নিচে ইসলামী হাদিসভিত্তিক ৩০টি ছোট-বড় আমলের বিস্তারিত লিস্ট দেওয়া হলো। প্রত্যেকটি সহজে করা যায় কিন্তু এর ফজিলত ও সওয়াব অত্যন্ত বড়। প্রতিটি আমলের সাথে কী করতে হবে, কী ফায়দা এবং হাদিসের রেফারেন্স দেওয়া আছে (সোনালী নিউজ ও ঢাকাপোস্টসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে সংগৃহীত)। শুরু করুন আমল-১ থেকে।
▪️আমল-১
প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করুন (আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ)। এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪।
▪️আমল-২
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন। এতে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে যেতে পারবেন। সহিহ নাসাই, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২।
▪️আমল-৩
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১ বার (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুন। এতে আপনার অতীতের সব পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২২৮। সেই সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন কেননা দিনে ৩৬০ বার এই তাসবিহগুলো পড়লেই জাহান্নাম থেকে মুক্ত রাখা হয় আর এভাবে ৫ ওয়াক্তে ৫০০ বার পড়া হচ্ছে। সহিহ মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮০৩।
▪️আমল-৪
প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করুন। এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম হাদিস নং- ৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ১১৪০।
▪️আমল-৫
রাসুল (সাঃ)-এর উপর সকালে ১০ বার ও সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়ুন। এতে আপনি নিশ্চিত রাসুল (সাঃ)-এর সুপারিশ পাবেন। তিবরানি, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫৬।
▪️আমল-৬
সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি পাঠ করুন। এতে সৃষ্টিকুলের সমস্ত মানুষ থেকে বেশী মর্যাদা দেওয়া হবে। সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯১। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি : ৩৪৬৪)
▪️আমল-৭
সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করুন। এতে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশী সওয়াব আর কারো হবে না। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯২।
▪️আমল-৮
সকালে ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ১০০ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০০ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করুন। এতে অগণিত সওয়াব হবে। নাসাই, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫১।
▪️আমল-৯
বাজারে প্রবেশ করে (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়্যুহয়ী ওয়া য়্যুমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা য়্যামূত, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুন। এতে ১০ লক্ষ পুণ্য হবে, ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে, ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে আপনার জন্য ১ টি গৃহ নির্মাণ করা হবে। তিরমিজি, হাদিস নং- ৩৪২৮,৩৪২৯।
▪️আমল-১০
বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করুন। এতে আল্লাহ তা’লা নিজ জিম্মাদারিতে আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (ইবনু হিব্বান, হাদিস : ৪৯৯; সহিহ তারগিব, হাদিস : ৩১৬)।
▪️আমল-১১
জামাতে ইমামের প্রথম তাকবীরের সাথে ৪০ দিন সলাত আদায় করুন। এতে আপনি নিশ্চিত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। তিরমিজি, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৭৪৭, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৪০৪।
▪️আমল-১২
প্রতিমাসের আয়ের একটা অংশ এতিমখানা বা মসজিদ মাদ্রাসা বা গরিব-দুখি, বিধবা ও দুস্থদের মাঝে দান করবেন (হোক সেটা অতি অল্প)। এতে আপনি আল্লাহ তা’লার কাছে জিহাদকারির সমতুল্য হবেন। সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৭।
▪️আমল-১৩
মহিলারা ৪টি কাজ করবেন: ১- ৫ ওয়াক্ত সলাত, ২- রমজানের সিয়াম, ৩- লযযাস্থানের হেফাজত, ৪- স্বামীর আনুগত্য। এতে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪১৬৩।
▪️আমল-১৪
মসজিদে ফজরের সলাত আদায় করে বসে দোয়া জিকির পাঠ করুন এবং সূর্য উঠে গেলে ২ রাকাত চাস্তের সলাত আদায় করুন। এতে প্রতিদিন নিশ্চিত কবুল ১ টি হজ্জ ও উমরার সওয়াব পাবেন। তিরমিজি, তারগিব হাদিস নং- ৪৬১।
▪️আমল-১৫
প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করুন।
▪️আমল-১৬
ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দোয়া পড়ুন।
▪️আমল-১৭
বাথরুমে যেতে দোয়া পড়ে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করুন, বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হয়ে দোয়া পড়ুন।
▪️আমল-১৮
ওযুর পূর্বে মিসওয়াক করার অভ্যাস করুন। ওযুর শুরুতে এবং শেষে হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়ুন।
▪️আমল-১৯
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে দোয়া পড়ে বের হোন এবং প্রবেশের সময়ও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে সালাম দিন। (ঘরে কেউ না থাকলেও সালাম দেয়া সুন্নাহ, ফিরিশতাদের জন্য)।
▪️আমল-২০
মসজিদে ডান পা দিয়ে দরুদ ও দোয়া পড়ে ঢুকুন এবং বাম পা দিয়ে দরুদ ও দোয়া পড়ে বের হোন।
▪️আমল-২১
রাস্তার ডানপাশে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।
▪️আমল-২২
ফরজ সালাত শেষে হাদিসে বর্ণিত যিকির ও দোয়ার আমল করুন। ফজর ও মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ুন, তিন ক্বুল পড়ে শরীর দম করুন।
▪️আমল-২৩
আযানের জবাব দিন, আযানের পর হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়ুন। চলতে ফিরতে ছোট-বড় সকলকে সালাম দিন।
▪️আমল-২৪
জামা ও জুতা পরার সময় ডান দিক পরুন এবং খোলার সময় বাম দিকে আগে খুলুন। সম্ভব হলে হাদিসে বর্ণিত দোয়া মুখস্থ করে আমল করুন।
▪️আমল-২৫
পানি খাওয়ার সময় ৬টি সুন্নত ভালোভাবে মেনে খাওয়ার চেষ্টা করুন।
▪️আমল-২৬
ভাত বা যেকোন খাবার খাওয়ার সময় সমতল জায়গায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে বিসমিল্লাহ বলে দোয়া পড়ে খান। কিছু পড়ে গেলে তুলে ধুয়ে খান, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়ুন।
▪️আমল-২৭
ঘুমানোর আগে সূরা মুলক তিলাওয়াত করুন, তিন ক্বুল (ইখলাস, ফালাক্ব, নাস) পড়ে তিনবার শরীর দম করুন, ঘুমের দোয়া পড়ুন, আয়াতুল কুরসি পড়ুন, সূরা কাফিরুন পড়ে ডান কাত হয়ে শোয়া।
▪️আমল-২৮
ঘুমের মাঝখানে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে বামপাশে তিনবার থু থু ফেলুন এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান।
▪️আমল-২৯
কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজখবর নিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজখবর নেয়, আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতাকে তার মাগফিরাতের দোয়ায় নিযুক্ত করে দেন।
▪️আমল-৩০
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (কাঁটা, পাথর ইত্যাদি) সরিয়ে দিন। এটি ঈমানের একটি শাখা এবং সহজ সাদকা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরের কিছু বেশী শাখার মধ্যে সাধারণ শাখা হচ্ছে চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।
এই ৩০টি আমল নিয়মিত করলে ইনশাআল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে বড় বড় ফজিলত লাভ করবেন। শুরু করুন ছোট থেকে, আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন