সালাতুদ দুহা [চাশত] নামাজের নিয়ম ও ফযিলত
সালাতুল দুহা [চাশত] সালাত হলো সূর্য ওঠার পর থেকে যোহরের আগে পর্যন্ত আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল সালাত। কুরআনের ইঙ্গিত ও সহিহ হাদিস—বিশেষ করে জামি’আত-তিরমিজি—এর বর্ণনা থেকে এর নিয়ম ও ফযিলত জানা যায়।
📖 কুরআনের ইঙ্গিত
আল্লাহ তাআলা বলেন: “তিনি [আল্লাহ] হলেন, যিনি সকাল বেলায় [দুহা সময়ে] কসম করেছেন।” “ওয়াদ-দুহা…” — সূরা দুহা: ১
মুফাসসিরগণ বলেন, “দুহা” সময়ের শপথ নেওয়া এই সময়ের ইবাদতের গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
📜 হাদিসের বর্ণনা [তিরমিজি ও অন্যান্য]
[১] ৩৬০ জোড়ার সদকার বিকল্প
রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকের প্রত্যেক [হাড়ের] জোড়ের পক্ষ থেকে প্রাত্যহিক [প্রদেয়] সাদকাহ রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ বলা] সাদকাহ, প্রত্যেক তাহ্মীদ [আলহামদু লিল্লাহ বলা] সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা] সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর [আল্লাহু আকবার বলা] সাদকাহ এবং ভাল কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ। এ সব কাজের পরিবর্তে চাশ্তের দু রাক’আত নামায যথেষ্ট হবে।” [মুসলিম ৭২০, আবূ দাউদ ১২৮৫, ১২৮৬, রিয়াদুস সলেহীন ১৪৪০]
[২] গুনাহ মাফ
“যে ব্যক্তি নিয়মিত দুহা সালাত পড়ে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মত বেশি হয়।” [তিরমিজি]
[৩] নেককারদের আমল
আবু হুরায়রা [রা.] বলেন: “আমার প্রিয় বন্ধু রাসূল [সাঃ] আমাকে তিনটি আমল করতে অসিয়ত করেছেন: [১] প্রতি মাসে ৩ দিন রোজা, [২] দুহার সালাত, [৩] বিতর পড়ে ঘুমানো।” [বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি]
[৪] দিনের প্রথমাংশে ৪ রাকআত [চাশতের] নামায পড়লে তার প্রতিদানে আল্লাহ দিনের শেষাংশের জন্য যথেষ্ট হন।” [আহমাদ ১৭৩৯০, সহীহ তারগীব ৬৭১]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪ রাক’আত চাশতের সালাত আদায় করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৮২; বায়হাকী, হা/৪৬৭৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫২৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০০৫, শামায়েলে তিরমিযি ২১৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬ রাক’আতও চাশতের সালাত আদায় করতেন। [শামায়েলে তিরমিযি : ২১৭, মুজামুল আওসাত, হা/১২৭৬; জামেউস সগীর, হা/৯০৯১]
[৫] আর মসজিদে গিয়ে পড়লে, তার বৈশিষ্ট্য আলাদা। যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশ্তের নামায পড়ার উদ্দেশ্যেই [মসজিদে] বের হয়, তার সওয়াব হয় উমরাকারীর সমান!
[আহমাদ ২/২১২, আবু দাঊদ ৫৫৮, সহীহ তারগীব ৩২০, সহীহুল জামে' ৬৫৫৬নং]
যে ব্যক্তি সকালে ওযু করে চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে নিকটতর যুদ্ধক্ষেত্রে যোগদান করে অধিকতর সম্পদ লাভ করে এবং অধিকতর শীঘ্র ঘরে ফিরে আসে!
[আহমাদ ৬৬৩৮, ত্বাবারানী, সহীহ তারগীব ৬৬৮নং]
🕰️ সময়
শুরু: সূর্য ওঠার ~১৫–২০ মিনিট পর
শেষ: যোহরের আগে পর্যন্ত [সূর্য ওঠার পর থেকে [দুপুরে সূর্য মাথার উপর আসার আগ পর্যন্ত]
প্রায় সকাল ৯–১১টার মধ্যে
উত্তম সময়: যখন রোদ একটু গরম হয় [সকাল মধ্যভাগ]
🕌 রাকাআতঃ ন্যূনতম ২ রাকাআত তবে ২ রাকাআত করে করে ২, ৪, ৬, ৮ [বা আরও বেশি]
✅ নামাজের নিয়ম [সাধারণ নফলের মতো]
নিয়ত: নফল সালাতুল দুহা
পদ্ধতি [২ রাকাআত]: তাকবিরে তাহরিমা, সানা, সূরা ফাতিহা, অন্য সূরা, রুকু, সিজদা
দ্বিতীয় রাকাআত একইভাবে
তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া, সালাম। এই নামাজে কোনো নির্দিষ্ট সূরা বাধ্যতামূলক নয়।
⭐ ফযিলত সংক্ষেপে
ü ৩৬০ সদকার সমান [মুসলিম ১৭০৪, তিরমিজি]
ü গুনাহ মাফ [তিরমিজি]
ü রাসূল [সাঃ]-এর অসিয়ত [বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি]
ü সওয়াব হয় উমরাকারীর সমান
[আহমাদ ২/২১২, আবু দাঊদ ৫৫৮, সহীহ তারগীব ৩২০, সহীহুল জামে' ৬৫৫৬]
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ইশরাক ও দুহা একই সময়সীমার সালাত; শুরুর অংশকে অনেকে ইশরাক বলেন, বিস্তৃত সময়কে দুহা/চাশত।
আলাদা কোনো কিরাত/দোয়া বাধ্যতামূলক নয়—খুশু সহকারে ২ রাকাআত করলেই সুন্নাহ আদায় হয়।
➤ রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজের পথ দেখাবে, সে তার প্রতি আমলকারীর সমান নেকী পাবে।’ [মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিজি ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯]
➤ রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না।
[মুসলিম--৬৬৯৭, তিরমিজি ২৬৭৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৯, দারিমী ৫১৩, ইবনে মাজাহ-২০৬]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন