আসসালামু আলাইকুম।আজকের আলোচ্য বিষয় আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু ভিত্তিহীন কাহিনী ও মানুষের বানানো বানোয়াট হাদিস নিয়ে। যেগুলো উল্লেখ করছি তা নি:সন্দেহে বানোয়াট ও সনদবিহীন রেওয়ায়েত।যেগুলোর ব্যাপারে সনদ আছে সেগুলোও খুব দুর্বল হওয়ায় মুহাদ্দিসগণ পরিত্যক্ত বা বাতিল ঘোষণা করেছেন। বিস্তারিত আলোচনা করলে পোস্টের কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে।শুধু সংক্ষপে তুলে ধরছি। আল্লাহর কাছে তৌফিক কামনা করছি।
১. আদম ও হাওয়া আলাইহিসসালাম সালাম এর গন্ধম খাওয়ার কাহিনী।
২.আরশে মুয়াল্লায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লিখা।এবং এই নামের উসিলায় আদম আলাইহিসসালাম সালাম কে ক্ষমা করার বর্ণনা।
৩. আদম ও হাওয়া আলাইহিসসালামের বিয়েতে দরূদ মোহরানা হিসেবে ধার্য্য করা।
৪.নূরে মোহাম্মাদী সংক্রান্ত সকল হাদিস।আল্লাহর নূর থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টি। তার ময়ূর রুপে অবস্থান, তার নূর কে চার ভাগ করে দুনিয়া আরশ কুরসি মালাইকা ও বিশ্ব জগতের সকল সৃষ্টি।
৫.নূহ আলাইহিসসালামের নৌকার তক্তা বা কাঠের সংখ্যার বিবরণ। নৌকায় বুড়ির মলমুত্রে পড়ে যাওয়ার কাহিনী।
৬. ইব্রাহিম আলাইহিসসালামকে আগুনে নিক্ষেপের সময় সে তাওয়াক্কুল করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেনি।
৭.মূসা আলাইহিস সাল্লামের সাথে বেহেশতের সঙ্গী হবে একজন কসাই।
৮.হারুত মারুত ফেরেশতার যেনার গল্প।
৯. আসমানী কিতাব ১০৪ খানা ও পয়গম্বরদের সংখ্যা এক/দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার।নূহ নবীর ৯৫০ বছর হায়াত(কুরআনে উল্লেখ আছে)ব্যতিত অন্য সব নবীর হায়াতের নির্দিষ্ট সংখ্যা।এগুলো তাওরাত কিতাবে বর্ণিত।নবীদের জীবনীও যা কোরআন ও সহিহ হাদিসের বাইরে বর্ণিত সবই তাওরাত ইঞ্জিল ও ইসরাঈলী বর্ণনায় এসেছে।
১০.সোলাইমান আলাইহিসসালাম এর সমস্ত মাখলুকাতকে একদিন দাওয়াত খাওয়ার কাহিনী। তিমি মাছ এসে সব খেয়ে ফেলে।
১১.আসহাবে কাহাফের কুকুর, হুদ আলাইহিসসালাম এর উস্ট্রী,ইউনুস নবীর তিমি.... এমন দশটি বর্ণিত প্রাণী যেগুলো জান্নাতি।
১২.মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পথে বুড়ির কাটার কাহিনী, যাবিরের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে তার মৃত পুত্রদের জীবিত করার কাহিনী। মিরাজে আল্লাহর দর্শন, পাদুকা পড়া অবস্থায় আরশে আরোহন, তার জন্ম সোমবার(এটা সত্য) কিন্তু কোন মাস ও তারিখ তার অনেকগুলো রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। তেমনি তার মৃত্যু রবিউল আওয়াল মাসে সোমবারে (এটা সত্য) কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখের বিভিন্ন রেওয়ায়েত পাওয়া যায়।
১৩. আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতা মাতাকে কবর থেকে তুলে কালিমা পড়িয়ে মুসলমান বানিয়েছেন।
১৪.আইয়ুব আলাইহিসসালামের গায়ে পোকার কাহিনী।
১৫. জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে যাও।
১৬.জ্ঞানীর কলমের কালি শহিদের রক্তের চেয়ে উত্তম।
১৭.যেসকল সূরা বা আয়াতের ফযিলত বর্ণিত আছে যেমন - সূরা ফাতিহা, আয়তুল কুরসি, সূরা কাহাফের প্রথম বা শেষ দশ আয়াত, সূরা বাকারা, আল ইমরান, মুলক, সূরা ইখলাস... ইত্যাদি ব্যতিত সকল সূরার ফযিলতের যত বর্ণনা আছে সবই জাল।
১৮.চিকিৎসা, টোটকা ও খাদ্য বিষয়ক অধিকাংশ কথাই বানোয়াট।
১৯.আল্লাহর নূরের ৭০ হাজার পর্দা।
২০.মুমিনের কালব আল্লাহর আরশ।
২১. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি না করলে বিশ্বজগত সৃষ্টি করা হতনা।
২২. আদম আলাইহিসসালাম কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণ।
২৩.আমার উম্মতের আলিমগণ বনী ইসরাঈলের নবীগণের মতো।
২৪. মৃত ব্যক্তির পাশে কোরআন তেলওয়াত বা সূরা ইয়াসিন পাঠ।
২৫.মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির নাজির। তিনি বা অলি আওলিয়াগন গায়েবের খবর রাখেন।
২৬.শবে মীরাজ,কদর, মুহররম, আশুরার দিনে বিশেষ ইবাদত বা সালাত।
২৭. নবীগণের কবর। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত সবার কবরের নির্দিষ্ট স্থানের বর্ণনা।
২৮. ঈসা আলাইহিসালাম এর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর ডাহা মিথ্যা। তিনি হরিণ খেতে ইচ্ছে হলে হরিণের হাড় ছাড়া সব খেতেন পুনরায় আল্লাহর কাছে দুয়া করে এর জান ফিরিয়ে আনতেন।
২৯. হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণনা পাওয়া গেলে অনেকে বিশ্বাস করেন ওগুলো আসমানী কিতাব বা ওহি। ঈমান নস্ট হয়ে যাবে।কোরআন ছাড়া কোন ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ বা নবীর ব্যাপারে কী আছে তা মুসলিমের জন্য বিশ্বাস করাই ঈমান হারানোর জন্য যথেষ্ট।
৩০.ওযুর নামে বানানো দোয়া। ওযুর শেষে আকাশের দিকে আঙুল তুলে সূরা ক্বদর পাঠ করা।
৩১. সাহাবীরা বগলে পুতুল বা মুর্তি নিয়ে সালাত আদায় করতো বলে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রফে ইয়াদাইন করতেন।
৩২. আল্লাহ নিরাকার।
বি:দ্র: আরও অসংখ্য জাল বা বানোয়াট হাদিস আছে। পরবর্তীতে আবার আল্লাহ তৌফিক দিলে পোস্ট করব।কেউ উপরের কোন পয়েন্টের পক্ষে সহিহ হাদিস থেকে দলিল দিলে মেনে নিয়ে ভুল সংশোধন করে নিব।অমুক অমুক কিতাবে আছে বা অমুক ওলামায়ে কেরাম বলেছেন এমন দলিল গ্রহণ যোগ্য হবেনা।
রেফারেন্স :
১. হাদিসের নামে জালিয়াতি :প্রচলিত মিথ্যা হাদিস ও ভিত্তিহীন কথা।
লেখক- প্রফেসর ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ।
২.তাফসীর কী মিথ্যা হতে পারে।
লেখক- আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ।
৩.এহইয়াওস সুনান।
লেখক- প্রফেসর ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ।
৪. যঈফ ও জাল হাদিস বর্জনের মূলনীতি
লেখক -ড. মুযাফফর বিন মু্হসিন
৫.বক্তা ও শ্রোতার পরিচয়।
লেখক-আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ।
৬.আবু জাফর সিদ্দিকী রচিত আল মাউযূআত।
লেখক- ড.খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন