আপনি কি জানেন—এমন একটি দোয়া আছে, যা সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি মৃ'ত্যু ছাড়া সব রোগের জন্য শিফা?
ভাবুন তো, যদি এমন একটি আমল থাকে, যা নিয়মিত করলে আল্লাহ আপনার শরীর থেকে রোগের অন্ধকার সরিয়ে দেন! শুধু শরীর নয়—হৃদয়, মন, জীবন—সবকিছুর ওপর নেমে আসে প্রশান্তি। এই দোয়াটি শিখিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সা.)।
তিনি বলেছেন, কালোজিরায় (হাব্বাতুস সাওদা) আছে মৃ'ত্যু ছাড়া সব রোগের শিফা। আর সেই সাথে অসুস্থতার সময় তিনি আমাদের যে দোয়াটি শিখিয়েছেন, সেটি হলো—
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা রব্বান্ নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফা’উক, শিফা’আন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অর্থ:
“হে মানুষের প্রতিপালক আল্লাহ! কষ্ট দূর করে দিন। আপনি শিফা দানকারী। আপনার শিফা ছাড়া আর কোনো শিফা নেই। এমন শিফা দান করুন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখবে না।”
একবার ভেবে দেখুন—
এখানে মানুষ ডাকছে না ডাক্তারকে, ডাকছে সেই সত্ত্বাকে যিনি ডাক্তার সৃষ্টি করেছেন। কত মানুষ অপারেশনের টেবিলে যাওয়ার আগে এই দোয়া পড়ে শান্তি পেয়েছে।
কত মা সন্তানের মাথায় হাত রেখে এই দোয়া পড়ে চোখের জল ফেলেছে।
কত অসহায় মানুষ হাসপাতালের বেডে শুয়ে এই দোয়া পড়ে অদৃশ্য সাহস পেয়েছে। রোগ আল্লাহর পরীক্ষা, কিন্তু শিফাও আল্লাহরই দান। চিকিৎসা করা সুন্নাহ, কিন্তু আরোগ্য আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে।
কেন এই দোয়া এত শক্তিশালী?
কারণ এতে আছে তিনটি জিনিস:
১. আল্লাহকে তাঁর গুণে ডাকা — “আশ-শাফি” (শিফা দানকারী)
২. সম্পূর্ণ নির্ভরতা — “আপনার শিফা ছাড়া আর শিফা নেই”
৩. পূর্ণ আরোগ্যের প্রার্থনা — “যাতে কোনো রোগ অবশিষ্ট না থাকে”
তবে মনে রাখতে হবে—
“মৃত্যু” একমাত্র বাস্তবতা, যেখান থেকে কেউ রক্ষা পায় না। রোগ সেরে যেতে পারে, বিপদ কেটে যেতে পারে, কিন্তু নির্ধারিত সময় এলে মৃত্যু আসবেই।
আর তাই এই দোয়া আমাদের শুধু রোগমুক্তির নয়—আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।
আজ থেকেই অভ্যাস করুন— নিজের জন্য পড়ুন।
অসুস্থ কাউকে দেখে পড়ুন। পরিবারের সদস্যের মাথায় হাত রেখে পড়ুন। বিশ্বাস রাখুন— যখন আপনি বলেন “লা শিফা’আ ইল্লা শিফা’উক”… তখন আকাশের দরজাগুলো কাঁপতে থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিফা দান করুন।
আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন