আলহামদুলিল্লাহ অর্থ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এটি আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়ার অর্থ বহন করে এবং এটি আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম উপায়। পছন্দনীয় কিছু দেখলে বা শুনলে বলতে হয়—‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি বিনিয়মাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত।’ অর্থ : 'সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর, যার করুণায় উত্তম কাজ সম্পন্ন হয়'।
ইসলামে মুমিন বান্দার একটি বৈশিষ্ট্য হলো- তারা সুখে-দুঃখে সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। আল্লাহ তাআলা শুকরিয়া আদায়কারীদের পছন্দ করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি নিজের প্রশংসা পছন্দ করেন, এজন্য তিনি নিজেও নিজের প্রশংসা করেছেন এবং আমাদেরও তাঁর প্রশংসার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি: ২/১৮১৭) ।
কোরআন পড়া শুরু করতেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে শুরু করতে হয়। হাদিসে আছে, ‘আল্লাহর মাহাত্ম্য বর্ণনা ও প্রশংসার জন্য আলহামদুলিল্লাহর চেয়ে উত্তম বাক্য আর নেই।’ (তিরমিজি)
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ফজিলতপূর্ণ বাক্য লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সর্বোত্তম দোয়া আলহামদুলিল্লাহ।’ (তিরমিজি)।
মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে চারটি বাক্য প্রিয়, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার।’। ‘আলহামদুলিল্লাহ আমলের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ শব্দ দুটি আসমান ও জমিনের খালি জায়গা পূর্ণ করে দেয়।’ (মুসলিম)।
মূলত শোকরগুজার বান্দাকেই আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন এবং তিনি চান বান্দা শুকরিয়া করুক।
এই কৃতজ্ঞতা পরকালীন সমৃদ্ধির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আরও অধিক পরিমাণ নেয়ামত লাভের মাধ্যম। আর কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের জন্য আখেরাতের অসীম পুরস্কারের ঘোষণা তো রয়েছেই।
মোট কথা - মুসলিম উম্মাহকে সবকিছুতে সর্বাবস্থায় 'আলহামদুলিল্লাহ' পাঠ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সুখের সময় আলহামদুলিল্লাহ পড়লে যেমন সওয়াব, দুঃখের সময় পড়লেও সওয়াব। তাছাড়া হাদিসের বর্ণনায় এটি সর্বোত্তম দোয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুখে-দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন