যে-সব [১৮ টি] ছোট আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়

 

যে-সব [১৮ টি] ছোট আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়

১. পরিপূর্ণভাবে ওযু করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে ওযু করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। ফলে তার সালত এবং মাসজিদে গমন, নফল হিসেবে বিবেচিত হয়।”                                                                                                    [মুসলিম, হা. ২২৯]

২. ওযু-পরবর্তী দুই রাকা‘আত সালাত। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি অতি উত্তমভাবে ওযু করে এমনভাবে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, যাতে দুনিয়াবি কোনো চিন্তা আসে না, তাহলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                                     [বুখারী, হা.৬৪৩৩; মুসলিম, হা.২২৬]

৩. রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দু‘আ পাঠ। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদা’ বলে, তখন তোমরা ‘আল্লাহম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। কেননা যার বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                                  [তিরমিজি, হা. ২৬৭]

৪. সূরা ফাতিহা শেষে 'আমীন' বলা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “ইমাম যখন আমীন বলে, তখন তোমরা আমীন বলো। কেননা যার আমিন ফেরেশতার আমিন সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                                                            [বুখারী, হা. ৭৮০; মুসলিম, হা. ৪১০]

৫. খাবার শেষে দু‘আ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি খাবার শেষে বলল, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানী হাযাত্ত্ব‘আমা ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুউ ওয়াতিন’ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                        [তিরমিজি, হা. ৩৪৫৮]

৬. পোশাক পরিধানের দু‘আ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি পোশাক পরিধানের সময় বলে, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হাযা- ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুউ ওয়াতিন’ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                               [আবূ দাউদ, হা. ৪০২৩]

৭. রমাযানের সিয়াম পালন করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”          

[বুখারী, হা. ২০১৪; মুসলিম, হা. ৭৫৯]

৮. লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” [বুখারী ২০১৪; মুসলিম ৭৫৯]

৯. রমাযানে ক্বিয়াম তথা তারাবীর সালাত আদায় করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় রমাযানে ক্বিয়াম তথা তারাবীর সালাত আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”                                                                  [বুখারী, হা.২০১৪; মুসলিম, হা. ৭৫৯]

১০. হজ্ব সম্পাদন করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি হজ্ব সম্পাদন করে এবং এতে অন্যায়-অশ্লীল কথা ও কাজ করা থেকে বিরত থাকে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”   [তিরমিজি, হা. ৮১১]

১১. আযানের দু‘আ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “মুয়াজ্জিনের আযান শুনে যে-ব্যক্তি বলে, ‘আশহাদু আল্লা-ই-লা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা শারিকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসুলান, ওয়াবিল ইসলামী দীনান।’ তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”                                                                            [মুসলিম, [ই.ফা.] হা. ৭৩৫, ৭৫০]

১২. ইস্তেগফার পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ আল আ‘যীম আল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়াল হায়য়ুল কাইয়্যুম ওয়া আতূবু ইলাইহি’ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে মাফ করে দেন। যদিও সে যুদ্ধের মাঠ থেকে পলায়ন করার মত জঘন্য পাপ করে।”            [তিরমিজি হা. ৩৫৭৭]

১৩. ফরয-সালাত পরবর্তী তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ৩৩ বার সুবহা-নাল্লা-হ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লা-হ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলে—এই হলো ৯৯ বার - এবং ১০০ বার পূর্ণ করবে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু, ওয়া হূওয়া ‘আলা কুল্লি শায়য়িন ক্বদীর—এর মাধ্যমে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।”   [মুসলিম, হা. ৫৯৭]

১৪. ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহ’ পাঠ করা। রাসূল ‘[সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহ’ দিনে ১০০ বার পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ গুনাহ মাফ করে দেন।”                                                                                        [বুখারী হা. ৬৪০৫]

১৫. ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুউয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমান গুনাহ মাফ করে দেবেন।”                                                                                                     [তিরমিজি, হা. ৩৪৬০]

১৬. ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ এবং ১০০বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ এবং ১০০ বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।”                                                                                                       [নাসাঈ, হা. ১৩৫৪]

১৭. বিছানায় দু‘আ পাঠ করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “যে-ব্যক্তি বিছানায় ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু, ওয়া হূওয়া ‘আলা কুল্লি শায়য়িন ক্বদীর, লা- হাওলা ওয়া লা- কুউয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ, সুবহা-নাল্লা-হ, ওয়াল হামদুলিল্লা-হ, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহূ, ওয়াল্লাহু আকবার’ পাঠ করে, তাঁর সমস্ত গুনাহ মাফ করা দেওয়া হয়। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশি হয়।”                                                                                       [ইবনু হিব্বান, হা. ৫৫২৮]

১৮. পরস্পর সাক্ষাতে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করা। রাসূল [সাঃ] বলেছেন, “দুজন মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”                                                                                                       [আবূ দাউদ, হা. ৫২১২]

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন