আইয়্যামে বীযের সিয়াম/রোযার মর্যাদা

 

আইয়্যামে বীযের সিয়াম/রোযার মর্যাদা

প্রশ্ন: আইয়্যামে বীযের সিয়াম/রোযার মর্যাদা কী? চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে না রাখতে পারলে কি মাসের যে কোনো দিন রাখা যাবে? আর একটানা তিন দিন লাগাতার রাখতে হবে নাকি বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখলেও হবে?

 

সিয়াম/রোযা, ইসলামিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম মহান ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আল্লাহতায়ালা সিয়াম/রোযাকে এত গুরুত্বপূর্ণ বানিয়েছেন যে, এটি সকল ইবাদতের মধ্যে একমাত্র এমন কাজ, যার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই দেবেন। আবু হুরাইরা [রা.] থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য হয়, তবে সিয়াম/রোযা ব্যতিক্রম, কারণ এটি একমাত্র আমার উদ্দেশ্যে রাখা হয় এবং এর প্রতিদানও আমি নিজেই দেবো।                    [বুখারী: ১৮০৫]

 

এ ছাড়া সিয়াম/রোযা রাখার এত বিশাল মর্যাদা রয়েছে যে, এটি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে এমন দূরে সরিয়ে নেয়, যার কল্পনাও করা সম্ভব নয়। আবু সাইদ খুদরি [রা.] বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম/রোযা রাখবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছর দূরে সরিয়ে দেবেন।                                                                                                              [মুসলিম: ১১৫১]

 

রাসুলুল্লাহ [সা.] আমাদের জন্য এক মহৎ সুন্নাহ রেখে গেছেন, যা যথেষ্ট সহজ এবং অধিকাংশ মুসলিমের জন্য পালন করা সম্ভব। সেটি হলো প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম/রোযা রাখা। আবু হুরাইরা [রা.] বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ [সা.] আমাকে তিনটি কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হলো প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম/রোযা রাখা, আর আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এসব কাজ পালন করব।    [বুখারী: ১৮৮০; মুসলিম: ৭২১]

 

আইয়্যামে বীয কাকে বলে?

চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়্যামে বীয [إيام بيض] বলা হয়। বীয [بيض] শব্দের অর্থ উজ্জ্বল। এ তিন রাতে চাঁদ বেশি উজ্জ্বল থাকে তাই সেগুলোকে বীয বলা হয়েছে। এ তিন দিন সিয়াম/রোযা থাকা উত্তম। আবু যর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক মাসে কিছু [নফল] সিয়াম/রোযা পালন করলে [চন্দ্র মাসের] ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করো।“                                                                                           [তিরমিজি, হা/৭৬১, নাসাঈ, হা/২৪২৪]

 

তবে কেউ যদি সে সময় না রাখতে পারে বরং অন্য সময় তিনটি সিয়াম/রোযা রাখে তবে একই সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম/রোযা রাখার ফযিলত:

প্রতি মাসে তিনটি করে নফল সিয়াম/রোযা রাখা অত্যন্ত ফযিলত পূর্ণ কাজ। চাই তা মাসের শুরুতে হোক, মাঝখানে হোক বা শেষে হোক। চাই লাগাতার রাখা হোক বা বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হোক।

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন, যা আমি যতদিন বেঁচে থাকব, কখনোই ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে: প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম/রোযা পালন করা, চাশতের সালাত পড়া এবং বিতর সালাত না পড়ে ঘুমাতে না যাওয়া।                                             [বুখারী, হা/ ১১৭৮]

প্রত্যেক মাসে ৩টি করে সিয়াম/রোযা রাখলে সারা বছর নফল সিয়াম/রোযা রাখার সমান পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ, আল্লাহ তাআলা যেকোনো ভালো কাজের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ বা তার চেয়ে বেশী দান করেন। সে হিসেবে ৩×১০=৩০ অর্থাৎ মাসে তিনটি সিয়াম/রোযার বিনিময়ে অন্তত: পুরো মাস নফল সিয়াম/রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

এভাবে প্রতি মাসে ৩টি সিয়াম/রোযা রাখলে সারা বছরই নফল সিয়াম/রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম/রোযা রাখা, সারা বছর ধরে সিয়াম/রোযা রাখার সমান।                                                                                                          [বুখারী, হা/১১৫৯ ও ১৯৭৫]

এভাবে প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম/রোযা রাখলে, সারা বছর সিয়াম/রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। কোরআনের আয়াতও এ বিষয়টি সমর্থন করে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি ভালো কাজ করবে, তার জন্য তার দশগুণ পুরস্কার রয়েছে।                                                           [সুরা আনআম, আয়াত ১৬০]

সুতরাং প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম/রোযা রাখলে এক মাসের সওয়াব মিলবে ইনশা আল্লাহ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন