কে ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের শেষ সাহাবি?

 

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় মন ভরে ওঠে। তেমনই একজন মানুষ হলেন আবু তুফায়েল আমির ইবনে ওয়াসিলা আল-লাইসি (রা.)। তার বিশেষ পরিচয় হলো—তিনি ছিলেন এই পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সর্বশেষ সাহাবি, যিনি সশরীরে প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সা.)-কে দেখেছিলেন এবং তাকে স্পর্শ করার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।
চলুন, এই মানুষটি সম্পর্কে কিছু সুন্দর তথ্য জেনে নিই।
.
আবু তুফায়েল (রা.) যখন ছোট ছিলেন, তখন নবিজি (সা.) মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তিনি তার বাবার সাথে নবিজির বিদায় হজের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, সেই সময় তিনি নবিজিকে উটের ওপর সওয়ার অবস্থায় দেখেছিলেন।
সবচেয়ে আবেগের বিষয় হলো, তিনি কেবল দূর থেকে দেখেননি, বরং নবিজির পবিত্র হাত স্পর্শ করার বা তার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই স্মৃতি তিনি আমৃত্যু তার হৃদয়ে গেঁথে রেখেছিলেন।
.
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম একে একে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। এক সময় এমন এল যখন মক্কা, মদিনা, কুফা, সিরিয়া—সব জায়গার সাহাবিরা বিদায় নিলেন। ১০০ হিজরি সালের দিকে আবু তুফায়েল (রা.) ছিলেন একমাত্র জীবিত মানুষ, যিনি দাবি করতে পারতেন: "আমি আল্লাহর রাসুলকে নিজ চোখে দেখেছি।"
তিনি ১১০ হিজরি সালে (কারও মতে ১০০ হিজরি) মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর মাধ্যমেই সাহাবিদের সোনালি যুগের অবসান ঘটে। অর্থাৎ, পৃথিবীর আকাশ থেকে সাহাবিয়াতের সর্বশেষ নক্ষত্রটি বিদায় নেয়।
.
আবু তুফায়েল (রা.) কেবল একজন সাহাবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুবক্তা, সাহসী যোদ্ধা এবং কবি। তিনি আলি (রা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার পক্ষে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন।
.
তিনি যখন মানুষের কাছে নবিজির কথা বলতেন, তখন মানুষ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকত। কারণ তিনি যা বলছিলেন, তা কোনো বই পড়া গল্প নয়, বরং তার নিজের চোখে দেখা বাস্তব দৃশ্য। তিনি নবিজির চেহারার বর্ণনা দিয়ে বলতেন:
"নবিজি (সা.) ছিলেন অত্যন্ত সুশ্রী ও উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। তার হাসি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।"
.
ইসলামি শাস্ত্র বা হাদিস বিজ্ঞানে তার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ তার মাধ্যমেই পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ (তাবেয়িগণ) নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন যে, নবিজির আদর্শ এবং তার স্মৃতি কতটুকু জীবন্ত। তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত মানুষ তার কাছে আসতেন সরাসরি নবিজির গল্প শোনার জন্য।
.
আবু তুফায়েল (রা.)-এর মৃত্যু ছিল একটি যুগের সমাপ্তি। তিনি চলে যাওয়ার পর পৃথিবীতে এমন কেউ আর অবশিষ্ট রইলেন না, যিনি বলতে পারেন—"আমি নবিজিকে স্পর্শ করেছি"।
আজ আমরা বই পড়ে বা আলোচনা শুনে নবিজিকে ভালোবাসার চেষ্টা করি। কিন্তু আবু তুফায়েল (রা.)-এর মতো মানুষদের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সেই ভালোবাসা কত গভীর এবং বাস্তব ছিল। ইসলামের ইতিহাসের পাতায় এই "সর্বশেষ সাহাবি" তাই চিরকাল এক অনন্য আবেগের নাম হয়ে থাকবেন।
.
সাহাবিদের জীবনের এমন অসংখ্য অনুপ্রেরণামূলক ও ঈমানদীপ্ত ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের 'সাহাবিদের অনন্য জীবন' বইটি। তাদের অবিচল ঈমানি দৃঢ়তা থেকে জীবন গড়ার সঠিক পাথেয় খুঁজে পেতে বইটি আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ। সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা নিতে আজই সংগ্রহ করুন আপনার কপি!
.
সমকালীন প্রকাশন
সুন্দর জীবনের জন্য

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন