⚠️ মসজিদুল হারামে ২০০টিরও বেশি গেট রয়েছে।
ভিড়ের সময় ভুল গেট ব্যবহার করলে সময়, শক্তি, এমনকি ধৈর্যও হারায় ফেলতে পারেন। নিচে কিছু গাইডিন্স দেয়া হলো আপনার সহজ নেভিগেশন এর জন্যে:
1/ তাওয়াফ (মাতাফ) করতে চাইলে গেট ১, ৪৫, ৬৩, ৭৯ এবং ১০০ সাধারণত সোজা কাবা শরীফের দিকে নিয়ে যায়, বিশেষ করে যারা ইহরামে থাকেন এই গেট গুলো তাদের জন্য। উমরাহ করতে এলে এলোমেলোভাবে প্রবেশ না করে নির্দিষ্ট গেট ব্যবহার করা ভালো। অনেকেই গেট ১ (কিং আবদুলআজিজ), গেট ৭৯ (কিং ফাহাদ) এবং গেট ৬৩ ব্যবহার করেন।
2/ গেট ৮৮ তে পাবেন এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস। এটি কিং ফাহাদ এক্সপানশন অংশে অবস্থিত এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। প্রয়োজন না হলেও জেনে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
3/ গেট ১০৪–এর কাছে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার। এখানে প্রথম ৩ ঘণ্টা ফ্রি সেবা দেওয়া হয়। মেয়েদের জন্য ২–১০ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২–৮ বছর পর্যন্ত সুবিধা রয়েছে। ৯০% মানুষ এই সুবিধার কথা জানেন না।
4/ গেট ১ ক্লক টাওয়ার শপিং মলের ঠিক বিপরীতে। আপনি যদি ক্লক টাওয়ার এলাকায় থাকেন, এই গেট ব্যবহার করলে হাঁটা কম হবে। মলের ভেতরে অনেক ফুড কোর্ট ও কেনা কাটার দোকান আছে। এখানে হারামের সব থেকে কাছের আল বাইক টাও পাবেন। ওদের চিকেন ফ্রাই টা অনেক মজা। অবশ্যই ট্রাই করবেন সময় পেলে।
5/ ফরজ নামাজের আগে অনেক গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণের জন্য। বিশেষ করে জুমা ও মাগরিবে ভিড় বেশি থাকে। অন্তত ৪৫–৬০ মিনিট আগে প্রবেশ করার চেষ্টা করুন।
6/ বয়স্ক বা অসুস্থ হাজীদের জন্য উপরের তলায় আলাদা তাওয়াফের ব্যবস্থা রয়েছে। হুইলচেয়ার সুবিধাও আছে। প্রয়োজনে পুলিশ এর সাহায্য নিবেন। উনার আপনাকে হেল্প করবে।
7/ মসজিদের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে জমজম পানির স্টেশন আছে। নামাজের পর হঠাৎ ভিড় এড়াতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে সুবিধা হয়। নিজের সাথে এক ছোট পানির বোতল রাখবেন অলওয়েজ।
8/ সাফা-মারওয়া সাঈ করতে চাইলে সাফা দিকের প্রবেশপথ ব্যবহার করা সুবিধাজনক। এতে সাঈ শুরু করা সহজ হয়। তাওয়াফ করার সময় “সাঈ” লেখা দেখে ওই দিক দিয়ে বের হবেন মাতার থেকে।
9/ কেউ হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ পুলিশ বা হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করুন। আগে থেকেই সবার গলায় বা পকেটে হোটেলের নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখবেন এবং একটি নির্দিষ্ট একটা প্লেস ঠিক করবেন, যাতে কেউ যারাই গেলে ওই খানে চলে আসে।
10/ জুতা রাখার সময় গেট নম্বর ও শেলফ নম্বর মনে রাখুন অথবা ছবি তুলে রাখুন। না হলে পরে অনেক সময় নষ্ট হতে পারে। সব থেকে ভালো হয় যদি ছোট একটা ব্যাক প্যাক রাখেন জুতার জন্য। এটা সবাই করে। কারণ পুলিশ মাঝে মাঝে কিছু রাস্তায় ব্যারিয়ার দিয়ে দেয়, তখন আপনি যেই পথে ঢুকতে জুটে রেখে গেছেনা সেই পথে বের নাই হইতে পারেন। দুনিয়া ঘুরে আসতে হবে পরে!
11/ ফজরের পর ও তাহাজ্জুদের সময় তুলনামূলক কম ভিড় থাকে। ইশার পর এবং জুমার দিন সাধারণত বেশি ভিড় হয়।
12/ গরমের সময় তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে। নিয়মিত পানি পান করুন, ছাতা ব্যবহার করুন এবং হালকা পোশাক পরুন। বাংলাদেশীরা ছাতা ক্যারি করে না। কিন্তু বিদেশীরা কি সুন্দর সুন্দর ছাতা নিয়ে আসে দেখি।
13/ ভিড়ের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে পারে। আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট প্লেস ঠিক করে রাখেন এবং প্রয়োজনে অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করে রাখবেন।
14/ হোটেল থেকে বের হওয়ার আগে গেট নম্বর ও রাস্তা ঠিক করে নিবেন। প্রথম দিন একটু সময় নিয়ে এলাকা চিনে নেওয়া ভালো।
মক্কা ভিড়ের শহর। ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। ধাক্কাধাক্কি না করে শান্ত থাকবেন। এটা শ্রেষ্ট ইবাদতের জায়গা। নম্রতা, ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রাখবেন। মক্কা সহজ হয় যখন আপনি প্রস্তুত থাকেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন