আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ

এটি নবুয়তের পরবর্তী সময়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা মদীনায় ইসলামের ভিত্তি মজবুত করতে এবং মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এটি হলো **'আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ'**।
আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ছিলেন মদীনার ইহুদিদের সবচেয়ে বড় আলেম এবং ধর্মীয় নেতা। ইহুদিরা তাঁকে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে মনে করত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন হিজরত করে মদীনায় পৌঁছালেন, তখন কৌতূহলী হয়ে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাঁকে দেখতে যান। তিনি বলেছিলেন:
> "আমি যখন তাঁর (রাসূলুল্লাহর) চেহারা মোবারক দেখলাম, তখনই বুঝতে পারলাম যে—এই চেহারা কোনো মিথ্যুক ব্যক্তির হতে পারে না।"
তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তিনটি প্রশ্ন করলেন, যার উত্তর কেবল একজন নবীই দিতে পারেন। উত্তরগুলো শুনে তিনি তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করলেন। কিন্তু তিনি জানতেন তাঁর নিজের কওম (ইহুদিরা) অত্যন্ত একগুঁয়ে এবং সত্য গোপনকারী। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে একটি বুদ্ধি দিলেন।
তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, "আপনি আমাকে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখুন এবং ইহুদিদের ডেকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন।" রাসূলুল্লাহ (সা.) তাই করলেন। ইহুদিদের একটি প্রতিনিধি দল আসলে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক?" তারা একবাক্যে উত্তর দিল, "তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের সবচেয়ে বড় আলেমের সন্তান; তিনি আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।"
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তোমাদের মতামত কী হবে?" তারা আঁতকে উঠে বলল, "আল্লাহ তাঁকে এমন কাজ থেকে রক্ষা করুন! এটি অসম্ভব।"
ঠিক সেই মুহূর্তে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং উচ্চস্বরে কালিমা শাহাদাত পাঠ করলেন: *'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু'*।
ইহুদিরা এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেল। যে লোকটিকে তারা মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে 'শ্রেষ্ঠ' বলেছিল, সত্য প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই তারা ভোল পাল্টে ফেলল। তারা বলতে শুরু করল, "সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং মূর্খ লোক!" তারা নানা গালিগালাজ করে সেখান থেকে চলে গেল।
এই ঘটনাটি মদীনার মানুষের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, সত্য সামনে আসা সত্ত্বেও কিছু মানুষ কেবল হিংসা ও অহংকারের কারণে তা গ্রহণ করে না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাহাবী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে দুনিয়াতেই 'জান্নাতী' হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
উৎস: আর-রাহীকুল মাখতূম (মহিমান্বিত ফোয়ারা) — শাইখ সফিউর রহমান মোবারকপুরী*

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন