মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কেননা এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি, কুরবানীকারী এবং অন্যান্য ব্যক্তিও উপকৃত হয়। (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা: ১৪৭৪ ও ২১৪৩, ফতোয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ,
ভাইস চেয়ারম্যান: আব্দুর রাযযাক আফীফী
সদস্য: আব্দুল্লাহ বিন গুদিয়ান, আব্দুল্লাহ বিন কাঊদ।)
🖋️শাইখ সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা তিন প্রকার।
(১) জীবিত ব্যক্তির কুরবানীর সাথে মৃত ব্যক্তিকে শরীক করা। এটা জায়েজ।
(২) মৃত ব্যক্তি কুরবানী করার ওসিয়ত করে গেলে। এই ধরনের কুরবানী করা ওয়াজিব। তবে অসমর্থ হলে সেটা ভিন্ন কথা।
(৩) স্বতন্ত্র ভাবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা। এটা জায়েজ তবে সুন্নাত নয়। (শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফিজাহুল্লাহ এর বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েবসাইট: প্রশ্ন নং 36596)
🖋️পরিশেষে আমরা শাইখ সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহর কথা দিয়েই শেষ করছি:
فالأضحية عن الميت تكون بالتبع وتكون بوصية، أما تبرعًا من أحد فإنها وإن جازت، لكن الأفضل خلاف ذلك.
"মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী এটা জীবিত ব্যক্তিদের কুরবানীর অনুগামী হবে। এবং এটা মৃত ব্যক্তির অসীয়ত অনুযায়ী হবে। আর কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান স্বরূপ মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি করা যদিও জায়েজ তবে এরকম না করাই উত্তম।" (মাজমূ ফাতাওয়া শাইখ সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ: ২৫/২১-২৩)
বিভিন্ন মাযহাবের ফতোয়া: হানাফী, হান্বলী, মালেকী মাযহাব মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। তবে মালেকী মাযহাব মতে, জায়েজ তবে মাকরুহ। শাফেঈ মাযহাব মতে, জায়েয নেই। তবে তাদের কিছু বিদ্বান জায়েজ বলেছেন। নিচে বিভিন্ন মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাব থেকে রেফারেন্স উদ্ধৃত করা হলো।
(১) হানাফী মাযহাবের ফতোয়া:
আল্লামা কাসানী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
"وجه الاستحسان أن الموت لا يمنع التقرب عن الميت، بدليل أنه يجوز أن يتصدق عنه ويحج عنه، وقد صح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى بكبشين أحدهما عن نفسه والآخر عمن لا يذبح من أمته، وإن كان منهم من قد مات قبل أن يذبح، فدل أن الميت يجوز أن يتقرب عنه"
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম হওয়ার কারণ হল নিশ্চয়ই মৃত্যু মৃত ব্যক্তিকে নৈকট্য অর্জনে বাধা দেয় না। দলিল হল মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদাকা করা এবং হজ্জ করা জায়েজ। বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণ রয়েছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি দুম্বা কুরবানী করেছেন একটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে আরেকটি তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যারা কুরবানী করেননি, যদিও কোরবানি করার আগে তাঁর উম্মতের কিছু মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। কাজেই এটাপ্রমাণ হল যে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায় এমন কাজ করা বৈধ।" (বাদা'ই'উস সানা'ই'উ: ৫/৭২)
ইবনু আবেদীন বলেছেন:
"من ضحى عن الميت يصنع كما يصنع في أضحية نفسه من التصدق والأكل والأجر للميت والملك للذابح"
যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করবে, সেই কুরবানীর গোশত দান করা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক তাই করবে যা সে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী করা গোসতের ক্ষেত্রে করে থাকে। এই প্রাণির অথরিটি জবেহকারীর তবে এর সাওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত। (হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন: ৬/৩২৬)
(২) হাম্বলী মাযহাবের ফতোয়া:
"التضحية عن ميت أفضل منها عن حي؛ لعجزه واحتياجه إلى الثواب، ويعمل بها كأضحية عن حي من أكل وصدقة وهدية"
কুরবানী মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করার চেয়ে বেশি উত্তম। কেননা মৃত ব্যক্তির ভালো কাজ করার ক্ষমতা নেই অথচ তার সাওয়াবের প্রয়োজন অনেক বেশি। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা প্রাণীর গোশত খাওয়া, দান করা এবং হাদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক তাই করবে যা জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা প্রাণীর গোশতের ক্ষেত্রে করা হয়। (মাতালিবু উলিন নুহা: ২/৪৭২)
(৩) মালেকী মাযহাবের ফতোয়া:
"يكره للشخص أن يضحي عن الميت خوف الرياء والمباهاة ولعدم الوارد في ذلك، وهذا إذا لم يعدها الميت وإلا فللوارث إنفاذها".
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা মাকরুহ। কেননা এতে লৌকিকতা প্রদর্শন ও গর্ব অহংকার এর ভয় রয়েছে। উপরন্তু এই ব্যাপারে কোন দলিল বর্ণিত হয়নি। এটা ঠিক তখন যখন মৃত ব্যক্তি কোরবানি করার কোন অঙ্গীকার করে না। আর মৃত ব্যক্তি যদি কুরবানী করার কোন অঙ্গীকার করে যায় তাহলে ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যক হল সেটা বাস্তবায়ন করা। (শরহু মুখতাসার খলীল: ৩/৪২)
শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
وفي الدرر السنية : وأجاب الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن رحمه الله ولا نعلم ـ أحداً من أهل العلم والدين نهى عن الاستغفار والأضحية إلا إذا استبان أن الشخص من أصحاب الجحيم
বিদ্বানদের এমন কাউকে জানি না যিনি মৃত ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষেধ করেন। তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি এটা স্পষ্ট হয় যে সে জাহান্নামী তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। (আদ দুরারুস সানিয়্যাহ)
সৌদি আরবের ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়ায় বলা হয়েছে-
أجمع المسلمون مشروعيتها من حيث الأصل، ويجوز أن يضحى عن الميت؛ لعموم قوله صلى الله عليه وسلم : «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له»...
وذبح الأضحية عنه من الصدقة الجارية؛ لما يترتب عليها من نفع المضحي والميت وغيرهما.
"মৌলিকভাবে কুরবানী শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত মুসলিম একমত। আর মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করাও জায়েয। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া তা'আলা ব্যাপকভাবে বলেছেন-
"যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমাল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমাল ছাড়া। ১. সদাকাহ জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু'আ করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৭৭, ইসলামিক সেন্টার ৪০৭৬,হাদিসের মানঃ সহিহ।)
(৪) শাফেঈ মাযহাবের ফতোয়া:
"أما التضحية عن الميت، فقد أطلق أبو الحسن العبادي جوازها؛ لأنها ضرب من الصدقة، والصدقة تصح عن الميت وتنفعه وتصل إليه بالإجماع. وقال صاحب "العدة" والبغوي: لا تصح التضحية عن الميت إلا أن يوصي بها، وبه قطع الرافعي"
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করার ব্যাপারে আবুল হাসান আব্বাদী কোন রকম শর্ত ছাড়াই জায়েজ বলেছেন। এটা এক প্রকার সাদাকা। আর সাদাকা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে জায়েজ, এতে মৃত ব্যক্তি উপকৃত হয়,এবং মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে এর সাওয়াব তার কাছে পৌঁছে। তবে العدة গ্রন্থকার এবং ইমাম বাগাভী বলেছেন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা বিশুদ্ধ হবে না। তবে যদি মৃত ব্যক্তি ওসিয়ত করে যায় তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। রাফে'ঈ ও এই একটি অকাট্যভাবে বলেছেন। (ইমাম নববী, আল মাজমূ: ৮/৩৮০)
এছাড়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ (মাজমূ ফাতাওয়া: ২৬/৩০৬), ইবনুল কায়্যিম রহমাতুল্লাহ (আর রুহ: ২/৩৫২), ইমাম আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ ( গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ, পর্ব: ১০/ কুরবানী নিয়ম-কানুন (كتاب الضحايا; অধ্যায়: ২. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী; হাদিস নম্বরঃ ২৭৯০) প্রমুখ বিদ্বানগণ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয বলেছেন।
কিন্তু জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া সুন্নত। যদি পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করে সেটা উত্তম। আর যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে সেটা ভালো। এটা কোন দোষ নেই। সবটাই ভালো।
যারা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা অস্বীকার করেন- তাদের অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা কিছু মানুষ অস্বীকার করে- এর কোনো কারণ নেই। যখন কোনো ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করবে, এটা আল্লাহর নৈকট্য, আনুগত্য ও প্রভূত কল্যাণমূলক কাজ। জ্বী।" (ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা)
তিনি আরো বলেন-
أما الأضحية عن الميت، فإن كان أوصى بها في ثلث ماله مثلًا، أو جعلها في وقف له، وجب على القائم على الوقف أو الوصية تنفيذها، وإن لم يكن أوصى بها، ولا جعل لها وقفا، وأحب إنسان أن يضحي عن أبيه أو أمه أو غيرهما، فهو حسن، ويعتبر هذا من أنواع الصدقة عن الميت، والصدقة عنه مشروعة في قول أهل السنة والجماعة.
"মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা, যদি মৃত ব্যক্তি এই ব্যাপারে উদাহরণস্বরূপ তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে অসিয়ত করে থাকেন, অথবা এজন্য ওয়াকফ করে থাকেন, তাহলে ওয়াকফ ও অসীয়াত বাস্তবায়নকারী ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হল এটা বাস্তবায়ন করা। কিন্তু মৃত ব্যক্তি যদি একজন লোক নসিয়ত বা ওয়াকফ কোনটাই না করে থাকেন, বরং কোন ব্যক্তি এমনিতেই তার বাবা অথবা মার পক্ষ থেকে কুরবানী করতে চান, তাহলে সেটা ভালো। এটা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদাকা করার অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদাকা করা শরীয়তসিদ্ধ।" (মাজমূ ফাতাওয়া শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ: ১৮/৪০)
আবু দাউদের শরাহতে এই ব্যাপারে বলা হয়েছে-
الأضحية جائزة، ولكن الأولى أن تكون من الحي عن نفسه وعن أمواته، وكونها تكون على الميت فقط لا نعلم دليلاً خاصاً بهذا، ولكن أن يكون تبعاً وأن الإنسان يضحي عن أحيائه وأمواته فإنه ينفعهم ذلك، وإن ضحى نرجو ألا يكون فيه محذور، لأن هذا من جملة الصدقة.
কোরবানি করা জায়েজ। তবে উত্তম হলো এটা জীবিত এবং মৃতদের পক্ষ থেকে হওয়া। শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করার ব্যাপারে আমরা কোন খাছ দলিল জানিনা। কিন্তু এটা যদি জীবিতদের অনুগামী হয় এভাবে যে কোন ব্যক্তি জীবিত এবং মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করলো তাহলে এটা তাদের উপকারে আসবে। তবে কোন ব্যক্তি যদি স্রেফ মৃতদের পক্ষ থেকে কুরবানী করে আমরা আশাবাদী যে এটা নিষিদ্ধ হবে না। কেননা এটা সামগ্রিকভাবে সাদাকার অন্তর্ভুক্ত। (শারহু সুনান আবু দাউদ: ৩৪/৪৪৪)
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। তবে এটা সুন্নাত বা উত্তম নয়। কেননা এমনটা করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা সাহাবাদের থেকে সরাসরি কোন আমল পাওয়া যায় না। কাজেই মৃত ব্যক্তির জন্য উত্তম হলো সাধারণভাবে সাদাকা করা।
সৌদি আরবের প্রাক্তন গ্রান্ড মুফতি শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি জীবিত ও মৃতদের মাঝে কোন পার্থক্য করেননি। ...
বারা বিন আযিব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর হাদিসে রয়েছে। আবু বুরদাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম কে বললেন, ' আমি আমার সন্তানের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছি।'
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তার সমর্থন করলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেননি যে তার সন্তান জীবিত না মৃত? কাছে একটা প্রমাণ হল যে কোন ব্যক্তি যদি মৃত কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো কিছু যবেহ করে বা কুরবানী করে তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। এটা সম্পূর্ণরূপে শরীয়তসিদ্ধ বিষয়। কেননা এটা সদাকা, ইহসান ও কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের অন্তর্ভুক্ত। সাদাকার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির প্রতি ইহসান করার পর্যায়ভুক্ত। এমনকি এটা অন্যান্য মানুষের প্রতিও ইহসান এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এর গোসত গরীব ও অভাবী মানুষকে দেওয়া হয় এবং বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনেকে হাদিয়া দেওয়া হয়।...
কুরবানী দাতার জন্য সুন্নত যে, সে তা হতে খাবে, আত্মীয়-সবজনকে (তারা কুরবানী দিক, চাই না দিক) হাদিয়া দেবে এবং গরীবদেরকে সদকাহ করবে। আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে বলেন,
(فَكُلُوْا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيْرَ)
অর্থাৎ, অতঃপর তোমরা তা হতে ভক্ষণ কর এবং নিঃসব অভাবগ্রস্তদেরকে ভক্ষণ করাও। (সূরা হাজ্জ ২৮ আয়াত)
(وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُون)
অর্থাৎ, আর (কুরবানীর) উঁটকে করেছি আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের অন্যতম; তোমাদের জন্য তাতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় ওগুলির উপর (নহর করার সময়) তোমরা আল্লাহর নাম নাও। অতঃপর যখন ওরা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকে। এইভাবে আমি ওদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা হাজ্জ ৩৬ আয়াত)
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (কুরবানীর গোশত) তোমরা খাও, জমা কর, এবং দান কর।’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘তা খাও, খাওয়াও এবং জমা রাখ।’’(মুসলিম ১৯৭১নং)
উপর্যুক্ত আয়াত বা হাদীসে খাওয়া, হাদিয়া দেওয়া ও দান করার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিবৃত হয়নি। তবে অধিকাংশ উলামাগণ মনে করেন যে, সমস্ত গোশতকে তিন ভাগ করে এক ভাগ খাওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-সবজনকে হাদিয়া দেওয়া এবং এক ভাগ গরীবদেরকে দান করা উত্তম।
কেউ চাইলে সে তার কুরবানীর সমস্ত গোশ্ত্কে বিতরণ করে দিতে পারে। আর তা করলে উক্ত আয়াতের বিরোধিতা হবে না। কারণ, ঐ আয়াতে নিজে খাওয়ার আদেশ হল মুস্তাহাব বা সুন্নত। সে যুগের মুশরিকরা তাদের কুরবানীর গোশত খেত না বলে মহান আল্লাহ উক্ত আদেশ দিয়ে মুসলিমদেরকে তা খাবার অনুমতি দিয়েছেন। অবশ্য কেউ কেউ খাওয়া ওয়াজেবও বলেছেন।(তফসীর ইবনে কাষীর ৩/২৯২, ৩০০, মুগনী ১৩/৩৮০, মুমতে ৭/৫২৫)
✒✒✒✒✒
📚সূত্র: দো’আ যিকির প্রশ্নোত্তর গ্রুপ
✏️উত্তর প্রদানে: শাইখ মো: হযরত আলী
হাফেজ/মাস্টার্স,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।
দাওরায়ে হাদিস(ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট)বিশেষ কোর্স,
স্পেশাল স্টাডি অন কম্পারেটিভ রেলিজিয়নস,
জামি'আতুস সুন্নাহ,ঝিনাইদহ(ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট)দাঈ/লেখক/ট্রেন্সলেইটর।
#DuaZikirQuestionAnswerGroup

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন