দুনিয়া নিয়ে চিন্তিত না হবার জন্য এক সাহাবীর দু’আ
বিখ্যাত তাবেয়ী আমের বিন আবদ কায়েস [রহ.] বলতেন, "আল্লাহর কুরআনের এই চারটি আয়াতের বিশেষ কিছু অংশ যখন আমি সন্ধ্যায় পাঠ করি, তখন রাত কীভাবে কাটবে তা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। আর যখন সকালে পাঠ করি, তখন দিনটি কেমন যাবে তা নিয়েও আমি পরোয়া করি না।" সেই চারটি আয়াত [অংশ বিশেষ] হলো -
১. [সূরা ইউনূসঃ ১০.১০৭]
… ওয়া ইউ রিদকা বিখাইরিন ফালা রাদ্দালি ফাদলিহি; ইউসীবু বিহি মান ইয়াশা-উ মিন ইবাদিহি…
অর্থঃ "আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহকে রুখে দেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ পৌঁছে দেন।"
২. [সূরা হুদঃ ১১.০৬]
ওয়ামা মিন দা-ব্বাতিন ফিল আরদি ইল্লা ‘আলাল্লাহি রিজকুহা…
অর্থঃ "ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।"
৩. [সুরা ফাতির: ৩৫.২]
মা ইয়াফতা হিল্লাহু লিন্না-সি মিন রাহমাতিন ফালা মুমসিকা লাহা; ওয়া মা ইউমসিক ফালা মুরসিলা লাহু মিন বা‘দিহি…
অর্থঃ "আল্লাহ মানুষের জন্য রহমতের মধ্য থেকে যা উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তা ছাড়িয়ে দেওয়ারও কেউ নেই।"
৪. [সূরা তালাকঃ ৬৫.০৭]
… সাইয়াজ ‘আলুল্লাহু বা‘দা ‘উসরি ইউসরা।
অর্থঃ "…আল্লাহ শীঘ্রই কঠিন অবস্থার পর সহজ অবস্থা [স্বস্তি] দান করবেন।"
এই আয়াতে আছে বিপদে ধৈর্য ও আশার বাণী।
যে এই বিশ্বাস হৃদয়ে গেঁথে নেবে, দুনিয়ার কোনো অভাব বা বিপদ তাকে বিচলিত করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ। [সূত্র: উয়ুনুল আখবার- ইবনে কুতাইবা রহ.]
§ আল্লাহুম্মা লা আসলুহু লিল ফাকর, ওয়ালা ইয়াসলুহুল ফাকুরুলি, আল্লাহুমা আগনিনি বিফাদলিক।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি দারিদ্র্যের জন্য উপযুক্ত নই, আর দারিদ্র্য আমার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়, হে আল্লাহ! তোমার অনুগ্রহে আমাকে সমৃদ্ধ করো।
- দু’আটি সাহাবা সাদ ইবনে উবাদা পড়তেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন