাফালাফি, নাচানাচি যিকর।
91. প্রচলিত/তথাকথিত পীর-মুরীদি মানা বিদাত ও শিরক।
92. দাফন না করা পর্যন্ত পরিবারের লোকদের না খেয়ে থাকা।
93. কাফনের কাপড়ের উপরে দু’আ-কালেমা ইত্যাদি লেখা।
94. মৃত ব্যাক্তির কাজা সালাতের কাফফারা দেয়া বা আদায় করা।
95. ওজু শেষ পশ্চিম আকাশের দিকে সাহাদাত আঙ্গুল তুলে দুআ বলা।
96. আল্লাহকে “খোদা” বলা [কেননা খোদা শব্দে শিরক এর গন্ধ আছে]।
97. ওয়াজ/মাহফিলে মিথ্যা বানোয়াট হাসির গল্প বলে মানুষকে হাসানো
98. ওজুর সময় প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার সময় আলাদা আলাদা দুআ বলা।
99. জানাযার সালাতের আগে বা দাফনের পরে তার শোকগাথা বর্ণনা করা।
100. কবরের গায়ে বরকত মনে করে হাত, পেট ও বুক লাগানাো।
101. কবরে রুমাল, কাপড় ইত্যাদি বরকত মনে করে নিক্ষেপ করা।
102. মৃত্যুর সাথে সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে বলে ধারণা করা।
103. মৃতের বাড়িতে এক রাত্রি থাকলে তিন রাত্রি থাকতে হয়।
104. মৃতের বিছানা ও খাট ইত্যাদি ৭দিন পর্যন্ত একইভাবে রাখা।
105. মৃতের বাড়িতে গেলে ফিরে এসে নিজের গোসল করতে হয়।
106. লাশ কবরে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় নিয়ম করে তিনবার নামানো।
107. স্ত্রী বা স্বামী কর্তৃক মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে গোসল করানো নিষেধ করা।
108. মৃত ব্যক্তির রূহ চল্লিশদিন পর্যন্ত বাড়িতে আসে বিশ্বাস রাখা।
109. কুরবানীর সময় মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করে পশু কুরবানী করা।
110. কুরবানীর মাংস শুকিয়ে বা ফ্রিজে রেখে তা মহররম মাসে খাওয়া।
111. মৃত্যু পথযাত্রীর মৃত্যু তাড়াতাড়ি হওয়ার জন্য খতমে খাজেগান পড়া।
112. ইসলামি খলিফা/আমীর ব্যতীত অন্য দলের আমীরের হাতে বায়াত করা
113. কবরের উপরে খাদ্য ও পানীয় রেখে দেয়া। যাতে লোকেরা তা নিয়ে যায়।
114. মৃতের ঘরে তিন রাত, সাত রাত [বা ৪০ রাত] ব্যাপী আলো জেলে রাখা।
115. জানাযার পিছে পিছে উচ্চৈঃস্বরে যিকর ও তিলাওয়াত করতে করতে চলা।
116. আজানের দুআর সাথে "ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়াদ" এই টুকু যোগ করা।
117. হজ্জে প্রত্যেক তাওয়াফে বা সায়ীতে নির্দিষ্ট দু’আ পড়া।
118. ছয় লতিফার যিকর করা। শুধু আল্লাহ শব্দের যিকর করা।
119. খাবার আগে ওযু করলে দারিদ্র দূর হয় বলে মনে করা
120. সওয়াবের আশায় মদিনার সাত মসজিদের যিয়ারত করা।
121. ওযূতে প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার সময় কতগুলো নির্দিষ্ট দু’আ পড়া।
122. ইসতেনজার পানির সাথে ঢিলা-কুলখ নেয়া ওয়াজীব মনে করা।
123. পীর ওলিদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তে সফর করা।
124. জামাত শুরু হয়ে গেলেও বা ইকামত হয়ে গেলেও সুন্নাত পড়া।
125. ভুল হলে তওবা তওবা বলে দুই গালে থাপ্পর দিয়ে তওবা করা।
126. বরকতের উদ্দেশ্যে পীরের আধা-খাওয়া প্লেট থেকে খাবার খাওয়া।
127. আশুরার দিন সাতদানার শিরণী পাকান সওয়াবের কাজ মনে করা।
128. দু’আ করার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা জরুরী মনে করা।
129. পীর-ওলিদের হুজুর কেবলা বলা, হুজুরে পাক বলা বা আব্বাহুজুর বলা।
130. হজ্জ বা ওমরার সময় ছাড়া অন্য সময়ে মাথা কামানো সুন্নাত মনে করা।
131. হজ্জ করে নিজের নামের সাথে নিজে নিজে আলহাজ্জ উপাধি লাগানো।
132. কুর’আন নীচে পড়ে গেলে লবণ কাফফারা দেয়া, সালাম করা, কপালে লাগানো
133. পীরের গোসলের পানিকে অতি পবিত্র এবং শিফা মনে করা বিদ’আত ও শিরক।
134. কুরআন তিলাওয়াত করে নিয়ম করে সাদাকাল্লাহুল আজীম বলা জরুরী মনে করা।
135. বালাগাল উলা বি কামালিহি, কাশাফাদ্দুজা বি জামালিহি…. ইত্যাদি বলা বিদ’আত।
136. মাফি কালবি গাইরুল্লাহ, লাইলাহাইল্লাল্লাহ নূর মুহাম্মাদ সাল্লল্লাহ বলে। যিকর করা।
137. ইসলামের ইলমকে শরীয়ত, তরিকত, মারিফত ও হাকিকত এই চার ভাগে ভাগ করা।
138. জুতা পাক থাকা সত্ত্বেও জানাযার সালাতে জুতা খুলে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করা।
139. মুছাফা করার পর হাত বুকে লাগানো বিদআত।
140. বিবাহ বার্ষিকী বা Marriage Anniversary পালন করা।
141. মদীনার ‘বাকী’ কবরস্থানকে ‘জান্নাতুল বাকী” বলা বিদআত।
142. ফাতেমা [রা.] এর কবুতর মনে করে গম ছিটানো বিদ’আত।
143. কারো পায়ের সাথে বা গায়ের সাথে পা লাগলে কদমবুসি করা।
144. আত্মীয়স্বজন ও গুণীদের পা ছুয়ে সালাম করা [কদমবুসি করা]।
145. খাওয়ার সময় লবণ দিয়ে খাওয়া আরম্ভ করাকে সুন্নাত মনে করা।
146. মহররমের নামে তাজিয়া মিছিল বের করা ও মাতম করা ইত্যাদি।
147. তসবীহ পড়ার পর তসবীহ দানা মুখে চুমু খেয়ে সালাম করতে হয়।
148. ইলিয়াস আলীর ৩, ৭, ১০, ২১, ৪০, ৪১, ১২০ দিনের চিল্লা দেওয়া।
149. মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ দেখা মাত্রই দুরূদ ও সালাম পাঠ করা।
150. শুধু আল্লাহ বা ইল্লাল্লাহ যিকর: এটা খুবই গর্হিত ও আপত্তিজন কাজ।
151. জানাযার সময় স্ত্রীর নিকট থেকে মোহরানা মাফ করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা।
152. নেককার লোকদের কবরে গিয়ে দু’আ করলে তা কবুল হয়, এই ধারণা করা।
153. কবরকে ‘মাযার” বলা। যেমন পাগলা বাবার মাযার, লেংটা বাবার মাযার।
154. ’বাকী’ কবরস্থানে যাদেরই কবর হবে তারা জান্নাতে যাবে, এধারণা বিদআত।
155. ওহুদ পাহাড়ের মাটি এনে তা শিফা হিসেবে ব্যবহার করা বিদআত ও শিরক।
156. কুরআন হাতে নিয়ে বা তিলাওয়াত করে নিয়ম করে তাকে সালাম করতে হয়।
157. দাফনের পরে কবরস্থানে গবাদি-পশু যবহ করে গরীবদের মধ্যে গোশতবিতরণ করা।
158. আযান শুনে নেকী পাবে বা গোঁর আযাব কম হবে ভেবে মসজিদের পাশে কবর দেয়া।
159. সওয়াবের উদ্দেশ্যে তসবীহ ব্যবহার বা সর্বদা সওয়াবের উদ্দেশ্যে হাতে তসবীহ রাখা।
160. ঢাকার টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাকে গরিবের হজ্জ মনে করা। [বিদ’আত এবং জঘন্য শিরক]
161. বিভিন্ন নামে নামে তাওয়াফ করা। যেমন- মায়ের নামে, ছেলের নামে ইত্যাদি বিদআত।
162. আল্লাহর নাম বা কুরআনের কোন আয়াত অংকে Convert করা। যেমন, ৭৮৬ বা 786.
163. কোরআন, সহীহ্ হাদীসের বাহিরে যত দু’আ, দুরুদ, যিকর, কালেমা আছে সবই বিদাত।
164. ঐ সময় মৃতের কাযা সালাত সমূহের বা উমরী কাযার কাফফারা স্বরূপ টাকা আদায় করা।
165. দ্বীনের হেফাজতের নামে হরতাল অবরোধ মারামারি করা অনেক ক্ষেত্রে হারামও।
166. কবরে ফুল দেয়া, বাতি জ্বালানো [এগুলো অনেক সময় শিরক এ পরিণত হতে পারে]
167. ঈদের মাঠে সালাতের আগে বয়ানের নামে আরেকটি বাংলা খুতবা দেয়াও বিদআ’ত।
168. কুরআন পাঠকারীকে উত্তম খানা-পিনা ও টাকা-পয়সা দেয়া বা এ বিষয়ে অছিয়ত করে যাওয়া।
169. জানাযা শুরুর প্রাক্কালে মৃত কেমন ছিলেন বলে লোকদের কাছ থেকে সমস্বরে সাক্ষ্য নেয়া।
170. এই ধারণা করা যে, মৃত ব্যক্তি জান্নাতী হলে ওজনে হালকা হয় ও দ্রুত কবরের দিকে যেতে চায়।
171. কবরে মাথার দিকে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে সুরা বাকারার শুরুর অংশ পড়া।
172. মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে আলো জ্বেলে ও মাইক লাগিয়ে রাত্রি ব্যাপী উচ্চৈঃস্বরে কুরআন খতম করা।
173. হুজুর ডেকে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন ধরনের খতম পড়া। যেমনঃ- কালিমা খতম, দরুদ খতম।
174. প্রতি জুমআয় কিংবা সোম ও বৃহস্পতিবারে নির্দিষ্ট করে পিতা-মাতার কবর যিয়ারত করা।
175. এছাড়া আশূরা, শবে মিরাজ, শবেবরাত, রমাদান ও দুই ঈদে বিশেষভাবে কবর যিয়ারত করা।
176. পীরকে কদমবুসি করা, আর কদমবুসি করার সময় মাথা নিচু হলে এটা শিরকে পরিণত হয়ে যাবে।
177. পীর-ওলি বা বুজুর্গানের নিকট বরকত হাসিল করার উদ্দেশ্যে তাদের শরীর, হাত-পা টিপে দেয়া।
178. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কবরে গিয়ে কান্নাকাটি করাকে সওয়াব মনে করা।
179. চারটি মাযহাবের মধ্যে যে কোন একটি মাযহাব হুবহু মানা ফরয, ওয়াজিব অথবা সুন্নাত মনে করা।
180. নিজের পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকায় দাওয়াত না দিয়ে দূর-দূরান্তে দ্বীনের দাওয়াতী কাজে বের হওয়া।
181. সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাবা শরীফ, মসজিদে নব্বী, মসজিদে আকসা ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা।
182. মহিলাদের কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা করা এবং পুরুষদের সম্মুখে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা।
183. হজ্জ করতে হবে ঘরে বসেই আর তা হবে রূহানী জগতের মাধ্যমে, এই ধরনের বিশ্বাস থাকা।
184. আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফু দেয়া [পড়া যাবে কারণ এর অনেক ফযিলত কিন্তু বুকে ফু দেওয়া যাবে না]।
185. প্রত্যেক ফরজ সালাতের জামাতের পর নিয়ম করে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা।
186. আলী মসজিদ, আবুবকর মসজিদ ইত্যাদিতে বরকত মনে করে সালাত আদায় করা বিদআত।
187. বই হাত থেকে মাটিতে পরে গেলে তাকে উঠিয়ে সালাম করতে হয় না হলে পড়ালেখা হবে না।
188. সাইরেন, ঢোল, মুখের সুরে সেহরী বা ইফতারের জন্য ডাকা সওয়াব মনে করা এবং চাঁদা নেয়া।
189. যে গ্রাম দিয়ে একজন আলেম হেটে যাবে সেই গ্রামের কবরে ৪০ দিন পর্যন্ত আযাব হবে না মনে করা।
190. পীরের কলবের ভিতরেই আছে কাবা। তাই পীরের সেবা করলেই হজ্জ হয়ে যাবে, এসব কথায় বিশ্বাস করা।
191. রমাদানের সাতাশের রাতকে নির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদরের রাত মনে করা। এছাড়া এই রাতে ওমরা করা।
192. জামায়াতবদ্ধ দরূদ বা সুরেলা সালাত-সালাম: নবীর শানে সালাত ও সালামের এই নবপদ্ধতি নিঃসন্দেহে বিদআ’ত। রাসূলুল্লাহ সা. যেভাবে উম্মাতকে দরূদ শিখিয়েছেন সেভাবেই দরূদ পড়তে হবে।
193. অন্ধভাবে মাজহাব মানা বা অন্ধ তাকলিদ করা যেটা অনেক সময় ব্যক্তিপূজায় পরিণত হয় ও শিরকে পরিণত হয়।
194. কবরের উপরে মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে ও পায়ের দিক থেকে মাথার দিকে পানি ছিটানো। অতঃপর অবশিষ্ট পানিটুকু কবরে ঢালা।
195. তিন মুঠি মাটি দেয়ার সময় ১ম মুঠিতে ‘মিনহা খালাক্বনা-কুম’ ২য় মুঠিতে ‘ওয়া ফীহা নুঈদুকুম” এবং ৩য় মুঠিতে ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’ বলা অথবা ‘আল্লাহুম্মা আজিরহা মিনাশ শায়ান”…পাঠ করা [ইবনু মাজাহতে বর্ণিত এই হাদীসটি যঈফ]।
196. কাফিরুন, ইখলাছ, ফালাক ও নাস এই চারটি ‘কুল’ সূরার প্রতিটি ১ লক্ষ বার পড়ে মৃতের নামে বখশে দেয়া। যাকে ‘কুলখানী’ বলে।
197. আমল সমূহের সওয়াব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে [বা অন্যান্য নেককার মৃত ব্যক্তিদের নামে] বখশে দেয়া। যাকে ইসালে সওয়াব’ বলা হয়।
198. কুর’আনকে সবসময় চুমু খাওয়া। কুরআনে নিয়ম করে চুমু খাওয়া, বুকে ও কপালে স্পর্শ করা। কুরআন ছুয়ে শপথ করা।
199. দু’আ করার সময় ১বার সুরা ফাতিহা, ৭বার ইসতিগফার, ৩বার সুরা ইখলাস ও ১১বার দুরুদ শরীফ পাঠ করে দু’আ শুরু করার নিয়ম করা।
200. টুপি ছাড়া সালাত পড়লে সোয়াব কম হয়, পাগড়ি মাথায় দিয়ে সালাত পড়লে বেশী সোয়াব/ নেক হয় এই ধারণা করে পাগরী বা টুপি পরা বিদাত।ঈদের নামাযের পর নেকির আশায় মুআনাকা বা কোলাকুলি করা
201. হজ্জ, উমরাহ অথবা যিয়ারতে এসে মদীনা শরীফে ৮ দিনে ৪০ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ওয়াজিব মনে করা।
202. ঢাকার টুঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাকে দ্বিতীয় হজ্জ বলা বা মনে করা এবং ইহরামের কাপড় পরে সেখানে উপস্থিত হওয়া।
203. যমযম কূপের পানি এনে তা আবার পীরসাহেব বা হুজুর কেবলা দ্বারা পানির মধ্যে ফু দিয়ে তা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে দেয়া।
204. উমরাহ করতে গিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর তাওয়াফ না করে প্রথমে দুই রাকআত তাহ্ইয়াতুল মসজিদ পড়া।
205. অনেকে বিদায়ী তাওয়াফ শেষ করে ফেরার সময় কাবা ঘরের দিকে মুখ করে কবর পূজারীদের মত পিছন দিকে হেঁটে বের হন, এটা বিদ’আত।
206. মসজিদে নববীর খুঁটিকে ‘হানড়বা খুঁটি’ ‘আয়িশা খুঁটি ইত্যাদি মনে করে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করা ও এসব এর উসীলায় দু’আ করা বিদআত।
207. হজ্জের সাদা কাপড়গুলো জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা এবং কবরের আজাব লাঘবের উদ্দেশ্যে কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা।
208. দাঁড়ী-পাল্লা বা মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।
209. রাস্তা-ঘাটে কোথাও কোন আরবী লিখা কাগজ পেলে তা উঠিয়ে সালাম করা [হতে পারে সেটা আরবী পত্রিকা বা অন্য কিছু]।
210. কোন বুযুর্গের মাযারে মৃত্যুবার্ষিকী বা ওরস পালন করা। ওরস পালন খুবই গর্হিত ও আপত্তিজনক কাজ, যদিও পীরপন্থীদের কাছে খুবই প্রিয়।
211. এমন দু’য়া বা দুরুদ পড়া যা হাদিসে নাই যেমনঃ দুরুদে হাজারী, দুরুদে লাখী, দুরুদে তাজ, ওজীফা, দুরুদে জালালী, দরূদে মুকাদ্দাস, দরূদে মাহী, দরূদে তুনাজ্জিনা, দরূদে নারী, দরূদে সায়াদাত, দরূদে কামালিয়া। আরো অনেক আছে।
212. মিলাদ পড়া। [কারোর মৃত্যুর পর তার জন্য মিলাদ/চল্লিশা/কুলখানি করলে বিদআত হয় আর দিন নিদিষ্ট করে যেমন চল্লিশা মরার ৪০ দিন পর করা হয়, এমন দিন নিদিষ্ট করে করলে শিরক + বিদআত দুটিই হবে]
213. খতমে ইউনুস, তাহলীল, খতমে কালিমা, বানানো দরুদ পড়া, এবং যত প্রকার তাজবীহ খতম আছে সবই বিদাত, তাজবীহ দানা গননা করাও বিদাত।
214. মৃত ব্যাক্তির জন্য- কুর’আন পড়া [মাদ্রাসা/হাফিজ খানা থেকে হুজুর/ছাত্র দিয়ে বা নিজে], কুলখানি, চল্লিশা, দু’আর আয়োজন, সওয়াব বখশে দেয়া।
215. আযান ইকামতের মধ্যে বা অন্য যেকোনো সময় রাসুল সা. এর নাম শুনলে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমু দিয়ে চোখে লাগানো।
216. সালাতে মুখে মুখে উচ্চারণ করে ‘নাওয়ায়তুয়ান…’ বলে নিয়্যাত পড়া। [মনে রাখবেন নিয়াত করতে হয়। পড়তে হয় না। তাই নিয়াত মনে মনে করাই সুন্নত। কোন নিদিষ্ট শব্দ [যেমন নাওয়ায়তুয়ান] বলে নিয়াত করা যাবে না]।
217. প্রসাবের পর ঢিলা কুলুখ নিয়ে ৪০ কদম হাঁটা, কাঁশি দেয়া উঠা বসা করা, লজ্জাস্থানে হাত দিয়ে হাটাহাটি ইত্যাদি নির্লজ্জতা।
218. জন্মদিন, মৃত্যুদিবস, মা/বাবা দিবস বিবাহবার্ষিকী, ভ্যালেন্টাইন ডে, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি দিবস পালন করা।
219. জানাযা ও দাফনের পর কবরের উপর চার কুল, সমবেত দু’আ, বা ব্যক্তিগত ইস্তেগফার বা দু’আ ছাড়া সবই বিদআ’ত।
220. “আস্তাগফিরুল্লাহ [রব্বি মিন কুল্লি জাম্বি] ওয়া আতুবু ইলাইক লা-হাওলা ওয়ালা কুয়াত্তা ইল্লা বিল্লাহীল আলিইল ‘আজিম” [এখানে রব্বি মিন কুল্লি জাম্বি অংশটুকু বিদআ’ত]
221. ওয়াজ আল আখিরা কালামিনা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে দু’আ শেষ করতে হবে বলে মনে করা।
222. কবরের আযাব মাপের উদ্দেশ্যে কাবার বা কোন পীরের কবরের গিলাফের অংশ কিংবা তাবিজ লিখে দাফন করা।
223. ত্রিশ পারা কুরআন [বা সূরা ইয়াসীন] পড়ে এর সওয়াবসমূহ মৃতের নামে বখশে দেয়া। যাকে কুরআনখানী বলে।
224. সালাত, কিরাআত ও অন্যান্য দৈহিক ইবাদত সমূহের নেকী মৃতদের জন্য হাদিয়া দেয়া। যাকে সওয়াব রেসানী’ বলা হয়।
225. কবরের উপরে একটি বা চার কোণে চারটি কাচা খেজুরের ডাল পোতা বা কোন গাছ লাগানো যে, এর প্রভাবে কবর আযাব হালকা হবে।
226. কুরবানীর পশুর সামনে কে কে কুরবানী করছে তাদের নামের তালিকা পাঠ করা এবং নাম কম পড়লে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম বসিয়ে দেয়া।
227. বিপদ আপদ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুরূদে তাজ পড়া, দুরূদে তুনাজ্জিনাহ পড়া, খতমে জালালী পড়া, খতমে ইউনুস পড়া, খতমে তাহলিল পড়া।এগুলো সব মানুষের বানানো দুরূদ।
228. কোন ইসলামী মাহফিলের দু’আ, দুরূদ ও যিকরের সওয়াব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কবরে, সকল ওলিদের রুহে ও মৃতদের কবরে পাঠিয়ে দেয়।
229. সালাতুল আওয়াবীন নামে মাগরিবের পরে ৬ রাকাত সালাত আদায় করা [এই সালাত অন্য সময় পড়তে হয়, মাগরিবের সময় নয়]
230. খুতবা বা অন্য সময় লাল বাতি জ্বালিয়ে রাখা এবং লিখে রাখা যে। লাল বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় সালাত আদায় করা নিষেধ।
231. সূরা ফাতিহা, কলর, কাফিরূন, নছর, ইখলাছ, ফালাক ও নাস এই সাতটি সূরা পাঠ করে দাফনের সময় বিশেষ দু’আ পড়া।
232. কুরআন তিলাওয়াত শোনার সময় নেকির আশায় হঠাৎ বিনা কারণে ঢুকরে কেঁদে ওঠা। অর্থ বুঝে কাঁদলে ঠিক আছে।
233. সম্মিলিতভাবে দু’আ করার সময় বলা যে মজলিসে যে তোমার প্রিয় বান্দা অথবা বে-গুনাহ মাসুম বাচ্চা আছে তাদের উসিলায় অথবা তুমি যে হাত পছন্দ কর তার উসিলায় আল্লাহ আমাদের দু’আ কবুল কর।
234. সূরা ইয়াসীন একবার পড়লে দশবার কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায় এবং সূরা ইয়াসীন গরম সূরা’ বলে মনে করা।
235. বরকতের উদ্দেশ্যে পীরকে টাকা, গরু-ছাগল, চাল-ডাল ইত্যাদি দেয়া [এটা অনেক সময় শিরক এ পরিণত হয়]।
236. নাপাক কাপড় সাত বার না ধুলে পাক হবে না মনে করা। [এটা ঠিক আছে যে শুধু কুকুরের লালা লাগলে একবার মাটি দিয়ে পরে সাতবার পানি দিয়ে ধুতে হবে]
237. মক্কা-মদীনা, আরাফা, মুযদালিফা, বদর ও ওহুদের মাটি, গাছ, পাথর ইত্যাদি সংগ্রহ করে বরকতস্বরূপ দেশে নিয়ে যাওয়া।
রেফারেন্স (দলিল) নেই বলেই এসব বিদ’আত। বিদ'আতের রেফারেন্স হয়না।
যদি এগুলো সহীহ আমল হতো তাহলে অবশ্যই এগুলোর রেফারেন্স (দলিল) থাকতো।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন