কে সেই ব্যক্তি যার হাতে ধ্বংস হবে পবিত্র কাবা শরীফ?

 

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র কাবা শরীফ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদস্পন্দন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের আগে এমন এক সময়ের কথা বলে গেছেন, যা শুনলে মুমিনের অন্তর কেঁপে ওঠে। সেই সময় এক ব্যক্তি পবিত্র কাবার পাথরগুলো একে একে উপড়ে ফেলবে।
সেই রহস্যময় ব্যক্তি কে?
নবীজি (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের পূর্বে আবির্ভূত এই ব্যক্তির নাম 'যিল সুয়াইকাতাইন' (ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ)। এর অর্থ হলো 'দুই সরু নলাবিশিষ্ট ব্যক্তি'। তিনি হবেন হাবশার (বর্তমান ইথিওপিয়া) একজন মানুষ। তার শারীরিক বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন, সে হবে কালো বর্ণের, তার পা হবে চিকন এবং সে হবে খাটো ও কুঁজো।
হাদিসের বর্ণনা
বুখারী ও মুসলিম শরীফের একাধিক সহীহ হাদিসে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"হাবশার (ইথিওপিয়ার) ছোট দু’টি চিকন পা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি কাবা ঘরটি ধ্বংস করবে।"
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৫৯১; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯০৯)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন:
"আমি যেন দেখতে পাচ্ছি, জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, যার পা দু’টো বাঁকা ও সরু, সে একটি একটি করে পাথর খুলে কাবা ঘরটি ধ্বংস করছে।"
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৫৯৫)
কেন সেদিন তাকে কেউ বাধা দেবে না?
আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আবরাহা যখন হাতি নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে এসেছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা ‘আবাবিল’ পাখি পাঠিয়ে তাকে ধ্বংস করেছিলেন। তাহলে এই ব্যক্তির বেলায় কেন নয়?
মুহাদ্দিসীন এবং ইসলামী স্কলারদের মতে, এই ঘটনাটি ঘটবে কিয়ামতের একেবারে সন্নিকটে। যখন:
১. দুনিয়া থেকে সব মুমিন ব্যক্তির আত্মা তুলে নেওয়া হবে।
২. পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ বলার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
৩. মানুষের অন্তর থেকে দ্বীনের মহব্বত উঠে যাবে এবং কুরআন শরিফের অক্ষরগুলো মুছে যাবে।
অর্থাৎ, যখন কাবার সম্মান রক্ষা করার মতো কোনো ঈমানদার পৃথিবীতে থাকবে না, তখনই আল্লাহ এই ধ্বংসলীলা ঘটতে দেবেন। এটি হবে কিয়ামতের অন্যতম একটি বড় আলামত।
এই ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পৃথিবী নশ্বর। এমনকি যে কাবাকে আমরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি, সেটিও একদিন বিলীন হয়ে যাবে। এটি আমাদের ঈমানকে মজবুত করার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার একটি সতর্কবার্তা।
পবিত্র কাবার সেই অন্তিম দৃশ্য কল্পনা করাও একজন মুসলিমের জন্য কঠিন। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর প্রতিটি কথা সত্য। সেই অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি হওয়ার আগেই আমাদের উচিত নিজেদের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন