প্রথম আযান দেওয়ার স্বপ্ন কোন সাহাবী দেখেছিলেন?


 


 নবুয়তের ১৩ বছর পর, হিজরতের ঠিক পরপর নামাজের জন্য মানুষকে কীভাবে আহবান করা হবে, তা নিয়ে সকলেই ভীষন চিন্তিত ছিলেন।
কেউ প্রস্তাব করেছিলেন ঘণ্টা বাজানোর, আবার কেউ বলেছিলেন শিঙ্গার কথা। কিন্তু সকল প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। কেননা এ পদ্ধতিগুলো ইসলামের সাথে মানানসই নয়। 
পরিশেষে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঘন্টা নির্মাণের আদেশ দিলেন। 
.
ঠিক এমন এক রাতে আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ (রাঃ) স্বপ্নে দেখলেন, এক ব্যক্তি ঘন্টা হাতে যাচ্ছে। আব্দুল্লাহ বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘হে আল্লাহর বান্দা! ঘন্টাটি বিক্রয় করবে?’ লোকটি বলল, ‘এটা নিয়ে কি করবে?’ আমি বললাম, ‘ওটা দিয়ে লোকেদেরকে নামাযের জন্য আহ্বান করব।’ লোকটি বলল, ‘আমি তোমাকে এর চাইতে উত্তম জিনিসের কথা বলে দেব না কি?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই।’
তখন ঐ ব্যক্তি আব্দুল্লাহকে আযান ও ইকামত শিখিয়ে দিল। 
.
সকাল হলে তিনি রসূল (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে স্বপ্নের কথা খুলে বললেন। সব কিছু শুনে মহানবী (ﷺ) বললেন, “ইনশাআল্লাহ! এটি সত্য স্বপ্ন। অতএব তুমি বিলালের সাথে দাঁড়াও এবং স্বপ্নে যা শুনেছ ঠিক তেমনি বিলালকে শুনাও; সে ঐ সব বলে আযান দিক। কারণ, বিলালের আওয়াজ তোমার চেয়ে উচ্চ।”
অতঃপর আব্দুল্লাহ (রাঃ) স্বপ্নে প্রাপ্ত আযানের ঐ শব্দগুলো বিলাল (রাঃ) কে শুনাতে লাগলেন এবং বিলাল (রাঃ) উচ্চস্বরে আযান দিতে শুরু করলেন। উমার (রাঃ) নিজ ঘর থেকে আযানের শব্দ শুনতে পেয়ে এত দ্রুত বের হয়ে মহানবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন যে তাঁর চাদর ছেঁচড়ে যাচ্ছিলো; তিনি বললেন, ‘সেই সত্তার কসম, হে আল্লাহর রসূল! আমিও (২০ দিন পূর্বে) স্বপ্নে ঐরুপ দেখেছি।’ 
.
বিলাল (রাঃ)-এর কণ্ঠে প্রথমবারের মতো আজান ধ্বনিত হলো মদিনার আকাশে। সেই ধ্বনি শুধু কিছু বাক্য নয়, এতে ছিল ঈমানের ডাক, একত্ববাদের ঘোষণা, এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক।
আজও পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে সেই একই আহ্বান প্রতিধ্বনিত হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন